নবীজী সা. এর ফরয নামায
কিয়াম
নবীজী ﷺ প্রত্যেক নামাযের পূর্বে নিয়ত করতেন।
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى.
“আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে। আর ব্যক্তির জন্যে তা-ই থাকবে যার নিয়ত সে করেছে।” -সহীহ বুখারী (৬৬৮৯), সহীহ মুসলিম (১৯০৭), সুনানে আবু দাউদ (২২০৩)।
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন।
إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الوُضُوءَ، ثُمَّ اسْتَقْبِلِ القِبْلَةَ فَكَبِّرْ.
“যখন তুমি নামাযে দাঁড়াতে ইচ্ছা করবে তখন পরিপূর্ণভাবে অযু করো। এরপর কেবলামুখী হয়ে তাকবীর বলো।” -সহীহ বুখারী (৬২৫১), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে ইবনে মাজাহ (১০৬০)।
সফরে আরোহী অবস্থায় নফল নামায পড়ার সময় কিবলামুখী হয়ে নামায শুরু করতেন, পূর্ণ নামাযে কিবলামুখী থাকা আবশ্যক মনে করতেন না।
كَانَ إِذَا سَافَرَ فَأَرَادَ أَنْ يَتَطَوَّعَ اسْتَقْبَلَ بِنَاقَتِهِ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ ثُمَّ صَلَّى حَيْثُ وَجَّهَهُ رِكَابُهُ.
“তিনি যখন সফরে থাকা অবস্থায় নফল নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন উটনীকে কেবলামুখী করতেন। এরপর তাকবীর বলে নামায শুরু করতেন, বাহন তাঁকে যেদিকে অভিমুখী করুক না কেনো।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১২২৫), সহীহ বুখারী (১১০০), সহীহ মুসলিম (৭০১)।
ফরজ নামায ওযর ব্যতীত দাঁড়িয়েই আদায় করতেন।
{وَقُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِيْنَ}
“তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীত হয়ে দাঁড়াও।” -সূরা বাকারা, আয়াত: ১৪৪।
كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اعْتَدَلَ قَائِمًا.
“তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৯৯), সুনানে তিরমিযী (৩০৪), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৬২)।
নফল নামায কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে আদায় করতেন।
كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُكْثِرُ الصَّلاَةَ قَائِمًا وَقَاعِدًا.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বসে অনেক নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৭৩০“১১০”), মুসনাদে আহমাদ (২৬২৫৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১২৪৬)।
কখনো কখনো সাওয়ারীতে আরোহী হয়েও আদায় করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يُصَلِّي التَّطَوُّعَ وَهُوَ رَاكِبٌ فِي غَيْرِ الْقِبْلَةِ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরও হী অবস্থায় নফল পড়তেন, কেবলামুখী না হয়েও।” -সহীহ বুখারী (১০৯৪), সহীহ মুসলিম (৫৪০), দ্র. মুসনাদে আহমাদ (১৫০৩৮)।
সোজা ও স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেন। কিয়াম অবস্থায় দৃষ্টি সেজদার স্থানে নিবদ্ধ রাখতেন।
دَخَلَ رَسُولُ اللهُ ‘ الْكَعْبَةَ مَا خَلَفَ بَصَرُهُ مَوْضِعَ سُجُودِهِ حَتَّى خَرَجَ مِنْهَا.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরে প্রবেশ করেন, সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি সেজদার স্থান থেকে সরেনি।” -(হাদীস সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (১৭৬১), ১/৪৭৯, সহীহ ইবনে খুযায়মা (৩০১২), সুনানে বায়হাকী ৫/১৫৮।
إِنَّ رَسُولَ ‘ كَانَ إِذَا صَلَّى رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَنَزَلَتْ {الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} فَطَأْطَأَ رَأْسَهُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায পড়তেন তাঁর দৃষ্টি থাকত আকাশমুখী। এরপর আয়াত নাযিল হলো- “যারা তাদের নামাযে খুশুখুযূ অবস্থায় থাকে।” তখন তিনি দৃষ্টি অবনত করলেন।” -(হাদীস সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৩৪৮৩), ২/৩৯৩, সুনানে বায়হাকী ২/২৮৩, যাদুল মাআদ ১/২৫৬।
اجْعَلْ بَصَرَكَ حَيْثُ تَسْجُدُ..
“যেখানে তুমি সেজদা কর তোমার দৃষ্টি সেখানে রাখো।” -(সলিহ) সুনানে বায়হাকী, ২/২৮৪, কানযুল উম্মাল (২০০৯৮), এলাউস সুনান (৬৬৬) ২/১৮৭।