সূচিপত্র

নামাযের বিবিধ মাসআলা

কাযা নামায

নবীজী ﷺ ঘটনাক্রমে কখনো নামায ছুটে গেলে পরমুহূর্তেই জামাআতের সাথে কাযা আদায় করে নিতেন

فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ رَسُولُ اللَّهِ ‘ وَلاَ بِلاَلٌ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى ضَرَبَتْهُمُ الشَّمْسُ... ثُمَّ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ.

“এরপর কেউ জাগলেন না, না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না বেলাল আর না অন্য কোনো সাহাবী। একসময় সূর্যের আলো তাদের চেহারায় লাগলো। .... এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযু করলেন এবং বেলাল রা.কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। তিনি সবাইকে নিয়ে ফজর নামায পড়লেন।” -সহীহ মুসলিম (৬৮০), সুনানে আবু দাউদ (৪৩৫) সুনানে ইবনে মাজাহ (৬৯৭)।

এবং অন্যদেরকেও কাযা আদায় করতে বলেছেন, ইচ্ছায় কাযা হোক বা অনিচ্ছায়।

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا.

“যদি কেউ নামায পড়তে ভুলে যায় তাহলে সে যেন মনে পড়ামাত্র আদায় করে নেয়।” -সহীহ বুখারী (৫৯৭), সহীহ মুসলিম (৬৮৪), সুনানে আবু দাউদ (৪৪২)। হাদীসে ‘نَسِيَ’ শব্দের মাঝে ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া নামাযও অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, {نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ} সূরা তাওবা আয়াত নং ৬৭।

دَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ بِالْقَضَاءِ

“আল্লাহ তাআলার হকই সবচাইতে অধিক আদায়যোগ্য। (নবীজী ﷺ ফরয ইবাদাতকে ‘দাইন’ তথা ঋণ বলেছেন এবং আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।)” -সহীহ বুখারী (১৯৫৩) সহীহ মুসলিম (১১৪৮), মুসনাদে আহমাদ (২০০৫), সুনানে আবু দাউদ (৩৩১০), সুনানে বায়হাকী ৪/২৫৫।

إِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ غَفَلَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي

“কেউ যদি নামায না পড়ে ঘুমিয়ে যায় অথবা নামাযে বিষয়ে উদাসীন থাকে তাহলে মনে পড়ামাত্র সে তা আদায় করে। আল্লাহ বলেন, আমার স্মরণে নামায কায়েম কর।” -সহীহ মুসলিম (৬৮৪), মুসনাদে আহমাদ (১২৯০৯)।

মুসলিম উম্মাহর সকল মুজতাহিদ ইমাম একমত যে, ফরয নামায নির্ধারিত সময়ে আদায় করা না হলে পরে তা আদায় করা ওয়াজিব। ইমাম ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেন,

ومن الدليل على أن الصلاة تصلى وتقضى بعد خروج وقتها كالصائم سواء؛ وإن كان إجماع الأمة الذين أمر من شذ منهم بالرجوع إليهم وترك الخروج عن سبيلهم يغني عن الدليل في ذلك...

-আলইসতিযকার ১/৭৮।

নবীজী ﷺ এর খন্দকের যুদ্ধে তিন ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে যায়। ফারেগ হয়ে এশার পূর্বে তারতীব তথা নামাযের বিন্যাস অনুসারে যোহর, আসর ও মাগরিবের কাযা আদায় করেন। এরপর এশার নামায আদায় করেন।

-(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১১৪৬৫), সুনানে নাসাঈ (৬৬২), সুনানে তিরমিযী (১৭৯)। দ্র. সহীহ বুখারী (৫৯৬)।

বিতির নামায ছুটে গেলে পরে আদায় করতে বলেছেন।

مَنْ نَامَ عَنْ وِتْرِه أو نَسِيَه، فليُصَلِّه إِذَا ذَكَرَه

“যে বিতির না পড়ে ঘুমিয়ে যায় অথবা ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ হওয়ামাত্র তা পড়ে নেয়।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৩১), সুনানে তিরমিযী (৪৬৫), সুনানে দারাকুতনী (১৬৩৭)।

সুনানে রাতিবা এবং যে নফল নবীজী ﷺ নিয়মিত পড়তেন, কোনো কারণে ছুটে গেলে পরে আদায় করতেন।

সহীহ মুসলিম (৭৪৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (১১৫৮)।

কাযা নামায | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা