নবীজী সা. এর ফরয নামায
সেজদা
নবীজী ﷺ তাকবীর বলে সেজদায় যেতেন।
ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ (وَفِيْ رِوَايَةٍ: حِيْنَ يَهْوِيْ سَاجِداً)، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا.
“এরপর সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন (অন্য বর্ণনামতে, যখন সেজদায় নেমে যেতেন), এরপর যখন মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন। এরপর নামায শেষ করা পর্যন্ত তিনি পুরো নামাযে তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৪)।
ধীরস্থির ও স্বাভাবিকভাবে সেজদা আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন।
اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ
“সেজদায় স্থির হও।” -সহীহ বুখারী (৮২২), সহীহ মুসলিম (৪৯৩), মুসনাদে আহমাদ (১২০৬৬)।র্
ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا.
“এরপর সেজদা করে স্থির অবস্থায় সেজদা কর।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭) , সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৭৫)।
সেজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, পরে হাত, এরপর মুখ জায়নামাযে রাখতেন।
إِذَا سَجَدَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ، وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.
“যখন সেজদায় যেতেন হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতেন। যখন দাঁড়াতেন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৮), সুনানে আবু দাউদ (৮৩৮), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১২)।
رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ كَبَّرَ فَحَاذَى بِإِبْهَامَيْهِ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ رَكَعَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، وَرَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ انْحَطَّ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى سَبَقَتْ رُكْبَتَاهُ يَدَيْهِ
-(হাসান) সুনানে দারাকুতনী (১৩০৮), মুসতাদরাকে হাকেম ১/২২৬, সুনানে বায়হাকী ২/৯৯, আলআহাদীসুল মুখতারা (২৩১০)।
সেজদায় যাওয়ার সময় কাপড় গুটাতেন না, আপন অবস্থায় ছেড়ে দিতেন।
وَلاَ يَكُفُّ شعْراً وَلاَ ثَوْباً.
“চুল বা কাপড় গুটিয়ে রাখতেন না।” -সহীহ বুখারী (৮০৯), সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৯)।
সেজদা দু’হাত, দু’হাঁটু, দু’পা এবং মুখ- এই ‘সাত অঙ্গের’ উপর ভর দিয়ে আদায় করতেন।
أُمِرَ النَّبِيُّ ‘ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْضَاءٍ وَلَا يَكُفَّ شَعْرًا وَلَا ثَوْبًا الْجَبْهَةِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ.
“নবীজীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাত অঙ্গ নিয়ে সেজদা করতে, চুল বা কাপড় গুটিয়ে না রাখতে। সাত অঙ্গ হলো কপাল, দু’হাত, দু’হাঁটু ও দু’পা।” -সহীহ বুখারী (৮০৯) সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে নাসাঈ (১০৯৩)।
দু’হাতের মাঝখানে নাক ও কপাল ভালোভাবে রাখতেন।
فَلَمَّا سَجَدَ سَجَدَ بَيْنَ كَفَّيْهِ.
“যখন সেজদা করলেন দু’হাতের মাঝে সেজদা করলেন ।” -সহীহ মুসলিম (৪০১), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৬৬), আলমুজামুল কাবীর-তাবারানী ২২/ (৭৫)।
দু’হাতের তালু কান বরাবর রাখতেন।
ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذاءِ أُذُنَيْه.
“এরপর তিনি সেজদা করলেন। তখন দুই হাতকে কান বরাবর রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৮৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৬০), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৭০)।
হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে কিবলামুখী করে রাখতেন।
كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ أَصَابِعَهُ، وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ.
“যখন তিনি রুকূ করতেন আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতেন। আর যখন সেজদা করতেন আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯২০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৪২), মুসতাদরাকে হাকেম (৮২৬) ১/২২৭।
وَإِذَا سَجَدَ وَجَّهَ أَصَابِعَهُ قِبَلَ الْقِبْلَةِ
“তিনি যখন সেজদা করতেন তখন আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখতেন।” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে র্স্রাাজ (৩৫২), সুনানে বায়হাকী ২/১১৩।
দু’পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী করে গোড়ালীদ্বয় দাঁড় করে রাখতেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا رَاصًّا عَقِبَيْهِ مُسْتَقْبِلاً بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ لِلْقِبْلَةِ.
“আমি তাঁকে সেজদারত পেলাম, পা দাঁড় করানো, আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯৩৩), মুসতাদরাকে হাকেম (৮৩২) ১/২২৮।
নবীজী ﷺ হাঁটুর সাথে কনুইকে এবং পাঁজরের সাথে বাহুকে মিলাতেন না, বরং ফাঁকা রাখতেন।
فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضِهِمَا.
“তিনি যখন সেজদা করলেন হাত (এমনভাবে) রাখলেন ছড়িয়েও নয়, গুটিয়েও নয়।” -সহীহ বুখারী (৮২৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৩২)।
إِذَا سَجَدَ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ.
“যখন সেজদায় গেলেন বাহুদ্বয়কে দু’পাশ থেকে পৃথক রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৯০০), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৮৬)।
পুরুষদেরকে হাত মাটির সাথে বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন
إِذَا سَجَدْتَ فَضَعْ كَفَّيْكَ وَارْفَعْ مِرْفَقَيْكَ
“যখন সেজদা করবে তখন হাত মাটিতে রাখো এবং কনুই উঁচু করে রাখো।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৪), মুসনাদে আহমাদ (১৮৪৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১৬), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৫৬)।
اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ.
“সেজদায় স্থির হও, তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত হাত বিছিয়ে না দেয়।” -সহীহ বুখারী (৮২২) সহীহ মুসলিম (৪৯৩)।
এবং পিঠ সোজা রাখতে বলেছেন।
لاَ تَجْزِئُ صَلاَةٌ لاَ يُقِيمُ فِيْهَا الرَّجُلُ -يَعْنِي- صُلْبَهُ فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.
“সে নামায সঠিক নয় যে নামাযে (অর্থাৎ রুকূ-সেজদায়) মুসল্লী তার পিঠ সোজা রাখে না।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৫), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৯২)।
সেজদায় سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلى বারংবার বলতেন।
عَنْ حُذَيْفَةَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللّهِ ‘، فَرَكَعَ فَقَالَ فِيْ رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَفِيْ سُجُوْدِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلىَ.
“হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি রুকূতে গিয়ে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، পড়লেন, আর সেজদায় গিয়ে পড়লেন سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ.” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০৪৬), সহীহ মুসলিম (৭৭২), মুসনাদে আহমাদ (৩৫১৪)।
কখনো তিনবার বলতেন।
وَإِذَا سَجَدَ (أَحَدُكُمْ) فَقَالَ في سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَقَدْ تَمَّ سُجُودُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ.
“কেউ যদি সেজদা করে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ তিনবার বলে তার সেজদা পরিপূর্ণ হয়। এই তিনবার তাসবীহ হলো সর্বনিম্ন তাসবীহ।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৬১), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৯০)।
তাহাজ্জুদে কখনো আরও বড় দুআ পড়তেন।
সুনানে নাসাঈ (১১২৮), যাদুল মাআদ ১/৩২০।
সাহাবা কেরামকে গুরুত্বের সাথে সেজদায় দুআ পড়তে বলেছেন।
সহীহ মুসলিম (৪৭৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৬৪), সুনানে নাসাঈ (১০৪৫)।
তাকবীর বলে স্থির হয়ে শান্তভাবে বসতেন।
ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثم ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا.
“এরপর তুমি সেজদা করে সেজদা অবস্থায় স্থির হও। এরপর মাথা তুলে স্থির হয়ে বসো।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে তিরমিযী (৩০৩)।
وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ.
“তিনি যখন সেজদা থেকে মাথা তুলতেন সোজা হয়ে বসার পূর্বে সেজদায় যেতেন না।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সহীহ মুসলিম (৪৯৮), দ্র. সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩)।
সেজদার পূর্বে বা পরে হাত তুলতেন না।
وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلَا حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ.
“সেজদায় যাওয়ার সময় এবং সেজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তা করতেন না।” -সহীহ বুখারী (৭৩৮), সহীহ মুসলিম (৩৯০), সুনানে নাসাঈ (৮৭৬)।
প্রথম বৈঠকের মতো বসতেন। অর্থাৎ বাম পা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রাখতেন। পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।
كَانَ يَنْهَى عَنْ عُقْبَةِ الشَّيْطَانِ
“তিনি পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৫৬), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৩০)।র্
لَا تُقْعِ إِقْعَاءَ الْكَلْبِ
“কুকুরের বসার মত বসো না।”
আঙ্গুল কিবলামুখী রাখতেন।
وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى، وَفِى رِوَايَةٍ: وَيَقْعَدُ عَلَيْهَا.
“তিনি বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান বা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, তিনি তার উপর বসতেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসনাদে আহমাদ (২৫৬১৭)। দ্র. যাদুল মাআদ ১/২৩০, ২৩৫, সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৭৭)।
قَالَ ابْنُ عُمَرَ: مِنْ سُنَّةِ الصَّلاَةِ أَنْ تَنْصِبَ الْقَدَمَ الْيُمْنَى وَاسْتِقْبَالُهُ بِأَصَابِعِهَا الْقِبْلَةَ وَالْجُلُوسُ عَلَى الْيُسْرَى.
“ইবনে উমার রা. বলেন, নামাযের সুন্নাত হলো ডান পা দাঁড় করে রেখে তার আঙ্গুল কেবলামুখী রাখা এবং বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে বসা।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১১৫৮), সহীহ বুখারী (৮২৭)।
দু’হাত দু’পায়ের হাঁটুর কাছাকাছি উরুর উপর রাখতেন
كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى. وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى.
“যখন তিনি নামাযে সেজদা করতেন তখন ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন আর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, বাম হাত বাম হাঁটুর উপর রাখতেন।” -সহীহ মুসলিম (৫৮০, ৫৭৯), মুয়াত্তা মুহাম্মাদ (১৪৫) ১/২২৮, সুনানে নাসাঈ (১২৬৭), মুসনাদে আহমাদ (৫৩৩১)।
এবং প্রথম সেজদার মতো দ্বিতীয় সেজদা আদায় করতেন।নফল নামাযে দু’সেজদার মাঝখানে নবীজী ﷺ দুআ পড়তেন।
إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ قَالَ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فِي صَلاةِ اللَّيْلِ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي ثُمَّ سَجَدَ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাযে দু’সেজদার মাঝের বৈঠকে বলতেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي এরপর তিনি সেজদায় যেতেন।” -(হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৮৯৫), সুনানে আবু দাউদ (৮৫০)।