সূচিপত্র

নবীজী সা. এর ফরয নামায

তাহরীমা

নবীজী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম أَللهُ أَكْبَرُ বলে নামায শুরু করতেন।

كَانَ رَسُولُ اللهُ ‘ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: اللهُ أَكْبَرُ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন কেবলামুখী হতেন এবং হাত তুলে বলতেন, আল্লাহু আকবার।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৮০৩)। দ্র. সুনানে তিরমিযী (৩০৪), সুনানে বায়হাকী ২/১৩৭।

أَللهُ أَكْبَرُ বলার সময় দুহাতের আঙ্গুলসমূহ খোলা রেখে

كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا كَبَّرَ لِلصَّلاَةِ نَشَرَ أَصَابِعَهُ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের জন্যে তাকবীর বলতেন তখন আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন।” -(হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৩৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৪৫৮)।

কানের লতি পর্যন্ত উঠাতেন।

كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وفي رواية: حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ.

“তিনি যখন তাকবীর বলতেন দু’হাত উঠিয়ে কানের বরাবর করতেন। এক বর্ণনামতে, তিনি দু’হাত কানের লতির বরাবর করতেন।” -সহীহ মুসলিম, (৩৯১), সুনানে আবু দাউদ (৭৪৫), সুনানে দারিমী (১২৫১)।

এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে নাভির নিচে রাখতেন।

قَالَ وَائِلٌ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ إِذَا كَانَ قَائِمًا فِي الصَّلَاةِ قَبَضَ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ.

“ওয়াইল রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে দেখেছি, ডান হাত দিয়ে তিনি বাম হাত ধরে রেখেছেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৮৭), দ্র. মুসনাদে আহমাদ (২১৯৭৪), সুনানে তিরমিযী (২৫২), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮০৯)।

قَالَ وَائِلٌ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ‘ يَضَعُ يَمِيْنَهُ عَلَى شِمَالِهِ تَحْتَ السُّرَّةِ..

“ওয়াইল রা. বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভির নীচে রাখতে দেখেছি।” -(সনদ সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩৯৬৯), বিস্তারিত জানতে দেখুন, “আপনার নামায”।

أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ

“(নামাযে হাত রাখার পদ্ধতি হচ্ছে,) (ডান) হাতের তালু (বাম) হাতের তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখা।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৭৫৮), দ্র. নাসবুর রায়াহ ১/৩১৩, আততা’রীফ ওয়ালইখবার ১/১৫৬-১৫৭।

হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ওয়াসেতী। তিনি দূর্বল হলেও অনেক ছেকাহ-নির্ভরযোগ্য রাবী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী রাহ. তাঁর হাদীসকে হাসান বলেছেন(৭৪১) । হাকেম নিশাপুরী রাহ. তাঁর হাদীসকে সহীহ বলেছেন (দ্র. আলকওলুল মুসাদ্দাদ-ইবনে হাজার রাহ. পৃ.৮২) এছাড়া এ হাদীসটির স্বপক্ষে সালাফের ‘আমল’ ও ‘তালাক্কী’ রয়েছে।

ইমাম বুখারী রাহ. এর উস্তায ইমাম ইসহাক ইবনে রাহূয়া রাহ. বলেছেন, ‘নাভির নিচে হাত রাখার পদ্ধতিটি হাদীসের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী এবং বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’ -আলআওসাত ৩/২৪৩

কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন।

إِنَّ رَسُولَ اللهُ ‘ كَانَتْ لَهُ سَكْتَةٌ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন কিছুসময় নীরব থাকতেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৯৪) দ্র. সহীহ বুখারী (৭৪৪) সহীহ মুসলিম (৫৯৮)।

এই নীরবতার মাঝে ছানা, ‘তাআওউয’ (أعوذ بالله) ও ‘তাসমিয়া’ (بسم الله) পড়তেন।

لَا تَتِمُّ صَلَاةٌ لِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَتَوَضَّأَ ثُمَّ يُكَبِّرَ، وَيَحْمَدَ اللهَ عَزَّ وْجَلَّ وَيُثْنِيَ عَلَيْهِ، وَيَقْرَأَ بِمَا شَاءَ مِنَ الْقُرْآنِ.

“কারো নামায পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে অযু করে এরপর তাকবীর বলে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র হামদ ও ছানা পাঠ করে এবং কুরআনের যে পরিমাণ ইচ্ছা তিলাওয়াত করে।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৮৫৭), সুনানে নাসাঈ (১১৩৬)। দ্র. সহীহ বুখারী (৭৪৪), সহীহ মুসলিম (৫৯৮)।

ফরয নামাযে সাধারণত এই ছানা পড়তেন,

سُبْحَانَكَ أَللَّهُمَّ وبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالى جَدُّكَ، وَلاَ إلَهَ غَيْرُكَ.

كَانَ النَّبِيُّ ‘ إذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ قَالَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ....

“নবীজী যখন নামায শুরু করতেন তখন سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ... পড়তেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৪২, ২৪৩), সুনানে আবু দাউদ (৭৭৫, ৭৭৬), সুনানে নাসাঈ (৮৯৯)।

আরও কিছু দুআ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সাধারণত নফল ও তাহাজ্জুদে পড়তেন।

শরহু মাআনিল আছার ১/১৪৫, সুনানে নাসাঈ (৮৯৭), সুনানে দারাকুতনী (১১৩৯), ২/৫৮, সুনানে আবু দাউদ (৭৬৪), যাদুল মাআদ, ১/১৯৯।

এরপর ‘তাআওউয’; সাধারণত এই বাক্যটি أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ নিম্নস্বরে পড়তেন। এছাড়া অন্যান্য বাক্যও বর্ণিত হয়েছে।

{فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ}

“সুতরাং যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত কর তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।” -সূরা নাহল, আয়াত: ৯৮। -সহীহ ইবনে খুযায়মা ১/২৪০, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৫৮৯), আলআওসাত (১২৭৩), যাদুল মাআদ, ১/১৯৯।

পরে ‘তাসমিয়া’ তথা بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ নিম্নস্বরে পড়ে

كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَقْرَأُ: { بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহ পড়তেন।” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৮৪৭), ১/২৩২।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللهِ ‘، وَخَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ فَكَانُوا لَا يَجْهَرُونَ: بِـ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}

“আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর রা. উমার রা. উসমান রা. এর পেছনে নামায পড়েছি। তাঁরা উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পড়তেন না।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১২৮৪৫), সহীহ মুসলিম (৩৯৯), সুনানে তিরমিযী (২৪৪)।

কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ القُرْآنِ.

“তোমার যে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত সহজ হয় তিলাওয়াত কর।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৯৬০)।

إنَّ النَّبِيَّ ‘ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الصَّلَاةَ بالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর রা. ও উমার রা. সূরা ফাতিহা দ্বারা নামায শুরু করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৪৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৯)।

তাহরীমা | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা