নবীজী সা. এর ফরয নামায
কিরাআত
জাহরী নামায তথা ফজর, মাগরিব, এশা, জুমআ, দুই ঈদ, ইসতিসকার নামাযে ‘জাহরী কিরাআত’ (উচ্চস্বরে কিরাআত) পড়তেন।
সহীহ বুখারী (১০৬৫ “১০২৪”), সুনানে নাসাঈ (১৪৯৪), সহীহ মুসলিম (৯০১)।
এছাড়া বাকী নামাযে ‘সিররী কিরাআত’ পড়তেন।
সহীহ বুখারী (৭৪৬, ৭৭২), সহীহ মুসলিম (৩৯৬)।
তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযে কখনো নিম্নস্বরে
عَنْ عَبْدِ اللهُ بْنِ أَبِى قَيْسٍ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ : كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَةُ النبٍيِّ ‘ بِاللَّيْلِ، أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ يَجْهَرُ؟ فَقَالَتْ: كُلَّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ، رُبَّمَا أَسَرَّ بٍالْقِرَاءَةِ وَرُبَّمَا جَهَرَ.
“আবদুল্লাহ বিন আবু কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআত কেমন স্বরে হতো? তিনি কি উচ্চস্বরে পড়তেন না নিম্নস্বরে? তিনি বললেন, দুটোই তিনি করতেন। কখনো নিম্নস্বরে পড়তেন, কখনো উচ্চস্বরে।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৪৪৯), সুনানে নাসাঈ (১৬৬২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১১৬০)।
কখনো উচ্চস্বরে কিরাআত পড়তেন।
كَانَتْ قِرَاءَةُ رَسُولِ اللهِ ‘، بِاللَّيْلِ قَدْرَ مَا يَسْمَعُهُ مَنْ فِي الْحُجْرَةِ، وَهُوَ فِي الْبَيْتِ.
“রাতে ঘরে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেলাওয়াতের আওয়াজ এ পরিমাণ হতো, যারা হুজরায় থাকত তারা শুনতে পেত।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৪৪৬), সুনানে আবু দাউদ (১৩২৭), শামায়েলে তিরমিযী (৩২১)।
كَانَ يَقْرَأُ فِي بَعْضِ حُجَرِهِ فَيَسْمَعُ مَنْ كَانَ خَارِجًا.
“তিনি কোনো কোনো হুজরায় তিলাওয়াত করতেন, তখন বাইরে যারা তারা শুনতে পেত।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (১১৫৭) সুনানে নাসাঈ কুবরা (১৩৪০)।
কেউ কুরআন পড়তে না জানলে শিখা পর্যন্ত নামাযে অন্য দুআ পড়তে বলেছেন।
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ‘ فَقَالَ: إِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ آخُذَ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ فَعَلِّمْنِي شَيْئًا يُجْزِئُنِي مِنَ الْقُرْآنِ، فَقَالَ: قُلْ: سُبْحَانَ الله، وَالْحَمْدُ لله، وَلَا إِلَهَ إِلَّا الله، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একব্যক্তি এসে বললো, আমি কুরআন তিলাওয়াত করতে পারি না। সুতরাং আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআনের পাঠের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়। নবীজী বললেন, তুমি বলো- سُبْحَانَ اللهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِا اللهِ ।” -(সনদ হাসান) সুনানে নাসাঈ (৯২৪), মুসনাদে আহমাদ (১৯১৩৮)।
প্রথমে ‘সূরা ফাতিহা’ পড়তেন। প্রত্যেক আয়াত ওয়াক্ফ ও মদের সাথে তিলাওয়াত করতেন।
إنَّ النَّبِيَّ ‘ كانَ يُقَطِّعُ قِرَاءَتَهُ آيَةً آيَةً: {الحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمِينَ}، ثُمَّ يَقِفُ: {الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ} ثُمَّ يَقِفُ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি আয়াত থেমে থেমে পড়তেন।.....” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (২৯১০) ২/২৩২। সুনানে আবু দাউদ (৪০০১)।
সূরা ফাতিহা শেষ করে নিম্নস্বরে ‘আমীন’ বলতেন।
{اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ}
“তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ডাকো অনুনয় বিনয় করে ও অনুচ্চস্বরে, নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” -সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫।
إنَّ رَسُولَ اللهُ ‘ قَالَ: إِذَا قَالَ الْإِمَامُ: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ}، فَقُولُوا: {آمِينَ}، وَفِيْ رِوَايَةٍ: أَخْفَى بِهَا صَوْتَهُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} বলবে তখন তোমরা আমীন বলবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তা নিম্নস্বরে বলেছেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮২) সহীহ মুসলিম (৪১৫), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৫৪), মুসতাদরাকে হাকেম ২/২৩২।
كَانَ عُمَرُ وَعَلِيٌّ لَا يَجْهَرَانِ بِــ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ}، وَلَا بِالتَّعَوُّذِ، وَلَا بِالتَّأْمِينِ
“হযরত উমার ও আলী রা. ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আউযুবিল্লাহ’ ও ‘আমীন’ অনুচ্চস্বরে পড়তেন।” -(হাদীস হাসান) শরহু মাআনিল আছার ১/১৫০। নুখাবুল আফকার, ২/৪৭১। তাহযীবুল আছার-ইবনে জারীর।
قال الإمام الكشميري رحمه الله: ليس في ذخيرة الحديث ما يدل على أن النبي ‘ أمر المأمومين أن يجهروا بها، بل من جهر منهم جهر برأيه.
-ফায়যুল বারী ২/৩৬৬।
তিনি মুক্তাদীকে নির্দিষ্টভাবে ‘সূরা ফাতিহা’ পড়ার আদেশ দেননি, বরং কুরআনে নীরব থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ }
“যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যেন রহমত লাভ করো।” -সূরা আরাফ, আয়াত: ২০৪।
إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لَيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوْا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوْا.
“ইমামকে ইমাম বানানো হয়েছে যেন তার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরা তাকবীর বলো। আর যখন সে তিলাওয়াত করে তোমরা মনোযোগের সাথে শোনো।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৯৪৩৮), সুনানে নাসাঈ (৯২১), সহীহ মুসলিম (৪১১)।
خَطَبَنَا رَسُولُ اللهُ ‘ فَعَلَّمَنَا سُنَّتَنَا وَبَيَّنَ لَنَا صَلَاتَنَا فَقَالَ: إِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا
“একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবা প্রদান করলেন, তিনি আমাদেরকে সুন্নাহ ও নামায শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, ইমাম যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তখন তাকবীর বলবে। আর ইমাম কিরাআত পড়লে তোমরা নিশ্চুপ থাকবে।” -সহীহ আবু আওয়ানা (১৬৯৭), মুসনাদে আহমাদ (১৯৭২৩), সহীহ মুসলিম (৪০৪)।
নবীজী ﷺ বলেছেন, ‘ইমামের কিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট।’
مَنْ صَلَّى خَلْفَ إٍمَامِ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الإمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ.
“যে ইমামের পেছনে নামায পড়লো (তার কিরাআত নেই।) কেননা ইমামের কিরাআত তার জন্যে কিরাআত।” -(সহীহ) কিতাবুল আছার-ইমাম আবু হানীফা; বর্ণনা: আবু ইউসুফ রাহ. (১৮০), আলআছার-ইমাম আবু হানীফা; বর্ণনা: মুহাম্মাদ রাহ. (৮৬) ১/১১১। মুসনাদে আহমাদ ইবনে মানী- মুসনাদে আবদুবনু হুমায়দ। দ্র. শায়খ মুহাম্মাদ আওওয়ামাকৃত ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বার’ টীকা (৩৮২৩)।
الْإِمَامُ ضَامِنٌ
(ইমাম মুক্তাদীর যিম্মাদার) -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযাইমা (১৫২৯), মুসনাদে আহমাদ (৮৯৭০), সুনানে আবু দাউদ (৫১৭), সুনানে তিরমিযী (২০৭)।
এরপর ‘অন্য সূরা’ তিলাওয়াত করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ فِي الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ، وَيُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مَا لَا يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ وَهَكَذَا فِي الْعَصْرِ، وَهَكَذَا فِي الصُّبْحِ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা ও দুটি সূরা পড়তেন এবং শেষ দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তেন। তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদের শোনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত যতটুকু দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকআত অতটুকু দীর্ঘ করতেন না। এরূপ করতেন আসরে ও ফজরেও।” -সহীহ বুখারী (৭৭৬, ৭৭৮), সহীহ মুসলিম (৪৫১), মুসনাদে আহমাদ (২২৬১৭)।
নবীজী ﷺ এর নামাযে কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ সর্বদা এক রকম হতো না। মুকীম অবস্থায় সাধারণত মাঝারি সূরা তিলাওয়াত করতেন, কখনো লম্বা কখনো ছোট সূরাও তিলাওয়াত করতেন।
যাদুল মাআদ ১/২০২।
সাধারণত এক রাকআতে এক সূরা পড়তেন। কখনো দুই বা ততোধিক সূরাও পড়তেন।
قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَقْرُنُ بَيْنَهُنَّ، فَذَكَرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنْ الْمُفَصَّلِ، سُورَتَيْنِ مِنْ آلِ (حم) فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ.
“ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সূরাগুলো নবীজী মিলিয়ে পড়তেন সেগুলো আমার জানা আছে। এরপর তিনি মুফাসসাল এর বিশটি সূরা এবং আলিফ-লাম (হা-মীম) এর দুটি সূরা উল্লেখ করেন, প্রতি রাকাতে।” -সহীহ বুখারী (৭৭৫), সহীহ মুসলিম (৮২২)।
আবার কখনো এক সূরা দিয়ে দু’রাকআত আদায় করতেন।
إِنَّ رَجُلاً مِنْ جُهَيْنَةَ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِىَّ ‘ يَقْرَأُ فِى الصُّبْحِ {إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ} فِى الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا.
“জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানিয়েছে, তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের উভয় রাকাতে{إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ} পড়তে শুনেছেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৮১৬), সুনানে বায়হাকী ২/৩৯০।
ফজরে সাধারণত ‘তিওয়ালে মুফাস্সাল’ (সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরূজ) এর কোনো একটি সূরা পড়তেন।
وَيَقْرَأُ فِى الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ وَيَقْرَأُ فِى الْعِشَاءِ بِوَسَطِ الْمُفَصَّلِ وَيَقْرَأُ فِى الصُّبْحِ بِطُوَلِ الْمُفَصَّلِ.
“তিনি মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন, এশায় আওসাতে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন, ফজরে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৯৮২), মুসনাদে আহমাদ (৭৯৭৮), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৩৭)।
যা সাধারণত ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত দীর্ঘ হতো।
وَكَانَ يَقْرَأُ فِيْ الرَّكْعَتَيْنِ أَوْ إِحْدَاهُمَا مَا بَيْنَ السِّتِّيْنَ إِلَى الْمِئَةِ.
“তিনি দুই রাকআত বা এক রাকাতে ষাট থেকে একশ আয়াতের মাঝামাঝি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৭১) সহীহ মুসলিম (৪৬১)।
অনেক সময় আরও লম্বা সূরাও পড়তেন। মাঝে মাঝে সূরা ‘তাকভীর’ তিলাওয়াত করতেন।
সুনানে নাসাঈ (৯৫১), সহীহ মুসলিম (৪৫৬)।
জুমআর দিন সূরা ‘সাজদা’ এবং ‘দাহার’ তিলাওয়াত করতেন।
সহীহ মুসলিম (৮৮০), মুসনাদে আহমদ (১০১০২)।
সফরে কখনো সূরা ‘ফালাক’ ও ‘নাস’ তিলাওয়াত করেও নামায শেষ করেছেন।
সুনানে নাসাঈ (৯৫২), যাদুল মাআদ, ১/২০২।
যোহরের নামাযে সাধারণত ত্রিশ আয়াত পড়তেন।
সহীহ মুসলিম (৪৫২), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮২৮), সুনানে নাসাঈ (৪৭৫)।
কখনো যোহর ও আসরের প্রথম রাকআতে দীর্ঘ কিরাআত পড়তেন।
সহীহ বুখারী (৭৫৯)।
আছরের নামাযে নবীজী ﷺ কখনো ‘সূরা-সাব্বিহিসমা’ ও ‘সূরা গাশিয়া’ পড়তেন।
সহীহ মুসলিম (৪৫৯), মুসনাদে বাযযার (৪৪১১)।
কখনো ‘সূরা বুরূজ’ ও ‘সূরা তারিক’ পড়তেন।
সুনানে তিরমিযী (৩০৭) সুনানে আবু দাউদ (৮০৫)।
মাগরিবে ‘কিসারে মুফাস্সাল’ (সূরা বায়্যিনাহ থেকে সূরা নাস) এর কোনো একটি সূরা পড়তেন। মাঝে মাঝে বড় কোনো সূরা পড়তেন এবং অন্যান্য সূরাও পড়তেন।
সহীহ বুখারী (৭৬৫), সহীহ মুসলিম (৪৬৩), মুসনাদে আহমাদ (১৬৭৩৫), শরহু মাআনিল আছার ১/১৫৭, যাদুল মাআদ ১/২০৪।
এশায় সাধারণত ‘আওসাতে মুফাস্সাল’ (সূরা বুরূজ থেকে সূরা বায়্যিনাহ) থেকে পড়তেন। কখনো সূরা গাশিয়া, শাম্স, আ’লা, আলাক পড়তেন।
সহীহ বুখারী (৬১০৬, ৭০৫), সহীহ মুসলিম (৪৬৫), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৩৬)।
সফরে কখনো সূরা তীন পড়তেন।
সহীহ বুখারী (৭৬৭), সহীহ মুসলিম (৪৬৪)।
বিতিরে সাধারণত প্রথম রাকআতে সূরা ‘আলা’, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ‘কাফিরূন’, তৃতীয় রাকআতে সূরা ‘ইখলাস’ পড়তেন।
সুনানে নাসাঈ (১৭০২), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৯৪৩)।
কখনো এর সাথে সূরা ‘ফালাক’ ও ‘নাস’ও পড়তেন।
সুনানে তিরমিযী (৪৬৩)।
কখনো বড় সূরা তিলাওয়াত করতেন।
সুনানে নাসাঈ (১৭২৮)।
জুমআ ও ঈদে সাধারণত সূরা আ’লা ও সূরা গাশিয়া পড়তেন।
সহীহ মুসলিম (৮৭৮), সুনানে আবু দাউদ (১১২২), সুনানে নাসাঈ (১৫৬৮)।
কখনো কখনো জুমআতে সূরা ‘জুমআ’ ও ‘মুনাফিকূন’ পড়তেন। ঈদের নামাযে সূরা ‘ক্বাফ’ ও ‘ইকতারাবাত’ বা সূরা ‘আলা’ ও ‘গাশিয়া’ পড়তেন।
সহীহ মুসলিম (৮৭৭, ৮৯১) সুনানে নাসাঈ (১৫৬৭, ১৪২১)।
কোনো সূরাকে নির্দিষ্ট করে পড়তেন না। তবে সময়ে সময়ে বিশেষ কিছু সূরা পড়তেন।
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَةٌ صَغِيرَةٌ وَلاَ كَبِيرَةٌ إِلاَّ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ يَؤُمُّ النَّاسَ بِهَا فِى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ.
“আমর বিন শুআইব বাবার সূত্রে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফরজ নামাযের ইমামতির সময় ‘মুফাসসাল’ এর ছোট বড় সকল সূরাই পড়তে শুনেছি।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৮১৪), সুনানে বায়হাকী ২/৩৮৮।
নবীজী ﷺ তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযে সাধারণত ‘লম্বা লম্বা সূরা’ পড়তেন।
عَنْ عَبْدِ الله قَالَ:صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ‘ لَيْلَةً، فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرٍ سُوْءٍ، قُلْنَا: وَمَا هَمَمْتَ؟ قَالَ: هَمَمْتُ أَنْ أَقْعُدَ وَأَذَرَ النَّبِيَّ ‘.
“আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবীজীর পেছনে নামায পড়লাম। তিনি দাঁড়িয়েই থাকলেন, একসময় আমি একটি মন্দ বিষয়ের ইচ্ছা করলাম। আমরা বললাম, কী সে মন্দ বিষয়? তিনি বললেন, নবীজীকে ছেড়ে আমি বসে থাকব।” -সহীহ বুখারী (১১৩৫) সহীহ মুসলিম (৭৭৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৪১)।
কখনো এক আয়াত বারবার পড়তে থাকতেন।
মুসনাদে আহমাদ (১১৫৯৩), সুনানে ইবনে মাজাহ (১৩৫০)।
তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করতেন।
{ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلاً}
“ধীরস্থিরভাবে কুরআন তিলাওয়াত কর।” -সূরা মুয্যাম্মিল, আয়াত: ৪।
وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا.
“তিনি সূরা পড়তেন ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে, ফলে সূরা তাঁর তিলাওয়াত হতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।” -সহীহ মুসলিম (৭৩৩), সুনানে তিরমিযী (৩৭৩)।
সুমধুর সুরে তিলাওয়াত করতেন।
مَا أَذِنَ اللهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِىٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ.
“আল্লাহ অত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না, যত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুকণ্ঠ কোনো নবীর প্রতি, যিনি সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং সশব্দে তিলাওয়াত করতে থাকেন।” -সহীহ মুসলিম (৭৯২), সহীহ বুখারী (৫০২৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১০৯১)।
অন্যদেরকেও শুদ্ধ ও সুমধুর সুরে তিলাওয়াত করতে বলেছেন।
زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ.
“তোমাদের সুন্দর সুর দিয়ে কুরআনকে সজ্জিত কর।” -(সনদ সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৬৮), মুসনাদে আহমাদ (১৮৪৯৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৮০৫০)।
নামাযে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় আবেগাপ্লুত হয়ে কখনো অশ্রুসিক্ত হতেন।
قَالَ عَبدُ اللهِ بنُ شِخّير: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ وَهُوَ يُصَلِّي وَفِي صَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْرُّحَى مِنَ الْبُكَاءِ.
“আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে দেখেছি। তখন কান্নার কারণে তাঁর বুকে চাকতির আওয়াজের মত আওয়াজ হচ্ছিলো।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৯০৪), মুসনাদে আহমাদ (১৬৩১২, ১৬৩২৬)।
তিলাওয়াতের মাঝে রহমতের আয়াত এলে রহমত প্রার্থনা করতেন। এবং আযাবের আয়াত এলে আযাব থেকে পানাহ চাইতেন।
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ‘ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبقرةَ،... وَكَانَ إِذَا مَرَّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ سَأَلَ، وَإِذَا مَرَّ بِآيَةِ عَذَابٍ تَعَوَّذَ.
“হুযায়ফা রা. বলেন, আমি একরাতে নবীজীর সাথে নামায পড়েছি। তিনি সূরা বাকারা সূরা শুরু করলেন। যখন রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করতেন রহমত লাভের দোয়া করতেন। যখন আযাবের আয়াত তিলাওয়াত করতেন পানাহ চাইতেন।” -(সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৪২), সহীহ মুসলিম (৭৭২)।
সুন্নাত নামাযে সাধারণত ‘ছোট সূরা’ পড়তেন।
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ: مَا أُحْصِي مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاةِ الْفَجْرِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ بِـــ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ.
“ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের পূর্বের দু’রাকাতে এবং মাগরিবের পরের দু’রাকাতে সূরা কাফীরুন ও সূরা ইখলাস পড়তে কতবার শুনেছি, আমি গুনতে পারব না।” -(হাসান) সুনানে তিরমিযী (৪৩১), সুনানে নাসাঈ (৯৯২), মুসনাদে আবু ইয়ালা (৫০৪৯)।
কখনো এক রাকআতে এক আয়াত পড়তেন।
وَكَانَ رَسُولُ الله ‘ يَقْرَأُ فِى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} وَالَّتِى فِى آلِ عِمْرَانَ {تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ}.
ফজরের দুই রাকাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} এবং সূরা আল ইমরানের {تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ} অংশ তিলাওয়াত করতেন।” -সহীহ মুসলিম (৭২৭), সুনানে আবু দাউদ (১২৬০), রিয়াযুস সালেহীন (১১০৭)।
তিলাওয়াতে ভুল হলে লোকমা দিতে বলেছেন।
عَنْ مِسْوَرِ بْنِ يَزِيدَ الأَسَدِىِّ قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ ‘ يَقْرَأُ فِى الصَّلاَةِ فَتَرَكَ شَيْئًا لَمْ يَقْرَأَهُ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ الله تَرَكْتَ آيَةَ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ رَسُولُ الله ‘:فَهَلاَّ أَذْكَرْتَنِيهَا.
“মিসওয়ার ইবনে ইয়াযীদ আসাদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, নামাযে তিলাওয়াত করলেন। তিনি কিছু অংশ ছেড়ে গেলেন, যা তিনি পড়েননি। এরপর একব্যক্তি তাঁকে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক অমুক আয়াত ছেড়ে গেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমাকে তা স্মরণ করিয়ে দিতে!” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৯০৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৬৪৮), সহীহ ইবনে হিব্বান (২২৪০)।
তিলাওয়াতের মাঝে সেজদার আয়াত এলে সেজদা করতেন।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ: سَجَدْنَا مَعَ النَّبِيِّ ‘ فِى {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} وَ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}
“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সূরা ইনশিক্বাক্ব ও সূরা আলাকের সেজদায় সেজদা করেছি।” -সহীহ মুসলিম (৫৭৮), সুনানে আবু দাউদ (১৪০৭)।
প্রত্যেক নামাযের প্রথম রাকআত দ্বিতীয় রাকআতের তুলনায় লম্বা করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ، وَيُقَصِّرُ فِي الثَّانِيَةِ، وَيَفْعَلُ ذَلِكَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম রাকাতে কিরাআত লম্বা করতেন আর দ্বিতীয় রাকাতে সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের নামাযেও এমন করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৫৯, ৭৭৯), দ্র. (৭৭০), সহীহ মুসলিম (৪৫১), মুসনাদে আহমাদ (১৯৪১৮)।
বিশেষত ফজরের নামাযে।
যাদুল মাআদ ১/২০৮।
নবীজী ﷺ ইমাম হলে মুক্তাদীর প্রতি খেয়াল রাখতেন। প্রয়োজনে তিলাওয়াত সংক্ষেপ করতেন এবং দ্রুত নামায শেষ করতেন। কেউ ইমাম হলে তাকেও এরূপ করার উপদেশ দিতেন।
إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ مِنْهُمْ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ، وَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ.
“যখন কেউ লোকদের নিয়ে নামায পড়ে সে যেন অন্য সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত কেরাতের নামায পড়ে। কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি রয়েছে। আর যখন নিজে নিজে নামায পড়ে তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ নামায পড়ুক।” -সহীহ বুখারী (৭০৩), সহীহ মুসলিম (৪৬৭), মুওয়াত্তা মালেক (৩৫৫)।