নফল নামায
জ্ঞাতব্য
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের বিবরণ উল্লেখ করতে গিয়ে বহুবিধ কিতাবের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। কলেবর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় সবগুলো উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। হাদীসের শব্দ প্রথমে উদ্ধৃত কিতাব থেকে নেয়া হয়েছে।
কোনো কোনো স্থানে হাদীসের মূলশব্দ বাকী রেখে সংক্ষেপ করা হয়েছে। মাওকূফ হাদীসের ক্ষেত্রে শুরুতে সাহাবী/ তাবেঈর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মারফূ হাদীসের ক্ষেত্রে কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে, কোথাও সংক্ষেপনের লক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়নি।
নিম্নে উদ্ধৃত কিতাবসমূহের তালিকা উল্লেখ করা হলো:
১. কিতাবুল আছার/ ইমাম আবু হানিফা রাহ. (১৫০হি.) “মুহাম্মাদ রাহ. (১৮৯হি.) কৃত বর্ণনা” প্রকাশনা: দারুন নাওয়াদের, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া (তাহকীক: আবুল ওয়াফা আফগানী রাহ.)।
২. জামি’ সুফিয়ান ছাওরী/ ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রাহ. (১৬১হি.)।
৩. মুয়াত্তা/ ইমাম মালেক রাহ. (১৭৯হি.)/ তাহকীক: মুস্তফা আ’যমী।
৪. আলমুদাওয়ানাতুল কুবরা/ ইমাম মালেক রাহ. (১৭৯হি.)/ প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত।
৫. কিতাবুল হুজ্জাহ/ ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. (১৮৯হি.)/ প্রকাশনা: আলামুল কুতুব।
৬. মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক/ ইমাম আবু বকর আবদুর রাযযাক সান্আনী (২১১হি.)/ তাহকীক: শায়খ হাবীবুর রহমান আ’যমী রাহ.।
৭. মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা/ ইমাম আবু বকর বিন আবী শায়বা রাহ. (২৩৫হি.)/ তাহকীক: শায়খ মুহাম্মাদ আওওয়ামা হাফিযাহুল্লাহু।
৮. মুসনাদে আহমাদ/ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহ. (২৪১হি.) প্রকাশনা: মুআস্সাসাতুর রিসালা।
৯. মুসনাদে আব্্দ ইবনে হুমাইদ/ আব্্দ ইবনে হুমাইদ রাহ. (২৪৯হি.)।
১০. সহীহ বুখারী/ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বুখারী রাহ. (২৫৬হি.)/ প্রকাশনা: দারু ইবনে হাযম।
১১. আলআদাবুল মুফরাদ/ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বুখারী রাহ. (২৫৬হি.)/ তাহকীক: ফুআদ আবদুল বাকী রাহ.।
১২. জুযউ রাফউল ইয়াদাইন/ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বুখারী রাহ. (২৫৬হি.)/ প্রকাশনা: দারু ইবনে হাযম।
১৩. সহীহ মুসলিম/ ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ রাহ. (২৬১হি.)/ প্রকাশনা: দারু ইবনে হাযম।
১৪. সুনানে ইবনে মাজাহ/ ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াযীদ কাযবীনী রাহ. (২৭৩হি.)/ প্রকাশনা: আলমাকতাবাতুত্ তাওফীকিয়্যাহ।
১৫. সুনানে আবু দাউদ/ ইমাম আবু দাউদ বিন সুলাইমান রাহ. (২৭৫হি.)/ প্রকাশনা: দারু ইবনে হায্ম।
১৬. কিতাবুল মারাসিল/ ইমাম আবু দাউদ বিন সুলাইমান রাহ. (২৭৫হি)/ প্রকাশনা: মুআস্সাসাতুর রিসালা।
১৭. সুনানে তিরমিযী/ ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা তিরমিযী রাহ.(২৭৯হি.) প্রকাশনা: দারু ইবনে হায্ম।
১৮. শামায়েলে মুহাম্মাদিয়া/ ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা তিরমিযী রাহ.(২৭৯হি.)/তাহকীক: শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফিযাহুল্লাহ।
১৯. মুসনাদে বাযযার/ ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন আমর বাযযার রাহ. (২৯২হি.) প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
২০. সুনানে নাসাঈ/ ইমাম আহমাদ বিন শুআইব নাসাঈ রাহ. (৩০৩হি.) প্রকাশনা: দারুল ফাজ্র লিততুরাস।
২১. মুসনাদে আবু ইয়া’লা/ আবু ইয়ালা (৩০৭হি.) প্রকাশনা: দারুল কিবলা।
২২. মুসনাদুর রুয়ানী/ আবু বকর মুহাম্মাদ রুয়ানী রাহ. (৩০৭হি.)/ প্রকাশনা: মুআসসাসাতু কুরতুবা কায়রো।
২৩. তাহযীবুল আছার/ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে জারীর তাবারী রাহ. (৩১০হি.)।
২৪. মুসনাদে র্স্রাাজ/ আবুল আব্বাস আসর্স্রাাজ (৩১৩হি.)/ প্রকাশনা: ইদারাতুল উলূম আলআছারিয়্যাহ, পাকিস্তান।
২৫. আলআউসাত/ ইমাম ইবনুল মুনযির রাহ. (৩১৮হি.)/ প্রকাশনা: দারুল ফালাহ।
২৬. শরহু মাআনিল আছার/ ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী রাহ. (৩২১হি.)/ মুহাম্মাদ আইয়্যূব মাযাহেরীকৃত নুসখা।
২৭. সহীহ ইবনে খুযায়মা/ ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসহাক রাহ. (৩৩১হি.)/ মুস্তফা আ’যমী।
২৮. সহীহ ইবনে হিব্বান/ হাফেয আবু হাতেম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান রাহ. (৩৫৪হি.) প্রকাশনা: মুআস্সাসাতুর রিসালা।
২৯. আলমু’জামুল কাবীর/ হাফেয আবুল কাসেম সুলাইমান বিন আহমাদ তাবারানী রাহ. (৩৬০হি.) প্রকাশনা: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া।
৩০. আলমুজামুল আউসাত/ হাফেয আবুল কাসেম সুলাইমান বিন আহমাদ তাবারানী রাহ. (৩৬০হি.)/ প্রকাশনা: দারুল হারামাইন।
৩১. মুখতাসারু ইখতিলাফিল উলামা/ ইমাম আবু বকর জাস্্সাস রাহ. (৩৭০হি.)/ প্রকাশনা: দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়া বৈরুত।
৩২. আলকামিল ফীয যুআফা/ হাফেয আবু আহমাদ ইবনে আদী জুরজানী রাহ. (৩৬৫হি.)/ প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
৩৩. সুনানে দারাকুতনী/ হাফেয আবুল হাসান আলী বিন উমার দারাকুতনী রাহ. (৩৮৫হি.) প্রকাশনা: মুআস্সাসাতুর রিসালা।
৩৪. মুসতাদরাকে হাকেম/ হাফেয আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরী রাহ. (৪০৫হি.) প্রকাশনা: দারুল মারিফাহ ও দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
৩৫. আততাজরীদ/ ইমাম আবুল হুসাইন আহমাদ কুদূরী রাহ. (৪২৮হি.) প্রকাশনা: দারুস সালাম কায়রো।
৩৬. আলমুহাল্লা/ ইমাম ইবনে হায্ম রাহ. (৪৫৬হি.)/ তাহকীক: শায়খ আহমাদ শাকের রাহ. প্রকাশনা: মাকতাবাতু দারিত তুরাছ ও দারুল হাদীস।
৩৭. সুনানে বায়হাকী/ ইমাম আবু বকর আহমাদ বায়হাকী রাহ. (৪৫৮হি.) প্রকাশনা: দারুল ফিক্র।
৩৮. আলমাদখাল ইলা সুনানিল কুবরা/ ইমাম আবু বকর আহমাদ বায়হাকী রাহ. (৪৫৮হি.)/ প্রকাশনা: দারুল খুলাফা, কুয়েত।
৩৯. আততামহীদ/ ইমাম ইবনে আবদুল বার রাহ. (৪৬৩হি.)/ প্রকাশনা: ওয়াযারাতুল আওকাফ মরক্কো।
৪০. আলইস্তিযকার/ ইমাম ইবনে আবদুল বার রাহ. (৪৬৩হি.)/ প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়া।
৪১. শরহুস সুন্নাহ/ মুহিউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মাদ হুসাইন বাগভী রাহ. (৫১৬হি.)/প্রকাশনা: আলমাকতাবুল ইসলামী বৈরুত।
৪২. আল আহাদীস আল মুখতারা/ জিয়াউদ্দীন মাকদিসী রাহ. (৬৪৩হি.)/ প্রকাশনা: দারু খাবীর।
৪৩. আলমাব্সূত/ ইমাম সারাখসী রাহ. (৪৮৩হি.)/ প্রকাশনা: মাকাতাবা রশিদিয়া।
৪৪. আলকাশিফ/ ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রাহ. (৭৪৮হি.)/ প্রকাশনা: দারুল মিনহাজ।
৪৫. যাদুল মাআদ/ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. (৭৫১)/ প্রকাশনা: মুআস্সাসাতুর রিসালা।
৪৬. আননাকদুস সহীহ/ ইমাম সালাহুদ্দীন আলাঈ রাহ. (৭৬১হি.)/ তাহকীক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ আহমাদ।
৪৭. তারহুত তাছরীব/ যাইনুদ্দীন ইরাকী (৮০৬হি.) প্রকাশনা: আততাবাআতুল মিসরিয়্যাহ।
৪৮. মাজমাউয যাওয়ায়েদ/ ইমাম নূরুদ্দীন হায়ছামী রাহ. (৮০৭হি.)/ কায়রো।
৪৯. ফাতহুল বারী/ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (৮৫২হি.)/ প্রকাশনা: মাকতাবাতুস সফা।
৫০. আলকওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাব্বি আন মুসনাদি আহমাদ/ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (৮৫২হি.)/ প্রকাশনা:
৫১. নুখাবুল আফকার/ ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রাহ. (৮৫৫হি.)/ কদীমী কুতুবখান, করাচী।
৫২. উমদাতুল কারী/ ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রাহ. (৮৫৫হি.) প্রকাশনা: মাকাতাবা রশিদিয়া।
৫৩. কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়ালি ওয়ালআফআল/আল্লামা আলী মুত্তাকী হিন্দী (৯৭৫হি.) প্রকাশনা: মুআসসাসাতুর রিসালা।
৫৪. নায়লুল আওতার/ মুহাম্মাদ বিন আলা আশশাওকানী রাহ. (১২৫০হি.) প্রকাশনা: দারুল হাদীস।
৫৫. রদ্দুল মুহতার/ ইবনে আবেদীন শামী রাহ. (১২৫২) প্রকাশনা: এইচ এম সাঈদ।
৫৬. ইলাউস সুনান/ আল্লামা যফার আহমাদ উসমানী থানভী রাহ. (১৩৯৪হি.) প্রকাশনা: আলমাকতাবাতুল আশরাফিয়্যাহ।
৫৭. মাআরিফুস সুনান/ আল্লামা ইউসুফ বানূরী রাহ./ আলমাকাতাবাতুল আশরাফিয়াহ।
৫৮. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আপনার নামায/ মুফতী আবদুল্লাহ নাজীব/প্রকাশনা: উচ্চতর দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগ, দারুল উলূম হাটহাজারী।
হাদীসের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ইমাম ও মুহাদ্দিসীনগণের বক্তব্য অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু সংক্ষিপ্ত করনার্থে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। হাদীসের মান প্রকাশের জন্য নিম্নের শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে,
সহীহ, সনদ সহীহ, হাদীস সহীহ, হাসান, সনদ হাসান, হাদীস হাসান, সলিহ।
বিস্তারিত জানতে দেখুন “আপনার নামায” এর ভূমিকা।
মতভেদপূর্ণ বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত উসূল ও দলিলের আলোকে অগ্রগণ্য মতকেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং উল্লিখিত হাদীসসমূহকে অস্বীকার করা বা বাতিল বলা সুন্নাহ্ অস্বীকার করার নামন্তর। আর ‘হাদীস ও সুন্নাহ’র ক্ষেত্রে ভিন্নমতের আশ্রয় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করা নিতান্তই গর্হিত কাজ হবে।
খলীফায়ে রাশেদ হযরত আলী রা. সুন্দরই বলেছেন, (সহীহ বুখারী)
أَتُحِبُّونَ أَنْ يُكَذَّبَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ؟!
ইমাম মালেক রাহ. এর ঐতিহাসিক বাণী দাঈদের না জানার কথা নয়। তিনি মুসলিম জাহানের খলীফা আবূ জাফরের প্রস্তাব (নামায ও অন্যান্য ইবাদাতের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মাঝে শাখাগত বিভিন্নতা ও ইখতিলাফ মিটিয়ে একপদ্ধতিকরণ) নাকচ করে বলেছিলেন, (মুকাদ্দিমাতুল জারহি ওয়াত তাদীল)
فإن ذهبت تحولهم مما يعرفون إلى ما لا يعرفون رأوا ذلك كفراً ولكن أقر أهل كل بلدة على ما فيها من العلم .
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের প্রচলিত সালাফি ভাইয়েরা আবূ জাফরের অনুসরণ করে তার প্রস্তাব আজ বাস্তবায়ন করে চলেছেন।
আশা রাখি, তারা সালাফের যুগের ইমাম মালেক রাহ. এর বাণীটি ভেবে দেখবেন। জাফরি না হয়ে ‘প্রকৃত সালাফি’ হওয়ার চেষ্টা করবেন।
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ