সূচিপত্র

নবীজী সা. এর ফরয নামায

পবিত্রতা

নবীজী ﷺ নামাযের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করতেন।

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا }

“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্যে প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করবে। আর যদি তোমরা ‘জুনুবী’ হও তাহলে বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন (গোসল) করবে।” -সূরা মায়েদা, আয়াত: ৬।

قال رَسُولَ اللهُ : لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ.

“পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামায কবুল হয় না এবং খেয়ানতের সম্পদ থেকে কোনো দান কবুল হয় না।” -সহীহ মুসলিম (২২৪), সুনানে তিরমিযী (১), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৭৯) ।

নামাযের জন্য নতুন অযু করতেন, কখনো এক অযু দিয়েও কয়েক ওয়াক্ত নামায আদায় করতেন।

كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ، فَلَمَّا كَانَ عَامُ الفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ.

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি নামাযের জন্যে অযু করতেন। তবে মক্কা বিজয়ের বছর তিনি এক অযুতে সকল নামায আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৬১), সহীহ মুসলিম (২৭৭), সুনানে আবু দাউদ (১৭২)।

قَالَ رَسُولُ اللهُ ‘إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করো তখন পরিপূর্ণভাবে অযূ কর।” -সহীহ বুখারী (৬২৫১) সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩২২)।

পবিত্র কাপড় পরিধান করতেন।

{وَثِيَابَكَ فَطَهِّر}{خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ}

“তুমি তোমার কাপড় পবিত্র কর।”

“প্রতি নামাযের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ গ্রহণ কর।” -সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪; সূরা আরাফ, আয়াত: ৩১

শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি থাকলে তা পবিত্র করতেন এবং অন্যদেরকেও পবিত্র করতে বলতেন।

قال رسولُ الله ‘: إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجدِ فَلْيَنْظُرْ، فَإِنْ رَأَى فِى نَعْلَيْهِ قَذَرًا أَوْ أَذًى فَلْيَمْسَحْهُ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا.

“কেউ যখন মসজিদে আসে সে যেন খেয়াল করে। যদি তার জুতায় ময়লা বা নাপাকি কিছু দেখতে পায় তাহলে সে যেন তা মুছে নেয় এবং সেগুলো নিয়েই নামায পড়ে।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৬৫০), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৪৪২৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৮৫)।

নামাযের উপযোগী পবিত্র স্থানে দাঁড়াতেন।

{وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}

“আর স্মরণ করো যখন আমি ইবরাহীমের জন্যে বায়তুল্লাহর স্থানকে নির্ধারণ করলাম এবং বললাম, আমার সাথে কোনো শরীক স্থির করো না এবং আমার ঘরকে পবিত্র রেখো তাদের জন্যে যারা তাওয়াফ করে, নামাযে দাঁড়ায়, রুকূ করে ও সেজদা করে।” -সূরা হজ্জ, আয়াত: ২৬।

الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ.

“ইস্তিঞ্জাখানা ও কবরস্থান ছাড়া যমীন পুরোটাই নামাযের স্থান।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৩১৭), সুনানে আবু দাউদ (৪৯২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭৯১)।

কখনো সরেজমীনে নামায পড়তেন; কখনো জায়নামাযে।

عَنْ أَبِيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهُ ‘ فَوَجَدَهُ يُصَلِّي عَلَى حَصِيرٍ يَسْجُدُ عَلَيْهِ.

“আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করে তাঁকে একটি চাটাইয়ে নামাযরত পেলেন। তিনি তার উপর সেজদা করছিলেন।” -সহীহ মুসলিম (৬৬১), দ্র. সহীহ বুখারী (৭৩০), সহীহ মুসলিম (৬৫৮)।

وَكَانَ يُصَلِّى عَلَى خُمْرَةٍ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ে নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৬৬০ “২৭০”), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৪০৪২), মুসনাদে আহমাদ (২৬১১১)।

পবিত্রতা | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা