নবীজী সা. এর ফরয নামায
খুশু-খুযূ
পূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুযূর সাথে নামায আদায় করতেন।
{قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُون}{الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاَتِهِمْ خَاشِعُون}
“সফল হয়েছে মুমিনগণ, যারা নামাযে খুশুখুযূ গ্রহণ করে।” -সূরা মুমিনূন, আয়াত: ১-২।
قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘:مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ..
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আমার অযুর মত অযু করে এরপর দুই রাকআত এমন নামায পড়ে, যে নামাযের সময় সে মনে মনে কিছু ভাবেনি, তার পূর্বের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” -সহীহ বুখারী (১৫৯) সহীহ মুসলিম (২২৬), সুনানে নাসাঈ (১১৬)।
আকাশের দিকে তাকাতে নিষেধ করতেন।
قَالَ النَّبِيُّ ‘:مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ، فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ.
“ঐ লোকদের কী হলো, যারা নামাযে দৃষ্টিকে উপরের দিকে রাখে! একপর্যায়ে বললেন, হয়ত তারা এ থেকে নিবৃত হবে অথবা তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়া হবে।” -সহীহ বুখারী (৭৫০), সহীহ মুসলিম (৪২৮, ৪২৯), সুনানে বায়হাকী ২/২৮২।
ডান-বামে না তাকিয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ عَنِ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ، فَقَالَ هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ الْعَبْدِ.
“আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডানে বামে তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটা শয়তানের ছোবল। বান্দার নামায থেকে সে দৃষ্টি টেনে নেয়।” -সহীহ বুখারী (৭৫১) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৪৮৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৫২৬)।
নামাযে খুশু-খুযূর ব্যাঘাত ঘটায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতেন এবং এমন কোনো উপকরণ থাকলে তা সরিয়ে রাখতে বলেছেন।
أَمِيطِي عَنَّا قِرَامَكِ هَذَا، فَإِنَّهُ لَا تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ فِي صَلَاتِي.
“তোমার এই নকশাযুক্ত পর্দা আমাদের থেকে সরিয়ে রাখো। কেননা তার ছবিগুলো নামাযে সামনে এসে যাচ্ছিলো।” -সহীহ বুখারী (৩৭৪), মুসনাদে আহমাদ (১২৫৩১), মুসতাখরাজে আবু আওয়ানাহ (১৪৭৬)।
নামাযের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। পূর্ণ আদবের সাথে নামায আদায়ের জন্য বলেছেন।
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِى الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلاَ يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ شِمَالِهِ تَحْتَ قَدَمِهِ.
“কেউ যখন নামায পড়ে সে তার প্রতিপালকের সাথে একান্তে কথা বলে। সুতরাং (প্রয়োজন হলে) সে যেন সামনে বা ডান দিকে থুথু না ফেলে। বরং বামদিকে পায়ের নীচে থুথু ফেলে।” -সহীহ মুসলিম (৫৫১), সহীহ বুখারী (৪০৫), মুসনাদে আহমাদ (১৩৯১৬)।
নামাযে কথা বলতেন না।
إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَصْلُحُ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ كَلاَمِ النَّاسِ إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ.
“এই নামাযে মানুষের কোনো কথা চলতে পারে না। নামায তো তাসবীহ তাকবীর ও কুরআন তিলাওয়াত ।” -সহীহ মুসলিম (৫৩৭), মুসনাদে আহমাদ (২৩৭৬২), সুনানে আবু দাউদ (৯৩০)।
প্রয়োজনে নফল নামাযে সঙ্গতিপূর্ণ ইশারায় জবাব দিতেন।
مَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللهُ ‘ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ عَلَىَّ إِشَارَةً.
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে গেলাম। তিনি তখন নামায পড়ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি ইশারায় আমার সালামের উত্তর দিলেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৭৪৮), মুসনাদে আহমাদ (১৮৯৩১), সুনানে আবু দাউদ (৬৯৫)।