সূচিপত্র

নামাযের বিবিধ মাসআলা

সেজদায়ে সাহু

নবীজী ﷺ নামাযে ভুল হলে স্মরণ করিয়ে দিতে বলেছেন।

إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي.

“আমি তোমাদের মত একজন মানুষ। ভুলে যাই তোমরা যেমন ভুলে যাও। সুতরাং যখন আমি ভুলে যাই আমাকে তোমরা স্মরণ করিয়ে দিবে।” -সহীহ বুখারী (৪০১) সহীহ মুসলিম (৫৭২), সুনানে আবু দাউদ (১০২০)।

পুরুষদের ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে স্মরণ করিয়ে দিতে বলেছেন।

عَنْ النَّبِيِّ ‘ قَالَ: التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ.

“নবীজী বলেছেন, পুরুষের জন্যে তাসবীহ আর মহিলার জন্যে হাতে আওয়াজ।” -সহীহ বুখারী (১২০৪) সহীহ মুসলিম (৪২২), সুনানে আবু দাউদ (৯৩৯)।

একবার দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠক না করে উঠে যান। পরে সেজদায়ে সাহু আদায় করে নামায শেষ করেন।

সহীহ বুখারী (৮৩০) সুনানে তিরমিযী (৩৬৫), সুনানে আবু দাউদ (১০৩৭)।

فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ.

“তিনি নামায শেষ করার পর দুই সেজদা দিলেন। এরপর সালাম ফেরালেন।” -সহীহ বুখারী (১২২৫), সহীহ মুসলিম (৫৭০), সুনানে আবু দাউদ (১০২১), যাদুল মাআদ, ১/২৮০।

আরেকবার যোহর বা আছরের দ্বিতীয় রাকআতে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। পরক্ষণে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সেজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করেন।

সহীহ বুখারী (১২২৭), সহীহ মুসলিম (৫৭৩)।

আরও একদিন এক রাকআত বাকি রেখেই সালাম ফেরান। স্মরণ করিয়ে দেয়ামাত্র সেজদায়ে সাহু দিয়ে নামায পূর্ণ করেন।

সুনানে আবু দাউদ (১০২৩), মুসনাদে আহমাদ (২৭২৫৪)।

অন্য একদিন যোহরের নামায ভুলে পাঁচ রাকআত আদায় করেন, স্মরণ করিয়ে দেয়ার সাথে সাথে সেজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করেন।

সহীহ বুখারী (৪০১), সহীহ মুসলিম (৫৭২)।

নবীজী ﷺ শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ে নামাযের রুকন পূর্ণ করতেন। তারপর ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে তাকবীরসহ দু’টি সেজদা আদায় করতেন।

فَلَمَّا أَتَمَّ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ، سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَصْنَعُ كَمَا صَنَعْتُ

“যখন মুগীরা বিন শু’বা রা. নামায শেষ করলেন এবং সালাম ফেরালেন তিনি দুটি সেজদায়ে সাহু করলেন। এরপর যখন সালাম ফেরালেন বললেন, আমি যেমন করলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তেমন করতে দেখেছি।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১০৩৭), সুনানে তিরমিযী (৩৬৫), সুনানে বায়হাকী ২/৩৩৮।

فَصَلَّى مَا تَرَكَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ ثُمَّ سَلَّمَ.

“তিনি যা ছুটে গিয়েছিলো তা আদায় করলেন। এরপর সালাম ফেরালেন। এরপর তাকবীর বলে সেজদা করলেন অনুরূপ সেজদা বা আরও দীর্ঘ। এরপর মাথা তুলে তাকবীর বললেন। এরপর তাকবীর বলে সেজদা করলেন অনুরূপ বা আরও দীর্ঘ। এরপর মাথা তুললেন এবং তাকবীর বলে সালাম ফেরালেন।” -সহীহ বুখারী (৪৮২), সহীহ মুসলিম (৫৭৩), শরহুস সুন্নাহ -বগভী (৭৬০)।

পরে স্বাভাবিক নিয়মে তাশাহ্হুদ (দরূদ ও দুআয়ে মাছূরা) পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতেন।

إِنَّ اَلنَّبِيَّ ‘ صَلَّى بِهِمْ، فَسَهَا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ تَشَهَّدَ، ثُمَّ سَلَّمَ.

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন। এরপর ভুল করলেন, ফলে দুটি সেজদা দিলেন। এরপর তাশাহহুদ পড়লেন ও সালাম ফেরালেন।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৩৯৫), সুনানে আবু দাউদ (১০৩৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১০৬২), ফাতহুল বারী- ইবনে হাজার রাহ. ৩/১২১।

সর্বোপরি নবীজী ﷺ নামাযে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা আগ-পিছ হলে বা রাকআত সংখ্যা ভুলে গেলে ‘সেজদায়ে সাহু’ দিতে বলেছেন।

إِذَا زَادَ الرَّجُلُ أَوْ نَقَصَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ.

“যদি কেউ নামাযে কমবেশ করে ফেলে সে যেন দুটি সেজদা দেয়।” -সহীহ বুখারী (৪০১), সহীহ মুসলিম (৫৭২), আলমুজামুল কাবীর (৯৮৩২)।

জামাআতে নামায পড়ার ক্ষেত্রে নবীজী ﷺ এর পিছনে মুক্তাদীর কোনো ভুল হলে সেজদা সাহু দিতে বলেননি। তবে নবীজী ﷺ সেজদা সাহু দিলে মুক্তাদী সাহাবা কেরামও সেজদা দিয়েছেন। মাসবূক হলেও এমনই করবে।

اَلْإٍمَامُ ضَامِنٌ.

“ইমাম দায়িত্বপ্রাপ্ত।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২০৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৫২৮)। দ্র. সুনানে দারা কুতনী (১৪১৩) ২/২১২, সুনানে বায়হাকী, ২/৩৫২, ইলাউস সুনান, ৭/১৬৮।

إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ‘ قَامَ فِي صَلَاةِ الظُّهْرِ وَعَلَيْهِ جُلُوسٌ فَلَمَّا أَتَمَّ صَلَاتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ فَكَبَّرَ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ وَسَجَدَهُمَا النَّاسُ مَعَهُ مَكَانَ مَا نَسِيَ مِنْ الجُلوسِ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন তাঁর বসা ছিলো। যখন নামায পূর্ণ করলেন তখন দুটি সেজদা করলেন। সালাম ফেরানোর পূর্বে বসা অবস্থায় প্রতি সেজদায় তিনি তাকবীর বলেছেন। লোকেরাও তাঁর সাথে সেজদা করেছে, ভুলে না বসার স্থলবর্তী হিসেবে।” -সহীহ বুখারী (১২৩০), সহীহ মুসলিম (৫৭০)।

إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ، ...فَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوْا.

“ইমামকে ইমাম বানানো হয়েছে যেন তার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং তোমরা তার সাথে ভিন্ন আচরণ করো না। যখন সে সেজদা করে তোমরা সেজদা কর।” -সহীহ বুখারী (৭২২), সহীহ মুসলিম (৪১৪)।

নবীজী ﷺ বলেছেন, নামাযে সন্দেহ হলে (রাকআত সংখ্যা ভুলে গেলে) প্রবল মতানুসারে আমল করবে, তারপর সেজদা সাহু দিবে।

وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُسَلِّمْ ثُمَّ يَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ.

“যদি নামাযে তোমাদের কারো সন্দেহ হয় সে যেন সঠিকটির সন্ধান করে এবং সে হিসাবেই নামায পূর্ণ করে। এরপর সালাম ফেরায়, এরপর দুটি সেজদা করে।” -সহীহ বুখারী (৪০১), সহীহ মুসলিম (৫৭২)।

সাহাবা ও তাবেয়ীনের অনেকেই প্রথমবারের ক্ষেত্রে নামায পুনরায় পড়ার ফাতওয়া দিয়েছেন। দ্র. মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৩/৪৩৫।

دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ، فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِينَةٌ، وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيبَةٌ.

“যা তোমাকে সন্দেহগ্রস্ত করে তা ছেড়ে দিয়ে ঐ বিষয় গ্রহণ করো, যা তোমাকে সন্দেগ্রস্ত করে না। সত্য হলো নিশ্চিন্ত অবস্থা আর মিথ্যা হলো সন্দেহ।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১৭২৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (৭২২)।

আর স্থির সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যা অর্থাৎ, ‘চার-তিনের’ মাঝে সন্দেহ হলে ‘তিন’ ধরে নিয়ে নামায পুরো করবে এবং সেজদায়ে সাহু দিবে।

সহীহ মুসলিম (৫৭১), সহীহ ইবনে হিব্বান (২৬৬৯)।

নফল ও সুন্নাত নামাযে ভুল হলেও সেজদায়ে সাহু দিতে হবে।

إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ.

“তোমাদের কেউ যখন নামাযে (কোনো ওয়াজিব) আদায় করতে ভুলে যায় সে যেন বসার হালতে দুটি সেজদা আদায় করে নেয়।” -সহীহ মুসলিম (৫৭২), মুসনাদে আহমাদ (৪০৩২), সুনানে আবু দাউদ (১০২১)।

সেজদায়ে সাহু | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা