সূচিপত্র

নবীজী সা. এর ফরয নামায

জুমআর নামায

নবীজী ﷺ জুমআর দিনকে অধিক গুরুত্ব দিতেন।

যাদুল মাআদ ১/৩৬৩।

জুমআর দিন মসজিদে আসার পূর্বে গোসল করতেন এবং সুগন্ধি লাগাতেন।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ ‘ قَالَ: الغُسْلُ يَوْمَ الجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ.

“আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। নবীজী বলেন, জুমআর দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর গোসল আবশ্যক।” -সহীহ বুখারী (৮৫৮, ৮৭৭, ৮৮০), সহীহ মুসলিম (৮৪৬)।

সুন্দর কাপড় পরিধান করতেন এবং সাহাবা কেরামকে এর প্রতি উৎসাহ দিতেন। মসজিদে এসে খুতবার পূর্ব পর্যন্ত নামায পড়ার কথা বলেছেন।

مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ وَاسْتَاكَ وَمَسَّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كانَ عِنْدَهُ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى يَأْتِيَ المسْجِدَ وَلَمْ يَتَخَطَّ رِقَابَ النَّاسِ ثُمَّ رَكَعَ مَا شَاءَ الله أَنْ يَرْكَعَ ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ كانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى.

“জুমআর দিন যে গোসল করে এবং মেসওয়াক করে, এরপর সুঘ্রাণ গ্রহণ করে যদি তার কাছে থাকে, এরপর উত্তম পোষাক পরিধান করে ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে যায়, কারো কাঁধ ডিঙিয়ে যায় না, এরপর আল্লাহর যা ইচ্ছা নামায পড়ে, যখন ইমাম বের হন তখন নীরব থাকে, এরপর নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো কথা না বলে, তার এই জুমআ সে জুমআ থেকে অন্য জুমআ পর্যন্ত কাফফারা হবে।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১১৭৬৮), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৭৭৫)। দ্র. সহীহ বুখারী (৯১০), সহীহ মুসলিম (৮৫৭)।

খুতবার পূর্বে সাহাবা কেরাম রা. থেকে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন বয়ানও প্রমাণিত।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: حَدِّثِ النَّاسَ كُلَّ جُمُعَةٍ مَرَّةً

-সহীহ বুখারী (৬৩৩৭), আলমাদখাল ইলা সুনানিল কুবরা-বায়হাকী পৃ. ৫৭।

إنّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَيَقْبِضُ عَلَى رُمَّانَتَيِ الْمِنْبَرِ قَائِمًا، وَيَقُولُ: حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ رَسُولُ اللَّهِ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ ‘ فَلَا يَزَالُ يُحَدِّثُ حَتَّى إِذَا سَمِعَ فَتْحَ بَابِ الْمَقْصُورَةِ لِخُرُوجِ الْإِمَامِ لِلصَّلَاةِ، جَلَسَ

-(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৬১৭৩)।

সূর্য মধ্যাকাশ থেকে হেলে পড়ার পর (যাওয়ালের পর) জুমআর পূর্বে চার রাকআত নামায পড়তেন।

كانَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ يُصَلِّى قَبْلَ الجُمُعَةِ أَرْبَعاً وَبَعْدَهَا أَرْبَعاً.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর পূর্বে চার রাকআত ও পরে চার রাকআত নামায পড়তেন।” -(হাসান) আলফাওয়াইদ-খিলাঈ সূত্রে তরহুত তাছরীব ৩/৪২, আলমুজামুল কাবীর-তাবারানী ২/(১৬৪০)।

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: أَدْمَنَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ قَالَ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا هَذِهِ الرَّكَعَاتُ الَّتِي أَرَاكَ قَدْ أَدْمَنْتَهَا قَالَ: إِنَّ أَبْوَابَ السَّمَاءِ تُفْتَحُ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ، فَلَا تُرْتَجُ حَتَّى يُصَلَّى الظُّهْرُ، فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا خَيْرٌ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ تَقْرَأُ فِيهِنَّ.

“আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য উঠে যাওয়ার সময় চার রাকআত নামায পড়তে পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই নামায কী, আপনাকে যা নিয়মিত পড়তে দেখি? তিনি বললেন, আসমানের দরজাসমূহ সূর্য উপরে উঠার সময় খোলা হয়। এরপর যোহর নামায পড়া পর্যন্ত তা বন্ধ করা হয় না। তাই আমি চাই, এই সময়ের মধ্যে আমার নেক আমল উপরে উঠুক। .....” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৩২), সুনানে বায়হাকী ২/৪৮৮।

জুমআর নামায যাওয়ালের কিছু পরেই শুরু করতেন। হুজরা থেকে বের হয়ে মিম্বারে খুতবার জন্য বসতেন।

قَالَ أَنَسٌ : خَطَبَ النَّبِيُّ ‘ عَلَى المِنْبَر.

“নবীজী মিম্বরে উঠে খুতবা দিয়েছেন।” -সহীহ বুখারী (৯১৭) যাদুল মাআদ ১/ (৪১৪), কিতাবুল মারাসীল-আবু দাউদ (৫৫)।

জুমআর পূর্বে দু’টি সংক্ষিপ্ত খুতবা দিতেন।

إِنَّ رَسُولُ اللَّهِ ‘كَانَ يَخْطُبُ الْخُطْبَتَيْنِ وَهُوَ قَائِمٌ وَكَانَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجُلُوسٍ.

“নবীজী দাঁড়িয়ে দুটি খুতবা দিতেন। দুই খুতবার মাঝে বসার মাধ্যমে পার্থক্য করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১৪১৬)। দ্র. সহীহ বুখারী (৯২৮), সহীহ মুসলিম (৮৬১)।

إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَقْرَأُ فِي خُطْبَتِهِ آيَاتٍ مِنَ الْقُرْآنِ، وَيُذَكِّرُ النَّاسَ، وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا، وَصَلَاتُهُ قَصْدًا.

“নবীজী খুতবায় কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন, লোকদের উপদেশ দিতেন। তাঁর খুতবা ছিলো সংক্ষিপ্ত, তাঁর নামায ছিলো অন্য সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২০৯৪৯), সহীহ মুসলিম (৮৬৬), সুনানে নাসাঈ (১৫৮২)। দ্র. সুনানে নাসাঈ (১৪১৪)।

দুই খুতবার মাঝে বসতেন ও নীরব থাকতেন।

كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ يَقْعُدُ بَيْنَهُمَا.

“নবীজী দুটি খুতবা দিতেন, দুই খুতবার মাঝে তিনি বসতেন।” -সহীহ বুখারী (৯২৮), সহীহ মুসলিম (৮৬২)।র্

عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ‘ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِماً ثُمَّ يَقْعُدُ قعْدَةً لاَ يَتَكَلَّمُ.

“জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জুমআর দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে দেখেছি। এরপর তিনি বসতেন, কোনো কথা বলতেন না।” -(হাসান) সুনানে নাসাঈ (১৪১৭)।

খুতবার মূল বিষয় থাকতো আল্লাহর যিকির, হামদ ও কুরআন তিলাওয়াত, যা আরবীতে হওয়ারই দাবি রাখে।

كَانَتْ خُطْبَةُ النَّبِيِّ ‘ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَحْمَدُ اللهَ، وَيُثْنِي عَلَيْهِ.

“জুমআর দিন নবীজীর খুতবা ছিলো আল্লাহর প্রশংসা ও ছানা পাঠ।” -সহীহ মুসলিম (৮৬৭), সুনানে নাসাঈ (১৫৭৮)।

পরবর্তী সময়ে সাহাবা কেরাম ও যুগে যুগে ইমামগণ আরবী ভাষাতেই খুতবা দিয়েছেন। ভিন্ন ভাষায় খুতবা দেয়া প্রমাণিত নয়। প্রয়োজনে খুতবা বিরতি দিয়ে কখনো কথা বলেছেন।

جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ ‘ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ:أَرَكَعْتَ رَكْعَتَيْنِ ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: فَارْكَعْ، قاَلَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَأَقُوْلُ أَنَا: لَيْسَتْ تَانِكَ الرَّكْعَتَانِ لِأَحَدٍ إِلاَّ لِامْرِئٍ قَطَعَ لَهُ الْإِمَامُ خُطْبَتَهُ وَأَمَرَهُ بِذَلِكَ.

“নবীজী খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় একজন প্রবেশ করলো। তিনি বললেন, তুমি কি দুই রাকআত নামায পড়েছ? আগন্তুক বললেন, জ্বি না। তিনি বললেন, তাহলে পড়ে নাও।

ইবনে জুরাইজ এবং আমার মত হলো, এই দুই রাকআত কারো পড়ার সুযোগ নেই। তবে যদি খতীব খুতবা বন্ধ করেন এবং তাকে সে নামায পড়ার নির্দেশ দেন তাহলে ভিন্ন কথা।” -(হাদীস সহীহ) মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৫৫১৩), সুনানে আবু দাউদ (১১১৬), যাদুল মাআদ ১/৪১৩। দ্র. সুনানে নাসাঈ (১৪১৩)।

মিম্বার বানানোর পর লাঠি বা অন্য কিছুর উপর ভর দিতেন না।

যাদুল মাআদ ১/৪১৪-৪১৫।

খুতবা শেষে মিম্বার থেকে অবতরণ করতেন। কাতার সোজা হলে নামায শুরু করতেন। দু’রাকআত নামায পড়াতেন। নামাযে কিরাআত উচ্চ স্বরে পড়তেন। জুমআর পর চার রাকআত নামায আদায় করতেন।

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‘:إِذَا صَلَّيْتُمْ بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَصَلُّوا أَرْبَعًا.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যখন জুমআর পর নামায পড়বে তখন চার রাকআত নামায পড়ো।” -সহীহ মুসলিম (৮৮১), সুনানে আবু দাউদ (১১৩১), সুনানে ইবনে মাজাহ (১১৩২)।র্

إِنَّ النَّبِىَّ ‘ كَانَ يُصَلِّى بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِيْ بَيْتِهَ.

“নবীজী জুমআর পর ঘরে দুই রাকআত নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৮৮২), সুনানে আবু দাউদ (১১৩২)।

জুমআর নামায | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা