ওয়াজিব ও সুন্নাত নামায
বিতিরের নামায
নবীজী ﷺ তাহাজ্জুদের সাথে বিতির নামায পড়তেন। বিতির নামায রাতের প্রথমভাগে কিংবা মধ্যভাগে পড়তেন, কখনো শেষভাগে পড়তেন।
مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللهِ ‘ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَأَوْسَطِهِ، وَآخِرِهِ، فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ.
“রাতের সকল অংশেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতির নামায আদায় করেছেন। শুরুর অংশে, মাঝের অংশে এবং শেষের অংশে। এভাবে তাঁর বিতিরের নামায শেষ হয়েছে সেহরীর সময়ে।” -সহীহ মুসলিম (৭৪৫), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৮২৮), সুনানে নাসাঈ (১৬৮১)।
তবে শেষ রাতে পড়াকে উত্তম বলেছেন।
وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ، فَلْيُوتِرْ آخِرَ اَللَّيْلِ، فَإِنَّ صَلَاةَ آخِرِ اَللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ.
“যে আশা রাখে যে সে শেষরাতে জাগতে পারবে সে যেন শেষরাতে বিতির নামায পড়ে। কেননা শেষ রাতের নামাযে (ফেরেশতাদের) উপস্থিত থাকা হয় আর সেটিই সর্বোত্তম।” -সহীহ মুসলিম (৭৫৫), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৭৭১)।
সাহাবা কেরামকে রাতের নামাযের সর্বশেষে বিতির পড়তে বলেছেন।
قَالَ النَّبِيُّ ‘: اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا.
“নবীজী বলেছেন, তোমরা বিতিরকে রাতের শেষ নামায রেখো।” -সহীহ বুখারী (৯৯৮), সহীহ মুসলিম (৭৫১)।
তিন রাকআত বিতির আদায় করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يُوتِرُ بِثَلاثٍ.
“নবীজী তিন রাকআত বিতির পড়তেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৭২০) সুনানে নাসাঈ (১৭০২, ১৭০৭), শরহু মাআনিল আছার ১/২০২।
... ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا...
“এরপর তিন রাকআত (বিতির) পড়তেন” -সহীহ বুখারী (১১৪৭),সহীহ মুসলিম (৭৩৮), সুনানে তিরমিযী (৪৩৯), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৭৩), সুনানে নাসাঈ (১৬৯৭)।
তিন রাকআতে দুই বৈঠক করতেন।
فِيْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةُ.
“প্রতি দুই রাকআতে আততাহিয়্যাতু (বৈঠক) রয়েছে।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৭৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৭৬৮)।
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ‘ كَانَ لَا يُسَلِّمُ فِي رَكْعَتَيِ الْوِتْرِ
“বিতিরের দ্বিতীয় রাকআতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরাতেন না।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে নাসায়ী (১৬৯৮), শরহু মাআনিল আছার ১/১৯৭, সুনানে বায়হাকী ৩/৩১।
তৃতীয় রাকআতে রুকূর পূর্বে দুআয়ে কুনূত পড়তেন।
إِنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ ‘ كَانَ يُوتِرُ، فَيَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতির নামায পড়তেন। তিনি রুকূর পূর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (১১৮২), সুনানে নাসাঈ (১৬৯৯)।
إِنَّ ابْنَ مَسْعُوْدٍ كَانَ يَقْنُتُ السَّنَةَ كُلَّهَا فِي الْوِتْرِ، قَبْلَ الرُّكُوْعِ.
“ইবনে মাসউদ রা. পুরো বছর বিতির নামাযে রুকূর পূর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন।” -(সহীহ) কিতাবুল আছার (২১১), কিতাবুল হুজ্জাহ ১/১৩৮।
সাহাবা কেরাম রা. নবীজী ﷺ থেকে নামায শিখেছেন। তাঁদের থেকে দুআয়ে কুনূতের পূর্বে হাত উঠানো
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي آخِرِ رَكْعَةٍ مِنَ الْوِتْرِ قُلْ {هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ وَيَقْنُتُ قَبْلَ الرَّكْعَةِ.
“আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত। বিতিরের শেষ রাকআতে তিনি সূরা ইখলাস পড়তেন। এরপর হাত তুলে রুকূর পূর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন।” -(হাদীস হাসান) জুযউ রাফ্উল ইয়াদাইন-বুখারী (১৬৩), সুনানে বায়হাকী ৩/৪১।
এবং নিম্নোক্ত দুআ পড়া প্রমাণিত,
اللَّهُمَّ إنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَ[نُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ] وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ [وَنَشْكُرُكَ] وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ، اللَّهُمَّ إيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَك نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْك نَسْعَى وَنَحْفِدُ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ.
মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৯৬৫, ৭১০৪), শরহু মাআনিল আছার ১/১৭৭, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৪৯৭৮)।
শেষ বৈঠক করে সালাম দিয়ে নামায শেষ করতেন।
كَانَ رسولُ الله ‘ يُوتِرُ بِثَلاَثٍ، لاَ يُسَلِّمُ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ
-(হাদীস সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (১১৪০), সুনানে নাসাঈ (১৬৯৮), শরহু মাআনিল আছার ১/১৯৭, দ্র. মাআরিফুস সুনান ৪/১৮৯।
ইমাম হাকেম নিশাপুরী রাহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন,
وهذا وتر أمير المؤمنين عمر بن الخطاب ، وعنه أخذه أهل المدينة
নবীজী ﷺ রামাদানে বিতিরের নামায কয়েকদিনে জামাআতের সাথে পড়িয়েছেন। সাহাবা কেরামও পরবর্তী সময়ে জামাআতের সাথে আদায় করেছেন।
সুনানে তিরমিযী (৮০৫), মুআত্তা মালেক (৩৮০)।
বিতিরের পর কখনো কখনো দুই রাকআত নামায আদায় করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘كَانَ يُصَلِّى بَعْدَ الْوِتْرِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيْفَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ.
“বিতিরের পর নবীজী বসে বসে সংক্ষিপ্ত কেরাতে দুই রাকআত নামায পড়তেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (১১৯৫), সুনানে তিরমিযী (৪৭০), সুনানে আবু দাউদ (১৩৫২); দ্র. সহীহ মুসলিম (৭৪৬)।