নামাযের বিবিধ মাসআলা
মহিলার নামায
নবীজী ﷺ মহিলাদেরকে পুরুষদের মত নামায পড়তে বলেননি। বরং বিভিন্ন বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করেছেন। হাদীস ও ‘তালাক্কী’ তথা উম্মাতে মুসলিমার অবিচ্ছিন্ন কর্মধারার আলোকে এই পার্থক্য স্বীকৃত। তাই মহিলাদের নামায পুরুষদের মতো নয়। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন “আপনার নামায”)
إِنَّ الْمَرْأَةَ لَيْسَتْ فِي ذَلِكَ كَالرَّجُلِ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক্ষেত্রে মহিলা পুরুষের মত নয়।” -(হাদীস সহীহ) কিতাবুল মারাসিল (৮৭), সুনানে বায়হাকী ২/২২৩। সনদটি মুরসাল।র্
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِيْ رَبَاحٍ رَحِمَهُ اللهُ، قَالَ: إِنَّ لِلْمَرْأَةِ هَيْئَةً لَيْسَتْ لِلرَّجُلِ
“আতা ইবনে আবি রাবাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহিলার (নামায) আদায়পদ্ধতি পুরুষের চেয়ে ভিন্ন।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (২৪৮৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৫০৬৬),
হাদীস ও ‘তালাক্কী’ তথা উম্মাতে মুসলিমার অবিচ্ছিন্ন কর্মধারার দ্বারা প্রমাণিত, মহিলার সতর পুরুষের চেয়ে বেশি। মহিলা মুখমন্ডল, হাতের কব্জি এবং পায়ের পিঠ ব্যতীত পুরো শরীর আবৃত রাখবে।
لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ
“ওড়না ছাড়া কোনো নারীর নামায কবুল হবে না।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৫১৬৭), সুনানে আবু দাউদ (৬৪১), সুনানে তিরমিযী (৩৭৭)।
قَالَتْ عَائِشَةُ: لَا بُدَّ لِلْمَرْأَةِ مِنْ ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ، تُصَلِّيْ فِيْهِنَّ: دِرْعٍ وَجِلْبَابٍ وِخِمَارٍ، وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَحُلُّ إِزَارَهَا فَتُجَلْبِبُ بِهِ
“আয়েশা রা. বলেন, যে কোনো মহিলার জন্যে তিনটি কাপড় অনিবার্য, যেগুলোতে সে নামায পড়বে। লম্বা ও ঢিলে-ঢালা জামা, (শরীর আবৃত রাখার জন্য) লম্বা চাদর ও ওড়না। আয়েশা রা. তাঁর নিচের অংশের কাপড়কে ছিড়ে তা দ্বারা বুকের উপরের কাপড় বানাতেন।” -(সহীহ) তাবাকাতে ইবনে সাআদ ৮/৭১। দ্র. সুনানে আবু দাউদ (৬৩৯), মুআত্তা (৪৭৩), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৫০৩১)।
মহিলারা নামাযের সর্বক্ষেত্রে জড়সড় হয়ে থাকবে; কিয়াম, রুকূ, সেজদা ও তাশাহ্হুদে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَلَاةِ الْمَرْأَةِ، فَقَالَ: تَجْتَمِعُ وَتَحْتَفِرُ
“ইবনে আব্বাস রা.কে মহিলার নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। তিনি বললেন, সে জড়ো হয়ে থাকবে এবং গুটিয়ে থাকবে।” -(রাবীগণ ছিকাহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৭৯৪), মাজমাউয যাওয়ায়েদ (২৪৯৪)।
তাকবীরের সময় পুরুষের মত হাত উঠাবে না বরং হিজাবের ভিতরে হাত বুকের সাথে মিলিয়ে বুক বরাবর উঠাবে। বুকের উপর হাত বাঁধবে।
وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিলা হাত রাখবে বুক বরাবর।”
-(হাদীস হাসান) আলমুজামুল কাবীর, তাবারানী, ২২/১৯-২০।
قال عطاء: لَا تَرْفَعْ بِذَلِكَ يَدَيْهَا كَالرَّجُلِ، وَأَشَارَ فَخَفَضَ يَدَيْهِ جِدًّا، وَجَمَعَهُمَا إِلَيْهِ جِدًّا
“আতা রাহ. বলেন, পুরুষের মত মহিলা দুই হাত উঠাবে না। তিনি ইশারা করে দেখালেন। তিনি দু’হাত অনেক নামিয়ে রাখলেন এবং অনেক জড়সড় করে রাখলেন।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৪৮৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৫০৬৬)।
কনুইকে পাঁজরের সাথে মিলিয়ে জড়সড় হয়ে সেজদা করবে। রুকূতে হাত পেটের সাথে মিলিয়ে হাঁটুতে রাখবে।
إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ مَرَّ عَلَى امْرَأَتَيْنِ تُصَلِّيَانِ فَقَالَ: إِذَا سَجَدْتُمَا فَضُمَّا بَعْضَ اللَّحْمِ إِلَى الْأَرْضِ؛ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَيْسَتْ فِي ذَلِكَ كَالرَّجُلِ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযরত দুজন মহিলার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, যখন তোমরা সেজদা করবে শরীরের কিছু অংশকে মাটির সাথে মিলিয়ে রাখবে। এক্ষেত্রে নারী পুরুষের মত নয়।” -(হাদীস সহীহ) কিতাবুল মারাসিল-আবু দাউদ (৮৭), সুনানে বায়হাকী ২/২২৩। সনদটি মুরসাল।
বৈঠকের মাঝে মহিলারা উভয় পা ডান দিকে বের করে বাম নিতম্বের উপর বসবে এবং উভয় উরু মিলিয়ে রাখবে।
إِذَا جَلَسْتِ الْمَرْأَةُ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الأُخْرَى، وَإِذَا سَجَدَتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِى فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا
“নামাযে যখন মহিলা বৈঠক করবে সে তার এক উরু আরেক উরুর উপর রাখবে। যখন সেজদা করবে পেটকে উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে, যেন তার জন্যে সর্বোচ্চ ঢেকে রাখার মত হয়।” -(সলিহ) সুনানে বায়হাকী ২/২২৩। দ্র. মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৭৯৫, ২৭৯৯), ২/৫০৫