সূচিপত্র

নবীজী সা. এর ফরয নামায

নামাযের সময়

আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করে নবীজীকে ﷺ নামাযের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।

قال رسول الله ‘:أمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ البَيْتِ مَرَّتَيْنِ وفي رواية للنسائي: يُعَلِّمُهُ مَوَاقِيتَ الصَّلَاةِ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিবরীল বাইতুল্লাহর কাছে আমার নামাযের ইমামতি করেছেন দুইবার। নাসাঈ-র এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তাকে নামাযের সময় শিখাচ্ছিলেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৩৩২২), সুনানে আবু দাউদ (৩৯৩), সুনানে নাসাঈ (৫১৩); দ্র. সুনানে তিরমিযী (১৪৯), শরহু মাআনিল আছার, ১/১১১।

নবীজী ﷺ নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করতেন।

كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُصَلِّي الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا إِلَّا بِجَمْعٍ وَعَرَفَاتٍ.

“আরাফা ও মুযদালিফা ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল নামায সময়মত আদায় করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৩০১০); দ্র. সহীহ বুখারী (১৬৮২), সহীহ মুসলিম (১২৮৯), শরহু মাআনিল আছার, ১/১২২।

তিনি সাহাবা কেরামকে মৌখিক ও আমলের মাধ্যমে নামাযের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।

قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘: إِنَّ لِلصَّلَاةِ أَوَّلًا وَآخِرًا

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতিটি নামাযের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ রয়েছে।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৭১৭২) সুনানে তিরমিযী (১৫১) শরহু মাআনিল আছার ১/১১৩, আলমুহাল্লা ৩/১৩৯।

أَتَى النَّبِيَّ ‘ رَجُلٌ، فَسَأَلَهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ، فَقَالَ: أَقِمْ مَعَنَا إِنْ شَاءَ اللهُ، فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ حِينَ طَلَعَ الفَجْرُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ، فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ، فَصَلَّى العَصْرَ -وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ- ثُمَّ أَمَرَهُ بِالمغْرِبِ حِينَ وَقَعَ جَانِبُ الشَّمْسِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعِشَاءِ فَأَقَامَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ مِنَ الغَدِ فَنَوَّرَ بِالفَجْرِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ، فَأَبْرَدَ وَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعَصْرِ فَأَقَامَ، وَالشَّمْسُ آخِرُ وَقْتِهَا فَوْقَ مَا كَانَتْ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ إِلَى قُبَيْلِ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعِشَاءِ فَأَقَامَ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ. ثُمَّ قَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ؟ فَقَالَ الرَّجُلُ: أَنَا، فَقَالَ: مَوَاقِيتُ الصَّلاَةِ كَمَا بَيْنَ هَذَيْنِ.

“নবীজী ﷺ ’র কাছে এক ব্যক্তি এসে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জানতে চাইলো। নবীজী ﷺ বললেন, ইনশাআল্লাহ তুমি আমাদের সাথে নামাযে দাঁড়াও। পরে নবীজী ﷺ বেলাল রা.কে ইকামাতের নির্দেশ দিলেন এবং সুবহে সাদিকের উন্মেষের সাথে সাথে ফজরের নামায পড়লেন। সূর্য হেলে পড়ার সাথে সাথে তিনি বেলাল রা.কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন এবং যোহর নামায পড়লেন। তিনি আবার বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন এবং আসরের নামায পড়লেন, সূর্য তখনও আকাশে উজ্জ্বল। যখন সূর্য অস্তমিত হলো তিনি বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। আর এশার নির্দেশ দিলেন যখন শাফাক (দিগন্তের লালিমার পরবর্তী সাদা রেশও) মিলিয়ে গেলো। পরদিন তিনি বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। খুব ফর্সা হওয়ার পর ফজর নামায পড়লেন। সূর্যের প্রখর তেজ প্রশমিত ও খুবই শীতল হলে তিনি যোহর নামাযের নির্দেশ দিলেন। আসর নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন তখন; যখন আগের দিনের তুলনায় সূর্য আরও নেমে গেছে। পরে তিনি মাগরিব নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি নামাযকে বিলম্বিত করলেন লালিমা হারিয়ে যাওয়ার আগমুহুর্তে। এরপর তিনি এশার নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন, আর ইশার নামায পড়লেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ চলে গেছে। এরপর বললেন, কোথায় নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী? লোকটি বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ই হলো নামাযের ওয়াক্ত। -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৫২); দ্র. সহীহ মুসলিম (৬১৪), সুনানে নাসাঈ (৫২৩)।

ফজরের সময় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।

مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ..

“যদি সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে কেউ এক রাকআত পায় তাহলেও সে ফজর নামায পেলো।” -সহীহ বুখারী (৫৭৯), সহীহ মুসলিম (৬০৮), সুনানে তিরমিযী (১৮৬)।

নবীজী ﷺ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দু’রাকআত সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোনো নামায পড়তেন না।

كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّى إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ.

“সুবহে সাদিকের উন্মেষের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত কিরাআতবিশিষ্ট দুই রাকআত নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৭২৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৫৮৭), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৫৫৯)।

সাধারণত ফজরের নামায দীর্ঘ করতেন এবং অনেক ফর্সায় শেষ করতেন।

أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ، فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ.

“তোমরা চতুর্দিক ফর্সা হয়ে এলে ফজর আদায় করবে। কেননা এতে রয়েছে বিরাট ছাওয়াব।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৫৪); দ্র. মুসনাদে আহমাদ (১৫৮১৯), সুনানে আবু দাউদ (৪২৪)।

قَالَ السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ الصُّبْحَ، فَقَرَأَ فِيهَا بِالْبَقَرَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفُوا اسْتَشْرَفُوا الشَّمْسَ فَقَالُوا: طَلَعَتْ، فَقَالَ: لَوْ طَلَعَتْ لَمْ تَجِدْنَا غَافِلِينَ.

“সায়েব ইবন ইয়াযিদ বলেন, আমি উমার রা. এর পেছনে ফজরের নামায পড়েছি। তিনি নামাযে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করেছেন। যখন সবাই সালাম ফেরালো তখন সূর্যকে উতিদপ্রায় অবস্থায় পেলো। তারা বললো, উদিত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, যদি উদিত হতো তাহলে আমাদেরকে গাফেল পেতো না।” -(সহীহ) শরহু মাআনিল আছার ১/১৩৩, যাদুল মাআদ ১/২০৮, কানযুল উম্মাল (২২১০১)।

রামাদান মাসে সুবহে সাদিকের কিছুক্ষণ পরেই নামায শুরু করতেন।

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حَدَّثَهُ: أَنَّهُمْ تَسَحَّرُوا مَعَ النَّبِيِّ ‘ ثُمَّ قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ، قُلْتُ: كَمْ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ أَوْ سِتِّينَ يَعْنِي آيَةً.

“আনাস রা. থেকে বর্ণিত। যায়েদ বিন ছাবেত রা. তার কাছে বর্ণনা করেছেন, তারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সেহরী খেলেন। এরপর নামাযে দাঁড়ালেন। আমি বললাম, সেহরী ও নামাযের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণের? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ সময়।” -সহীহ বুখারী (৫৭৫), সহীহ মুসলিম (১০৯৭), সুনানে বায়হাকী ১/৪৫৫।

যোহরের সময় ‘যাওয়ালে শাম্স’ তথা সূর্য মধ্যাকাশ থেকে হেলে যাওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ‘ فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ المُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ حَتَّى سَاوَى الظِّلُّ التُّلُولَ فَقَالَ النَّبِيُّ ‘: إِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ.

“আবু যর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। মুয়াযযিন যোহরের জন্যে আযান দিতে চাইলো। তিনি তাকে বললেন, গরম কমতে দাও। এরপর আবার মুয়াজ্জিন আযান দিতে চাইলো। নবীজী তাকে বললেন, ঠান্ডা হোক। এরপর আবার সে আযান দিতে চাইলো। তিনি তাকে বললেন, ঠান্ডা হোক। একসময় ছায়া পাহাড়ের টিলার বরাবর হলো। (এমনটি সাধারণত বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হলে হয়ে থাকে) তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় তাপের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ।” -সহীহ বুখারী (৫৩৯), মুয়াত্তা মালেক (৩৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২০৪১)।র্

عَنْ أبي هريرة قال: صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ، وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ

-(সহীহ) মুআত্তা (৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২০৪১), কানযুল উম্মাল (২১৭৩৪)।

এ হাদীসগুলো থেকে যোহরের শেষ দু’মিসিল হওয়া প্রতীয়মান হয়। তবে অন্য হাদীসে এক মিসিলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। তাই সতর্কতা হলো, এক মিসিল অন্তর্বর্তী যোহর নামায আদায় করা। আর ওযরবশত দু’মিসিলেও আদায় করা যাবে।

নবীজী ﷺ সাধারণত রোদ প্রখর থাকলে (গ্রীষ্মকালে) নামায বিলম্বে আদায় করতেন, অন্যথায় (শীতকালে) দ্রুত শুরু করতেন।

كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গরমকালে ঠান্ডা করে নামায পড়তেন। আর শীতকালে দ্রুত নামায পড়তেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৪৯৯), সহীহ বুখারী (৫৩৬, ৯০৬), সহীহ মুসলিম (৬১৫, ৬১৬, ৬১৭)।

আছরের সময় যোহরের শেষ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ.

“সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে যে আসরের এক রাকআত নামায পাবে সে আসর নামায পেলো।” -সহীহ বুখারী (৫৭৯), সহীহ মুসলিম (৬০৮), সুনানে তিরমিযী (১৫৫)।

নবীজী ﷺ সাধারণত আছরের নামায একটু বিলম্বে শুরু করতেন।

كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَشَدَّ تَعْجِيلًا لِلظُّهْرِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ أَشَدُّ تَعْجِيلًا لِلْعَصْرِ مِنْهُ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের চেয়ে দ্রুত যোহর আদায় করতেন আর তোমরা তাঁর চেয়ে দ্রুত আসর নামায আদায় করছো।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৬১, ১৬২), মুসনাদে আহমাদ (২৬৪৭৮)।

মাগরিবের সময় সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিমাকাশের ‘দিগন্ত-লালিমা’ বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত।

সুনানে তিরমিযী (১৫২), সহীহ মুসলিম (৬১৪), সুনানে নাসাঈ (৫২৩)।

নবীজী ﷺ সাধারণত সূর্যাস্তের পর-পরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন।

إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ كَانَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَتَوَارَتْ بِالْحِجَابِ

-সহীহ মুসলিম (৬৩৬), সহীহ বুখারী (৫৬১),সুনানে তিরমিযী (১৬৪), সুনানে আবু দাউদ (৪১৭)।

এশার সময় মাগরিবের শেষ সময় থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।

لَيْسَ فِى النَّوْمِ تَفْرِيطٌ، إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِىءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى.

“ঘুমে কোনো ত্রুটি নেই। ত্রুটি হলো সে ব্যক্তির, যে এক ওয়াক্ত নামায না পড়ে এত বিলম্ব করে যে, অন্য নামাযের সময় হয়ে যায়।” (এশার নামায এত বিলম্বে পড়ে যে ফজরের সময় হয়ে যায়) -সহীহ মুসলিম (৬৮১), সুনানে আবু দাউদ (৪৪১), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৫৮৩)।

كَتَبَ عُمَرُ إِلَى أَبِي مُوسَى: وَصَلِّ الْعِشَاءَ أَيَّ اللَّيْلِ شِئْتَ، وَلَا تَغْفُلْهَا.

“উমার রা. আবু মূসা রা. এর কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলেন, এশার নামায পড় রাতের যে সময়ে ইচ্ছা, তবে নামায সম্পর্কে গাফেল হয়ো না।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩২৫০), শরহু মাআনিল আছার, ১/১১৮।

নবীজী ﷺ একটু দেরিতে এশার নামায পড়া পছন্দ করতেন। এশার নামাযের পূর্বে ঘুমানো পছন্দ করতেন না। এশার পর অহেতুক কথা-বার্তা অপছন্দ করতেন।

كَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ، وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশা নামায বিলম্ব করে পড়তেন। তিনি নামাযের পূর্বে ঘুম আর পরে অহেতুক কথা-বার্তা অপছন্দ করতেন।” -সহীহ বুখারী (৫৬৮), সহীহ মুসলিম (৬৪৭), সুনানে ইবনে মাজাহ (৭০১)।

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে দিনের নামায তথা ফজর, যোহর ও আছর তাড়াতাড়ি শুরু করতেন। রাতের নামায তথা মাগরিব ও এশা একটু বিলম্বে পড়তেন।

قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘: عَجِّلُوا صَلَاةَ النَّهَارِ فِي يَوْمِ غَيْمٍ، وَأَخِّرُوا الْمَغْرِبَ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মেঘাচ্ছন্ন দিনে তোমরা দিনের নামাযগুলো দ্রুত পড় আর মাগরিবকে বিলম্ব করে পড়।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৩৪৬), মারাসিলু আবি দাউদ (১৩): সনদটি মুরসাল, কানযুল উম্মাল (১৯৪১৬)।

ফজর ও আছর নামাযের পর সাধারণত কোনো নফল বা সুন্নাত পড়তেন না।

نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، وَعَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُع الشَّمْسُ.

“নবীজী আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়ে এবং ফজর নামাযের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়ে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।” -সহীহ মুসলিম (৮২৫, ৮২৬), সহীহ বুখারী (৫৮৮)। সুনানে নাসাঈ (৫৬১), সুনানে আবু দাউদ (১২৭৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (১২৪৮)।

সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরে নামায পড়তে নিষেধ করতেন।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ يَقُولُ: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ، أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ، وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ.

“উকবা বিন আমির জুহানী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়তে এবং মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। যখন সূর্য উদিত হয় তখন থেকে উপরে উঠে যাওয়া পর্যন্ত, যখন দ্বিপ্রহরের সময় সূর্য মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয় তখন থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।” -সহীহ মুসলিম (৮৩১), সুনানে আবু দাউদ (৩১৯২), সুনানে তিরমিযী (১০৩১)।

নামাযের সময় | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা