পেশ লফয
বিভিন্ন পদ্ধতি ও আমাদের করণীয়
বিভিন্ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? নবীজী ﷺ তাও শিক্ষা দিয়ে গেছেন। যেমন, নবীজী ﷺ মদীনায় আযান শিক্ষা দিয়েছেন এক রকম, মক্কায় আবু মাহযূরা রা.কেও তিনি আযান শিক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু তার আযান ছিলো ভিন্ন রকম। তাহলে আযানের দুই পদ্ধতি হলো। কিন্তু নবীজী ﷺ কখনোই এ কথা বলেননি, সকল মসজিদের আযান এক রকম হতে হবে; বা একই মসজিদে উভয় পদ্ধতিতেই আযান হতে হবে। সর্বোপরি নবীজী ﷺ মক্কার আযান মদীনায় চালু করেননি। এমনিভাবে মদীনার আযান মক্কায় চালু করেননি। সুতরাং উভয়টিকে আপন স্থানে সচল ও বাকী রাখাই হলো নববী আদর্শ ও নবীজীর সুন্নাহ।
অনুরূপ নবীজী ﷺ এর সুন্নাহর দাবী হলো, মদীনার নামায মদীনায়, মক্কার নামায মক্কায় এবং ক‚ফার নামায ক‚ফায় বলবৎ রাখা। কারণ সবগুলোই নববী নামাযের পদ্ধতি। (আলমুহাল্লা ৩/১৯৫) এভাবেই রেখে গেছেন পর্যায়ক্রমে চার খলীফা।
আমরা জানি, হযরত আবু হানীফা রাহ. এর উক্ত বোর্ড কর্তৃক নবীজী ﷺ এর নামাযের সংকলন আমাদের মাঝে যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত, যা বহাল রাখাই নবীজী ﷺ এর আদর্শ ও সুন্নাহর দাবি। বর্তমানে সব পদ্ধতির সমন্বয় করা, অথবা নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করে অন্যগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা মানেই, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং সুন্নাহর বিরোধিতা করা।
শাখাগত বিষয়ে বিভিন্নতা দোষণীয় নয়। মূলত তা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার বিভিন্ন শাখা-পথ। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন, আমার প্রতি আগ্রহীকে আমি বিভিন্ন শাখা-পথ দেখাবো। (সূরা: আনকাবূত, আয়াত: ৬৯) তবে মানুষ একই সময়ে দু’পথে চলতে অপারগ। বাধ্য হয়ে তাকে একটি পথ নির্বাচন করতে হয়। এটাই বাস্তবতা। অনুরূপ নামাযের ক্ষেত্রেও একটি পদ্ধতিকে নির্বাচন করে নিতে হবে। আর আমরা যে পদ্ধতিতে নামায আদায় করি তা দলীল-প্রমাণের দিক থেকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
প্রিয় মুসলিম ভাই,
উক্ত পদ্ধতিই সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসসহ সংক্ষেপে আপনার সামনে পেশ করছি। বিস্তারিত দলিল ও বিধানের স্তরবিন্যাস জানার জন্য “কুরআন সুন্নাহর আলোকে আপনার নামায”সহ সংশ্লিষ্ট কিতাব পড়ার অনুরোধ থাকলো।
যদি কেউ আপনাকে সংকলিত ভিন্ন পদ্ধতি দিতে চায়, তাকে বিনয়ের সাথে বলুন, আমার কাছেও একটি সংকলিত পদ্ধতি রয়েছে, দলিলও রয়েছে। তাই মক্কার আযান মক্কায় রাখুন, যেমনটি নবীজী ﷺ রেখেছেন। বেশি কৌত‚হল থাকলে বিজ্ঞ আলেমের কাছে গিয়ে মীমাংসা করে আসুন। বিশৃঙ্খলা নয়, কল্যাণকামিতাই দ্বীন।