নবীজী সা. এর ফরয নামায
রুকূ
নবীজী ﷺ কিরাআত শেষ করার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকূতে যেতেন।
كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি উঠা-বসায় তাকবীর বলতেন। আবু বকর ও উমারও অনুরূপ করতেন।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৫৩), মুসনাদে আহমাদ (৩৬৬০), সুনানে নাসাঈ (১১৪২)।
يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ.
“রুকূতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), মুসনাদে আহমাদ (৯৮৫১)।
স্বাভাবিক ও ধীরস্থিরতার সাথে রুকূ করার প্রতি গুরুত্ব দিতেন।
اعْتَدِلُوا فِى الرُّكُوعِ
“রুকূতে স্থির থাকো” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০২৭), সুনানে দারিমী (১৩২২), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১১০২)।
রুকূর পূর্বে হাত উঠাতেন না।
عَنْ ابن مسعود قَالَ: ألا أُرِيكُمْ صَلاةَ رَسُولِ اللهِ ‘ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ تَكْبِيرَةٍ ثٌمَّ لَمْ يُعِدْ.
“ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায দেখাব না? তিনি প্রথম তাকবীরের সময় হাত তুললেন। এরপর আর হাত তুলেননি। -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০২৬), মুসনাদে আহমাদ (৩৬৮১), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৪৫৬), মুসনাদে আবি ইয়ালা (২৩০২), সুনানে তিরমিযী (২৫৭), সুনানে আবু দাউদ (৭৪৮), সুনানে বায়হাকী ২/৭৮।
إِنَّ ‘ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ لَا يَعُودُ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন, কানের কাছাকাছি হাত উঠাতেন, তারপর আর হাত উঠাতেন না।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৫০), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৪৫৫), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬২, দ্র. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আপনার নামায পৃ. ৩৫৬-৩৬১
রুকূতে হাতের আঙ্গুল ফাঁকা করে এমনভাবে হাঁটুতে রাখতেন যেন তা ধরে রেখেছেন।
كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ أَصَابِعَهُ، وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ.
“যখন রুকূতে যেতেন আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতেন, যখন সেজদায় যেতেন আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।” -সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯২০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৯৪), মুসতাদরাকে হাকেম (৮১৪) ১/২২৪।
দু’হাত সোজা রাখতেন ধনুকের তীরের ন্যায়। হাত পাঁজর থেকে পৃথক রাখতেন।
ثُم رَكَعَ فَوَضَعَ يَدَيهِ عَلى رُكْبَتَيهِ كَأَنَّه قابِضٌ عَلَيْهِمَا، وَوَتَّرَ يَدَيهِ فَتَجَافى عَنْ جَنبَيهِ.
“এরপর তিনি রুকূ করলেন। হাত রাখলেন হাঁটুর উপর যেন তিনি হাঁটু ধরে রেখেছেন। হাতকে ধনুকের তীরের মত সোজা রাখলেন, ফলে তা দু’পাশ থেকে দূরে থাকলো।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৩৪), সুনানে তিরমিযী (২৬০), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬৫।
পিঠ ও কোমর এমনভাবে সমান করে বিছিয়ে দিতেন যেন পিঠে পানি ঢাললেও তা স্থির থাকবে।
عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ يَقُولُ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ يُصَلِّي، فَكَانَ إِذَا رَكَعَ سَوَّى ظَهْرَهُ، حَتَّى لَوْ صُبَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ لَاسْتَقَرَّ.
“ওয়াবিসা ইনে মা’বাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে দেখেছি। তিনি রুকূ করে পিঠ এমনভাবে সোজা করলেন, যদি পিঠে পানি ঢালা হতো তাহলে তা স্থির থাকতো।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৭২) দ্র. সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩)।
রুকূতে সাধারণত سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ বারংবার পড়তেন।
عَنْ حُذَيْفَةَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ‘، فَرَكَعَ فَقَالَ فِيْ رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، وَفِيْ سُجُوْدِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ.
“হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি রুকূতে গিয়ে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، পড়লেন, আর সেজদায় গিয়ে পড়লেন سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ. ।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০৪৬), সহীহ মুসলিম (৭৭২), মুসনাদে আহমাদ (৩৫১৪)।
কখনো তিনবার পড়তেন।
إذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ، فَقَالَ فِي رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَدْ تَمَّ رُكُوعُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ.
“কেউ যখন রুকূ করে রুকূতে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ তিনবার পড়ে, তার রুকূ পূর্ণ হয় এবং তিনবার হলো সর্বনিম্ন তাসবীহ।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৬১), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৯০), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬৯।
নফল নামাযে আরও লম্বা লম্বা দুআ ও বিভিন্ন তাসবীহ পড়তেন।
-সহীহ বুখারী (৭৯৪), সহীহ মুসলিম (৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪), সুনানে আবু দাউদ (৮৭৭), সুনানে নাসাঈ (১০৪৭) যাদুল মাআদ ১/২১১।
রুকূ ও সেজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।
أَلاَ وَإِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا.
“জেনে রাখো! রুকূ ও সেজদায় কুরআন পড়তে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।” -সহীহ মুসলিম (৪৭৯), সুনানে নাসাঈ (১০৪৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (৬০৪৫)।
নবীজী ﷺ শান্ত ও সুন্দরভাবে রুকূ আদায় করতেন। নামাযের কোনো আমলেই ‘তাড়াহুড়া’ করতেন না। এবং সাহাবা কেরামকেও তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করেছেন।
ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا.
“এরপর রুকূ করে রুকূ অবস্থায় স্থির হও।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (১৯৭৫)।
قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ؟ قَالَ: لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا أَوْ قَالَ: لَا يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিকৃষ্ট চোর হলো যে নামাযে চুরি করে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, ব্যক্তি নামাযে কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, রুকূ সেজদা পরিপূর্ণভাবে করে না অথবা বলেছেন, রুকূ সেজদায় পিঠ সোজা করে না।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২২৬৪২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৬৩)। দ্র. সহীহ বুখারী (৬৬৪৪), সহীহ মুসলিম (১১১)।
এরপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে রুকূ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।
ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا.
“এরপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও।” -সহীহ বুখারী (৭৯৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে আবু দাউদ (৮৫৬)
ثُمَّ يَقُولُ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنْ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، وفي رواية: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ.
“এরপর তিনি বলতেন سَمِعَ اللهِ لِمَنْ حَمِدَهُ যখন তিনি রুকূ পিঠ তুলতেন। এরপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন, رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ অন্য বর্ণনামতে, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), মুসনাদে আহমাদ (৯৮৫১)।
দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে তারপর সেজদায় যেতেন।
ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا.
“এরপর রুকূ করে স্থির হও। এরপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও।” -সহীহ বুখারী (৭৯৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসনাদে আহমাদ (৯৬৩৫)।
وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا.
“তিনি রুকূ থেকে মাথা তুললে সোজা হয়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত সেজদায় যেতেন না।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৮৭৩)।
মুক্তাদীকে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলার আদেশ দিয়েছেন।
وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ.
“যখন ইমাম বলেন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ তোমরা বলো رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ।” -সহীহ বুখারী (৭২২, ৬৮৯), সহীহ মুসলিম (৪১১), মুসনাদে আহমাদ (৭১৪৪)।
নবীজী ﷺ-ও বলতেন। কখনো এরচে’ বড় দুআ পড়তেন।
كَانَ رَسُولُ اللهُ ‘ إِذَا رَفَعَ ظَهْرَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ থেকে পিঠ তোলার সময় বলতেন, سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ... ” -সহীহ মুসলিম (৪৭৬) সুনানে আবু দাউদ (৮৪৬) দ্র. সহীহ বুখারী (৭৯৯)।
বড় বড় দুআগুলো সাধারণত নফল ও তাহাজ্জুদে পড়তেন।
সুনানে নাসাঈ (১০৬৯, ১১৪৫), যাদুল মাআদ, ১/২১১।
এবং রুকূ থেকে উঠে বিলম্ব করতেন।
সহীহ বুখারী (৮২১) সহীহ মুসলিম (৪৭২)।
সাহাবা কেরাম জামাআতে নামাযরত অবস্থায় রুকূ-সেজদা নবীজী ﷺ এর সাথেই করতেন, পূর্বে করতেন না।
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ ‘ فَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ لَمْ يَحْنِ رَجُلٌ مِنَّا ظَهْرَهُ حَتَّى يَسْجُدَ رَسُولُ اللهِ ‘ فَنَسْجُدَ.
“বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে আমরা যখন নামায পড়তাম আর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করত না যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদায় যেতেন। এরপর আমরা সেজদায় যেতাম।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৮১), সহীহ বুখারী (৬৯০), সহীহ মুসলিম (৪৭৪)।