ওয়াজিব ও সুন্নাত নামায
ঈদের নামায
নবীজী ﷺ ঈদের নামাযের পূর্বে জুমআর মত প্রস্তুতি নিতেন।
সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৭৬৬), সুনানে বায়হাকী ৩/২৮০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৫৫৯২)। দ্র. মুয়াত্তা মালেক (৬০৯), সুনানে ইবনে মাজা (১৩১৫)।
ঈদের নামায মাঠে আদায় করতেন।
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহের উদ্দেশে বের হতেন।” -সহীহ বুখারী (৯৫৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (৩৩২১), সুনানে বায়হাকী ৩/২৮০।
বৃষ্টির কারণে মসজিদে পড়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে।
সুনানে ইবনে মাজা (১৩১৩), সুনানে আবু দাউদ (১১৬০)। দ্র. সুনানে বায়হাকী ৩/৩১০।
নবীজী ﷺ এর সামনে সুতরা স্থাপন করা হতো।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ تُرْكَزُ الْحَرْبَةُ قُدَّامَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ ثُمَّ يُصَلِّي.
“ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন নবীজীর সামনে বর্শা স্থাপন করা হতো। এরপর তিনি নামায পড়াতেন।” -সহীহ বুখারী (৯৭২, ৯৭৩), সহীহ মুসলিম (৫০১), মুসনাদে আহমাদ (৫৮৪০)।
সূর্যোদয়ের কিছু পরেই তিনি নামায আদায় করতেন। ঈদুল ফিতর বিলম্বে, আর ঈদুল আযহা দ্রুত শুরু করতেন।
যাদুল মাআদ ১/৪২৭।
আযান-ইকামাত ছাড়াই নামায আদায় করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ صَلَّى يَوْمَ الْعِيدِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামায আযান ইকামত ছাড়া পড়েছেন।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজা (১২৭৪), সুনানে আবু দাউদ (১১৪৭), যাদুল মাআদ ১/৪২৭।
নামাযের পূর্বে ও পরে নফল বা সুন্নাত পড়তেন না। দুই রাকাত নামায আদায় করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ خَرَجَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন। তিনি দু’রাকআত নামায পড়লেন। এর পূর্বেও তিনি কিছু পড়েননি, পরেও পড়েননি।” -সহীহ বুখারী (৯৮৯), সহীহ মুসলিম (৮৯০“১৩”), সুনানে তিরমিযী (৫৩৭), সুনানে ইবনে মাজা (১২৯১), সুনানে নাসাঈ (১৫৮৭)।
প্রথম তাকবীরের পর এবং দ্বিতীয় রাকআতে রুকূর পূর্বে তিন-তিনটি করে মোট ছয়টি অতিরিক্ত তাকবীর দিতেন।
صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ ‘ يَوْمَ عِيدٍ، فَكَبَّرَ أَرْبَعًا، وَأَرْبَعًا، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ حِينَ انْصَرَفَ، قَالَ: لَا تَنْسَوْا، كَتَكْبِيرِ الْجَنَائِزِ، وَقَبَضَ إِبْهَامَهُ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ঈদের নামায পড়লেন। তিনি (প্রথম রাকআতে তাহরীমা ও রুকূর তাকবীরসহ) চার চারটি তাকবীর বললেন । এরপর নামায শেষে আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, ভুলে যেয়ো না, জানাযার নামাযের তাকবীরের মত। এই বলে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি গুটিয়ে (চারটি আঙ্গুল) দেখালেন।” -(হাদীস সহীহ) শরহু মাআনিল আছার, ২/৩৭১। দ্র. সুনানে আবু দাউদ (১১৫৩)।
كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ
“তিনি জানাযার তাকবীরের ন্যায় (ঈদের নামাযে) চার তাকবীর দিতেন।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (১১৫৩), মুসনাদে আহমাদ (১৯৭৩৪)।
বিশিষ্ট তাবেয়ী ইবরাহীম নাখাঈ রাহ. বলেন,
فأجمع رأي أصحاب محمد أن ينظروا آخر جنازة كبر عليها رسول الله ‘ حتى قبض، فيأخذون به، فيرفضون ما سوى ذلك، فنظروا فوجدوا آخر جنازة كبر عليها رسول الله ‘ أربعًا
-(সহীহ) কিতাবুল আছার-মুহাম্মাদ রাহ.কৃত বর্ণনা (২৩৮), শরহু মাআনিল আছার ১/৩১৯
কিরাআত উচ্চস্বরে পড়তেন। নামাযের পর সংক্ষিপ্ত দু’টি খুতবা দিতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ قَامَ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ بَعْدُ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। প্রথমে নামায পড়ালেন। এরপর লোকদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন।” -সহীহ বুখারী (৯৬১), সহীহ মুসলিম (৮৮৫), সুনানে আবু দাউদ (১১৪১)।
একই দিনে ঈদ ও জুমআ হলে নির্ধারিত সময়ে উভয়টিই আদায় করতেন।
وَإِذَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ فِى يَوْمٍ وَاحِدٍ يَقْرَأُ بِهِمَا أَيْضًا فِى الصَّلاَتَيْنِ.
“যদি একদিনে ঈদ ও জুমআ একত্রিত হতো তিনি উভয়টি নিজ সময়ে আদায় করতেন।” -সহীহ মুসলিম (৮৭৮), সুনানে নাসাঈ (১৪২৪), সহীহ ইবনে হিব্বান (২৮২২)।