সূচিপত্র

নামাযের বিবিধ মাসআলা

ছুটে যাওয়া রাকআত

একবার নবীজী ﷺ এর অনুপস্থিতিতে সাহাবা কেরাম ফজরের নামায শুরু করেন। নবীজী ﷺ উপস্থিত হতে হতে এক রাকআত শেষ হয়ে যায়। তখন তিনি ইমামের ‘ইকতিদা’ করেন। ইমামের সাথে নামায শেষ হলে ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করেন।

عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ وَتَخَلَّفْتُ مَعَهُ ...فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوا فِى الصَّلاَةِ يُصَلِّى بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَقَدْ رَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً فَلَمَّا أَحَسَّ بِالنَّبِىِّ ‘ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ فَصَلَّى بِهِمْ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِىُّ ‘ وَقُمْتُ فَرَكَعْنَا الرَّكْعَةَ الَّتِى سَبَقَتْنَا.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে রয়ে গেলেন, আমিও তাঁর সাথে পেছনে থেকে গেলাম। এরপর আমরা লোকদের কাছে পৌঁছলাম, তারা ইতোমধ্যে নামাযে দাঁড়িয়ে গেছে। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তাদের নিয়ে নামায পড়াচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে রুকূতে গেলেন। যখন তিনি টের পেলেন নবীজী উপস্থিত, তিনি পেছনের দিকে যেতে শুরু করলেন। নবীজী (নামায পড়ানোর জন্য) তাকে ইশারা করলেন। তিনি তাদের নিয়ে নামায শেষ করলেন। যখন তিনি সালাম ফেরালেন আমি ও নবীজী দাঁড়ালাম। আমরা সে রাকআত আদায় করলাম, যা আমাদের ছুটে গিয়েছিলো।” -সহীহ মুসলিম (২৭৪), সুনানে আবু দাউদ (১৪৯)

তিনি বলেন, ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায়ই ইকতিদা করবে। জামাআতের দিকে দৌড়ে নয়, বরং প্রশান্তচিত্তে আসবে। এবং ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করবে।

إِذَا أَتَيْتُمُ الصَّلَاةَ، فَلَا تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ، وَأْتُوهَا وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ، فَمَا أَدْرَكْتُمْ، فَصَلُّوا، وَمَا فَاتَكُمْ، فَاقْضُوا.

“যখন তোমরা মসজিদে আসো তখন দৌড়ে এসো না। প্রশান্তচিত্তে তোমরা মসজিদে এসো। এরপর যতটুকু পাবে আদায় কর। আর যতটুকু ছুটে যাবে তা পরে আদায় কর।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৭২৫০), সুনানে বায়হাকী ২/২৯৭।

فَصَلُّوْا مَا أدْرَكْتُمْ، وَاقْضُوْا مَا سَبَقَكُمْ.

“যতটুকু পাবে নামায পড়, যতটুকু ছুটে যাবে পড়ে পড়ো।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৫৭৩), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৩৩৯৯), মুসনাদে বাযযার (৮৬৪৪)।

ইমামের সাথে রুকূ পেলে রাকআত পেয়েছে বলে ধরা হবে। নবীজী ﷺ বলেছেন, ইমামকে রুকূতে পেলে তোমরাও (দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা বলবে এবং রুকূর তাকবীর বলে) রুকূতে যাবে। আর যে রুকূ পেয়েছে সে রাকআত পেয়েছে।

عَنِ النَّبِىِّ ‘ قَالَ: إِذَا جِئْتُمْ وَالإِمَامُ رَاكِعٌ فَارْكَعُوا، وَإِنْ سَاجِدًا فَاسْجُدُوا، وَلاَ تَعْتَدُّوا بِالسُّجُودِ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ الرُّكُوعُ.

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমরা নামাযে আসার পর ইমাম রুকূ অবস্থায় থাকেন তোমরা রুকূ কর। যদি তিনি সেজদারত থাকেন তোমরা সেজদা কর। কোনো সেজদাকে গণনা করো না, যদি তার সাথে রুকূ না করা হয়।” -(হাদীস হাসান) সুনানে বায়হাকী ২/৮৯, সুনানে আবু দাউদ (৮৯৩)।

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ : أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ ‘ وَهُوَ رَاكِعٌ، فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ‘ فَقَالَ: زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ.

“আবু বাকরাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদে এসে নবীজীকে রুকূ অবস্থায় দেখে কাতারে পৌঁছার পূর্বেই রুকূ করলেন। (নামাযের পর) নবীজীর কাছে বিষয়টির উল্লেখ করা হলে নবীজী বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিক, আর এমনটি করো না।” -সহীহ বুখারী (৭৮৩), সুনানে বায়হাকী ২/৯০।

مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ فَقَدْ أَدْرَكَهَا قَبْلَ أَنْ يُقِيمَ الْإِمَامُ صُلْبَهُ.

“ইমাম পিঠ সোজা করার পূর্বে যদি কেউ এক রাকআতও পায় তাহলে সে নামায পেলো।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৫৯৫)

بابُ ذكرِ الوَقتِ الذي فيه يكونُ المأمومُ مُدرِكا للركعةِ إذا ركعَ الإمامُ قبلَهُ

আরও জানতে দেখুন, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আপনার নামায পৃ. ২৮৪-২৮৯।

ছুটে যাওয়া রাকআত | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা