নবীজী সা. এর ফরয নামায
তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআত
নবীজী ﷺ তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম দু’রাকআত লম্বা করতেন।
قَالَ سَعْدٌ لِعُمَرَ: أَمَّا أَنَا، فَأَمُدُّ فِي الأُولَيَيْنِ، وَأَحْذِفُ فِي الأُخْرَيَيْنِ، وَلاَ آلُو مَا اقْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ‘.
“সা’দ রা. উমার রা.কে বললেন, আমি প্রথম দু’রাকাতে কেরাত দীর্ঘ করি আর পরের দু’রাকাতে কেরাত সংক্ষিপ্ত করি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের অনুসরণ করতে ত্রুটি করি না।” -সহীহ বুখারী (৭৭০), সহীহ মুসলিম (৪৫৩), সুনানে আবু দাউদ (৮০৩)।
তিন বা চার রাকআতের নামাযে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়তেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللهِ ‘ التَّشَهُّدَ فِي وَسَطِ الصَّلَاةِ وَفِي آخِرِهَا ...قال: ثُمَّ إِنْ كَانَ فِي وَسَطِ الصَّلَاةِ نَهَضَ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ تَشَهُّدِهِ، وَإِنْ كَانَ فِي آخِرِهَا دَعَا بَعْدَ تَشَهُّدِهِ بِمَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَدْعُوَ ثُمَّ يُسَلِّمُ.
“আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মাঝে ও নামাযের শেষে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন। .... তিনি বলেন, যদি নামাযের মাঝের তাশাহহুদ হয় তাহলে তাশাহহুদ শেষ করে তিনি দাঁড়াতেন। আর যদি শেষে হতো তাহলে তাশাহহুদ পাঠের পর যা দোয়া ইচ্ছা পড়তেন, এরপর সালাম ফেরাতেন।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৪৩৮২) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭০২), শরহু মাআনিল আছার১/১৮৬।
তাশাহ্হুদ শেষে তাকবীর বলে দাঁড়িয়ে যেতেন।
يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنْ الْجُلُوسِ فِي الِاثْنَتَيْن.
“দ্বিতীয় রাকাতে বসা থেকে উঠার সময় তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৮০৩) সুনানে নাসাঈ (১০২৩), সুনানে আবু দাউদ (৮৩৬)।
ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়ে রুকূতে যেতেন। অন্য সূরা মিলাতেন না।
إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ فِي الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ، وَيُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مَا لَا يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، وَهَكَذَا فِي الْعَصْرِ وَهَكَذَا فِي الصُّبْحِ.
“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা ও দুটি সূরা পড়তেন এবং শেষ দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তেন। তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদের শোনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত যতটুকু দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকআত অতটুকু দীর্ঘ করতেন না। এরূপ করতেন আসরে ও ফজরেও।” -সহীহ বুখারী (৭৭৬), সহীহ মুসলিম (৪৫১), সুনানে আবু দাউদ (৭৯৮)।
নবীজী ﷺ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত সাহাবা রা. থেকেও সূরা ফাতিহা না পড়া প্রমাণিত।
كَانَ عَلِيّ يَقْرَأُ فِي الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ، وَلَا يَقْرَأُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ
“আলী রা. যোহর ও আসরের প্রথম দু’রাকআতে সূরা ফাতেহা ও আরেকটি সূরা পড়তেন। শেষ দু’রাকআতে পড়তেন না।” -(সহীহ) মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৬৫৬), দ্র.আলমুজামুল কাবীর (৯৩১৩), শরহু মুশকিলিল আছার ১২/৫২।
নফল নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতেন।
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: أَدْمَنَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ... قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ تَقْرَأُ فِيهِنَّ كُلِّهِنَّ؟ قَالَ: قَالَ: نَعَمْ.
“আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঊর্ধ্বগামী হওয়ার সময় চার রাকআত নামায পড়তে পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে রাসূলুল্লাহ, আপনি কি প্রতি রাকাতে কেরাত পাঠ করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৩২), সুনানে বায়হাকী ২/৪৮৮।
পূর্বোল্লিখিত নিয়মেই রুকূ সেজদা আদায় করতেন।
নবীজী ﷺ এর আখেরী বৈঠক প্রথম বৈঠক তথা দ্বিতীয় রাকআতের পর তাশাহ্হুদের বৈঠকের মত ছিলো। আখেরী বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর দরূদ ও অন্য দুআ পড়তেন।