সূচিপত্র

নবীজী সা. এর ফরয নামায

তাশাহহুদ

নবীজী ﷺ দ্বিতীয় রাকআতে দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে তাকবীর বলে বসতেন।

كَانَ يَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةُ.

“প্রতি দুই রাকআতে তিনি আততাহিয়্যাতু পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৭৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৭৬৮)।

বাম পা বিছিয়ে বসতেন, ডান পা খাড়া রাখতেন।

كَانَ إِذَا جَلَسَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى.

“যখন তিনি বসতেন বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান পা দাঁড় করে রাখতেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৩০), সহীহ মুসলিম (৪৯৮)।

পায়ের আঙ্গুলগুলো যথাসম্ভব কিবলামুখী করে রাখতেন।

সুনানে নাসাঈ (১১৫৮), সহীহ বুখারী (৮২৭)।

নবীজী ﷺ তাশাহ্হুদে বাম হাত বাম রানের উপর হাঁটুর কাছাকাছি স্বাভাবিকভাবে রাখতেন। ডান হাতও এভাবে রাখতেন।

إِذَا جَلَسَ فِى الثِّنْتَيْنِ أَوْ فِى الأَرْبَعِ يَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ أَشَارَ بِأُصْبُعِهِ.

“দ্বিতীয় বা চতুর্থ রাকাতে তিনি যখন বসতেন দুই হাত দুই উরুর উপর রাখতেন, এরপর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১১৬১), সুনানে বায়হাকী ২/১৩২, সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৭৪৫)।

ইশারা করার সময় ডান হাতের আঙ্গুল রাখার একাধিক পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তবে এভাবেও রাখতেন- অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুল ভাঁজ করে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা গোলক বানাতেন।

قَالَ وَائِلُ بْنِ حُجْرٍ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ‘ قَدْ حَلَّقَ الْإِبْهَام وَالْوُسْطَى، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ وفي رواية: وقَبَضَ ثِنْتَينِ.

“ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন, আমি নবীজীকে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল ও মধ্যমা দ্বারা বৃত্ত তৈরি করেছেন এবং এদুটির সংলগ্ন আঙ্গুল উঁচু করে ইশারা করেছেন। অন্য বর্ণনামতে, অপর দুই আঙ্গুল তিনি গুটিয়ে রেখেছিলেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৯১২), সুনানে আবু দাউদ (৭২৬), সুনানে নাসাঈ (১২৬৫)।

নবীজী ﷺ সাহাবা কেরামকে তাশাহ্হুদ গুরুত্বের সাথে শেখাতেন।

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ.

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহহুদ শেখাতেন যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শেখাতেন।” -সহীহ মুসলিম (৪০৩), সহীহ বুখারী (৬২৬৫), মুসনাদে আহমাদ (২৮৯২)।

তাশাহ্হুদে বসে এই দুআ (তাহিয়্যা) নিম্নস্বরে পড়তেন

التَحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. “

فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ - إِلَى قَوْلِهِ - الصَّالِحِين.

“কেউ যখন নামাযে বসে সে যেন বলে, আততাহিয়্যাতু ... শেষ পর্যন্ত।” -সহীহ বুখারী (৬২৩০, ৬৩২৮) সহীহ মুসলিম (৪০২), সুনানে তিরমিযী (২৯১)।

قَاَل ابْنُ مَسْعُوْدٍ : مِنْ سُنَّةِ الصَّلَاةِ أَنْ يُخْفَى التَّشَهُّدُ.

“ইবনে মাসউদ রা. বলেন, নামাযের সুন্নাহ হলো তাশাহহুদ নিম্নস্বরে পড়া।” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৮৩৮) ১/২৩০, সুনানে আবু দাউদ (৯৮৬)।

وأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ” বলার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা উত্তম।

فَقَالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ

“নবীজী ﷺ শাহাদাত আঙ্গুল আকাশের দিকে তুলে তারপর যমীনের দিকে ইশারা করতে করতে বললেন, আয় আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো, আয় আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” -সহীহ মুসলিম (১২১৮), দ্র. সহীহ বুখারী (১৭৪১), সুনানে নাসাঈ (৩১৮২), সুনানে আবু দাউদ (১৯০৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (৩৯৪৪) ।

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَّاصٍ قَالَ مَرَّ عَلَىَّ النَّبِىُّ ‘ وَأَنَا أَدْعُو بِأُصْبُعَىَّ فَقَالَ:أَحِّدْ أَحِّدْ. وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ

“হযরত সাদ ইবনে ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন আমি আমার দুই আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করছিলাম। নবীজী ﷺ তখন বললেন, এক, এক (এক আঙ্গুল দিয়ে দুআ করো।) এবং ঐ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন।” (এখানে এ আঙ্গুল দিয়ে ইশারার নির্দেশ দ্বারা তাওহীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।) -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৯৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৩২৫৫), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১১৯৬), মুসতাদরাকে হাকেম (১৯৬৬)।

বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আঙ্গুল নাড়ানো সহীহ হাদীসে প্রমাণিত নয়। ইশারা করার সময় আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখতেন।

وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ، وَلَمْ يُجَاوِزْ بَصَرُهُ إِشَارَتَه.

“তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। তাঁর দৃষ্টি ইশারাকে ছাড়িয়ে যেত না।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১৬১০০) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯৪৪) সুনানে আবু দাউদ (৯৯০)।

দু’রাকআত বিশিষ্ট নামাযে তাশাহ্হুদের পর দরূদ ও দুআ পড়তেন।

إذا صَلَّى أحَدُكُم فليَبْدأ بتَمْجيدِ رَبِّه والثَّناءِ عليه، ثم يُصَلِّي على النبيِّ ‘، ثم يدعو بعدُ بما شاءَ.

“কেউ যখন নামায পড়ে (এবং তাশাহহুদে দুআ করে) সে যেন তাঁর প্রতিপালকের বড়ত্ব ও প্রশংসা দিয়ে শুরু করে। এরপর নবীর নামে দরূদ পড়ে। এরপর যা ইচ্ছা দোয়া করে।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৮১), সুনানে তিরমিযী (৩৪৭৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭১০)।

قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: يَتَشَهَّدُ الرَّجُلُ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ ‘، ثُمَّ يَدْعُو لِنَفْسِهِ.

“মুছল্লী নামাযে তাশাহহুদ পড়বে। এরপর সে নবীর নামে দরূদ পড়বে, এরপর নিজের জন্যে দোয়া করবে।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩০৪৩), মুসতাদরাকে হাকেম (৯৯০) ১/২৬৮। দ্র. সুনানে নাসাঈ (১১৬৩)।

সাধারণত নিম্নের দরূদটি পড়তেন।

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.

قال: قُوْلُوْا: اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ ... إنَّكَ حَمِيْدٌمَجِيْدٌ.

“তিনি বললেন, তোমরা এ দুরুদটি বলো: (اللهم صل على محمد ... إنك حميد مجيد )। - সুনানে বায়হাকী ২/১৪৮, সহীহ বুখারী (৪৭৯৭), সহীহ মুসলিম (৪০৫)।

দরূদ শেষে দুআ পড়তেন। হাদীসে বিভিন্ন দুআ বর্ণিত হয়েছে। নবীজী ﷺ আবু বকর রা.কে এই দুআ শিক্ষা দিয়েছিলেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ ‘: عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي قَالَ قُلْ ....

“আবুবকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, আপনি আমাকে দোয়া শেখান, যে দোয়া আমি নামাযে পড়ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলো.......” -সহীহ বুখারী (৮৩৪) সহীহ মুসলিম (২৭০৫), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১২২৫)।

তাশাহহুদ | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা