সূচিপত্র

নামাযের বিবিধ মাসআলা

সুনানে রাতিবা

নবীজী ﷺ ফরয নামাযের পূর্বে বা পরে সুন্নাত নামায আদায় করতেন। পূর্বাপর সবমিলে প্রতিদিন বারো রাকআত আদায় করতেন। উম্মতকেও এর প্রতি উৎসাহ ও তাকীদ দিয়েছেন।

مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে দিনে রাতে বারো রাকআত নামায পড়বে তার জন্যে জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবে। যোহরের পূর্বে চার রাকআত, যোহরের পর দুই রাকআত, মাগরিবের পর দুই রাকআত, এশার পর দুই রাকআত আর দুই রাকআত সকালের নামায ফজর নামাযের আগে।” -সুনানে তিরমিযী (৪১৫), সুনানে নাসাঈ (১৭৯৪)। দ্র. সহীহ মুসলিম (৭২৮)।

যোহরের পূর্বে চার রাকআত; পরে দুই রাকআত, জুমআর দিনও এমনই করতেন। (যোহরের পূর্বের নামাযকে কখনো ‘যাওয়ালের’ পরের নামায বলা হয়েছে।)

-(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৪১৫), সুনানে আবু দাউদ (১২৫১), সুনানে নাসাঈ (৮৭৪), ৩/২৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ (১১৪০), রদ্দুল মুহতার।

মাগরিবের পরে দুই রাকআত। এশার পরে দুই রাকআত ও ফজরের পূর্বে দুই রাকআত। এর মাঝে ফজরের দু’রাকআত সুন্নাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন, কখনোই ছাড়তেন না। না সফরে না মুকীম অবস্থায়।

لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ ‘ عَلَى شَيْءٍ مِنْ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مِنْهُ تَعَاهُدًا عَلَى رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ

“ফজরের দুই রাকআত সুন্নতের তুলনায় অন্য কোনো সুন্নাত নামাযের প্রতি নবীজী অধিক যত্নবান ছিলেন না।” -সহীহ বুখারী (১১৬৯), সহীহ মুসলিম (৭২৪), মুসনাদে আবু হানীফা-হাসকাফীকৃত বর্ণনা (৯৬)।

لَا تَدَعُوهُمَا، وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ

“শত্রুর অশ্বদল তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকআত সুন্নাত ছেড়ো না।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (১২৫৮), মুসনাদে আহমাদ (৯২৫৩), নায়লুল আওতার ৩/২৬।

নবীজী ﷺ সাহাবা কেরামকে নামায শিখিয়েছেন। তারা ফজরের ইকামাতের পরও নির্দিষ্ট নিয়মে সুন্নাত আদায় করতেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، أَنَّهُ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَالإِمَامُ فِي الصَّلاَةِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْ الْفَجْر.

“আবদুল্লাহ রা. মসজিদে প্রবেশ করলেন, ইমাম তখন নামায পড়াচ্ছিলেন। তিনি তখন ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত পড়লেন।” -(হাসান) শরহু মাআনিল আছার ১/২৫৫, আলমুজামুল কাবীর-তাবারানী (৯৩৮৭), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৪০২১), আল-আওসাত (২৭৪১)।

جَاءَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَالْإِمَامُ فِي صَلَاةِ الْغَدَاةِ، وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ، فَصَلَّى عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ الرَّكْعَتَيْنِ خَلْفَ الْإِمَامِ , ثُمَّ دَخَلَ مَعَهُمْ

“আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রা. (মসজিদে) এসে ইমামকে ফজরের নামায পড়ানো অবস্থায় পেলেন। তখনও তিনি ফজরের সুন্নাত আদায় করেননি। (তাই প্রথমে) ইমামের পেছনে ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করলেন। তারপর জামাআতে শরীক হয়ে গেলেন।” -(সহীহ) শরহু মাআনিল আছার ১/২৫৫ (২১৬০)।

আছর ও এশার পূর্বে সুন্নাত নামায আদায় করার উৎসাহ দিয়েছেন।

رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا.

“আল্লাহ রহম করুন ঐ বান্দাকে, যে আসরের পূর্বে চার রাকআত নামায পড়লো।” -(হাসান) মুসনাদে আহমাদ (৫৯৮০), সুনানে তিরমিযী (৪৩০), সহীহ ইবনে হিব্বান (২৪৫৩)।

بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ.

“প্রতি দুই আযানের মধ্যে নামায রয়েছে। প্রতি দুই আযানের মধ্যে নামায রয়েছে। তৃতীয়বার বলার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা হয় তার জন্যে।” -সহীহ বুখারী (৬২৭), সহীহ মুসলিম (৮৩৮)।

নবীজী ﷺ মাগরিবের পূর্বে দু’রাকআত সুন্নাত নিজে পড়েন নি; সুন্নাহ হিসেবে অন্যদেরকেও পড়তে উৎসাহিত করেন নি।

যাদুল মাআদ, ১/৩০২।

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا يُصَلِّيْهِمَا عَلى عَهْدِ رَسُوْلِ الله ‘

“ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কাউকে এই দুই রাকআত পড়তে দেখিনি।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ (৮০৪), সুনানে আবু দাউদ (১২৮৪), সুনানে বায়হাকী ২/৪৭৬-৪৭৭।

মাগরিব ও এশার মাঝে নামায আদায় করতেন। সাহাবা কেরামও নামায আদায় করতেন।

{تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ}

“তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়।” -সূরা সাজদা, আয়াত: ১৬।

-সুনানে আবু দাউদ (১৩২১), মুখতাসারু কিয়ামিল লাইল পৃ. ৮৬।

جِئْتُ إلى النبي ‘، فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الْمَغْرِبَ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَامَ يُصَلِّي، فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّي حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ خَرَجَ

“আমি নবীজীর কাছে এলাম। এরপর তাঁর সাথে মাগরিবের নামায পড়লাম। যখন নামায শেষ করলেন অন্য নামায পড়তে দাঁড়ালেন। তিনি নামায পড়তে থাকলেন, একসময় এশার নামায পড়লেন। এরপর মসজিদ থেকে বের হলেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৩৪৩৬), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১১৯৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৮৩৬৫)।

নবীজী ﷺ সুন্নাত ও নফল সাধারণত ঘরে আদায় করতেন। সাহাবা কেরাম রা.কেও ঘরে আদায় করার উৎসাহ দিতেন।

فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ

“সুতরাং হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের ঘরে নামায পড়ো। কেননা ব্যক্তির উত্তম নামায হলো তার ঘরে, ফরজ নামায ছাড়া।” -সহীহ বুখারী (৭২৯০), সহীহ মুসলিম (৭৭৭, ৭৮১), মুসনাদে আহমাদ (২১৫৮২)।

ফজরের সুন্নাতের পর নবীজী ﷺ ঘুমাতেন না। শরীরে ক্লান্তি থাকলে মাঝে মাঝে আরাম করতেন। সাধারণত ইকামাতের পূর্ব মুহূর্তে সুন্নাত আদায় করতেন।

إِنَّ النَّبٍيَّ ‘ لَمْ يَكُنْ يَضْطَجِعُ لِسُنَّةٍ، وَلَكِنَّهُ كَانَ يَدْأَبُ لَيْلَتَهُ فَيَسْتَرِيْحُ، وَقَالَ: وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَحْصُبُهُمْ إِذَا رَآهُمْ يَضْطَجِعُوْنَ عَلَى أَيْمَانِهِمْ.

“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইবনে উমার রা. সুন্নাত হিসেবে আরাম করতেন না। কিন্তু তিনি রাতে আমল করে ক্লান্ত হতেন। তাই বিশ্রাম করতেন। “যে তাদেরকে দেখবে সে ধারণা করবে, তারা পাশ ফিরে শুয়ে আছেন।”” -যাদুল মাআদ ১/৩০৯, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৪৭২২) ৩/৪৩।

فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.

“এরপর তিনি সংক্ষিপ্ত কেরাতের দুই রাকআত নামায পড়লেন। এরপর বের হয়ে ফজরের নামায পড়লেন।” -সহীহ বুখারী (১৮৩) সহীহ মুসলিম (৭৬৩)।

নফল নামাযে কিছু বিধান ফরযের তুলনায় শিথিল রাখা হয়েছে।

সহীহ বুখারী (১০৯৪), সুনানে তিরমিযী (৫৮৮)।

সুনানে রাতিবা | নামাজ শিক্ষা - ২ | মুসলিম বাংলা