দু’আ

মোট দু’আ - ৬৩৯ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

দু‘আ-১৪০

اَللّٰهُمَّ مَا قَصُرَ عَنْهُ رَأْيِيْ وَضَعُفَ عَنْهُ عَمَلِيْ وَلَمْ تَبْلُغْهُ مُنْيَتِيْ وَ مَسْأَلَتِيْ مِنْ خَيْرٍ وَّعَدْتَهٗۤ أَحَدًا مِّنْ خَلْقِكَ، أَوْ خَيْرٍ أَنْتَ مُعْطِيْهِ أَحَدًا مِّنْ عِبَادِكَ فَإِنِّيْۤ أَرْغَبُ إِلَيْكَ فِيْهِ، وَأَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা মা ক্বাছুরা ‘আনহু রা’ইয়ী, ওয়া দ্বা‘উফা ‘আনহু ‘আমালী, ওয়া লাম তাবলুগহু মুনইয়াতী ওয়া মাসআলাতী, মিন খাইরিন ওয়া‘আদতাহূ আহাদাম মিন খালক্বিকা, আও খাইরিন আনতা মু‘তীহী আহাদাম মিন ‘ইবাদিকা, ফা-ইন্নী আরগাবু ইলাইকা ফীহি, ওয়া আসআলুকা বিরাহমাতিকা ইয়া রব্বাল ‘আলামীন।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার চিন্তা-ভাবনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আমার আমল যে কল্যাণ অর্জনে অক্ষম হয়েছে এবং আমার আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আপনার সৃষ্টির কাউকে আপনি যে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা আপনার বান্দাদের কাউকে যে কল্যাণ আপনি দান করবেন, আমি সেই কল্যাণ আপনার কাছে কামনা করছি। আমি আপনার কাছে তা প্রার্থনা করছি এবং আপনার রহমতের উসিলায় আপনার কাছে চাইছি, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!

২.

দু‘আ-১৪২

اَللّٰهُمَّ ذَا الْحَبْلِ الشَّدِيْدِ وَالْأَمْرِالرَّشِيْدِ! أَسْأَلُكَ الْأَمْنَ يَوْمَ الْوَعِيْدِ، وَالْجَنَّةَ يَوْمَ الْخُلُوْدِ مَعَ الْمُقَرَّبِيْنَ الشُّهُوْدِ الرُّكَّعِ السُّجُوْدِ الْمُوْفِيْنَ بِالْعُهُوْدِ، إِنَّكَ رَحِيْمٌ وَّدُوْدٌ، اِنَّكَ أَنْتَ تَفْعَلُ مَا تُرِيْدُ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা যাল-হাবলিশ শাদীদ, ওয়াল-আমরির রাশীদ! আসআলুকাল-আমনা ইয়াওমাল ওয়াঈদ, ওয়াল-জান্নাতা ইয়াওমাল খুলূদ, মাআল-মুকাররাবীনাশ-শুহূদ, আর-রুক্কাআইস-সুজূদিল-মূফীনা বিল-উহূদ। ইন্নাকা রাহীমুন ওয়াদূদ, ইন্নাকা আনতা তাফ‘আলু মা তুরীদ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! হে সুদৃঢ় বন্ধনের অধিকারী এবং সঠিক নির্দেশ ও সুবিবেচনাপূর্ণ সিদ্ধান্তের অধিকারী! আমি আপনার কাছে প্রতিশ্রুত শাস্তির দিনের নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী জীবনের দিন জান্নাত প্রার্থনা করছি, নিকটবর্তী ও সম্মানিত বান্দাদের সঙ্গে, যারা ইবাদতে উপস্থিত থাকে, রুকু ও সিজদা করে এবং অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে। নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু, অত্যন্ত স্নেহশীল। নিশ্চয়ই আপনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।

৩.

দু‘আ-১৪৭

اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ بِالْعِلْمِ وَزَيِّنِّيْ بِالْحِلْمِ، وَأَكْرِمْنِيْ بِالتَّقْوٰى وَجَمِّلْنِيْ بِالْعَافِيَةِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা আ‘ইন্নী বিল-‘ইলমি, ওয়া যায়্যিন্নী বিল-হিলমি, ওয়া আকরিমনী বিত-তাকওয়া, ওয়া জাম্মিলনী বিল-‘আফিয়াহ।

অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে ইলম দ্বারা সাহায্য করুন এবং স্থিরতা ও সহনশীলতা দ্বারা সজ্জিত করুন। আর তাকওয়ার দ্বারা মর্যাদা দান করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার দ্বারা শোভন করুন।হে আল্লাহ! জ্ঞানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করুন, সহনশীলতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমাকে সুশোভিত করুন, তাকওয়ার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন।

৪.

দু‘আ-১৪৮

اَللّٰهُمَّ لَا يُدْرِكُنِيْ زَمَانٌ وَّلَا يُدْرِكُوْا زَمَانًا لَّا يُتَّبَعُ فِيْهِ الْعَلِيْمُ، وَلَا يُسْتَحْيٰى فِيْهِ مِنَ الْحَلِيْمِ، قُلُوْبُهُمْ قُلُوْبُ الْأَعَاجِمِ، وَأَلْسِنَتُهُمْ أَلْسِنَةُ الْعَرَبِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা লা ইউদরিকুনী যামানুন, ওয়া লা ইউদরিকূনা যামানাল্লা ইউত্তাবা‘উ ফীহিল ‘আলীমু, ওয়া লা ইউস্তাহয়া ফীহি মিনাল হালীমি। কুলূবুহুম কুলূবুল আ‘আজিমি, ওয়া আলসিনাতুহুম আলসিনাতুল ‘আরাবি।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! এমন কোনো যুগ যেন আমাকে না পায় এবং তারাও যেন এমন যুগে উপনীত না হয়, যে যুগে জ্ঞানী ব্যক্তির অনুসরণ করা হবে না এবং সহনশীল ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে সম্মান করতে লজ্জাবোধ করা হবে না। তাদের অন্তর হবে অনারবদের অন্তরের মতো, আর তাদের ভাষা হবে আরবদের ভাষার মতো।

৫.

দু‘আ-১৪৯

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَتَّخِذُ عِنْدَكَ عَهْدًا لَّنْ تُخْلِفَنِيْهِ، فَإِنَّمَاۤ أَنَا بَشَرٌ، فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ اٰذَيْتُهٗ أَوْ شَتَمْتُهٗ أَوْ جَلَدْتُّهٗ أَوْ لَعَنْتُهٗ فَاجْعَلْهَا لَهٗ صَلٰوةً وَّزَكوٰةً وَّقُرْبَةً تُقَرِّبُهٗ بِهَاۤ إِلَيْكَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আত্তাখিযু ‘ইন্দাকা ‘আহদান লান তুখলিফানীহি। ফা-ইন্নামা আনা বাশারুন। ফা-আইয়ুমা মু’মিনিন আযাইতুহূ, আও শাতামতুহূ, আও জালাদতুহূ, আও লা‘আনতুহূ, ফাজ‘আলহা লাহূ সালাতাওঁ ওয়া যাকাতাওঁ ওয়া কুরবাতান, তুকাররিবুহূ বিহা ইলাইকা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে একটি অঙ্গীকার করছি, আপনি কখনোই তা ভঙ্গ করবেন না। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। অতএব, কোনো মুমিনকে যদি আমি কষ্ট দিয়ে থাকি, গালি দিয়ে থাকি, প্রহার করে থাকি কিংবা অভিশাপ দিয়ে থাকি, তবে আপনি সেটিকে তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিন, যার দ্বারা আপনি তাকে আপনার নিকটবর্তী করবেন।

৬.

দু‘আ-১৭

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّیٰنِیْ صَغِیْرًاؕ۝۲۴
উচ্চারণঃ

রাব্বির হামহুমা কামারাব্বাইয়া-নী সাগীরা

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।

৭.

দু‘আ-১৭৯

اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلٰى دِيْنِيْ بِالدُّنْيَا، وَعَلٰۤى اٰخِرَتِيْ بِالتَّقْوٰى، وَاحْفَظْنِيْ فِيْمَا غِبْتُ عَنْهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ اِلٰى نَفْسِيْ فِيْمَا حَضَرْتُهٗ. يَا مَنْ لَّا تَضُرُّهُ الذُّنُوْبُ وَلَا تَنْقُصُهُ الْمَغْفِرَةُ، هَبْ لِيْ مَا لَا يَنْقُصُكَ، وَاغْفِرْلِيْ مَا لَا يَضُرُّكَ، إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ. أَسْأَلُكَ فَرَجًا قَرِيْبًا وَّصَبْرًا جَمِيْلًا، وَرِزْقًا وَّاسِعًا، وَالْعَافِيَةَ مِنْ جَمِيْعِ الْبَلَآءِ. وَاَسْأَلُكَ تَـمَامَ الْعَافِيَةِ، وَاَسْأَلُكُ دَوَامَ الْعَافِيَةِ، وَاَسْأَلُكَ الشُّكْرَ عَلَى الْعَافِيَةِ، وَاَسْأَلُكَ الْغِنٰى عَنِ النَّاسِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِّيِّ الْعَظِيْمِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা আ'ইন্নী 'আলা- দীনি বিদ্দুন্ইয়া, ওয়া 'আলা- আখিরতী বিত্তাক্বওয়া, ওয়াহ্ফায্নী ফীমা- গিব্তু 'আনহু, ওয়া লা- তাকিল্নী ইলা- নাফ্সী ফীমা- হাদ্বর্তুহু। ইয়া মাল্লা- তাদুররুহুয যুনূবু ওয়া লা- তান্ক্বুসুহুল মাগফিরাহ্, হাবলী মা- লা- ইয়ান্ক্বুসুকা, ওয়াগফিরলী মা- লা- ইয়াদুররুকা, ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহ্হাব। আসআলুকা ফারাজান ক্বরীবাওঁ ওয়া সবরান জামীলা, ওয়া রিযক্বওঁ ওয়া-সি'আ, ওয়াল 'আ-ফিয়াতা মিন জামী'ইল বালা-। ওয়া আসআলুকা তামা-মাল 'আ-ফিয়াহ্, ওয়া আসআলুকা দাওয়া-মাল 'আ-ফিয়াহ্, ওয়া আসআলুকাশ শুকরা 'আলাল 'আ-ফিয়াহ্, ওয়া আসআলুকাল গিনা- 'আনিন-না-স, ওয়া লা- হাউলা ওয়া লা- ক্বুউওয়াতা ই্ল্লা- বিল্লাহিল 'আলিয়্যিল 'আযীম।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! দুনিয়ার (প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ) দিয়ে আমার দ্বীন পালনে আমাকে সাহায্য করুন, এবং তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) মাধ্যমে আমার আখেরাতকে সুন্দর করতে সাহায্য করুন। আমি যেসব বিষয় থেকে অনুপস্থিত থাকি (আমার পরিবার, সম্পদ বা অগোচরের বিষয়) সেগুলোতে আপনি আমাকে হেফাজত করুন, আর আমি যেসব বিষয়ে উপস্থিত থাকি (আমার বর্তমান কাজকর্ম) সেগুলোতে আমাকে আমার নিজের (নফসের) ওপর ছেড়ে দেবেন না। হে সেই মহান সত্তা! পাপ যাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং ক্ষমা যাঁর কোনো কমতি বা ঘাটতি তৈরি করে না! আমাকে সেই জিনিস দান করুন যা আপনার কোনো কমতি করবে না (অর্থাৎ আপনার ক্ষমা), আর আমার সেই পাপগুলো ক্ষমা করে দিন যা আপনার কোনো ক্ষতি করে না। নিশ্চয়ই আপনিই পরম দাতা। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আশু মুক্তি, সুন্দর ধৈর্য, প্রশস্ত রিযিক এবং সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে নিরাপত্তা ('আফিয়াত)। আর আমি আপনার কাছে চাচ্ছি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা, স্থায়ী নিরাপত্তা, নিরাপত্তার ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তৌফিক এবং মানুষের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বাবলম্বী থাকা। আর পরম উচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে) ফেরার এবং (পুণ্য করার) কোনো শক্তি ও ক্ষমতা কারও নেই।

৮.

দু‘আ-১৮১

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الْمُنْتَخَبِيْنَ الْغُرِّ الْمُحَجَّلِيْنَ الْوَفْدِ الْمُتَقَبَّلِيْنَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ اَسْأَلُكَ نَفْسًا ۢبِكَ مُطْمَئِنَّةً تُؤْمِنُ بِلِقَآئِكَ، وَتَرْضٰى بِقَضَآئِكَ، وَتَقْنَعُ بِعَطَآئِك.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ্'আলনা- মিন 'ইবা-দিকাল মুন্তাখবীনাল গুররিল মুহাজ্জালীনাল ওয়াফদিল মুতাক্বব্বালীন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা নাফসাম্ বিকা মুত্বমাইন্নাতান তু'মিনু বিলিক্ব-ইকা, ওয়া তারদ্বা- বিক্বদ্ব-ইকা, ওয়া তাক্বনা'উ বি'আত্বা-ইকা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার সেই মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাঁদের চেহারা ও হাত-পা (কিয়ামতের দিন ওযুর প্রভাবে) উজ্জ্বল ও আলোকময় থাকবে এবং যাঁরা হবেন আপনার দরবারে মাকবুল ও সম্মানিত মেহমান। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন একটি প্রশান্ত হৃদয় (নফসে মুতমাইন্নাহ) প্রার্থনা করছি যা আপনার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখে, আপনার সাথে সাক্ষাতের (পরকালের) প্রতি ঈমান রাখে, আপনার ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকে এবং আপনার দেওয়া দানে তুষ্ট থাকে।

৯.

দু‘আ-৩১

رَبِّ انْصُرْنِیْ عَلَی الْقَوْمِ الْمُفْسِدِیْنَ۠۝۳۰
উচ্চারণঃ

রাব্বিনসুরনী ‘আলাল কাওমিল মুফছিদীন।

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।

১০.

দু‘আ-৩৭

رَبَّنَا عَلَیْكَ تَوَكَّلْنَا وَ اِلَیْكَ اَنَبْنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ۝۴
উচ্চারণঃ

রাব্বানা ‘আলাইকা তাওয়াক্কালনা ওয়া ইলাইকা আনাবনা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনারই উপর নির্ভর করেছি, আপনারই দিকে আমরা রুজূ হয়েছি এবং আপনারই কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।

১১.

দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা ও সুস্থতা লাভের দুআ

اَسْأَلُ اللهَ الْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ.
উচ্চারণঃ

আসআলুল্লাহাল ‘আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থঃ

আমি আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।

১২.

দু‘আ-১৫১

اَللّٰهُمَّ حَصِّنْ فَرْجِيْ وَيَسِّرْ لِيْۤ اَمْرِيْ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা হাসসিন ফারজী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার লজ্জাস্থানকে হেফাজত করুন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।

১৩.

দু‘আ-১৫২

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ تَمَامَ الْوُضُوْٓءِ وَتَـمَامَ الصَّلٰوةِ، وَتَـمَامَ رِضْوَانِكَ وَتَمَامَ مَغْفِرَتِكَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা তামামাল উযূই, ওয়া তামামাস সালাতি, ওয়া তামামা রিদওয়ানিকা, ওয়া তামামা মাগফিরাতিকা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অযু পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করার তাওফীক, নামায পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করার তাওফীক, আপনার পূর্ণ সন্তুষ্টি এবং আপনার পরিপূর্ণ ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

১৪.

দু‘আ-১৬৩

بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَاۤ إِلٰهَ غَيْرُهٗ، اَللّٰهُمَّ أَذْهِبْ عَنِّي الْهَمَّ وَ الْحُزْنَ.اَللّٰهُمَّ بِحَمْدِكَ انْصَرَفْتُ وَبِذَنْۢبِيْ اعْتَرَفْتُ.
উচ্চারণঃ

বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইলাহা গাইরুহু। আল্লাহুম্মা আযহিব ‘আন্নিল হাম্মা ওয়াল-হুযনা। আল্লাহুম্মা বিহামদিকা ইনসারাফতু, ওয়া বিযাম্বী‘তারাফতু।

অর্থঃ

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। হে আল্লাহ! আমার দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দিন। হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসা করতে করতে আমি ফিরে যাচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি।

১৫.

দু‘আ-১৬৬

اَللّٰهُمَّ اٰتِ مُحَمَّدًا ۟الْوَسِيْلَةَ ، وَاجْعَلْ فِيْ الْمُصْطَفَيْنَ مَحَبَّتَهٗ وَفِيْ الْأَعْلَيْنَ دَرَجَتَهٗ، وَفِيْ الْمُقَرَّبِيْنَ ذِكْرَهٗ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা, ওয়াজ‘আল ফিল মুসতাফাইনা মাহাব্বাতাহু, ওয়া ফিল আ‘লাইনা দারাজাতাহু, ওয়া ফিল মুকাররাবীনা যিকরাহু।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ-কে ওয়াসীলা দান করুন। মনোনীত বান্দাদের মধ্যে তাঁর ভালোবাসা, সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা এবং আপনার নৈকট্যপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর স্মরণকে স্থান দান করুন।

১৬.

দু‘আ-১৬৮

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি বারবার তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

১৭.

দু‘আ-১৬৯

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْأَلُكَ تَوْفِيْقَ أَهْلِ الْهُدٰى وَأَعْمَالَ أَهْلِ الْيَقِيْنِ، وَمُنَاصَحَةَ أَهْلِ التَّوْبَةِ، وَعَزْمَ أَهْلِ الصَّبْرِ، وَجِدَّ أَهْلِ الْخَشْيَةِ، وَطَلَبَ أَهْلِ الرَّغْبَةِ، وَتَعَبُّدَ أَهْلِ الْوَرَ عِ، وَعِرْفَانَ أَهْلِ الْعِلْمِ حَتّٰىۤ أَلْقَاكَ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা তাওফীকা আহলিল হুদা, ওয়া আ‘মালা আহলিল ইয়াকীন, ওয়া মুনাসাহাতা আহলিত তাওবাহ, ওয়া ‘আযমা আহলিস সাবর, ওয়া জিদ্দা আহলিল খাশইয়াহ, ওয়া তালাবা আহলির রাগবাহ, ওয়া তা‘আব্বুদা আহলিল ওয়ারাআ, ওয়া ‘ইরফানা আহলিল ‘ইলমি, হাত্তা আলকাক।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াতপ্রাপ্তদের মতো সঠিক পথে চলার তাওফীক, দৃঢ় বিশ্বাসীদের মতো আমল, তাওবাকারীদের মতো আন্তরিক উপদেশ ও সংশোধনের মনোভাব, ধৈর্যশীলদের মতো দৃঢ় সংকল্প, আপনাকে ভয়কারীদের মতো আন্তরিক প্রচেষ্টা, আপনার প্রতি আগ্রহীদের মতো অনুসন্ধিৎসা, পরহেযগারদের মতো ইবাদত এবং জ্ঞানীদের মতো প্রজ্ঞা ও পরিচিতি প্রার্থনা করছি যতক্ষণ না আপনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়।

১৮.

দু‘আ-১৭০

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ مَخَافَةً تَحْجُرُنِيْ عَن ْ مَعَاصِيْكَ، حَتّٰىۤ أَعْمَلَ بِطَاعَتِكَ عَمَلًا أَسْتَحِقُّ بِه رِضَاكَ، وَحَتّٰىۤ أُنَاصِحَكَ بِالتَّوْبَةِ خَوْفًا مِّنْكَ، وَحَتّٰىۤ أُخْلِصَ لَكَ النَّصِيْحَةَ حَيَآءً مِّنْكَ، وَحَتّٰىۤ أَتَـوَكَّلَ عَلَيْكَ فِيْ الْأُمُوْرِ كُـلِّهَا، وَ حُسْنَ ظَنٍّ بِكَ، سُبْحَانَ خَالِقِ النُّوْرِ. اَللّٰهُمَّ لَا تُهْلِكْنَا فُجَآءَةً وَّلَا تَأْخُذْنَا بَغْتَةً، وَلَا تُغْفِلْنَا عَنْ حَقٍ وَّلَا وَصِيَّةٍ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মাখাফাতান তাহজুরুনী ‘আন মা‘আসীকা, হাত্তা আ‘মালা বিত্বা‘আতিকা ‘আমালান আসতাহিক্কু বিহী রিদাকা, ওয়া হাত্তা উনাসিহাকা বিত তাওবাতি খাওফাম মিনকা, ওয়া হাত্তা উখলিসা লাকান নাসীহাতা হায়াআম মিনকা, ওয়া হাত্তা আতাওয়াক্কালা ‘আলাইকা ফিল উমূরি কুল্লিহা, ওয়া হুসনা যন্নিম বিকা। সুবহানা খালিকিন নূর। আল্লাহুম্মা লা তুহলিকনা ফুজাআতাঁও, ওয়া লা তা’খুযনা বাগতাতাঁও, ওয়া লা তুগফিলনা ‘আন হাক্কিওঁ ওয়া লা ওয়াসিয়্যাহ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন ভয়ের অনুভূতি প্রার্থনা করছি, যা আমাকে আপনার অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখবে; যাতে আমি আপনার আনুগত্যে এমন আমল করতে পারি, যার মাধ্যমে আপনার সন্তুষ্টি লাভের যোগ্য হতে পারি। আপনার ভয়ে যেন তাওবার মাধ্যমে আপনার কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে আসতে পারি এবং আপনার প্রতি লজ্জাবোধের কারণে আপনার জন্য উপদেশ ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা অবলম্বন করতে পারি। জীবনের সব বিষয়ে যেন আপনার ওপর ভরসা করতে পারি এবং আপনার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করতে পারি। পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নূরের স্রষ্টা। হে আল্লাহ! আমাদের আকস্মিকভাবে ধ্বংস করবেন না, অতর্কিতে পাকড়াও করবেন না এবং কোনো হক বা অসিয়তের ব্যাপারে আমাদের উদাসীন রাখবেন না।

১৯.

দু‘আ-১৭৩

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَإِلَيْكَ الْمُشْتَكٰى وَبِكَ الْمُسْتَغَاثُ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু, ওয়া ইলাইকাল মুশতাকা, ওয়া বিকাল মুসতাগাসু, ওয়া আনতাল মুস্তা‘আনু, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য। আপনার কাছেই আমরা আমাদের দুঃখ-কষ্টের অভিযোগ পেশ করি। আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আপনিই আমাদের সাহায্যকারী। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে বেঁচে থাকার এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

২০.

দু‘আ-১৭৪

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ لَاۤ أُحْصِيْ ثَنَآءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَاۤ أَثْنَيْتَ عَلٰى نَفْسِكَ. اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نُزِّلَ، أَوْ نُضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ يُظْلَمَ عَلَيْنَا، أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا، أَوْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ، أَعُوْذُ بِنُوْرِ وَجْهِكَ الْكَرِيْمِ الَّذِيْ، أَضَآءَتْ لَهُ السَّمٰوٰتُ، وَأَشْرَقَتْ لَهُ الظُّلُمَاتُ، وَصَلُحَ عَلَيْهِ أَمْرُ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ أَنْ تُحِلَّ عَلَيَّ غَضَبَكَ وَتُنْزِلَ عَلَيَّ سَخَطَكَ، وَلَكَ الْعُتْبٰى حَتّٰى تَرْضٰى، وَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ. اَللّٰهُمَّ وَاقِيَةً كَوَاقِيَةِ الْوَلِيْدِ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ الْأَعْمَيَيْنِ : السَّيْلِ وَالْبَعِيْرِ الصَّؤُوْلِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকূবাতিকা, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনকা। লা উহসী সানাআন ‘আলাইকা, আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা। আল্লাহুম্মা ইন্না না‘ঊযু বিকা মিন আন নাযিল্লা আও নুযাল্লা, আও নাদিল্লা আও নাযলিমা আও ইউযলামা ‘আলাইনা, আও নাজহালা আও ইউজহালা ‘আলাইনা, আও আদিল্লা আও উদাল্লা। আ‘ঊযু বিনূরি ওয়াজহিকাল কারীমিল্লাযী আদাআত লাহুস সামাওয়াতু, ওয়া আশরাকাত লাহুয যুলুমাতু, ওয়া সালুহা ‘আলাইহি আমরুদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি, আন তুহিল্লা ‘আলাইয়্যা গাদাবাকা ওয়া তুনযিলা ‘আলাইয়্যা সাখাতাকা। ওয়া লাকাল ‘উতবা হাত্তা তারদা, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিকা। আল্লাহুম্মা ওয়াকিয়াতান কাওয়াকিয়াতিল ওয়ালিদ। আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন শাররিল আ‘মায়াইনি: আস-সাইলি ওয়াল বা‘ঈরিস সাঊল।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে এবং আপনার শাস্তি থেকে আপনার ক্ষমা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছেই আপনার থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার যথাযথ প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারি না। আপনি ঠিক তেমনই, যেমন আপনি নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে আশ্রয় চাই—যেন আমরা পদস্খলিত না হই বা অন্যকে পদস্খলিত না করি; পথভ্রষ্ট না হই বা অন্যকে পথভ্রষ্ট না করি; যুলুম না করি বা আমাদের ওপর যুলুম করা না হয়; মূর্খতাপূর্ণ আচরণ না করি বা আমাদের সঙ্গে মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করা না হয়; এবং আমরা যেন নিজেরা বিপথে না যাই বা অন্যের দ্বারা বিপথে পরিচালিত না হই। আমি আপনার সম্মানিত চেহারার নূরের আশ্রয় চাই, যার আলোয় আসমানসমূহ আলোকিত হয়েছে, অন্ধকারসমূহ দূরীভূত হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়াবলি সুশৃঙ্খল হয়েছে। আপনার ক্রোধ যেন আমার ওপর আপতিত না হয় এবং আপনার অসন্তুষ্টি যেন আমার ওপর নেমে না আসে। আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আপনার সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। হে আল্লাহ! নবজাতক শিশুকে যেভাবে সুরক্ষা দেওয়া হয়, সেরূপ সুরক্ষা দান করুন। হে আল্লাহ! আমি দুটি অন্ধ বিপদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই: প্রবল বন্যার স্রোত এবং আক্রমণকারী দুর্দমনীয় উট।