আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সা-আলাকা ‘আবদুকা ওয়া নাবিয়্যুকা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া মা কাররাবা ইলাইহা মিন কাওলিন আও ‘আমালিন, ওয়া আসআলুকা আন তাজ‘আলা কুল্লা কাদা-ইন তাকদীহী লী খাইরান, ওয়া আসআলুকা মা কাদাইতা লী মিন আমরিন আন তাজ‘আলা ‘আকিবাতাহু রুশদান।
হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও নবী আপনার কাছে যে কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন, আমিও আপনার কাছে সেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং এমন কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি, যা জান্নাতের নিকটবর্তী করে। আপনার কাছে আরও প্রার্থনা করছি, আপনি আমার জন্য যে ফয়সালাই করুন, তা যেন আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর আমার জন্য যে বিষয়ই নির্ধারণ করুন, তার পরিণতি যেন সঠিক ও মঙ্গলজনক হয়।
রাব্বানা মা-খালাকতা হাযা-বা-তিলান ছুবহা-নাকা ফাকিনা-‘আযা-বান্না-র
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
রাব্বানা ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া ‘আত্তাহুম ওয়া মান সালাহা মিন আবাইহিম ওয়া আঝওয়া-জিহিম ওয়া যুররিইয়া-তিহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম। ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রাহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।
ইয়া আল্লাহ! আমার দ্বীনদারী দুরস্ত করে দিন, যা আমার সকল বিষয়ের রক্ষাকবচ। আমার দুনিয়া দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার অবস্থান এবং আমার আখিরাত দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন। আর আমার জীবন যেন হয় সকল কল্যাণে অগ্রসরতা আর আমার মৃত্যু যেন হয় সকল অকল্যাণ থেকে মুক্তি।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আফিয়াতা ফী দীনী ওয়া দুনইয়ায়া ওয়া আহলী ওয়া মালী। আল্লাহুম্মাসতুর ‘আওরাতী ওয়া আমিন রাও‘আতী। আল্লাহুম্মাহফাযনী মিন বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া ‘আন শিমালী ওয়া মিন ফাওকী, ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন এবং আমার ভয়-ভীতি থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আমার সামনে, পেছনে, ডানে, বামে ও ওপর থেকে আমাকে হেফাজত করুন। আর আপনার মহত্ত্বের উসিলায় নিচ দিক থেকে আকস্মিক বিপদে আক্রান্ত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
আল্লাহুম্মা আহসানতা খালকী, ফা-আহসিন খুলুকী, ওয়া আযহিব গাইযা কালবী, ওয়া আজিরনী মিন মুদিল্লাতিল ফিতানি মা আহইয়াইতানা।
হে আল্লাহ! আপনি যেমন আমার আকৃতি সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন। আমার অন্তরের ক্ষোভ দূর করে দিন এবং যত দিন আমাকে জীবিত রাখবেন, তত দিন বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আমাকে আশ্রয় দিন।
রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু ফী বালা-ইকা ওয়া ছনী'ইকা ইলা- খলক্বিকা, ওয়া লাকাল হামদু ফী বালা-ইকা ওয়া ছনী'ইকা ইলা- আহ্লি বুয়ূতিনা-, ওয়া লাকাল হামদু ফী বালা-ইকা ওয়া ছনী'ইকা ইলা- আন্ফুসিনা- খ-ছ্ছ্বতাহ্, ওয়া লাকাল হামদু বিমা- হাদাইতানা-, ওয়া লাকাল হামদু বিমা- আকরামতানা-, ওয়া লাকাল হামদু বিমা- সাতারতানা-, ওয়া লাকাল হামদু বিল ক্বুরআ-ন, ওয়া লাকাল হামদু বিল আহ্লি ওয়াল মা-ল, ওয়া লাকাল হামদু বিল মু'আ-ফা-তি ওয়া লাকাল হামদু হাত্তা- তারদ্বা-, ওয়া লাকাল হামদু ইযা- রদ্বীতা ইয়া- আহ্লাত তাক্বওয়া- ওয়া আহ্লাল মাগফিরাহ্।
হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টিজগতের প্রতি আপনার পরীক্ষা ও সুন্দর আচরণের জন্য সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই, আমাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আপনার পরীক্ষা ও সুন্দর আচরণের জন্য সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই এবং বিশেষ করে আমাদের প্রতি আপনার পরীক্ষা ও সুন্দর আচরণের জন্য সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনার দেওয়া হেদায়েতের জন্য সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আমাদের সম্মানিত করায় সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আমাদের (দোষত্রুটি) গোপন রাখায় সমস্ত প্রশংসা আপনারই, মহাগ্রন্থ কুরআনের জন্য সমস্ত প্রশংসা আপনারই, পরিবার ও ধন-সম্পদ দানের জন্য সমস্ত প্রশংসা আপনারই এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তা ('আফিয়াত) দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনার সন্তুষ্টি অর্জিত হওয়া পর্যন্ত সমস্ত প্রশংসা আপনারই এবং আপনি সন্তুষ্ট হওয়ার পরেও সমস্ত প্রশংসা আপনারই; হে ঐ সত্তা, যিনিই একমাত্র ভয় পাওয়ার উপযুক্ত এবং ক্ষমার মালিক!
আল্লাহুম্মা ওয়াফ্ফিক্বনী লিমা- তুহিব্বু ওয়া তারদ্বা- মিনাল ক্বওলি ওয়াল 'আমালি ওয়াল ফি'লি ওয়ান নিয়্যাতি ওয়াল হাদয়ি, ইন্নাকা 'আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন সব কথা, কাজ, আচরণ, নিয়ত এবং হেদায়েতের তৌফিক দান করুন, যা আপনি ভালোবাসেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
ওয়া তারাল মুজরিমীনা ইয়াওমাইযিম মুকাররানীনা ফিল আসফা-দ । ছারা-বীলুহুম মিন কাতিরা-নিওঁ ওয়া তাগশা-উজূহাহুমুন্না-র।
সেই দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃংখলিত অবস্থায়, তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমন্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।
কা-লা ফাযহাব ফাইন্না লাকা ফিল হায়া-তি আন তাকূলা লা-মিছা-ছা ওয়া ইন্নালাকা মাও‘ইদাল লান তুখলাফাহূও ওয়ানজুর ইলাইলা-হিকাল্লাযী জালতা ‘আলাইহি আ-কিফাল লানুহাররিকান্নাহূছু ম্মা লানানছিফান্নাহূফিল ইয়াম্মি নাছফা-।
মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি; আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর, যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই।
কুল্লুনাফছিন যা-ইকাতুল মাওতি ওয়া নাবলূকুম বিশশাররি ওয়াল খাইরি ফিতনাতাও ওয়া ইলাইনা-তুর জা‘ঊন ।
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দিয়ে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।
হা-যা-নি খাছমা-নিখ তাছামূ ফী রাব্বিহিম ফাল্লাযীনা কাফারূ কুত্তি‘আত লাহুম ছিয়া-বুম মিন্না-রিইঁ ইউসাব্বু মিন ফাওকি রুঊছিহিমুল হামীম। ইউসহারু বিহী মা-ফী বুতূনিহিম ওয়াল জুলূদ। ওয়া লাহুম মাকা-মি‘উ মিন হাদীদ। কুল্লামা আরা-দূ আইঁ ইয়াখরুজুমিনহা-মিন গাম্বিন উ‘ঈদূফীহা- ওয়া যূকূ‘আযাবাল হারীক।
এরা দুইটি বিবদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে ; যারা কুফরী করে তাদের জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার ওপর ঢালিয়া দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দিয়ে এদের উদরে যা আছে তা এবং এদের চর্ম বিগলিত করা হবে। এবং এদের জন্যে থাকবে লৌহমুদগর। যখনই এরা যন্ত্রণাকাতর হয়ে জাহান্নাম হতে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এতে; এদেরকে বলা হবে, ‘আস্বাদন কর দহন-যন্ত্রণা।’
ওয়া হিফজাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ। লা ইয়াছছাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা-ওয়া ইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব। দুহূ রাও ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ওয়া-সিব। ইল্লা-মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূ শিহা-বুন ছাকিব।
এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে। ফলে এরা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শোনে করতে পারে না এবং এদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হতে- বিতাড়নের জন্যে এবং এদের জন্যে আছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেলিলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
ইন্না শাজারাতাঝঝাক্কূম। তা‘আ-মুল আছীম। কালমুহলি ইয়াগলী ফিলবুতূন। কাগালইল হামীম। খুযূহু ফা‘তিলূহু ইলা-ছাওয়াইল জাহীম। ছু ম্মা সুববূফাওকা রা’ছিহী মিন ‘আযা-বিল হামীম। যুক ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল কারীম। ইন্না হা-যা-মা-কুনতুম বিহী তামতারূন।
নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ (সূরা ছাফফাতে এসম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে) বড় পাপীর (অর্থাৎ কাফিরের) খাদ্য হবে, যা ( দৃষ্টিকটু হওয়ার ব্যাপারে) তেলের তলানির মত হবে এবং ফুটন্ত পানির মত ফুটতে থাকবে। ফেরেশতাগণকে ( আদেশ করা হবে) একে ধর এবং টেনে জাহান্নামের মধ্যস্থলে নিয়ে যাও, অতপর এর মস্তকের উপরে যন্ত্রণাদায়ক ফুটন্ত পানি ঢল। (তাকে ঠাট্টাচ্ছলে বলা হবে এবার) স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো বড় সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত। (এটা তোমার সম্মান, যেমন তুমি দুনিয়াতে নিজেকে সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত মনে করে আমার আদেশ পালনে লজ্জা বোধ করতে। জাহান্নামীদেরকে বলা হবে.) এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ পোষণ (ও অস্বীকার করতে।
ছু ম্মা ইন্নাকুম আইইয়ুহাদ্দাললূনাল মুকাযযি বূন। লাআ-কিলূনা মিন শাজারিম মিন ঝাক্কূম। ফামা-লিঊনা মিনহাল বুতূন। ফাশা-রিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম। ফাশা-রিবূনা শুরবাল হীম।
অতঃপর (অর্থাৎ একত্রিত হওয়ার পর ) হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা রোপকারিগণ! তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। এর উপর পান করবে ফুটন্ত পানি। তোমরা পান করবে পিপাসার্ত উটের ন্যায়। (মোটকথা) কিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাত্তারাদ্দী, ওয়াল হাদমি, ওয়াল গারাক্বি, ওয়াল হারীক্ব।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি উপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘরচাপা পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং আগুনে দগ্ধীভূত হওয়া থেকে।
দু'আর বিষয়সমূহ
40টি বিষয় পাওয়া গেছে