১. ইযা ওয়াক্বা‘তিল ওয়াক্বি‘আহ্। ২. লাইসা লিওয়াক্ব‘আতিহা কাযিবাহ্। ৩. খাফিদাতুর রাফি‘আহ্। ৪. ইযা রুজ্জাতিল আরদু রাজ্জা। ৫. ওয়া বুস্সাতিল জিবালু বাস্সা। ৬. ফাকানাত হাবা-আম মুমবাস্সা। ৭. ওয়া কুনতুম আযওয়াজান ছালাছাহ্। ৮. ফা-আসহাবুল মাইমানাতি মা আসহাবুল মাইমানাহ্। ৯. ওয়া আসহাবুল মাশআমাতি মা আসহাবুল মাশআমাহ্। ১০. ওয়াস্-সাবিকূনাস্-সাবিকূন। ১১. উলা-ইকাল মুকাররাবূন। ১২. ফী জান্নাতিন না‘ঈম। ১৩. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ১৪. ওয়া ক্বালীলুম মিনাল আখিরীন। ১৫. ‘আলা সুরুরিম মাওদূনাহ্। ১৬. মুতাক্বাবিলীনা ‘আলাইহা। ১৭. ইয়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদানুম মুখাল্লাদূন। ১৮. বি-আকওয়াবিওঁ ওয়া আবা-রীক্বা ওয়া কা'সিম মিন মা‘ঈন। ১৯. লা ইউসাদ্দা‘ঊনা ‘আনহা ওয়া লা ইউনযিফূন। ২০. ওয়া ফাকিহাতিম মিম্মা ইয়াতাখাইয়ারূন। ২১. ওয়া লাহমি তইরিম মিম্মা ইয়াশতাহূন। ২২. ওয়া হূরুন ‘ঈন। ২৩. কা-আমছালিল লু’লু’ইল মাকনূন। ২৪. জাযা-আম বিমা কানূ ইয়া‘মালূন। ২৫. লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াওঁ ওয়া লা তা’ছীমা। ২৬. ইল্লা ক্বীলান সালামান সালামা। ২৭. ওয়া আসহাবুল ইয়ামীন, মা আসহাবুল ইয়ামীন। ২৮. ফী সিদরিম মাখদূদ। ২৯. ওয়া তালহিম মানদূদ। ৩০. ওয়া যিল্লিম মামদূদ। ৩১. ওয়া মা-ইম মাসকূব। ৩২. ওয়া ফাকিহাতিন কাছীরাহ্। ৩৩. লা মাক্বতূ‘আতিওঁ ওয়া লা মামনূ‘আহ্। ৩৪. ওয়া ফুরুশিম মারফূ‘আহ্। ৩৫. ইন্না আনশা’নাহুন্না ইনশা-আ। ৩৬. ফাজা‘আলনাহুন্না আবকারা। ৩৭. ‘উরুবান আত্রাবা। ৩৮. লি-আসহাবিল ইয়ামীন। ৩৯. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ৪০. ওয়া ছুল্লাতুম মিনাল আখিরীন। ৪১. ওয়া আসহাবুশ্-শিমালি মা আসহাবুশ্-শিমাল। ৪২. ফী সামূমিওঁ ওয়া হামীম। ৪৩. ওয়া যিল্লিম মিন ইয়াহমূম। ৪৪. লা বারিদিওঁ ওয়া লা কারীম। ৪৫. ইন্নাহুম কানূ ক্বাবলা যালিকা মুতরাফীন। ৪৬. ওয়া কানূ ইউসিররূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আযীম। ৪৭. ওয়া কানূ ইয়াক্বূলূনা আ-ইযা মিতনা ওয়া কুন্না তুরাবাঁও ওয়া ‘ইযামান, আ-ইন্না লামাব‘ঊছূন। ৪৮. আওয়া-আবা-উনাল আওয়ালূন। ৪৯. কুল ইন্নাল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন। ৫০. লামাজমূ‘ঊনা ইলা মীক্বাতি ইয়াওমিম মা‘লূম। ৫১. ছুম্মা ইন্নাকুম আইয়ুহাদ্-দাল্লূনাল মুকায্যিবূন। ৫২. লা-আকিলূনা মিন শাজারাতিম মিন যাক্কূম। ৫৩. ফামালি’ঊনা মিনহাল বুতূন। ৫৪. ফাশারিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম। ৫৫. ফাশারিবূনা শুরবাল হীম। ৫৬. হাযা নুযুলুহুম ইয়াওমাদ্দীন। ৫৭. নাহনু খালাক্বনাকুম ফালাওলা তুসাদ্দিকূন। ৫৮. আফারা-আইতুম মা তুমনূন। ৫৯. আ-আনতুম তাখলুকূনাহু আম নাহনুল খালিক্বূন। ৬০. নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়া মা নাহনু বিমাসবূক্বীন। ৬১. ‘আলা আন নুবাদ্দিলা আমছালাকুম ওয়া নুনশি’আকুম ফী মা লা তা‘লামূন। ৬২. ওয়া লাক্বাদ ‘আলিমতুমুন নাশআতাল ঊলা ফালাওলা তাযাক্কারূন। ৬৩. আফারা-আইতুম মা তাহরুছূন। ৬৪. আ-আনতুম তাযরা‘ঊনাহু আম নাহনুয্-যারি‘ঊন। ৬৫. লাও নাশা-উ লাজা‘আলনাহু হুতামান ফাযালতুম তাফাক্কাহূন। ৬৬. ইন্না লামুগরামূন। ৬৭. বাল নাহনু মাহরূমূন। ৬৮. আফারা-আইতুমুল মা-আল্লাযী তাশরাবূন। ৬৯. আ-আনতুম আনযালতুমূহু মিনাল মুযনি আম নাহনুল মুনযিলূন। ৭০. লাও নাশা-উ জা‘আলনাহু উজাজান ফালাওলা তাশকুরূন। ৭১. আফারা-আইতুমুন নারাল্লাতী তূরূন। ৭২. আ-আনতুম আনশা’তুম শাজারাতাহা আম নাহনুল মুনশি’ঊন। ৭৩. নাহনু জা‘আলনাহা তাযকিরাতাঁও ওয়া মাতাআ‘ল লিলমুক্ববীন। ৭৪. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম। ৭৫. ফালা উক্বসিমু বিমাওয়াক্বি‘ইন নুজূম। ৭৬. ওয়া ইন্নাহু লাক্বাসামুল লাও তা‘লামূনা ‘আযীম। ৭৭. ইন্নাহু লাকুরআনুন কারীম। ৭৮. ফী কিতাবিম মাকনূন। ৭৯. লা ইয়ামাস্সুহু ইল্লাল মুতাহহারূন। ৮০. তানযীলুম মির রাব্বিল ‘আলামীন। ৮১. আফাবিহাযাল হাদীছি আনতুম মুদহিনূন। ৮২. ওয়া তাজ‘আলূনা রিযক্বাকুম আন্নাকুম তুকায্যিবূন। ৮৩. ফালাওলা ইযা বালাগাতিল হুলক্বূম। ৮৪. ওয়া আনতুম হীনাইযিন তানযুরূন। ৮৫. ওয়া নাহনু আক্বরাবু ইলাইহি মিনকুম ওয়া লাকিল লা তুবসিরূন। ৮৬. ফালাওলা ইন কুনতুম গাইরা মাদীনীন। ৮৭. তারজিঊনাহা ইন কুনতুম সাদিক্বীন। ৮৮. ফা-আম্মা ইন কানা মিনাল মুকাররাবীন। ৮৯. ফারাওহুঁওয়া রাইহানুঁওয়া জান্নাতু না‘ঈম। ৯০. ওয়া আম্মা ইন কানা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯১. ফাসালামুল্লাকা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯২. ওয়া আম্মা ইন কানা মিনাল মুকায্যিবীনাদ্-দাল্লীন। ৯৩. ফানুযুলুম মিন হামীম। ৯৪. ওয়া তাসলিয়াতু জাহীম। ৯৫. ইন্না হাযা লাহুয়া হাক্কুল ইয়াক্বীন। ৯৬. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম।
১. যখন অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ঘটবে। ২. তখন এর সংঘটনকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না। ৩. তা নিচু ও উঁচুকারক জিনিস। ৪. যখন পৃথিবীকে প্রবল কম্পনে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে। ৫. এবং পর্বতসমূহকে পিষে চূর্ণ করা হবে। ৬. ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধুলোকণায় পরিণত হবে। ৭. এবং (হে মানুষ!) তোমরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে। ৮. সুতরাং যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান হাত বিশিষ্টগণ! ৯. আর যারা বাম হাত বিশিষ্ট, কী (হতভাগ্য) সে বাম হাত বিশিষ্টগণ! ১০. আর যারা অগ্রগামী, তারা তো অগ্রগামীই! ১১. তারাই আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। ১২. তারা থাকবে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে। ১৩. বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ১৪. এবং অল্প সংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য হতে। ১৫. সোনার তারে বোনা উঁচু আসনে ১৬. তারা পরস্পর সামনাসামনি হেলান দিয়ে থাকবে। ১৭. তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা, ১৮. এমন পান-পাত্র, জগ ও প্রস্রবণ-নিসৃত স্বচ্ছ সূরা পাত্র নিয়ে, ১৯. যা পানে তাদের মাথা ব্যথা হবে না এবং তারা চেতনা হারাবে না ২০. এবং তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে, ২১. এবং তাদের চাহিদা মত পাখির গোশত নিয়ে ২২. এবং তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর, ২৩. যেন তারা লুকিয়ে রাখা মুক্তা। ২৪. তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ। ২৫. তারা সে জান্নাতে শুনবে না কোন অহেতুক কথা এবং না কোন পাপের কথা। ২৬. তবে সেখানে হবে কেবল শান্তিপূর্ণ কথা, কেবলই শান্তিপূর্ণ কথা। ২৭. আর যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান-হাত বিশিষ্টগণ! ২৮. (তারা আয়েশে থাকবে) কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে ২৯. এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ, ৩০. সুদূর বিস্তৃত ছায়া, ৩১. প্রবহমান পানি ৩২. এবং প্রচুর ফলমূলের ভেতর। ৩৩. যা কখনও শেষ হবে না এবং যাতে কোন বাধাও দেওয়া হবে না। ৩৪. আর তারা থাকবে উঁচুতে রাখা ফরাশে। ৩৫. নিশ্চয়ই আমি সে নারীদেরকে দিয়েছি নব উত্থান। ৩৬. সুতরাং তাদেরকে বানিয়েছি কুমারী। ৩৭. (স্বামীদের পক্ষে) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা। ৩৮. সবই ডান হাত বিশিষ্টদের জন্য। ৩৯. (যাদের মধ্যে) অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ৪০. এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। ৪১. আর যারা বাম হাতবিশিষ্ট, কী হতভাগ্য সে বাম-হাত বিশিষ্টগণ! ৪২. তারা থাকবে উত্তপ্ত বায়ু ও ফুটন্ত পানিতে। ৪৩. কালো ধুয়ার ছায়ায় ৪৪. যা হবে না শীতল, না উপকারী। ৪৫. ইতঃপূর্বে তারা ছিল আরাম-আয়েশের ভেতর। ৪৬. অতি বড় পাপের উপর অনড় থাকত। ৪৭. এবং বলত, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে? ৪৮. এবং আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও, যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে? ৪৯. বলে দাও, নিশ্চয়ই আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে ৫০. নির্দিষ্ট এক দিনের স্থিরীকৃত সময়ে একত্র করা হবে। ৫১. অতঃপর হে অবিশ্বাসী পথভ্রষ্টগণ! অবশ্যই তোমরা ৫২. এমন এক গাছ থেকে খাবে, যার নাম যাক্কুম। ৫৩. অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। ৫৪. তদুপরি পান করবে ফুটন্ত পানি। ৫৫. পানও করবে সেইভাবে, যেভাবে পান করে তৃষ্ণার রোগে আক্রান্ত উট। ৫৬. এটাই বিচার দিবসে তাদের আপ্যায়ন। ৫৭. আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না? ৫৮. আচ্ছা বল তো, তোমরা যে বীর্য স্খলন কর ৫৯. তা কি তোমরা সৃষ্টি কর না আমিই তার স্রষ্টা? ৬০. আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুর ফায়সালা করে রেখেছি এবং এমন কেউ নেই, যে আমাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে ৬১. এ ব্যাপারে যে, আমি তোমাদের স্থলে তোমাদের মত অন্য লোক আনয়ন করব এবং তোমাদেরকে এমন কোন রূপ দান করব, যা তোমরা জান না। ৬২. তোমরা তো তোমাদের প্রথম সৃজন সম্পর্কে অবগত আছ। তা সত্ত্বেও তোমরা কেন উপদেশ গ্রহণ কর না? ৬৩. তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা জমিতে যা-কিছু বোন, ৬৪. তা কি তোমরা উদগত কর, না আমিই তার উদগতকারী? ৬৫. আমি ইচ্ছা করলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি, ফলে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে ৬৬. যে, আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে পড়লাম, ৬৭. বরং আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলাম! ৬৮. আচ্ছা বল তো, এই যে পানি তোমরা পান কর ৬৯. মেঘ থেকে তা কি তোমরা বর্ষণ করাও, না আমিই তার বর্ষণকারী? ৭০. আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কি তোমরা শোকর আদায় কর না? ৭১. আচ্ছা বল তো, এই যে আগুন তোমরা জ্বালাও, ৭২. তার বৃক্ষ কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা? ৭৩. আমিই তাকে বানিয়েছি উপদেশের উপকরণ এবং মরুচারীদের জন্য উপকারী বস্তু। ৭৪. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর। ৭৫. যে সকল স্থানে নক্ষত্র পতিত হয় আমি তার শপথ করে বলছি, ৭৬. আর তোমরা যদি বোঝ, তো এটা এক মহা শপথ। ৭৭. নিশ্চয়ই এটা অতি সম্মানিত কুরআন, ৭৮. যা এক সুরক্ষিত কিতাবে (পূর্ব থেকেই) লিপিবদ্ধ আছে। ৭৯. একে স্পর্শ করে কেবল তারাই, যারা অত্যন্ত পবিত্র, ৮০. এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ। ৮১. তবুও কি তোমরা এ বাণীকে অবহেলা কর? ৮২. এবং তোমরা (এর প্রতি) অবিশ্বাসকেই তোমাদের উপজীব্য বানিয়ে নিয়েছ? ৮৩. অতঃপর এমন কেন হয় না যে, যখন (কারও) প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, ৮৪. এবং তোমরা (বিমর্ষ মনে তার দিকে) তাকিয়ে থাক, ৮৫. এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। ৮৬. যদি তোমাদের হিসাব-নিকাশ হওয়ার না-ই থাকে, ৮৭. তবে তোমরা সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনছ না কেন যদি তোমরা সত্যবাদী হও? ৮৮. অতপর সে (মৃত ব্যক্তি) যদি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের একজন হয়, ৮৯. তবে (তার জন্য) শুধু আরাম, সুরভি ও নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত। ৯০. আর যদি হয় ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, ৯১. তবে (তাকে বলা হবে যে,) তোমার জন্য রয়েছে শান্তি, যেহেতু তুমি ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। ৯২. আর যদি হয় সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত, ৯৩. তবে (তার জন্য আছে) ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন, ৯৪. আর জাহান্নামে প্রবেশ। ৯৫. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই যথার্থ সুনিশ্চিত বিষয়। ৯৬. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর।
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, মালিকিন্না-ছ, ইলা-হিন্না-ছ। মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছ ওয়িছু ফী সুদূরিন্নাছ-। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
আল্লহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম ওয়া মিন আজাবিল কবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহী ওয়া-রিজা নাফসিহী ওয়া যিনাতা আরশিহী ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী।
আমি আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তার সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্ট হওয়া পরিমাণ, তার আরশের ওজন সমপরিমাণ, তার কথা লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ।
হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলার আখেরী রাসূল। তাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ছাড়া আল্লাহকে বিশ্বাস ও আল্লাহর আনুগত্যের দাবি অর্থহীন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়টি ঘোষিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার একমাত্র পথ হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসরণ। তাই তাঁর জন্য হৃদয়ের গভীরে মহববত ও ভালবাসা পোষণ করা এবং দু‘আ করা প্রত্যেক উম্মতের ঈমানী কর্তব্য। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা নবী (ﷺ)-এর জন্য দরূদ পাঠের আদেশ করেছেন। এটা একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ۞ اِنَّ اللّٰہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরূদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।
রাব্বানা আ-মান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তবা‘নার রসূলা ফাকতুবনা মা‘আশ-শাহিদীন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যা-কিছু নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরকে সেই সকল লোকের মধ্যে লিখে নিন, যারা (সত্যের) সাক্ষ্যদাতা।
রববানা মা খালাকতা হাযা বা-তিলান, সুবহানাকা ফাকিনা ‘আযা-বান্ নার। রববানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্ না-রা ফাকাদ আখযাইতাহু, ওয়ামা লিয্যালিমীনা মিন আনসা-র। রববানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিইয়াইয়্যুনা-দী লিলঈমানি আন্ আ-মিনু বিরব্বিকুম ফাআ--মান্না। রব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়াকাফফির ‘আন্না সায়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরা-র। রববানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাকেই জাহান্নামে দাখিল করবেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই লাঞ্ছিত করলেন। আর জালিমগণ তো কোনও সাহায্যকারী পাবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক ঘোষককে ঈমানের দিকে ডাক দিতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দসমূহ আমাদের থেকে মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ছাওয়া-বাশ শা-কিরীন, ওয়া নুযুলাল মুক্বর্রবীন, ওয়া মুরা-ফাক্বাতান নাবিয়্যীন, ওয়া ইয়াক্বীনাস ছিদ্দীক্বীন, ওয়া যিল্লাতাল মুত্তাক্বীন, ওয়া ইখবা-তাল মূক্বিনীন, হাত্তা- তাওয়াফ্ফানী 'আলা- যা-লিকা ইয়া- আরহামার র-হিমীন।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ বান্দাদের প্রতিদান এবং আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের আতিথেয়তা প্রার্থনা করছি। আর (প্রার্থনা করছি) নবীদের সাহচর্য, সিদ্দিকগণের মতো সুদৃঢ় বিশ্বাস, মুত্তাকীদের মতো বিনয় ও নম্রতা এবং পূর্ণ বিশ্বাসী মুমিনদের মতো আল্লাহর প্রতি পরম ভক্তি ও একাগ্রতা। হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু! আপনি এই সমস্ত গুণাবলীর ওপরই আমার মৃত্যু দান করুন (অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে এই অবস্থায় অবিচল রাখুন)।
আল্লাহুম্মাগ্ফিরলী যাম্বী ওয়া ওয়াস্সী' লী খুলুক্বী, ওয়া ত্বইয়্যিব লী কাস্বী, ওয়া ক্বন্নি'নী বিমা- রযাক্বতানী, ওয়া লা- তুযহিব ত্বলাবী ইলা- শাইয়িন ছরফতাহু 'আন্নী।
হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাকে প্রশস্ত আখলাকের অধিকারী বানিয়ে দিন এবং আমার উপার্জনকে পবিত্র করুন। আর আপনি আমাকে যে রিযিক দান করেছেন তার ওপর আমাকে সন্তুষ্ট থাকার তৌফিক দিন এবং যে জিনিসটি আপনি আমার থেকে সরিয়ে নিয়েছেন (আমার ভাগ্যে রাখেননি), সেটির বিষয়ে আমাকে আগ্রহী করবেন না।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফিকা-কা রক্ববাতী মিনান না-র, আল্লাহুম্মা আ'ইন্নী 'আলা- গমার-তিল মাওতি ওয়া সাকার-তিল মাওত।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আমার ঘাড়ের (অর্থাৎ পূর্ণ সত্তার) মুক্তি প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! মৃত্যুর অন্তিম যন্ত্রণা এবং মৃত্যুর সময়ের জ্ঞানহীনতার মুহূর্তে আপনি আমাকে সাহায্য করুন ।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হাইয়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খইর, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
এক আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কোনো মা’বূদ নেই। তিনি এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল রাজত্ব তাঁরই জন্যে। সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। এবং তিনিই চিরঞ্জীব। তিনি কখনো মৃত্যু বরণ করেন না। তাঁর হাতেই সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। তিনিই সর্বশক্তিমান।
(৫৪) ইন্না-রাব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ফী ছিত্তাতি আইইয়া-মিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি ইউগশিল লাইলান নাহা-রা ইয়াতলুবুহূহাছীছাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা ওয়ান নুজূমা মুছাখখারা-তিম বিআমরিহী আলা-লাহুল খালকুওয়াল আমরু তাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন। (৫৫) উদ‘ঊ রাব্বাকুম তাদাররু‘আওঁ ওয়া খুফইয়াতান ইন্নাহূ লা-ইউহিব্বুল মু‘তাদীন। (৫৬) ওয়ালা-তুফছিদূ ফিল আরদি বা‘দা ইসলা-হিহা-ওয়াদ‘ঊহু খাওফাওঁ ওয়া ত্বমা‘আন ইন্না রাহমাতাল্লা-হি কারীবুম মিনাল মুহছিনীন।
(৫৪) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি সমস্ত আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আরশে ইস্তিওয়া গ্রহণ করেন। তিনি দিনকে রাতের দ্বারা ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়ে তাকে ধরে ফেলে। এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি (সৃষ্টি করেছেন), যা সবই তাঁরই আজ্ঞাধীন। স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। (৫৫) তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘন-কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (৫৬) এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।
রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস্ সামী‘ঊল ‘আলীম। ওয়াতুব্ ‘আলাইনা, ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহিম।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ হতে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি এবং কেবল আপনিই সব কিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।
দু'আর বিষয়সমূহ
40টি বিষয় পাওয়া গেছে