দু’আ

মোট দু’আ - ৬৩৯ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

দু‘আ-১৩০

اَللّٰهُمَّ اِنِّيۤ أَسْأَلُكَ مِنْ فُجَآءَةِ الْخَيْرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فُجَآءَةِ الشَّرِّ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফুজা’আতিল-খাইরি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ফুজা’আতিশ-শাররি।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আকস্মিক কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আকস্মিক অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাইছি।

২.

দু‘আ-১৩২

اَللّٰهُمَّ خِرْ لِيْ وَاخْتَرْ لِيْ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা খির লী, ওয়াখতার লী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার জন্য আপনিই উত্তমটি বেছে দিন।

৩.

দু‘আ-১৮২

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا دَآئِمًا مَّعَ دَوَامِكَ، وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا خَالِدًا مَّعَ خُلُوْدِكَ، وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا لَّا مُنْتَهٰى لَهٗ دُوْنَ مَشِيْئَتِكَ، وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا لَّا يُرِيْدُ قَآئِلُهٗ إِلَّا رِضَاكَ، وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا عِنْدَ كُلِّ طَرْفَةِ عَيْنٍ وَتَنَفُّسِ كُلِّ نَفَسٍ. اَللّٰهُمَّ اَقْبِلْ بِقَلْبِيْ اِلٰى دِيْنِكَ، وَاحْفَظْ مِنْ وَّرَآئِنَا بِرَحْمَتِكَ. اَللّٰهُمَّ ثَبِّتْنِيْ أَنْ أَزِلَّ وَاهْدِنِيْ أَنْ أَضِلَّ.
উচ্চারণঃ

আল্লহুম্মা লাকাল হামদু হামদান দা-ইমাম মা'আ দাওয়ামিকা, ওয়া লাকাল হামদু হামদান খলিদাম মা'আ খুলূদিকা, ওয়া লাকাল হামদু হামদান লা- মুন্তাহা- লাহু দূনা মাশীআতিকা, ওয়া লাকাল হামদু হামদান লা- ইয়ুরীদু ক্ব-ইলুহু ইল্লা- রিদ্ব-কা, ওয়া লাকাল হামদু হামদান 'ইন্দা কুল্লি ত্বর্ফাতি 'আইনিওঁ ওয়া তানাফ্ফুসি কুল্লি নাফাস। আল্লাহুম্মা আক্ববিল বিক্বলবী ইলা- দীনিকা, ওয়াহ্ফয মিওঁ ওয়ারা-ইনা- বিরহমাতিকা। আল্লাহুম্মা ছাব্বিত্নী আন আযিল্লা ওয়াহ্দিনী আন আদ্বিল্লা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য, এমন প্রশংসা যা আপনার স্থায়িত্বের মতোই চিরস্থায়ী, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য, এমন প্রশংসা যা আপনার অমরত্বের মতোই চিরঅমর। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য, আপনার ইচ্ছা ব্যতিরেকে যে প্রশংসার বিস্তৃতির কোনো সীমানা নেই। আর সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য, এমন প্রশংসা যার দ্বারা প্রশংসাকারী আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু আশা করে না। চোখের প্রতিটি পলকে এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসের ওঠানামার সাথে সাথে আপনার জন্য অসংখ্য প্রশংসা। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের দিকে ধাবিত করে রাখুন, এবং আপনার রহমতের উসিলায় আমাদের সর্বদিক থেকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! আমি যাতে বিচ্যুত হয়ে না যাই সেজন্য আমাকে সুদৃঢ় রাখুন, আর আমি যাতে পথভ্রষ্ট না হই সেজন্য আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।

৪.

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (৭০ হাজার ফেরেশতার) দু‘আ

۞ اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْـعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ ۞ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ‏ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ‌ۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ
উচ্চারণঃ

আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম। তিনবার পড়ে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১ বার পাঠ করবে। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির, ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন। হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা, ইউছাব্বিহু লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘ আযীযুল হাকীম

অর্থঃ

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র ও মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়।

৫.

দ্বীনের ওপর অবিচলতা ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জামে দুআ

اللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْئَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَأَسْأَلُكَ عَزِيْمَةَ الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ لِسَانًا صَادِقًا وَّقَلْبًا سَلِيْمًا، وَخُلُقًا مُّسْتَقِيْمًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا تَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ.
উচ্চারণঃ

আল্লা–হুম্মা ইন্নি আসআলুকাস্ সাবা–তা ফিল আমরি, ওয়া আসআলুকা আযীমাতার্ রুশ্দি, ওয়া আসআলুকা শুকরা নি‘মাতিকা ওয়া হু্সনা ইবাদাতিকা, ওয়া আসআলুকা লিসানান ছাদিকান ওয়া ক্বালবান সালীমান, ওয়া খুলুকান মুস্তাকীমান, ওয়া আসআলুকা মিন খাইরি মা তা‘লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা মিম্মা তা‘লামু, ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব।

অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি দীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি উন্নত যোগ্যতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার নেয়ামতের শোকরগোজারি ও বন্দেগীর সৌন্দর্য এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা, সুস্থ হৃদয় আর সুদৃঢ় চরিত্র। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ, যা আপনি জানেন এবং ক্ষমা চাই ঐ সকল গুনাহ থেকে, যে সম্পর্কে আপনি অবগত। সকল অদৃশ্য বিষয় তো আপনার জানা। (সুতরাং ঐ সকল গুনাহ সম্পর্কেও আপনি অবগত, যা কোনো সৃষ্টির জানা নেই)।

৬.

নফসের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা ও সঠিক পথে অবিচল থাকার দুআ

اَللّٰهُمَّ قِنِيْ شَرَّ نَفْسِيْ ، وَاعْزِمْ لِيْ عَلٰى رُشْدِ أَمْرِيْ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা কিনী শাররা নাফসী, ওয়া‘যিম লী ‘আলা রুশদি আমরী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং আমার কাজের সঠিক পথের ওপর আমাকে দৃঢ় সংকল্প দান করুন।

৭.

সাহাবায়ে কেরামের মহব্বত অর্জনের দু‘আ

اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنِيْ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يَنْفَعُنِيْ حُبُّهٗ عِنْدَكَ. اَللّٰهُمَّ فَـكَمَا رَزَقْتَنِيْ مِمَّاۤ أُحِبُّ فَاجْعَلْهُ قُوَّةً لِّيْ فِيْمَا تُحِبُّ. اَللّٰهُمَّ وَمَا زَوَيْتَ عَنِّيْ مِمَّاۤ أُحِبُّ فَاجْعَلْهُ فَرَاغًا لِّيْ فِيْمَا تُحِبُّ.
উচ্চারণঃ

আল্ল-হুম্মার যুক্বনী হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাইঁ ইয়ানফাউনী হুব্বুহু ‘ইনদাক। আল্ল-হুম্মা ফাকামা রযাক্বতানী মিম্মা উহিব্বু ফাজ‘আলহু কুওয়্যাতাল লী ফীমা তুহিব্ব। আল্ল-হুম্মা ওয়া মা যাওয়াইতা ‘আন্নী মিম্মা উহিব্বু ফাজ‘আলহু ফারা-গাল লী ফীমা তুহিব্ব।

অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালবাসাও দান করুন। আপনি যখন আমাকে আমার প্রিয় বস্তু দান করেছেন, তখন একে আমার জন্য সহায়ক করুন আপনার প্রিয় কাজে। (অর্থাৎ আমার প্রিয় ও কাম্য যা কিছু আমি লাভ করেছি, তা আপনার পছন্দের বিষয়টি অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।) হে আল্লাহ! আমার যেসব কাম্য বস্তু আমার থেকে দূরে রেখেছেন, সেগুলো (থেকে দূরে থাকা) আমার জন্য ঐসব বিষয়ে মশগুল হওয়ার অবকাশ বানিয়ে দিন, যা আপনার কাছে প্রিয়। (অর্থাৎ স্বভাবগতভাবে যা কিছু আমার প্রিয়, তা থেকে যখন আপনি নিজ প্রজ্ঞায় আমাকে দূরে রাখবেন, তখন এই প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে সৃষ্টি করুন যে, আমি শুধু এসবের স্থলে আপনার প্রিয় বিষয়গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করি।)

৮.

ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলূ-ব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বী-নিকা

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ! ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ‘আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসী ওয়া আহলী, ওয়া মিনাল মা-ইল বারিদ।

অর্থঃ

হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।

৯.

দু‘আ-৪৭

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ خَطِيْٓئَتِيْ وَجَهْلِيْ وَإِسْرَافِيْ فِيْۤ أَمْرِيْ وَمَاۤ أَنْتَ أَعْلَمُ بِه مِنِّيْ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাগফির লী খাতীআতী, ওয়া জাহলী, ওয়া ইসরাফী ফী আমরী, ওয়া মা আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ, আমার মূর্খতা ও আমার কাজের সীমালংঘন এবং যে বিষয়ে আপনি আমার চাইতে অধিক জানেন তা ক্ষমা করে দিন।

১০.

ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ও বিনয়ী হওয়ার দু‘আ

اَللّٰهُمَ اجْعَلْنِيْ صَبُوْرًا وَّ اجْعَلْنِيْ شَكُوْرًا، وَاجْعَلْنِيْ فِيْ عَيْنِيْ صَغِيْرًا وَّفِيْۤ أَعْيُنِ النَّاسِ كَبِيْرًا.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনী সবূরাঁও ওয়াজ‘আলনী শাকূরাঁও, ওয়াজ‘আলনী ফী ‘আইনী সগীরাঁও ওয়া ফী আ‘য়ুনিন্না-সি কাবীরা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাকে অধিক ধৈর্যশীল ও অধিক কৃতজ্ঞ বানিয়ে দিন। আমাকে আমার নিজের চোখে ছোট এবং মানুষের চোখে বড় করে দিন।

১১.

দু‘আ-১২৯

اَللّٰهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ! كَاشِفَ الْغَمِّ، مُجِيْبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرِّيْنَ! رَحْمٰنَ الدُّنْيَا وَرَحِيْمَهَا! أَنْتَ تَرْحَمُنِىْ، فَارْحَمْنِيْ بِرَحْمَةٍ تُغْنِيْنِيْ بِهَا عَنْ رَّحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ফা'রিজাল-হাম্মি, কা'শিফাল-গাম্মি, মুজীবা দা‘ওয়াতিল-মুদতাররীনা! রাহমা'নাদ-দুনইয়া ওয়া রহীমাহা! আনতা তারহামুনী, ফারহামনী বিরাহমাতিন তুগনীনী বিহা ‘আন রাহমাতি মান সিওয়াক।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী, দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী এবং অসহায়দের দু‘আ কবুলকারী! হে দুনিয়ার পরম দয়াময় ও করুণাময়! আপনিই আমার প্রতি দয়া করেন। অতএব, আপনি আমার প্রতি এমন রহমত করুন, যার মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য কারও রহমতের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমি অমুখাপেক্ষী হতে পারি।

১২.

উপকারী জ্ঞান লাভ ও অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হওয়ার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ انْفَعْنِيْ بِمَا عَلَّمْتَنِيْ ، وَعَلِّمْنِيْ مَا يَنْفَعُنِيْ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মানফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী, ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন এবং আমাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিন, যা আমার উপকারে আসে।

১৩.

তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ، وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনী মিনাত তাওয়াবীনা, ওয়াজ‘আলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাকে অধিক তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

১৪.

এই দু‘আগুলো সমাপ্ত হওয়ার পর বলবে,

وَتَقَبَّلْ هٰذِهِ الدَّعَوَاتِ فِيْ حَقِّ مُحَمَّدْ أَشْرَفْ عَلِيّ، وَعَبْدِ الْوَاسِـعِ، وَمُحَمَّدْ مُصْطَفٰى، وَمُحَمَّدْ عَلِيْ، وَمُحَمَّدْ شَفِيْع، وَعَبْدِ الْمَاجِدِ، وَفِيْ حَقِّ اٰبَآئِهِمْ وَأُمَّهَاتِهِمْ وَجَمِيْعِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ. وَصَلَّى اللهُ تَعَالٰى عَلٰى سَيِّدِ الْكَـآئِنَاتِ وَأَكْرَمِ الْمَخْلُوْقَاتِ صَلٰوةً تَسْبِقُ الْغَايَاتِ.
উচ্চারণঃ

ওয়া তাক্বব্বাল হাযিহিদ দা'আওয়া-তি ফী হাক্বকি মুহাম্মাদ আশরফ 'আলী, ওয়া 'আবদিল ওয়া-সি', ওয়া মুহাম্মাদ মুছত্বফা-, ওয়া মুহাম্মাদ 'আলী, ওয়া মুহাম্মাদ শফী', ওয়া 'আবদিল মা-জিদ; ওয়া ফী হাক্বকি আ-বা-ইহিম ওয়া উম্মাহা-তিহিম ওয়া জামী'ইল মু'মিনীনা ওয়াল মু'মিনা-ত। ওয়া সল্লাল্লাহু তা'আলা- 'আলা- সাইয়্যিদিল কা-ইনা-তি ওয়া আকরামিল মাখলূক্বা-তি ছলা-তান তাসবিক্বুল গা-য়া-ত।

অর্থঃ

(হে আল্লাহ!) আপনি এই সমস্ত দোয়া কবুল করুন (হযরত মাওলানা) মুহাম্মদ আশরাফ আলী রহ. (সংকলক), মৌলভী আবদুল ওয়াসি মরহুম (নাযিমে তরজমা), মৌলভী হাকীম মুহাম্মদ মুস্তফা মরহুম (প্রথম উর্দু অনুবাদক), মুহাম্মদ আলী মরহুম (তরজমা-সহযোগী), মাওলানা মুহাম্মদ শফী দেওবন্দী ও আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী (দ্বিতীয় উর্দু অনুবাদক) (এবং যাঁরা এর বাংলা অনুবাদ করেছেন তাঁদের) সম্পর্কেও; এবং তাদের পিতা-মাতা ও সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সম্পর্কেও। এবং আল্লাহ তাআলা সারোয়ারে কায়েনাত, সৃষ্টিজগতের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত সত্তা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) ওপর এমন রহমত ও দরূদ বর্ষণ করুন, যার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।

১৫.

সূরা মুমিনূনের শেষ ৪ আয়াত

۞ اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰكُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّكُمۡ اِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ‏ ﴿۱۱۵﴾ فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَـقُّ‌ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡـكَرِيۡمِ‏ ﴿۱۱۶﴾ وَمَنۡ يَّدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَۙ لَا بُرۡهَانَ لَهٗ بِهٖۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنۡدَ رَبِّهٖؕ اِنَّهٗ لَا يُفۡلِحُ الۡـكٰفِرُوۡنَ‏ ﴿۱۱۷﴾ وَقُلْ رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَ‏ ﴿۱۱۸﴾
উচ্চারণঃ

(১১৫) আফাহাছিবতুম আন্নামা-খালাকনা-কুম আবাছাওঁ ওয়া আন্নাকুম ইলাইনা-লা-তুরজা‘ঊন। (১১৬) ফাতাআ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া, রাব্বুল ‘আরশিল কারীম। (১১৭) ওয়া মাইঁ ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা-বুরহা-না লাহূবিহী ফাইন্নামাহিছা-বুহূ‘ইনদা রাব্বিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল কা-ফিরূন। (১১৮) ওয়া কুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুররা-হিমীন।

অর্থঃ

(১১৫) তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? (১১৬) অতি মহিমাময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক। (১১৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না। (১১৮) (হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

১৬.

সূরা আর-রহমান এর ৩৩ থেকে ৪০ আয়াত পর্যন্ত

۞ يٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ فَانْفُذُوۡا‌ؕ لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ‌ۚ‏ ﴿۳۳﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۴﴾ يُرۡسَلُ عَلَيۡكُمَا شُوَاظٌ مِّنۡ نَّارٍ وَّنُحَاسٌ فَلَا تَنۡتَصِرٰنِ‌ۚ‏ ﴿۳۵﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۶﴾ فَاِذَا انْشَقَّتِ السَّمَآءُ فَكَانَتۡ وَرۡدَةً كَالدِّهَانِ‌ۚ‏ ﴿۳۷﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۸﴾ فَيَوۡمَٮِٕذٍ لَّا يُسۡـٴَـلُ عَنۡ ذَنۡۢبِهٖۤ اِنۡسٌ وَّلَا جَآنٌّ‌ۚ‏ ﴿۳۹﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۴۰﴾
উচ্চারণঃ

(৩৩) ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ইনিছতাতা‘তুম আন তানফুযূ মিন আকতা-রিছ ছামাওয়া-তি ওয়াল আরদিফানফুযূ লা-তানফুযূনা ইল্লা-বিছুলতা-ন। (৩৪) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৫) ইউরছালু‘আলাইকুমা-শুওয়া-জু ম মিন্না-রিওঁ ওয়া নুহা-ছুন ফালা-তানতাসিরা-ন। (৩৬) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৭) ফাইযান শাককাতিছ ছামাউ ফাকা-নাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহা-ন। (৩৮) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৯) ফাইয়াওমা ইযিল্লা-ইউছআলু‘আন যামবিহী ইনছুওঁ ওয়ালা-জান। (৪০) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

অর্থঃ

(৩৩) হে মানুষ ও জিন্ন সম্প্রদায়! তোমাদের যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করার সামর্থ্য থাকে, তবে তা অতিক্রম কর। তোমরা প্রচণ্ড শক্তি ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না। (৩৪) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে? (৩৫) তোমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে আগুনের শিখা এবং তাম্রবর্ণের ধোঁয়া। তখন তোমরা পারবে না আত্মরক্ষা করতে। (৩৬) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে? (৩৭) (সেই সময় অবশ্যম্ভাবী) যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং তা লাল চামড়ার মত লাল-গোলাপী হয়ে যাবে। (৩৮) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে? (৩৯) সেই দিন না কোন মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, না কোন জিন্নকে। (৪০) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?

১৭.

সূরা ফাতিহা

بِسۡمِ اللهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏ ﴿۱﴾ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏ ﴿۲﴾ مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏ ﴿۳﴾ اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏ ﴿۴﴾ اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ ﴿۶﴾ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏ ﴿۷﴾
উচ্চারণঃ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

অর্থঃ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (১) সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, (২) যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, (৩) কর্মফল দিবসের মালিক। (৪) আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, (৬) তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, (৭) তাদের পথ নয় যারা ক্রোধ-নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।

১৮.

সূরা বাকারার শেষ ৩ আয়াত

۞ لِلّٰهِ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِ‌ؕ وَاِنۡ تُبۡدُوۡا مَا فِىۡۤ اَنۡفُسِكُمۡ اَوۡ تُخۡفُوۡهُ يُحَاسِبۡكُمۡ بِهِ اللّٰهُ‌ؕ فَيَـغۡفِرُ لِمَنۡ يَّشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَنۡ يَّشَآءُ‌ ؕ وَاللّٰهُ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرٌ‏ ﴿۲۸۴﴾ اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ‌ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓٮِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ‌ وَقَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا‌ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيۡكَ الۡمَصِيۡرُ‏ ﴿۲۸۵﴾ لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا اكۡتَسَبَتۡ‌ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِيۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَاۤ اِصۡرًا كَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ‌‌ۚرَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ‌ ۚ وَاعۡفُ عَنَّا وَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا اَنۡتَ مَوۡلٰٮنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَى الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِيۡنَ‏ ﴿۲۸۶﴾
উচ্চারণঃ

(২৮৪) লিল্লা-হি মা ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদ, ওয়া ইন তুবদূ মা-ফী আনফুছিকুম আও তুখফূহু ইউহা-ছিবকুম বিহিল্লা-হু ফাইয়াগফিরু লি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ‘আযযিবু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর। (২৮৫) আ-মানাররাছূলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূনা, কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহী লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুছুলিহী ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর। (২৮৬) লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-ত্ব-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থঃ

(২৮৪) যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলে এবং যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, সব আল্লাহরই। তোমাদের অন্তরে যা আছে, তা তোমরা প্রকাশ কর বা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। (২৮৫) রাসূল (অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে নাযিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনগণও। তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসূলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা (খুশীমনে) পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারী, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। (২৮৬) আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজেই যা সে স্বেচ্ছায় করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজেই, যা সে স্বেচ্ছায় করে। (হে মুসলিমগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে এই দু‘আ কর যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করো না, যেমন তা অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা কর, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।

১৯.

সূরা আলে ইমরানের ২৬ ও ২৭ নং আয়াত

۞ قُلِ اللّٰہُمَّ مٰلِکَ الۡمُلۡکِ تُؤۡتِی الۡمُلۡکَ مَنۡ تَشَآءُ وَتَنۡزِعُ الۡمُلۡکَ مِمَّنۡ تَشَآءُ ۫ وَتُعِزُّ مَنۡ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنۡ تَشَآءُ ؕ بِیَدِکَ الۡخَیۡرُ ؕ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۲۶﴾ تُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَتُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ۫ وَتُخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَتُخۡرِجُ الۡمَیِّتَ مِنَ الۡحَیِّ ۫ وَتَرۡزُقُ مَنۡ تَشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ﴿۲۷﴾
উচ্চারণঃ

(২৬) কুল্লিলা-হুম্মা মা-লিকাল মুলকি তু’তিল মুলকা মান তাশাউ ওয়া তানঝি‘উল মুলকা মিম্মান তাশাউ ওয়াতু‘ইঝঝুমান তাশাউ ওয়া তুযিল্লুমান তাশাউ বিইয়াদিকাল খাইরু; ইন্নাকা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর। (২৭) তূলিজুল লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়াতূলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়াতুখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়াতুখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়াতারঝুকু মান তাশাউ বিগাইরি হিছা-ব।

অর্থঃ

(২৬) বল, হে আল্লাহ! সার্বভৌম শক্তির মালিক! তুমি যাকে চাও ক্ষমতা দান কর, আর যার থেকে চাও ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত কর। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। (২৭) তুমিই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করাও। তুমিই নিষ্প্রাণ বস্তু হতে প্রাণবান বস্তু বের কর এবং প্রাণবান থেকে নিষ্প্রাণ বস্তু বের কর, আর যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান কর।