দু'আ (মুনাজাতে মাকবুল - শনিবার)

মোট বিষয় - ৫৪ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

দু‘আ-১

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّ فِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ۝۲۰۱
উচ্চারণঃ

রাব্বানা আ-তিনা-ফিদ্দুনইয়া-হাসানাতাও ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা-‘আযা-বান্না-র।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন, এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

২.

দু‘আ-৪

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَ هَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ۝۸
উচ্চারণঃ

রাব্বানা লা-তুঝিগ কুলূবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা ওয়াহাবলানা মিল্লা দুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে যখন হিদায়াত দান করেছ তারপর আর আমাদের অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি করো না এবং একান্তভাবে নিজের পক্ষ হতে আমাদেরকে রহমত দান কর। নিশ্চয়ই তুমিই মহাদাতা।

৩.

দু‘আ-৬

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ۝۱۹۱
উচ্চারণঃ

রাব্বানা মা-খালাকতা হাযা-বা-তিলান ছুবহা-নাকা ফাকিনা-‘আযা-বান্না-র

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

৪.

দু‘আ-৯

رَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ۝۱۹۴
উচ্চারণঃ

রাব্বানা ওয়া আ-তিনা মা ওয়া-‘আত্তানা ‘আলা-রুসুলিকা ওয়ালা তুখঝিনা ইয়াওমাল কিয়ামাতি ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আ-দ।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।

৫.

দু‘আ-১২

اَنْتَ وَلِیُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَاَنْتَ خَیْرُ الْغٰفِرِیْنَ۝۱۵۵
উচ্চারণঃ

আনতা ওয়ালিইউনা ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আনতা খাইরুল গা-ফিরীন।

অর্থঃ

আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন ও আমাদের প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্ষমাশীল।

৬.

দু‘আ-১৩

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَۙ۝۸۵ وَ نَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ۝۸۶
উচ্চারণঃ

রাব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন। ওয়া নাজজিনা বিরাহমাতিকা মিনাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের পরীক্ষার পাত্র বানিও না। এবং নিজ রহমতে আমাদেরকে কাফের সম্প্রদায় হতে নাজাত দাও।

৭.

দু‘আ-১৫

رَبِّ اجْعَلْنِیْ مُقِیْمَ الصَّلٰوةِ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ ۖۗ رَبَّنَا وَ تَقَبَّلْ دُعَآءِ۝۴۰
উচ্চারণঃ

রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।

৮.

দাওয়াতের কাজে সহজতা ও বাকপটুতা লাভের দু‘আ

رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ - وَیَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ - وَاحۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ - یَفۡقَہُوۡا قَوۡلِیۡ
উচ্চারণঃ

রব্বিশরহ লী সদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী, ওয়াহলুল 'উক্বদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফক্বহূ ক্বওলী।

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ খুলে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।

৯.

দু‘আ-২৬

رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَۚۖ۝۱۰۹
উচ্চারণঃ

রাব্বানা আ-মান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

১০.

দু‘আ-৩৩

رَبَّنَا وَ اَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنِ ِ۟الَّتِیْ وَعَدْتَّهُمْ وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُۙ۝۸ وَ قِهِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ وَ مَنْ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوْمَىِٕذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهٗ ؕ وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ۠۝۹
উচ্চারণঃ

রাব্বানা ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া ‘আত্তাহুম ওয়া মান সালাহা মিন আবাইহিম ওয়া আঝওয়া-জিহিম ওয়া যুররিইয়া-তিহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম। ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রাহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।

১১.

দু‘আ-৪৭

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ خَطِيْٓئَتِيْ وَجَهْلِيْ وَإِسْرَافِيْ فِيْۤ أَمْرِيْ وَمَاۤ أَنْتَ أَعْلَمُ بِه مِنِّيْ .
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমার ভ্রান্তি ও মূর্খতা, আপন বিষয়ে আমার সীমালঙ্ঘন আর যা কিছু আপনি আমার নিজের চেয়েও অধিক অবগত, সব ক্ষমা করে দিন।

১২.

দু‘আ-৪৯

اَللّٰهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ! صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلٰى طَاعَتِكَ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! হে অন্তরের রোখ পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তর আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন।

১৩.

দু‘আ-৫২

اَللّٰهُمَّ أَصْلِحْ لِيْ دِينِىَ الَّذِيْ هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِىْ، وَأَصْلِحْ لِيْ دُنْيَاىَ الَّتِيْ فِيْهَا مَعَاشِىْ، وَأَصْلِحْ لِيْ اٰخِرَتِيَ الَّتِيْ فِيْهَا مَعَادِيْ، وَاجْعَلْ الْحَيٰوةَ زِيَادَةً لِّيْ فِيْ كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِّيْ مِنْ كُلِّ شَرٍّ.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমার দ্বীনদারী দুরস্ত করে দিন, যা আমার সকল বিষয়ের রক্ষাকবচ। আমার দুনিয়া দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার অবস্থান এবং আমার আখিরাত দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন। আর আমার জীবন যেন হয় সকল কল্যাণে অগ্রসরতা আর আমার মৃত্যু যেন হয় সকল অকল্যাণ থেকে মুক্তি।

১৪.

দু‘আ-৫৪

اَللّٰهُمَّ إِنِّىْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبُنِ وَالْهَرَمِ، وَالْمَغْرَمِ وَالْمَأْثَمِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ النَّارِ، وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنٰى وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، ومِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنَ الْقَسْوَةِ وَالْغَفْلَةِ، وَالْعَيْلَةِ وَالذِّلَّةِ، وَالْمَسْكَنَةِ وَالْفَقْرِ، وَالْكُفْرِ وَالْفُسُوْقِ وَالشِّقَاقِ، وَالسُّمْعَةِ وَالرِّيَآءِ، وَمِنَ الصَّمَمِ وَالْبَكَمِ، وَالْجُنُوْنِ وَالْجُذَامِ وَسَيِّءِ الْأَسْقَامِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَمِنَ الْـهَمِّ وَالْحُزْنِ، وَالْبُخْلِ وَغَلَـبَةِ الرِّجَالِ، وَمِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلٰۤى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَمِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ، وَمِنْ نَّفْسٍ لَّا تَشْبَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَّا يَخْشَعُ، وَمِنْ دَعْوَةٍ لَّا يُسْتَجَابُ لَهَا.
অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি অক্ষমতা ও আলস্য থেকে, ভীরুতা ও অতিবার্ধক্য থেকে এবং ঋণ ও পাপ থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দোযখের আযাব ও দোযখের ফিতনা থেকে (আশ্রয় নিচ্ছি) কবরের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) সম্পদের কুফল ও সম্পদহীনতার অনিষ্ট থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে ও জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অন্তরের কাঠিন্য ও উদাসীনতা থেকে; নিঃস্বতা, অপদস্থতা ও মুখাপেক্ষিতা থেকে; কুফরী, ফাসেকী ও জেদাজেদি থেকে আর লোকদেখানো ও লোকশোনানোর প্রবণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) বধিরতা ও মূকতা থেকে, মস্তিষ্ক বিকলন, কুষ্ঠ, খারাপ রোগ-ব্যাধি ও ঋণের বোঝা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে, কৃপণতা ও লোকের কর্তৃত্বপরায়ণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অতি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ও দুনিয়ার ফিতনা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) ঐ জ্ঞান থেকে, যার উপকার নেই, ঐ মন থেকে, যাতে তুষ্টি নেই, ঐ অন্তর থেকে, যাতে বিনয়-নম্রতা নেই; আর ঐ দু‘আ থেকে, যা কবুল হয় না।