মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ২০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'শরীতায়ে শয়তান' খেতে নিষেধ করেছেন। হাদীসের রাবী ইবনে ঈসা ('শরীতায়ে শয়তান'-এর ব্যাখ্যায়) এ কথা বৃদ্ধি করেছেন যে, এটা এমন যবেহকৃত পশু, যার কেবল চামড়া কেটে দেওয়া হয় এবং গলার রগ কাটা হয় না। তারপর এভাবেই ছেড়ে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মরে যায়। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: « أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ شَرِيطَةِ الشَّيْطَانِ» زَادَ ابْنُ عِيسَى فِي حَدِيثِهِ: «وَهِيَ الذَّبِيْحَةُ مِنْهُ الْجِلْدُ وَلَا تُفْرَى الْأَوْدَاجُ، ثُمَّ تُتْرَكُ حَتَّى تَمُوتَ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০২. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে শিবল রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওই সাপের গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ: «أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ أَكْلِ لَحْمِ الضَّبِّ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ রাযি. বলেছেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সাথে হযরত মায়মুনা রাযি.-এর বাড়ীতে গেলাম। (রাবী বলেন যে, হযরত মায়মুনা রাযি. হযরত খালেদ ও ইবনে আব্বাস রাযি.-এর আপন খালা ছিলেন।) খালেদ বলেন, আমি দেখলাম যে, তাঁর (অর্থাৎ, মায়মুনার) সামনে একটি ভূনা গুইসাপ। তিনি এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত গুটিয়ে নিলেন। (যার দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি এটা খেতে চান না।) এমন সময় খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। গুঁইসাপ খাওয়া কি হারাম? তিনি উত্তর দিলেন, না, (অর্থাৎ, হারাম তো নয়; কিন্তু এটা আমাদের অঞ্চলে (অর্থাৎ, মক্কার মাটিতে) হয় না তো, এ জন্য আমার রুচি এটা গ্রহণ করতে চায় না। খালেদ বলেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উত্তর শুনে) আমি এটা নিজের দিকে টেনে নিলাম এবং খেতে লাগলাম। আর এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। (অর্থাৎ, আমাকে খেতে দেখলেন, কিন্তু নিষেধ করলেন না।) বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ، أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَيْمُونَةَ، وَهِيَ خَالَتُهُ وَخَالَةُ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَوَجَدَ عِنْدَهَا ضَبًّا مَحْنُوذًا، فَقَدَّمَتِ الضَّبَّ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَنِ الضَّبِّ، فَقَالَ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ: أَحَرَامٌ الضَّبُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لاَ، وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ» قَالَ خَالِدٌ: فَاجْتَرَرْتُهُ فَأَكَلْتُهُ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ إِلَيَّ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৪. হযরত মায়মুনা রাযি. থেকে বর্ণিত, একবার একটি ইঁদুর ঘি-এর মধ্যে পড়ে গিয়ে মরে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, মরা ইঁদুর ও এর পার্শ্ববর্তী ঘিটুকু ফেলে দাও, আর অবশিষ্ট ঘি খেয়ে নাও। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَيْمُونَةَ: أَنَّ فَأْرَةً وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَمَاتَتْ، فَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا فَقَالَ: «أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا وَكُلُوهُ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন কোন ইঁদুর ঘি-এর মধ্যে পড়ে যায় (এবং মরে যায়,) তখন ঘি যদি জমাট বাধা হয়, তাহলে এটা এবং চতুষ্পার্শ্বের ঘিটুকু ফেলে দাও। আর যদি তরল হয়, তাহলে এর কাছেও যেয়ো না। (অর্থাৎ, এটা খেয়ো না।) -আহমাদ, আবূ দাউদ
[এ হাদীসটিই ইমাম দারেমী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন।]
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَقَعَتِ الْفَأْرَةُ فِي السَّمْنِ فَإِنْ كَانَ جَامِدًا فَأَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا، وَإِنْ كَانَ مَائِعًا فَلاَ تَقْرَبُوهُ. (رواه احمد وابوداؤد والدارمى عن ابن عباس)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৬. হযরত আবু কাতাদাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, (এক সফরে) তিনি একটি বন্য গাধা দেখলেন। তারা এটাকে ঘায়েল করে শিকার করে নিলেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হলেন, তখন প্রশ্ন করলেন যে, এটা কি হালাল না হারাম? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এর কোন অবশিষ্ট গোশত কি তোমাদের কাছে আছে? আবু কাতাদাহ বললেন, হ্যাঁ, আমাদের কাছে এর একটি পা আছে। তিনি তখন এটা গ্রহণ করলেন এবং খেয়ে নিলেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ إِنَّهُ رَاَى حِمَارًا وَحْشِيًّا، فَعَقَرُوْهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ مَعَكُمْ مِنْ لَحْمِهِ شَيْءٌ؟ قَالَ: مَعَنَا رِجْلُهُ، فَأَخَذَهَا فَأَكَلَهَا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা 'মাররুয-যাহরান'-এর এক জঙ্গলে একটি খরগোশকে তাড়া করলাম এবং অবশেষে ধরে ফেললাম। আমি এটা আবূ তালহা রাযি.-এর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি এটা যবেহ করলেন এবং এর দু'রান ও দু'পা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে (হাদিয়া স্বরূপ) পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: «اَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ فَذَبَحَهَا، وَبَعَثَ اِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَرِكِهَا وَفَخِذَيْهَا فَقَبِلَهُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৮. হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মুরগীর গোশত খেতে দেখেছি। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ لَحْمَ الدَّجَاجٍ. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৯. হযরত সফীনা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে 'হুবারা' পাখীর গোশত খেয়েছি। আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَفِينَةَ قَالَ أَكَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَحْمَ الْحُبَارَى. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাদের জন্য দু'টি মৃত প্রাণী ও দু'ধরনের রক্ত হালাল করে দেওয়া হয়েছে। দু'টি মৃত প্রাণী হচ্ছে মাছ ও টিড্ডি, আর দু'প্রকার রক্ত হচ্ছে কলিজা ও তিল্লি। (যা প্রকৃতপক্ষে জমাট বাঁধা রক্ত) -আহমাদ, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِيْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ فَأَمَّا الْمَيْتَتَانِ الْحُوتُ وَالْجَرَادُ وَأَمَّا الدَّمَانِ الْكَبِدُ وَالطِّحَالُ. (رواه احمد وابن ماجه والدار قطنى)
হাদীস নং: ২১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। আমরা এসব যুদ্ধে তাঁর সাথে থেকে টিড্ডিও খেতাম। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ ابْنَ أَبِي أَوْفَى قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَاتٍ، كُنَّا نَأْكُلُ مَعَهُ الْجَرَادَ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১২. হযরত জুরাইজ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি 'জায়শুল খাবত'-এর যুদ্ধে শরীক ছিলাম এবং আবু উবায়দা এ যুদ্ধে আমীর নিযুক্ত হয়েছিলেন। (খাদ্য সামগ্রী না থাকার কারণে আমরা এ সফরে) প্রচণ্ড ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। এ সময় সমুদ্র একটি মরা মাছ নিক্ষেপ করল। (অর্থাৎ, মাছটি পানির জোয়ারে ডাঙ্গায় উঠে এল।) এমন বিরাট মাছ আমরা কখনো দেখিনি। এটাকে আম্বর বলা হত। আমরা সবাই এটা অর্ধ মাস পর্যন্ত খেলাম। তারপর আবূ উবায়দা রাযি.-এর হাঁড়গুলো থেকে একটি হাঁড় (সম্ভবত পাঁজরের হাঁড়) উঠিয়ে ধরলেন। তখন উটের আরোহী এর ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে গেল। পরে যখন আমরা মদীনায় আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ ঘটনা বললাম (এবং জিজ্ঞাসা করলাম যে, এটা খাওয়া আমাদের জন্য ঠিক হয়েছে কি না?) তিনি বললেন, খাও, এটা আল্লাহ্ তোমাদেরকে রিযিক হিসাবে দান করেছেন। আর তোমাদের সাথে যদি এর কোন অংশ থেকে থাকে, তাহলে আমাদেরকেও খেতে দাও। জাবের বলেন, আমরা এখান থেকে কিছু অংশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে পেশ করলাম এবং তিনি তা খেয়ে নিলেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: غَزَوْتُ جَيْشَ الْخَبَطِ وَأُمِّرَ أَبُو عُبَيْدَةَ، فَجُعْنَا جُوعًا شَدِيدًا فَأَلْقَى الْبَحْرُ حُوتًا مَيِّتًا، لَمْ نَرَ مِثْلَهُ، يُقَالُ لَهُ الْعَنْبَرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهَا نِصْفَ شَهْرٍ، فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ عَظْمًا مِنْ عِظَامِهِ فَمَرَّ الرَّاكِبُ تَحْتَهُ. فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: كُلُوا رِزْقًا أَخْرَجَهُ اللَّهُ، أَطْعِمُونَا إِنْ كَانَ مَعَكُمْ. قَالَ: فَأَرْسَلْنَا اِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَكَلَهُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, কিছু লোক এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের এখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যে, তাদের শিরকের যামানা খুব নিকটেই। (অর্থাৎ, এরা অল্প দিন পূর্বের নওমুসলিম, এখনও তাদের ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা অর্জিত হয়ে উঠেনি।) তারা আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে; কিন্তু আমরা জানি না যে, যবেহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় কি না। (এমতাবস্থায় আমরা এ গোশত খাব কি না?) তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে খেয়ে নাও। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هُنَا أَقْوَامًا حَدِيثًا عَهْدُهُمْ بِشِرْكٍ، يَأْتُونَا بِلُحْمَانٍ لاَ نَدْرِي يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا أَمْ لاَ. قَالَ: اذْكُرُوا أَنْتُمُ اسْمَ اللَّهِ وَكُلُوا. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২১৪. কাবীসা ইবনে হুলব তার পিতা হুলব তায়ী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে খ্রীষ্টানদের খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম (যে, এটা জায়েয না নাজায়েয) তিনি বললেন, এটা খাওয়ার ব্যাপারে তোমার অন্তরে কোন খটকা ও সংশয় না থাকা চাই। এমন করলে (অহেতুক কঠোরতা ও সংকীর্ণতায়) তুমি খ্রীষ্টানদের রীতি-সাদৃশ্য গ্রহণ করে ফেলবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ قَبِيصَةَ بْنَ هُلْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ طَعَامِ النَّصَارَى فَقَالَ: لاَ يَتَخَلَّجَنَّ فِي صَدْرِكَ طَعَامٌ ضَارَعْتَ فِيهِ النَّصْرَانِيَّةَ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানীয় দ্রব্যাদির আহকাম ও বিধান
আগেই যেমন বলে আসা হয়েছে যে, পানাহারের বস্তুসমূহের হালাল ও হারাম হওয়ার ব্যাপারে, শরী‘আত মূলনীতি ওটাই, যা কুরআন পাকে এ শব্দমালায় বর্ণনা করা হয়েছে: لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِث (অর্থাৎ, তিনি তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষণা করেন, আর হারাম বস্তুসমূহ নিষিদ্ধ করেন।) এ ভিত্তিতে পানীয় দ্রব্যসমূহের মধ্যেও যেগুলো পবিত্র উপাদেয়, সুস্বাদু ও উপকারী যেমন, হালাল চতুষ্পদ জন্তুর দুধ, ফলের রস, শরবত, উপাদেয় নির্যাস ইত্যাদি এসব কিছুকে হালাল সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর বিপরীত যেসব পানীয় দ্রব্য অপবিত্র ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর, এগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারপর যেভাবে কোন কোন এমন খাদ্য সামগ্রীর হারাম হওয়ার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে কুরআন পাকেও করা হয়েছে- যেগুলো পূর্ববর্তী শরী‘আতসমূহেও হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু এতদসত্ত্বেও কোন কোন শ্রেণী এগুলো খেত। যেমন, মৃত প্রাণী, শুকর ইত্যাদি। তেমনিভাবে পানীয় দ্রব্যসমূহের মধ্যে মদের হারাম হওয়ার ঘোষণাও বিশেষ গুরুত্ব সহকারে কুরআন পাকেও করা হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এর ব্যাপারে অসাধারণ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন ভূমিকা তিনি পালন করেছেন। যেমন, সামনে আলোচ্য হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।

মদ হারাম হওয়ার নির্দেশ
মদকে হারাম সাব্যস্ত করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এর ব্যবহার দ্বারা মানুষ অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও ঐ জ্ঞান ও চিন্তা শক্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়, যা তার প্রতিপালকের বিশেষ দান ও আল্লাহর পরিচয় লাভের মাধ্যম। আর এভাবে সে ঐসব পশুর কাতারে এসে যায়, যাদেরকে তাদের প্রতিপালক জ্ঞান ও বিবেচনার নেয়ামত ও আপন মারেফাতের যোগ্যতা দান করেননি। আর এটা মানুষের জন্য নিজের উপর সবচেয়ে বড় যুলুম ও আল্লাহর প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা। তাছাড়া নেশার অবস্থায় মানুষের পক্ষ থেকে অনেক সময় চরম অবিবেচনা প্রসূত ও লজ্জাজনক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে যায় এবং সে শয়তানের খেলনায় পরিণত হয়ে যায়। এছাড়াও মদ্যপানের ফলে অনেক সময় খুবই সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসকর বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এ জন্যই সকল আসমানী শরী‘আতে এটাকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং সর্বযুগের আল্লাহ্ ভীরু, সংস্কারক ও আধ্যাত্মিকতা প্রিয় মানুষ এটা বর্জন করে এসেছেন এবং এর বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

সামনে মদ সম্পর্কে যেসব হাদীস লিপিবদ্ধ করা হবে, পাঠকদের মস্তিষ্কে এগুলোর এ পটভূমি উপস্থিত থাকা চাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রেরণ কালে এবং সম্ভবত এর বহু পূর্ব থেকে আরবদের মধ্যে বিশেষ করে মদীনাবাসীর মধ্যে মদের খুবই প্রচলন ছিল। ঘরে ঘরে মদ তৈরী ও পান করা হত। এর দ্বারা ঐ ফুর্তি ও আনন্দও লাভ করা হত, যে উদ্দেশ্যে সাধারণত পান কারীরা এটা পান করে থাকে। এছাড়া ঐ পরিবেশে মদ্যপানকে একটি চারিত্রিক মহত্ত্ব ও মর্যাদার বিষয় মনে করা হত। সেখানের সাধারণ রীতি ছিল যে, বিত্তবান লোকেরা মদ পান করে নেশা অবস্থায় খুব দান-দক্ষিণা করত ও সম্পদ বিলাত- যার দ্বারা গরীবদের উপকার হত। এ জন্যই মদ পান না করা অথবা অল্প পান করাকে কৃপণতার লক্ষণ মনে করা হত।

ঠিক একই অবস্থা ছিল জুয়ারও। সেখানে জুয়ার কিছু বিশেষ নিয়ম-পদ্ধতি প্রচলিত ছিল এবং সাহসী ও বড় মনের লোকেরাই ঐ জুয়া খেলত, আর এতে তারা যা লাভ করত এটা দরিদ্র ও অভাবী মানুষকে বিলিয়ে দিত, এজন্য জুয়াও বড় লোকদের একটি সম্মানজনক খেলা ছিল-যার দ্বারা গরীবদের উপকার ও লাভ হত। জাহেলী যুগের গল্প ও কবিতায় এর পূর্ণ সন্ধান পাওয়া যায়।

মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারের সম্ভবত এটাই বিশেষ দিক ছিল- যার প্রতি সূরা বাকারার এ আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা জুয়া ও মদ সম্পর্কে সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছিল। যাহোক, মদের যেহেতু সেখানে ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং এটা যেন তাদের মজ্জাগত বিষয়ে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। তারা জঘন্যভাবে এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের দৃষ্টিতে এটা একটা মর্যাদার বিষয়ও ছিল। তাই এর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে প্রথম প্রথম তো নম্র রীতি ও ক্রমধারার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কিন্তু জাতির মধ্যে যখন এ যোগ্যতা সৃষ্টি হয়ে গেল যে, চূড়ান্ত পর্যায়ে হারাম ঘোষণা করা হলে তারা সাথে সাথে ছেড়ে দিতে পারবে, তখন এমন কঠোর ভূমিকা অবলম্বন করা হল যে, যেসব পাত্রে মদ পান করার প্রচলন ছিল, এসব পাত্রগুলো ব্যবহার করতেও নিষেধ করে দেওয়া হল। এ ধরনের আরো কিছু চরম কঠোর বিধান জারী করা হল, যেগুলোর আসল উদ্দেশ্য কেবল এই ছিল যে, ঈমানদারদের অন্তরে এই চরিত্রবিনাশী জিনিসটির প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি হয়ে যাক। এ ভূমিকার পর এবার মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত সামনের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।
২১৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা (পর্যায়ক্রমে) তিনবারে করা হয়েছে, (যার বিস্তারিত বিবরণ এইঃ) নবী করীম (ﷺ) হিজরত করে মদীনায় আসলেন। ঐ সময় মদীনার লোকেরা মদ পান করত এবং জুয়ার দ্বারা অর্জিত অর্থ সম্পদ ভোগ করত। একবার তারা এ দু'টি জিনিসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল যে, এগুলো জায়েয না নাজায়েয। (জিজ্ঞাসা করার কারণ সম্ভবত এই ছিল যে, তাদের মধ্যে যারা সুস্থ স্বভাবের লোক ছিল তারা অনুভব করে থাকবে যে, ইসলামের সাধারণ শিক্ষা ও পবিত্র রুচির সাথে এ দু'টি জিনিসের কোন মিল নেই।) তাদের এই জিজ্ঞাসার জবাবে সূরা বাকারার এ আয়াতটি নাযিল হলঃ

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡخَمۡرِ وَالۡمَیۡسِرِ ؕ قُلۡ فِیۡہِمَاۤ اِثۡمٌ کَبِیۡرٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ۫ وَاِثۡمُہُمَاۤ اَکۡبَرُ مِنۡ نَّفۡعِہِمَا

হে নবী! লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, এগুলোর মধ্যে বিরাট গুনাহ রয়েছে, আর মানুষের জন্য উপকারও রয়েছে। এ দু'টির গুনাহ এগুলোর উপকারের তুলনায় অনেক বেশী। তখন কিছু লোক বলল, (এ আয়াতে) মদ ও জুয়াকে অকাট্যভাবে হারাম সাব্যস্ত করা হয়নি। তাই তারা এরপরও (অবকাশ মনে করে) এটা পান করতে থাকল। শেষে একদিন এ ঘটনা ঘটল যে, একজন মুহাজির তার সাথীদেরকে নিয়ে নামায পড়ছিল। (আর সে ইমাম ছিল ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামায পড়াচ্ছিল) সে নামাযের কেরাআতে গোলমাল করে ফেলল (এবং এক শব্দের স্থলে আরেক শব্দ পড়ে ফেলল।) তখন মদের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আরেকটি আয়াত নাযিল হল- যা পূর্বের আয়াতের তুলনায় কঠোরতর ছিল। (আয়াতটি এইঃ)

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡرَبُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡتُمۡ سُکٰرٰی حَتّٰی تَعۡلَمُوۡا مَا تَقُوۡلُوۡن

হে মু'মিনগণ! তোমরা এমন অবস্থায় নামাযের কাছেও যেয়ো না, যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাক এবং তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার না। কিন্তু কিছু লোক এরপরও (অবকাশ মনে করে) মদ পান করতে থাকে। (তবে তারা নামাযের নিকটবর্তী সময়ে এটা পান করত না। যেমন, কোন কোন রেওয়ায়ত দ্বারা জানা যায়।) তখন সূরা মায়েদার এ আয়াতগুলো নাযিল হল- যা পূর্ববর্তী আয়াতদ্বয়ের তুলনায় কঠোর ও স্পষ্ট ছিল। (আয়াতটি এইঃ)

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّمَا الۡخَمۡرُ وَالۡمَیۡسِرُ وَالۡاَنۡصَابُ وَالۡاَزۡلَامُ رِجۡسٌ مِّنۡ عَمَلِ الشَّیۡطٰنِ فَاجۡتَنِبُوۡہُ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ- اِنَّمَا یُرِیۡدُ الشَّیۡطٰنُ اَنۡ یُّوۡقِعَ بَیۡنَکُمُ الۡعَدَاوَۃَ وَالۡبَغۡضَآءَ فِی الۡخَمۡرِ وَالۡمَیۡسِرِ وَیَصُدَّکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ وَعَنِ الصَّلٰوۃِ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّنۡتَہُوۡنَ

হে মু'মিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারক তীর এগুলো ঘৃণ্যবস্তু ও শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে বিরত রাখতে চায়। এরপর কি তোমরা নিবৃত্ত হবে। -সূরা মা-ইদাহ: আয়াত-৯০-৯১

যখন এ আয়াতগুলো নাযিল হল, তখন তারা বলল, انتهينا ربنا হে আল্লাহ্! আমরা নিবৃত হয়ে গেলাম এবং একেবারে ছেড়ে দিলাম। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের ঐসব লোকদের কি হবে, যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে অথবা বিছানায় পড়ে মারা গিয়েছে, অথচ তারা মদ পান করত এবং জুয়ার দ্বারা অর্জিত মাল খেত। আর এখন আল্লাহ্ তা'আলা এ দু'টিকে অপবিত্র ও শয়তানের কর্ম বলে আখ্যায়িত করেছেন। (তাই আমাদের যেসব ভাই এ দু'টিতে লিপ্ত ছিল এবং এ অবস্থাতেই মারা গিয়েছে অথবা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে, আখেরাতে তাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে?) তখন এ প্রশ্নের উত্তরে এ আয়াতটি নাযিল হয়:

لَیۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جُنَاحٌ فِیۡمَا طَعِمُوۡۤا اِذَا مَا اتَّقَوۡا وَّاٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন পাপ নেই; যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। -আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: حُرِّمَتِ الْخَمْرُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ، وَيَأْكُلُونَ الْمَيْسِرَ، فَسَأَلُوهُ عَنْهُمَا، فَنَزَلَ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ الْآيَةِ، فَقَالَ النَّاسُ: مَا حَرَّمَ عَلَيْنَا، وَكَانُوا يَشْرَبُونَ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمٌ صَلَّى رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، بِأَصْحَابِهِ وَخَلَطَ فِي قِرَاءَتِهِ، فَنَزَلَتْ آيَةٌ أَغْلَظَ مِنْهَا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى الاية، وَكَانَوْا يَشْرَبُونَ حَتَّى نَزَلَتْ أَغْلَظُ مِنْهَا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ الاية، قَالُوا: انْتَهَيْنَا رَبَّنَا، فَقَالُوْا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَاسٌ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ كَانُوا يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ، وَيَأْكُلُونَ الْمَيْسِرَ، وَقَدْ جَعَلَهُ اللَّهُ رِجْسًا، مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ، فَنَزَلَ: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا} الْآيَةِ. (رواه احمد)
হাদীস নং: ২১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানীয় দ্রব্যাদির আহকাম ও বিধান: মদ হারাম হওয়ার নির্দেশ
২১৬. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ তালহা আনসারী রাযি.-এর বাড়ীতে মদ পরিবেশন করছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযিল হয়ে গেল। (অর্থাৎ, সূরা মায়েদার ঐ আয়াতটি নাযিল হয়ে গেল, যার মধ্যে মদকে رِجۡسٌ مِّنۡ عَمَلِ الشَّیۡطٰن বলে চূড়ান্তভাবে হারাম করে দেওয়া হয়েছে।) তিনি সাথে সাথে এক ঘোষককে এ ঘোষণা দিতে বললেন। নির্দেশ অনুযায়ী ঘোষক তাই করল। এ দিকে আবু তালহা আমাকে বললেন, তুমি বাইরে গিয়ে দেখ, এটা কিসের আওয়াজ ও কি ঘোষণা করা হচ্ছে। আমি বাইরে গেলাম এবং ফিরে এসে বললাম যে, একজন ঘোষক ঘোষণা দিচ্ছে যে, মদ হারাম করে দেওয়া হয়েছে। আবূ তালহা তখন আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, তুমি যাও এবং এসব মদ বাইরে গিয়ে ফেলে দাও। (নির্দেশমত আমি তাই করলাম এবং মদীনার অন্যান্য বাড়ী ঘর থেকেও মদ ভাসিয়ে দেওয়া হল। ফলে) মদীনার গলিতে মদ প্রবাহিত হতে লাগল। আনাস রাযি. বলেন, সে সময়কার মদকে 'ফযীখ' বলা হত।
তখন কিছু লোক বলল যে, আল্লাহর অনেক বান্দা এ অবস্থায় শহীদ হয়েছে যে, মদ তাদের পেটে ছিল। (তাই তাদের কি পরিণাম হবে?) এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করলেন:
لَیۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جُنَاحٌ فِیۡمَا طَعِمُوۡۤا
(যার অর্থ এই যে, যেসব লোক মদকে চূড়ান্ত পর্যায়ে হারাম ঘোষণার পূর্বে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গিয়েছে, আর তাদের জীবন ঈমান, নেক আমল ও তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, পূর্বেকার সময়ের পানাহারের ব্যাপারে তাদের কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كُنْتُ سَاقِيَ الْقَوْمِ فِي مَنْزِلِ أَبِي طَلْحَةَ فَنَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ، فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى. فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ اخْرُجْ فَانْظُرْ مَا هَذَا الصَّوْتُ قَالَ فَخَرَجْتُ فَقُلْتُ هَذَا مُنَادٍ يُنَادِي أَلاَ إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ. فَقَالَ لِي اذْهَبْ فَأَهْرِقْهَا. قَالَ فَجَرَتْ فِي سِكَكِ الْمَدِينَةِ. قَالَ وَكَانَتْ خَمْرُهُمْ يَوْمَئِذٍ الْفَضِيخَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ قُتِلَ قَوْمٌ وَهْيَ فِي بُطُونِهِمْ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানীয় দ্রব্যাদির আহকাম ও বিধান: মদ হারাম হওয়ার নির্দেশ
২১৭. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের এখানে এক ইয়াতীম বালকের কিছু মদ ছিল। যখন সূরা মায়েদার (মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত) আয়াতটি নাযিল হল, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম এবং এ কথাও বললাম যে, এ মদ এক ইয়াতীম বালকের। তিনি বললেন, এটা ফেলে দাও। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: كَانَ عِنْدَنَا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ الْمَائِدَةُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ وَقُلْتُ إِنَّهُ لِيَتِيمٍ فَقَالَ: أَهْرِيقُوهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ পানের নিষিদ্ধতা ও মদ্যপায়ীর ব্যাপারে সতর্কবাণী
২১৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি নেশা আনয়নকারী জিনিস (অর্থাৎ, যে বস্তু গ্রহণ করলে নেশা এসে যায়) মদের পর্যায়ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করে এবং তওবা না করে এ অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতের পবিত্র পানীয় থেকে বঞ্চিত থাকবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا فَمَاتَ وَهُوَ يُدْمِنُهَا لَمْ يَتُبْ لَمْ يَشْرَبْهَا فِي الآخِرَةِ. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ পানের নিষিদ্ধতা ও মদ্যপায়ীর ব্যাপারে সতর্কবাণী
২১৯. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে আসল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বিশেষ ধরনের এক মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, যা ঐ অঞ্চলে চিনা থেকে তৈরী করা হত এবং যাকে 'মিযর' বলা হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি নেশা আনয়ন করে? লোকটি উত্তর দিল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, (নীতিগত কথা হচ্ছে এই যে.) প্রতিটি নেশা আনয়নকারী জিনিসই হারাম। (তিনি আরো বললেন,) নেশা পানকারী ব্যক্তির জন্য আল্লাহর এ প্রতিজ্ঞা রয়েছে এবং এ প্রতিজ্ঞা পূরণকে তিনি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছেন যে, তাকে অবশ্যই 'তীনাতুল খাবাল' পান করাবেন। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তীনাতুল খাবাল কি? তিনি উত্তর দিলেন, জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত ঘাম, অথবা বলেছেন জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত রক্ত-পূজ। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلاً قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوَمُسْكِرٌ هُوَ؟ قَالَ نَعَمْ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ قَالَ: عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ পানের নিষিদ্ধতা ও মদ্যপায়ীর ব্যাপারে সতর্কবাণী
২২০. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও বিশ্বজগতের পথপ্রদর্শক হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমার মহান প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বপ্রকার বাদ্যযন্ত্র বিলীন করতে, দেব-দেবীর পূজা ও ক্রুশ পূজা বিলুপ্ত করতে এবং সর্ব প্রকার জাহেলীয়্যাতপ্রথা বন্ধ করতে। আমার মহান প্রভু তাঁর মর্যাদার কসম খেয়ে বলেছেন যে, আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যে বান্দা এক চুমুক মদও পান করবে, আমি তাকে আখেরাতে এ পরিমাণ রক্ত ও পূজ অবশ্যই পান করাব, যে বান্দা আমার ভয়ে মদ ছেড়ে দিবে, অবশ্যই আমি আখেরাতে তাকে পবিত্র হাউযের পবিত্র পানীয় পান করাব। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي رَبِّي بِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ وَالْأَوْثَانِ وَالصُّلُبِ، وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَحَلَفَ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِعِزَّتِهِ: لَا يَشْرَبُ عَبْدٌ مِنْ عَبِيدِي جَرْعَةً مِنْ خَمْرٍ، إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنَ الصَّدِيدِ مِثْلَهَا، وَلَا يَتْرُكُهَا مِنْ مَخَافَتِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حِيَاضِ الْقُدُسِ" (رواه احمد)