মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত দ্বীন ও শরী‘আত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এতে মানব জীবনের প্রতিটি শাখার ব্যাপারেই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মা‘আরিফুল হাদীস সিরিজের পূর্ববর্তী পাঁচটি খণ্ডে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যেসব হাদীস ও বাণী পেশ করা হয়েছে, এগুলোর সম্পর্ক হয়ত আকীদা-বিশ্বাসের সাথে ছিল অথবা নৈতিকতা, প্রেরণা এবং অন্তর ও আত্মার বিভিন্ন অবস্থার সাথে অথবা তাহারাত, (তথা পাক পবিত্রতা) নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত এবং যিকর ও দু‘আর সাথে ছিল। এবার ঐসব হাদীসের আলোচনা শুরু করা হচ্ছে, যেগুলোর সম্পর্ক সামাজিক অধিকার ও শিষ্টাচার এবং আর্থিক আদান-প্রদানের সাথে। এগুলোর দ্বারা জানা যাবে যে, আমরা আমাদের সগোত্রীয়, বন্ধু-বান্ধব, ছোট, বড়, আপন-পর জীবন চলার পথে যাদের সাথে আমাদের পরিচয়, সহাবস্থান, লেন-দেন ইত্যাদি হয়, তাদের সাথে কি আচরণ করব এবং একজনের উপর অন্য জনের কি হক ও দাবী রয়েছে। অনুরূপভাবে লেন-দেন ক্রয়-বিক্রয়, কর্জ ও আমানত, ব্যবসা ও কৃষিকাজ, শ্রম ও হস্তশিল্প, শিল্প প্রতিষ্ঠা ও ইজারা এবং এ ধরনের অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের কি বিধান রয়েছে এবং এগুলোর কোন পদ্ধতিটি বৈধ আর কোটি অবৈধ।

সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিশেষ গুরুত্ব
এ দু'টি অধ্যায় (অর্থাৎ, আচরণ ও লেন-দেন) এ দৃষ্টিকোণ থেকে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যে, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও প্রবৃত্তির কামনা এবং শরী‘আত বিধান ও পার্থিব স্বার্থ ও লাভের দ্বন্দ্ব ইবাদত ইত্যাদি অন্যান্য সকল অধ্যায়ের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও শরী‘আত অনুসরণের যেমন পরীক্ষা এসব ময়দানে হয়ে থাকে, অন্য কোন ময়দান ও ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর এটাই ঐ জিনিস, যার কারণে ফিরিশতাদের উপর মানবজাতির এক ধরনের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। অন্যথায় একথা স্পষ্ট যে, ঈমান-ইয়াকীন ও সার্বক্ষণিক যিকর ও ইবাদত এবং আত্মার কমনীয়তা ও পবিত্রতায় মানুষ ফিরিশতাদের সমকক্ষও হতে পারে না।

সামাজিক আচার-আচরণ সম্পর্কীয় বিধান ও দিকনির্দেশনা
এই ভূমিকার পর আমরা প্রথমে সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পেশ করছি। বিয়ে-শাদী, তালাক, ইদ্দত, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক আচরণের বিধান ও দিকনির্দেশনার ধারা সন্তান জন্ম গ্রহণ থেকেই শুরু হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ঐসব হাদীস দ্বারাই এ প্রসঙ্গের সূচনা করছি, যেগুলোর মধ্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ সম্পর্কেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবজাতকের ব্যাপারে পিতামাতার কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

পিতামাতার প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ: নবজাতকের কানে আযান
১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম হযরত আবু রাফি রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (স্বীয় নাতি) হযরত হাসান ইবনে আলীর কানে নামাযের আযানের মত আযান দিতে দেখেছি- যখন (তাঁর কন্যা) ফাতিমা তাকে প্রসব করলেন। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلاَةِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাহনীক ও বরকতের দু‘আ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিচয় ও সাহচর্যের ফলে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তাঁর সাথে ভক্তির যে সম্পর্ক ছিল, এর বহিঃপ্রকাশ এটাও ছিল যে, নবজাতক সন্তানদেরকে তাঁর খেদমতে নিয়ে আসা হত, যাতে তিনি তাদের জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করেন, খেজুর অথবা এ জাতীয় কোন জিনিস চিবিয়ে বাচ্চার তালুতে লাগিয়ে দেন এবং নিজের মুখের লালা তার মুখে লাগিয়ে দেন- যা শিশুর মঙ্গল ও বরকতের কারণ হবে। এ কাজটিকেই 'তাহনীক' বলা হয়।
২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শিশুদেরকে নিয়ে আসা হত। তিনি তাদের জন্য বরকতের দু‘আ করতেন এবং তাহনীক করতেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ فَيُبَرِّكُ عَلَيْهِمْ وَيُحَنِّكُهُمْ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাহনীক ও বরকতের দু‘আ
৩. হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তারপর হিজরত করে যখন মদীনায় আসলাম, তখন কুবায় আমি তাকে প্রসব করি। আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসলাম এবং তাকে তাঁর কোলে দিলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে বললেন এবং এটা চিবিয়ে নিজের মুখের লালা এর মধ্যে লাগিয়ে দিলেন এবং শিশুর তালুতে রেখে দিলেন। তারপর তার জন্য বরকত ও মঙ্গলের দু‘আ করলেন। আর এ ছিল ইসলামে ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তান (যে হিজরতের পর একটি মুহাজির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ، قَالَتْ: فَوَلَدْتُ بِقُبَاءٍ، ثُمَّ «أَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ، ثُمَّ حَنَّكَهُ بِالتَّمْرَةِ، ثُمَّ دَعَا لَهُ فَبَرَّكَ عَلَيْهِ» وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা

পৃথিবীর প্রতিটি সম্প্রদায় ও ধর্মানুসারীদের মধ্যে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে, কোন সন্তানের জন্ম গ্রহণকে আল্লাহর একটি নেয়ামত ও আনন্দের বিষয় মনে করা হয় এবং কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আনন্দের প্রকাশও ঘটানো হয়। এটা মানব স্বভাবের একটা চাহিদা ও দাবীও বটে। আর এর মধ্যে একটি বিরাট কল্যাণ এই রয়েছে যে, এর দ্বারা খুবই সূক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে একথা প্রকাশ পেয়ে যায় যে, পিতা এই সন্তানকে নিজেরই সন্তান মনে করে এবং এ ব্যাপারে তার কোন সংশয়-সন্দেহ নেই। এর দ্বারা অনেক ফিতনার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আরবদের মধ্যে এর জন্য জাহেলী যুগেও আকীকার প্রচলন ছিল। তাদের রীতি এই ছিল যে, জন্মের কয়েক দিন পর নবজাতকের মাথার ঐ চুল, যা মাতৃগর্ভ থেকে নিয়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে, এটা পরিষ্কার করে ফেলা হত, আর ঐ দিন আনন্দ প্রকাশের জন্য কোন পশু কুরবানী করা হত। (যা ইবরাহীমী আদর্শের একটি নিদর্শন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীতিগতভাবে এটাকে বাকী রেখে; বরং এর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে এ ব্যাপারে উপযোগী দিকনির্দেশনা দান করেন এবং নিজে আকীকা করে এর বাস্তব নমুনাও প্রদর্শন করেন।
৪. হযরত বুরায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে যখন আমাদের কারো পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করত, তখন সে একটি ছাগল যবেহ করত এবং এর রক্ত সন্তানের মাথায় মাখিয়ে দিত। তারপর যখন ইসলাম আসল, তখন থেকে আমরা (হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও নির্দেশ মুতাবেক) সপ্তম দিনে ছাগল দ্বারা আকীকা করি এবং সন্তানের মাথা মুড়িয়ে এতে জাফরান মাখিয়ে দেই। -আবু দাউদ
এ হাদীসেরই রযীনের রেওয়ায়তে এ সংযোজনও রয়েছে যে, সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে আমরা সন্তানের নামও রাখি।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بُرَيْدَةَ قَالَ: كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا وُلِدَ لِأَحَدِنَا غُلَامٌ ذَبَحَ شَاةً وَلَطَخَ رَأْسَهُ بِدَمِهَا، فَلَمَّا جَاءَ اللَّهُ بِالْإِسْلَامِ كُنَّا «نَذْبَحُ شَاةً، وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنُلَطِّخُهُ بِزَعْفَرَانٍ» (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৫. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে মানুষের রীতি এই ছিল যে, যখন তারা সন্তানের আকীকা করত, তখন আকীকার পশুর রক্ত দ্বারা এক টুকরা তুলা রঞ্জিত করত। তারপর যখন সন্তানের মাথা মুণ্ডন করত, তখন এ রক্তমাখা তুলা তার মাথায় রেখে দিত। (এভাবে তারা আকীকার রক্ত দ্বারা তার মাথা রঞ্জিত করে দিত, যা একটি জাহেলী প্রথা ছিল।) এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রক্তের স্থলে তোমরা 'খালুক' লাগাও। -ইবনে হিব্বান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا عَقُّوا عَنِ الصَّبِيِّ خَضَبُوا قُطْنَةً بِدَمِ العقيقة, فإذا حلقوا رأس الصي, وَضَعُوهَا عَلَى رَأْسَهُ, فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اجعلوا مكان الدم خلوقا" (رواه ابن حبان فى صحيحه)
হাদীস নং: ৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৬. হযরত উম্মে কুরয রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি ছাগল, আর কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আকীকা করা হবে। আর আকীকার পশু নর অথবা মাদী হওয়ায় তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। -তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمَّ كُرْزٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: عَنِ الغُلاَمِ شَاتَانِ، وَعَنِ الجَارِيَةِ شَاةٌ، وَلاَ يَضُرُّكُمْ ذُكْرَانًا كُنَّ أَوْ إِنَاثًا. (رواه الترمذى والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কোন সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, আর সে তার পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করতে চায়, সে যেন পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি ছাগল, আর কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল যবেহ করে। আবূ দাউদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ، فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ، عَنِ الْغُلَامِ شَاتَيْنِ ، فَلْيَنْسُكْ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ» (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৮. হযরত হাসান বসরী সূত্রে হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি সন্তান তার আকীকার পশুর বিনিময়ে বন্ধক থাকে, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিবসে যহেব করা হয় এবং তার মাথাও মুণ্ডন করা হয়, আর নামও রাখা হয়। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى» (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى)
হাদীস নং: ৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৯. হযরত সালমান ইবনে আমের যব্বী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: সন্তানের সাথে আকীকা থাকে। (অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা যাকে সন্তান দান করেন, সে যেন আকীকা করে।) অতএব, সন্তানের পক্ষ থেকে তোমরা পশু যবেহ কর এবং তার মাথার চুল পরিষ্কার করে দাও। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلْمَانُ بْنُ عَامِرٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَعَ الغُلاَمِ عَقِيقَةٌ، فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا، وَأَمِيطُوا عَنْهُ الأَذَى» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
১০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (স্বীয় নাতিদ্বয়) হযরত হাসান ও হুসাইনের আকীকার একটি একটি ভেড়া যবেহ করেছিলেন। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ، وَالْحُسَيْنِ كَبْشًا كَبْشًا» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
১১. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসানের আকীকায় একটি ছাগল যবেহ করলেন এবং বললেন, হে ফাতিমা! তুমি এর মাথা মুড়িয়ে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদাকা করে দাও। আমরা চুল ওজন করে দেখলাম যে, এটা এক দেরহাম পরিমাণ অথবা এর চেয়েও কিছু কম ছিল। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: عَقَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحَسَنِ بِشَاةٍ، وَقَالَ: يَا فَاطِمَةُ، احْلِقِي رَأْسَهُ، وَتَصَدَّقِي بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً، قَالَ: فَوَزَنَتْهُ فَكَانَ وَزْنُهُ دِرْهَمًا أَوْ بَعْضَ دِرْهَمٍ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা

সন্তানের ভালো নাম রাখাও তার একটি অধিকার। হাদীসে এ ব্যাপারেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে।
১২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পিতার উপর সন্তানের একটি হক এইও রয়েছে যে, সে তার সুন্দর নাম রাখবে এবং উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " حَقُّ الْوَلَدِ عَلَى وَالِدِهِ أَنْ يُحْسِنَ اسْمَهُ، وَيُحْسِنَ أَدَبَهُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষ তার সন্তানকে সর্বপ্রথম যে উপহার দেয়, সেটা হচ্ছে তার নাম। অতএব, সে যেন তাকে সুন্দর নাম উপহার দেয়। -আবুশ শায়খ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن أبي هريرة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أول ما ينحل الرجل ولده اسمه فليحسن أسمه. (رواه أبو الشيخ)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৪. হযরত আবুদ্দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতাদের নাম ধরে ডাকা হবে। (অর্থাৎ, বলা হবে অমুকের পুত্র অমুক।) অতএব, তোমরা সুন্দর নাম রাখ। -আহমাদ, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ» (رواه احمد وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের নামগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللهِ عَبْدُ اللهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা

আল্লাহর সমস্ত নবী-রাসূল এবং তাদের সবার শেষে নবুওয়াতধারা পরিসমাপ্তকারী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এই ক'দিনের পার্থিব জীবন সম্পর্কে একথাই বলেছেন যে, এ জীবন আসলে আগত ঐ পরকালীন জীবনের ভূমিকা ও প্রস্তুতিপর্ব, যা প্রকৃত ও আসল জীবন এবং যা কখনো শেষ হবে না। এ দৃষ্টিভঙ্গির স্বাভাবিক ও অপরিহার্য দাবী হচ্ছে দুনিয়ার সকল সমস্যা থেকে আখেরাতের সমস্যাকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া, আখেরাতকে সুখময় করার এবং সেখানে সাফল্য লাভের চিন্তা করা। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিটি সন্তানধারী ব্যক্তির উপর তার সন্তানের এ অধিকার সাব্যস্ত করেছেন যে, সূচনাতেই তাকে দ্বীনি শিক্ষা ও দীক্ষা দেওয়ার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। সে যদি এতে ত্রুটি করে, তাহলে অপরাধী হবে। এবার এ ধারার কিছু হাদীস এখানে পাঠ করুন।
১৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা তোমাদের সন্তানদের মুখে সর্বপ্রথম কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তুলে দাও। মৃত্যুর সময়ও তাদেরকে কালেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়তে বল। -বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: افْتَحُوا عَلَى صِبْيَانِكُمْ أَوَّلَ كَلِمَةٍ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَلَقِّنُوهُمْ عِنْدَ الْمَوْتِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ. (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা
১৭. হযরত সাঈদ ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচারের চাইতে শ্রেষ্ঠ কোন উপহার দিতে পারে না। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا نَحَلَ وَالِدٌ وَلَدَهُ أَفْضَلَ مِنْ أَدَبٍ حَسَنٍ» (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা
১৮. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে মর্যাদা দাও এবং তাদেরকে উত্তম শিষ্টাচার দান কর। ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْرِمُوا أَوْلَادَكُمْ وَأَحْسِنُوا أَدَبَهُمْ» (رواه ابن ماجه)
হাদীস নং: ১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা
১৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানগণ যখন সাত বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন তাদেরকে নামাযের হুকুম দাও। আর যখন দশ বছরের হয়ে যায়, তখন নামাযে ত্রুটি করলে তাদেরকে শাসন কর। আর তাদের বিছানাও পৃথক করে দাও। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ» (رواه ابوداؤد و رواه فى شرح السنة عن ابن معبد)
হাদীস নং: ২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব

আজ পর্যন্ত অনেক অঞ্চল ও অনেক শ্রেণীর মধ্যে কন্যা সন্তানকে একটি বোঝা ও বিপদ মনে করা হয়। কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে বাড়ীতে খুশী ও আনন্দের স্থলে মনমরা ভাব ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। এ অবস্থা তো আজকের, আর ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে অসহায় কন্যা সন্তানকে অপমান ও লজ্জার কারণ মনে করা হত এবং তার এতটুকু অধিকারও স্বীকার করা হত না যে, অন্তত তাকে বেঁচে থাকতে দেওয়া হোক। অনেক পাষাণ হৃদয় পিতা নিজ হাতে নিজের কন্যা সন্তানের গলা চেপে তার জীবন লীলা শেষ করে দিত অথবা তাকে জীবন্ত দাফন করে দিত। তাদের এ অবস্থাটি কুরআন মজীদে নিম্নোক্ত শব্দ মালায় বর্ণনা করা হয়েছে:

وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ۚ یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِہٖ ؕ اَیُمۡسِکُہٗ عَلٰی ہُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّہٗ فِی التُّرَابِ

অর্থ: যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শুনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দিবে, না মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। (সূরা নাহ্‌ল, আয়াত-৫৯)
এই ছিল কন্যা সন্তানদের সাথে ঐ আরবদের অত্যাচারমূলক আচরণ, যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রেরিত হয়েছিলেন। ঐ সামাজিক দৃশ্য ও এর পটভূমিকে সামনে রেখে এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত বাণীসমূহ পাঠ করুন।
২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কোন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করল, আর সে তাকে কোন রকম পীড়া দিল না, তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখল না এবং (ভালোবাসা ও আচরণের ক্ষেত্রে) তার উপর পুত্র সন্তানদেরকে প্রাধান্য দিল না, (অর্থাৎ, তার সাথে ঐ আচরণই করল, যেরূপ আচরণ পুত্র সন্তানদের সাথে করে থাকে।) এ কন্যার সাথে এই আচরণের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। -আহমাদ, হাকেম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ وُلِدَتْ لَهُ ابْنَةٌ، فَلَمْ يُؤْذِهَا، وَلَمْ يُهِنْهَا، وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - يَعْنِي الذُّكُوْرَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ» (رواه احمد والحاكم فى المستدرك)
tahqiq

তাহকীক: