মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা
আল্লাহর সমস্ত নবী-রাসূল এবং তাদের সবার শেষে নবুওয়াতধারা পরিসমাপ্তকারী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এই ক'দিনের পার্থিব জীবন সম্পর্কে একথাই বলেছেন যে, এ জীবন আসলে আগত ঐ পরকালীন জীবনের ভূমিকা ও প্রস্তুতিপর্ব, যা প্রকৃত ও আসল জীবন এবং যা কখনো শেষ হবে না। এ দৃষ্টিভঙ্গির স্বাভাবিক ও অপরিহার্য দাবী হচ্ছে দুনিয়ার সকল সমস্যা থেকে আখেরাতের সমস্যাকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া, আখেরাতকে সুখময় করার এবং সেখানে সাফল্য লাভের চিন্তা করা। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিটি সন্তানধারী ব্যক্তির উপর তার সন্তানের এ অধিকার সাব্যস্ত করেছেন যে, সূচনাতেই তাকে দ্বীনি শিক্ষা ও দীক্ষা দেওয়ার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। সে যদি এতে ত্রুটি করে, তাহলে অপরাধী হবে। এবার এ ধারার কিছু হাদীস এখানে পাঠ করুন।
আল্লাহর সমস্ত নবী-রাসূল এবং তাদের সবার শেষে নবুওয়াতধারা পরিসমাপ্তকারী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এই ক'দিনের পার্থিব জীবন সম্পর্কে একথাই বলেছেন যে, এ জীবন আসলে আগত ঐ পরকালীন জীবনের ভূমিকা ও প্রস্তুতিপর্ব, যা প্রকৃত ও আসল জীবন এবং যা কখনো শেষ হবে না। এ দৃষ্টিভঙ্গির স্বাভাবিক ও অপরিহার্য দাবী হচ্ছে দুনিয়ার সকল সমস্যা থেকে আখেরাতের সমস্যাকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া, আখেরাতকে সুখময় করার এবং সেখানে সাফল্য লাভের চিন্তা করা। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিটি সন্তানধারী ব্যক্তির উপর তার সন্তানের এ অধিকার সাব্যস্ত করেছেন যে, সূচনাতেই তাকে দ্বীনি শিক্ষা ও দীক্ষা দেওয়ার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। সে যদি এতে ত্রুটি করে, তাহলে অপরাধী হবে। এবার এ ধারার কিছু হাদীস এখানে পাঠ করুন।
১৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা তোমাদের সন্তানদের মুখে সর্বপ্রথম কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তুলে দাও। মৃত্যুর সময়ও তাদেরকে কালেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়তে বল। -বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: افْتَحُوا عَلَى صِبْيَانِكُمْ أَوَّلَ كَلِمَةٍ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَلَقِّنُوهُمْ عِنْدَ الْمَوْتِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ. (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মনুষ্য মস্তিষ্কের যোগ্যতা সম্পর্কে আধুনিক অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধান দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে এবং বর্তমানে যেন এটা স্বীকৃত সত্য যে, জন্মের সময় থেকেই সন্তানের মস্তিষ্কে এ যোগ্যতা থাকে যে, সে যেসব শব্দ কান দ্বারা শুনে এবং চোখ দিয়ে যা দেখে, সে এর প্রভাব গ্রহণ করে থাকে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই শিশুর কানে আযান ও ইকামত দেওয়ার যে নির্দেশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিয়েছেন, (যেমন, হযরত আবু রাফি, হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি.-এর উপরের রেওয়ায়ত দ্বারা জানা গিয়েছে।) এর দ্বারাও এর প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের এই হাদীসে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর যবান যখন কথা বলার জন্য খুলতে থাকে, তখন সর্বপ্রথম তাকে কালেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শিক্ষা দেওয়া হবে এবং এর দ্বারাই তার মৌখিক শিক্ষার সূচনা হবে। সামনে গিয়ে এ কথাও বলা হয়েছে যে, যখন মানুষের অন্তিম সময় এসে যায়, তখনও তাকে এ কালেমার তালকীন করতে হবে।
বড়ই ভাগ্যবান আল্লাহ্ তা'আলার ঐ বান্দা, যার মুখ দিয়ে দুনিয়াতে আসার পর সবার আগে এ কালেমাই বের হয়, আবার এখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ও এটাই তার শেষ কথা হয়। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকেও এ সৌভাগ্য নসীব করুন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের এই হাদীসে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর যবান যখন কথা বলার জন্য খুলতে থাকে, তখন সর্বপ্রথম তাকে কালেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শিক্ষা দেওয়া হবে এবং এর দ্বারাই তার মৌখিক শিক্ষার সূচনা হবে। সামনে গিয়ে এ কথাও বলা হয়েছে যে, যখন মানুষের অন্তিম সময় এসে যায়, তখনও তাকে এ কালেমার তালকীন করতে হবে।
বড়ই ভাগ্যবান আল্লাহ্ তা'আলার ঐ বান্দা, যার মুখ দিয়ে দুনিয়াতে আসার পর সবার আগে এ কালেমাই বের হয়, আবার এখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ও এটাই তার শেষ কথা হয়। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকেও এ সৌভাগ্য নসীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)