মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
উত্তম শিষ্টাচার ও দ্বীনি দীক্ষা
১৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানগণ যখন সাত বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন তাদেরকে নামাযের হুকুম দাও। আর যখন দশ বছরের হয়ে যায়, তখন নামাযে ত্রুটি করলে তাদেরকে শাসন কর। আর তাদের বিছানাও পৃথক করে দাও। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ» (رواه ابوداؤد و رواه فى شرح السنة عن ابن معبد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সাধারণত শিশুরা সাত বছর বয়সে বোধসম্পন্ন ও অনুভূতি সম্পন্ন হয়ে যায়। তাই সে সময় থেকেই তাদেরকে আল্লাহর বন্দেগীর পথে পরিচালিত করা চাই। আর এর জন্য তাদেরকে নামাযের পাবন্দীতে অভ্যস্ত করা উচিত। দশ বছর বয়সে তাদের অনুভূতি ও বোধশক্তি যথেষ্ট উন্নতি করে ফেলে এবং বালেগ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। এ সময় নামাযের ব্যাপারে তাদের উপর কঠোরতা করা চাই। যদি তারা এ ব্যাপারে ত্রুটি করে, তাহলে যথাযথভাবে তাদেরকে ভর্ৎসনা ও শাসন করা চাই। তাছাড়া এ বয়সে উপনীত হয়ে যাওয়ার পর তাদেরকে পৃথক বিছানায় শোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একসাথে ও একই বিছানায় শুতে দেওয়া উচিত নয়। (দশ বছরের পূর্বে এর অবকাশ থাকে।) হাদীসটির উদ্দেশ্য ও দাবী এই যে, পিতা মাতার উপর এগুলো হচ্ছে সন্তানের হক ও দাবী; পুত্র সন্তানেরও, কন্যা সন্তানেরও। আর কিয়ামতের দিন এসব কিছু সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান