মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব
আজ পর্যন্ত অনেক অঞ্চল ও অনেক শ্রেণীর মধ্যে কন্যা সন্তানকে একটি বোঝা ও বিপদ মনে করা হয়। কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে বাড়ীতে খুশী ও আনন্দের স্থলে মনমরা ভাব ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। এ অবস্থা তো আজকের, আর ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে অসহায় কন্যা সন্তানকে অপমান ও লজ্জার কারণ মনে করা হত এবং তার এতটুকু অধিকারও স্বীকার করা হত না যে, অন্তত তাকে বেঁচে থাকতে দেওয়া হোক। অনেক পাষাণ হৃদয় পিতা নিজ হাতে নিজের কন্যা সন্তানের গলা চেপে তার জীবন লীলা শেষ করে দিত অথবা তাকে জীবন্ত দাফন করে দিত। তাদের এ অবস্থাটি কুরআন মজীদে নিম্নোক্ত শব্দ মালায় বর্ণনা করা হয়েছে:
وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ۚ یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِہٖ ؕ اَیُمۡسِکُہٗ عَلٰی ہُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّہٗ فِی التُّرَابِ
অর্থ: যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শুনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দিবে, না মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। (সূরা নাহ্ল, আয়াত-৫৯)
এই ছিল কন্যা সন্তানদের সাথে ঐ আরবদের অত্যাচারমূলক আচরণ, যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রেরিত হয়েছিলেন। ঐ সামাজিক দৃশ্য ও এর পটভূমিকে সামনে রেখে এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত বাণীসমূহ পাঠ করুন।
আজ পর্যন্ত অনেক অঞ্চল ও অনেক শ্রেণীর মধ্যে কন্যা সন্তানকে একটি বোঝা ও বিপদ মনে করা হয়। কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে বাড়ীতে খুশী ও আনন্দের স্থলে মনমরা ভাব ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। এ অবস্থা তো আজকের, আর ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে অসহায় কন্যা সন্তানকে অপমান ও লজ্জার কারণ মনে করা হত এবং তার এতটুকু অধিকারও স্বীকার করা হত না যে, অন্তত তাকে বেঁচে থাকতে দেওয়া হোক। অনেক পাষাণ হৃদয় পিতা নিজ হাতে নিজের কন্যা সন্তানের গলা চেপে তার জীবন লীলা শেষ করে দিত অথবা তাকে জীবন্ত দাফন করে দিত। তাদের এ অবস্থাটি কুরআন মজীদে নিম্নোক্ত শব্দ মালায় বর্ণনা করা হয়েছে:
وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ۚ یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِہٖ ؕ اَیُمۡسِکُہٗ عَلٰی ہُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّہٗ فِی التُّرَابِ
অর্থ: যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শুনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দিবে, না মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। (সূরা নাহ্ল, আয়াত-৫৯)
এই ছিল কন্যা সন্তানদের সাথে ঐ আরবদের অত্যাচারমূলক আচরণ, যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রেরিত হয়েছিলেন। ঐ সামাজিক দৃশ্য ও এর পটভূমিকে সামনে রেখে এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত বাণীসমূহ পাঠ করুন।
২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কোন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করল, আর সে তাকে কোন রকম পীড়া দিল না, তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখল না এবং (ভালোবাসা ও আচরণের ক্ষেত্রে) তার উপর পুত্র সন্তানদেরকে প্রাধান্য দিল না, (অর্থাৎ, তার সাথে ঐ আচরণই করল, যেরূপ আচরণ পুত্র সন্তানদের সাথে করে থাকে।) এ কন্যার সাথে এই আচরণের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। -আহমাদ, হাকেম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ وُلِدَتْ لَهُ ابْنَةٌ، فَلَمْ يُؤْذِهَا، وَلَمْ يُهِنْهَا، وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - يَعْنِي الذُّكُوْرَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ» (رواه احمد والحاكم فى المستدرك)