মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ৬১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আয়েশার সাথে হুযুর (ﷺ)-এর দৌড় প্রতিযোগিতা
৬১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলেন। আয়েশা বলেন, সেখানে আমাদের দৌড় প্রতিযোগিতা হল এবং আমি জিতে গেলাম। তারপর যখন (মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে) আমার শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন আরেকবার প্রতিযোগিতা হল। এবার তিনি জিতে গেলেন। সে সময় তিনি বললেন, এটা হল তোমার ঐ জিতের জবাব। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: «هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ) স্বয়ং হযরত আয়েশাকে খেলা দেখিয়েছেন
৬২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি এ দৃশ্য দেখেছি যে, একদিন হাবশী লোকেরা মসজিদে বর্শা দিয়ে খেলা করছিল, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে তাদের খেলা দেখানোর জন্য তাঁর চাদর দিয়ে আড়াল করে রাখছিলেন। আমি তাঁর কাঁধ ও কানের মধ্য দিয়ে তাদের খেলা দেখছিলাম। তিনি আমার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। এমনকি আমি পরিতৃপ্ত হয়ে নিজেই ফিরে আসলাম। (হযরত আয়েশা বলেন, এ ঘটনা দ্বারা) তোমরা অনুমান কর যে, একটি খেলা আসক্তা কম বয়সী বালিকারও কত গুরুত্ব ছিল। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةُ قَالَتْ: «وَاللهِ رَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي، وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ بِحِرَابِهِمْ، فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ، لِكَيْ أَنْظُرَ إِلَى لَعِبِهِمْ، ثُمَّ يَقُومُ مِنْ أَجْلِي، حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّتِي أَنْصَرِفُ، فَاقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ، حَرِيصَةً عَلَى اللهْوِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশীদের অধিকারসমূহ

মানুষের নিজের পিতামাতা সন্তানাদি ও নিকটাত্মীয়দের ছাড়াও একটি স্বতন্ত্র যোগাযোগ ও সম্পর্ক প্রতিবেশীদের সাথেও থাকে এবং এর ভালো-মন্দের একটা প্রভাব জীবনের সুখ-শান্তি ও চারিত্রিক উন্নতি-অবনতির উপর পড়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় শিক্ষা ও আদর্শে প্রতিবেশীদের এ সম্পর্ককে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছেন এবং এর সম্মান ও এর প্রতি লক্ষ্য রাখার খুবই তাকীদ করেছেন। এমনকি এটাকে ঈমানের অংশ, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত এবং আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার মাপকাঠি সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।

প্রতিবেশীর ব্যাপারে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর ক্রমাগত ওসিয়্যত ও তাকীদ
৬৩. হযরত আয়েশা ও ইবনে উমর রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: হযরত জিবরাঈল (আঃ) প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে আমাকে ক্রমাগত ওসিয়্যত করতে থাকেন। এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারীই বানিয়ে দিবেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার শর্ত ও এর মাপকাঠি
৬৪. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবী কুরাদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) একদিন ওযু করলেন। এ সময় তাঁর সাহাবীগণ ওযুর ব্যবহৃত পানি নিয়ে নিজেদের গায়ে মাখতে লাগলেন। নবী করীম (ﷺ) তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদেরকে এ কাজ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? তারা উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা। তিনি তখন বললেন, যার কাছে এটা ভালো লাগে যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসবে অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে ভালোবাসবেন, তাহলে সে যেন এ তিনটি বিষয়ের প্রতি যত্নবান থাকে। (১) কথা বললে সত্য বলবে, (২) আমানত রাখা হলে তা আদায় করে দিবে, (৩) প্রতিবেশীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي قُرَادٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ يَوْمًا فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَتَمَسَّحُونَ بِوَضُوئِهِ، فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا يَحْمِلُكُمْ عَلَى هَذَا؟ " قَالُوا: حُبُّ اللهِ وَرَسُولِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحِبَّ اللهَ وَرَسُولَهُ، أَوْ يُحِبَّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ فَلْيَصْدُقْ حَدِيثَهُ إِذَا حَدَّثَ، وَلْيُؤَدِّ أَمَانَتَهُ إِذَا ائْتُمِنَ، وَلْيُحْسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَهُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ ঈমানের অপরিহার্য দাবী
৬৫. হযরত আবূ শুরাইহ আদাবী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিজ কানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ বাণী শুনেছি এবং তিনি যখন এ কথা বলছিলেন, তখন আমার দু'চোখ তাঁকে দেখছিল। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সম্মানের ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন নিজের মেহমানের সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। -বুখারী, মুসলিম
এ বিষয়টিই প্রায় একই শব্দমালায় বুখারী ও মুসলিম শরীফেই হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ العَدَوِيِّ، قَالَ: سَمِعَتْ أُذُنَايَ، وَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ، حِينَ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ» وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঐ ব্যক্তি মু'মিন ও জান্নাতী নয়, যার প্রতিবেশী তার থেকে নিরাপদ ও ভয়মুক্ত নয়
৬৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন বললেন, আল্লাহর কসম! ঐ ব্যক্তি মু'মিন নয়, আল্লাহর কসম! তার মধ্যে ঈমান নেই, আল্লাহর কষম! সে ঈমানদার নয়। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি। (অর্থাৎ, কোন হতভাগার ব্যাপারে আপনি কসম খেয়ে বলছেন যে, সে মু'মিন নয়?) তিনি উত্তর দিলেন, ঐ ব্যক্তি, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। -বুখারী, মুসলিম
এ হাদীসটি প্রায় একই শব্দমালায় তালক ইবনে আলী থেকে তাবরানী তার মু'জামে কবীরে এবং হযরত আনাস থেকে হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ» ، قِيْلَ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِىْ الْجَارُ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঐ ব্যক্তি মু'মিন ও জান্নাতী নয়, যার প্রতিবেশী তার থেকে নিরাপদ ও ভয়মুক্ত নয়
৬৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ اَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঐ ব্যক্তি মু'মিন নয়, যে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে যায় আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে
৬৮. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি আমার উপর ঈমান আনে নাই, (এবং সে আমার দলভুক্ত নয়) যে নিজে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে যায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে, আর সে এ বিষয়টির খবরও রাখে। -বাযযার, তাবরানী
এ বিষয় বস্তুটিই প্রায় একই শব্দমালায় ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে ও ইমাম বায়হাকী শুআবুল ঈমানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এবং ইমাম হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে হযরত আয়েশা রাযি. থেকেও বর্ণনা করেছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا آمَنَ بِي مَنْ بَاتَ شَبْعَانَ وَجَارُهُ جَائِعٌ إِلَى جَنْبِهِ وَهُوَ يَعْلَمُ بِهِ» (رواه البزار والطبرانى فى الكبير)
হাদীস নং: ৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশীর কয়েকটি নির্ধারিত অধিকার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিবেশীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট অধিকার চিহ্নিতও করে দিয়েছেন। এগুলোর দ্বারা এ ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আত মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিও বুঝা যেতে পারে।
৬৯. হযরত মু'আবিয়া ইবনে হায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিবেশীর হক হচ্ছে এই যে, সে যদি অসুস্থ হয়ে যায়, তাহলে তাকে দেখতে যাবে, যদি মারা যায়, তাহলে তার জানাযার সাথে যাবে (এবং কাফন-দাফনের কাজে সাহায্য করবে।) সে যদি নিজ প্রয়োজনে কর্জ চায়, তাহলে তাকে কর্জ দিবে, সে যদি কোন খারাপ কাজ করে বসে, তাহলে তা গোপন রাখবে, সে যদি কোন কল্যাণ লাভ করে, তাহলে তাকে মুবারকবাদ দিবে, আর যদি কোন বিপদে পড়ে যায়, তাহলে তাকে সান্ত্বনা দিবে। তোমার দালান তার দালানের চেয়ে এত উঁচু করে নির্মাণ করবে না যে, তার ঘরের বাতাস বন্ধ হয়ে যায়। আর (যখন তোমার ঘরে কোন ভালো খাবার পাক করা হয়, তখন চেষ্টা করবে যে,) তোমার পাতিলের ঘ্রাণ যেন তার কষ্টের কারণ না হয়। (অর্থাৎ, এ দিকে খেয়াল রাখবে যে, পাতিলের ঘ্রাণ যেন সহজে তার ঘরে না যায়।) তবে তুমি যদি এখান থেকে কিছু তার ঘরে পাঠিয়ে দাও। (এমন হলে তার ঘ্রাণ পৌঁছলে কোন দোষ নেই।) -তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَقُّ الْجَارِ إِنْ مَرِضَ عُدْتَهُ، وَإِنْ مَاتَ شَيَّعْتَهُ، وَإِنِ اسْتَقْرَضَكَ أَقْرَضْتَهُ، وَإِنْ أَعْوَزَ سَتَرْتَهُ، وَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ هَنَّأْتَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ عَزَّيْتَهُ، وَلَا تَرْفَعْ بِنَاءَكَ فَوْقَ بِنَائِهِ فَتَسُدَّ عَلَيْهِ الرِّيحَ، وَلَا تُؤْذِهِ بِرِيحِ قِدْرِكَ إِلَّا أَنْ تَغْرِفَ لَهُ مِنْهَا» (رواه الطبرانى فى الكبير)
হাদীস নং: ৭০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশীর কয়েকটি নির্ধারিত অধিকার
৭০. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তরকারীর পাতিল চড়ায়, তখন এতে যেন ঝোল একটু বেশী করে দেয়। তারপর এখান থেকে তার প্রতিবেশীকে যেন কিছু দিয়ে দেয়। তাবরানী
[রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ হাদীসটি প্রায় অনুরূপ শব্দমালায় তিরমিযী ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থে হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا طَبَخَ أَحَدُكُمْ قِدْرًا فَلْيُكْثِرْ مَرَقَهَا ثُمَّ لْيُنَاوِلْ جَارَهُ مِنْهَا» (رواه الطبرانى فى الاوسط)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিবেশী তিন প্রকার, অমুসলিম প্রতিবেশীরও হক রয়েছে
৭১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিবেশী তিন প্রকার। ১. ঐ প্রতিবেশী, যার কেবল একটি হক থাকে, আর সে-ই হচ্ছে নিম্নস্তরের প্রতিবেশী। ২. ঐ প্রতিবেশী, যার দু'টি হক থাকে। ৩. ঐ প্রতিবেশী, যার তিনটি হক থাকে। যার এক হক সে হচ্ছে অনাত্মীয় মুশরিক। (অমুসলিম) প্রতিবেশী, তার কেবল প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে একটি হক থাকে। দুই হকের অধিকারী হচ্ছে মুসলমান প্রতিবেশী, তার একটি হক মুসলমান হিসাবে, অপরটি প্রতিবেশী হিসাবে। আর তিন হকের অধিকারী হচ্ছে আত্মীয় ও মুসলমান প্রতিবেশী। তার মুসলমান হিসাবে একটি হক, প্রতিবেশী হিসাবে একটি হক এবং আত্মীয় হিসাবে আরেকটি হক রয়েছে। -বাযযার, আবু নু'আইম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْجِيرَانُ ثَلَاثَةٌ: فَجَارٌ لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ، وَهُوَ اَدْنَى الْجِيْرَانِ حَقًّا وَجَارٌ لَهُ حَقَّانِ، وَجَارٌ لَهُ ثَلَاثَةُ حُقُوقٍ، فَأَمَّا الَّذِي لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ فَجَارٌ مُشْرِكٌ لا رَحِمَ لَهُ، لَهُ حَقُّ الْجِوَارِ، وَأَمَّا الَّذِي لَهُ حَقَّانِ: فَجَارٌ مُسْلِمٌ، لَهُ حَقُّ الإِسْلامِ وَحَقُّ الْجِوَارِ، وَأَمَّا الَّذِي لَهُ ثَلاثَةُ حُقُوقٍ: فَجَارٌ مُسْلِمٌ ذُو رَحِمٍ، لَهُ حَقُّ الإِسْلامِ، وَحَقُّ الْجِوَارِ، وَحَقُّ الرَّحِمِ ". (رواه البزار فى المسند وابى نعيم فى الحلية)
হাদীস নং: ৭২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি যত্নবান হওয়াও প্রতিবেশীর একটি হক

প্রতিবেশীদের হক ও অধিকারের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যেসব বাণী এ পর্যন্ত লিখা হয়েছে, এগুলোর অধিকাংশের সম্পর্ক জীবনের লেন-দেন তাদের সাথে সম্মান, খাতিরের ব্যবহার ও উত্তম আচরণ সম্পর্কিত ছিল। পরিশেষে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ বাণীটিও পাঠ করুন, যেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, যদি কারো আশেপাশে এমন লোক বসবাস করে, যারা দ্বীনি শিক্ষা-দীক্ষা, আমল ও চারিত্রিক দিক দিয়ে পশ্চাদপদ, তাহলে অন্যদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও সংশোধনের চিন্তা ও চেষ্টা করা। যদি তারা এতে ত্রুটি ও অবহেলা করে, তাহলে অপরাধী ও শাস্তির যোগ্য হবে।
৭২. আলকামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা তার পিতা আব্দুর রহমান সূত্রে তদীয় পিতা আবযা খুজায়ী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক বিশেষ ভাষণে বললেন: ঐসব লোকের কি হয়ে গেল যে, তারা তাদের প্রতিবেশীদেরকে দ্বীনের জ্ঞান ও ইলম দান করার চেষ্টা করে না, তাদেরকে ওয়ায-নসীহতও করে না এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করে না। আর ঐসব (ইলমহীন ও পশ্চাদপদ) লোকদের কি হল যে, তারা নিজেদের প্রতিবেশীদের নিকট থেকে দ্বীনের জ্ঞান ও ইলম আহরণের চেষ্টা করে না এবং তাদের উপদেশ গ্রহণ করে না। আল্লাহর কসম! (দ্বীনের জ্ঞান ও ইলমধারীদের) কর্তব্য এই যে, তারা নিজেদের (অজ্ঞ ও পশ্চাদপদ) প্রতিবেশীদেরকে দ্বীনের জান ও ইলম দানের চেষ্টা করবে, তাদেরকে ওয়ায-নসীহতের মাধ্যমে সংশোধন করার প্রয়াস চালাবে এবং নেক কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে। অনুরূপভাবে পশ্চাদপদ প্রতিবেশীদের কর্তব্য হচ্ছে যে, তারা নিজেরা উৎসাহী হয়ে প্রতিবেশীদের নিকট থেকে দ্বীনের জান ও ইলম অর্জন করবে এবং তাদের উপদেশ গ্রহণ করবে। অন্যথায় (অর্থাৎ, এ উভয় শ্রেণী যদি নিজেদের কর্তব্য পালন না করে,) তাহলে আমি দুনিয়াতেই তাদের শাস্তি ত্বরান্বিত করাব। -ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, বুখারীর ওহদান, ইবনুস সাকান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بَالُ أَقْوَامٍ لا يفقهون جيرانهم ولا يعلمونهم ولا يعظونهم ولا يامرونهم ومَا بَالُ أَقْوَامٍ لا يتعلمون جيرانهم ولا يتفقهون ولا يتعظون والله ليعلمن قوم جيرانهم ويفقهونهم ويعظونهم ويامرونهم وينهونهم وليتعلمن قوم من جيرانهم ويتفقهون ويتعظون ولاعاجلنهم بالعقوبة فى الدنيا. (رواه ابن راهويه والبخارى فى الوحدان وابن السكن وابن مدة)
হাদীস নং: ৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার

এ পর্যন্ত যেসব শ্রেণীর অধিকারের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তারা ছিল ঐসব লোক, যাদের সাথে মানুষের বিশেষ সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকে। চাই এ সম্পর্ক বংশীয় ও রক্ত সম্পর্কিত হোক অথবা বৈবাহিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অথবা সাময়িক সঙ্গী-সাথী হওয়ার কারণে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মহান শিক্ষায় এদের ছাড়াও সকল দুর্বল শ্রেণী, সব ধরনের অভাবী, ইয়াতীম, বিধবা, দরিদ্র, মিসকীন, মযলুম, বিপদগ্রস্ত ও রোগী ইত্যাদির অধিকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অনুসারীদেরকে তাদের খেদমত, খোঁজ-খবর নেওয়া, সহানুভূতি ও সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটাকে উঁচু স্তরের পুণ্যকাজ সাব্যস্ত করে এর উপর আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে বিরাট বিরাট পুরষ্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন। এসব শ্রেণীর সাথে সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু বাণী নিম্নে পাঠ করে নিন।

মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বিধবা নারী ও মিসকীনদের জন্য চেষ্টা তদবীরকারী বান্দা আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মত। আর আমার ধারণা যে, তিনি এও বলেছেন, ঐ রাত্রজাগরণকারীর মত, যে অলসতা করে না এবং ঐ রোযাদারের মত, যে কখনো রোযায় বিরতি দেয় না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالمِسْكِينِ، كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَحْسِبُهُ قَالَ «كَالقَائِمِ لاَ يَفْتُرُ، وَكَالصَّائِمِ لاَ يُفْطِرُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার: মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৪. হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি ও ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এরূপ নিকটে থাকব। এই বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দু’টি দ্বারা ইশারা করলেন এবং এ দু’টির মাঝে সামান্য ফাঁক রাখলেন। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا وَكَافِلُ اليَتِيمِ لَهُ اَوْ لِغَيْرِهِ فِي الجَنَّةِ هَكَذَا وَأَشَارَ السَّبَّابَةَ وَالوُسْطَى وَفَرَّجَ بَيْنَهُمَا شَيْئًا. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৭৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার: মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর যে বান্দা মুসলমানদের কোন ইয়াতীম সন্তানকে তার খাবার ও পানীয়তে শরীক করে নিল, আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। তবে সে যদি এমন কোন গুনাহ করে থাকে- যা ক্ষমার অযোগ্য। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَبَضَ يَتِيمًا مِنْ بَيْنِ الْمُسْلِمِينَ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ الْبَتَّةَ إِلاَّ أَنْ يَعْمَلَ ذَنْبًا لاَ يُغْفَرُ لَهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৭৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার: মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৬. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীমের মাথায় কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাত বুলায়, তখন তার হাতের নীচে যতগুলো চুল পড়ে, এর প্রত্যেকটির হিসাবে তার জন্য নেকী রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার আশ্রয়াধীন কোন ইয়াতীম বালিকা অথবা ইয়াতীম বালকের সাথে উত্তম আচরণ করে, আমি ও ঐ ব্যক্তি জান্নাতে এভাবে কাছাকাছি থাকব। এই বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুল দু'টি একত্র করলেন। -আহমাদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ مَسَحَ رَأْسَ يَتِيمٍ لَمْ يَمْسَحْهُ إِلَّا لِلَّهِ كَانَ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ يَمُرُّ عَلَيْهَا يَدُهُ حَسَنَاتٌ، وَمَنْ أَحْسَنَ إِلَى يَتِيمَةٍ أَوْ يَتِيمٍ عِنْدَهُ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ وَقَرَنَ بَيْنَ إِصْبُعَيْهِ» (رواه احمد والترمذى)
হাদীস নং: ৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার: মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৭. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে ঐ ঘর, যেখানে কোন ইয়াতীম থাকে এবং তার প্রতি সুন্দর আচরণ করা হয়। আর মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে ঐ ঘর, যেখানে কোন ইয়াতীম থাকে আর তার সাথে খারাপ আচরণ করা হয়। -ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ بَيْتٍ فِي الْمُسْلِمِينَ بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ يُحْسَنُ إِلَيْهِ، وَشَرُّ بَيْتٍ فِي الْمُسْلِمِينَ بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ يُسَاءُ إِلَيْهِ» (رواه ابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার: মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট নিজের পাষাণ হৃদয় হওয়ার অভিযোগ করল। তিনি বললেন, ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাও আর মিসকীনকে খাবার দাও। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا شَكَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسْوَةَ قَلْبِهِ، فَقَالَ: «امْسَحْ رَأْسَ الْيَتِيمِ، وَأَطْعِمِ الْمِسْكِينَ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৭৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবী, রোগী ও বিপদগ্রস্তদের সেবা ও সাহায্য
৭৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। এজন্য সে নিজেও তার উপর যুলুম করতে পারে না এবং অন্যের যুলুমের পাত্র হওয়ার জন্য তাকে অসহায় ছেড়ে দিতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন। যে ব্যক্তি মুসলমানের কোন বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার কিছু বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবী, রোগী ও বিপদগ্রস্তদের সেবা ও সাহায্য
৮০. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দুনিয়ার কোন বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার কিয়ামত দিবসের বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে (ঋণদাতা) কোন অভাবী ঋণ গ্রহীতাকে (স্বীয় ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে) অবকাশ দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার সাথে সহজ আচরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ ঢেকে রাখবেন। কোন বান্দা যে পর্যন্ত তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকবে, আল্লাহ্ তা'আলাও তার সাহায্যে থাকবেন। -আবু দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ القِيَامَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ فِي الدُّنْيَا يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَمَنْ سَتَرَ عَلَى مُسْلِمٍ فِي الدُّنْيَا سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَاللَّهُ فِي عَوْنِ العَبْدِ مَا كَانَ العَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
tahqiq

তাহকীক: