মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবী, রোগী ও বিপদগ্রস্তদের সেবা ও সাহায্য
৮১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে কোন মুসলমান কোন মুসলমানকে তার বস্ত্রহীনতার সময় পোশাক পরাবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সবুজ জান্নাতী পোশাক পরাবেন। যে কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় আহার দান করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি (অথবা অন্য কোন পানীয়) পান করাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে মোহরকৃত পবিত্র পানীয় পান করাবেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَامُسْلِمٍ كَسَا مُسْلِمًا ثَوْبًا عَلَى عُرْيٍ، كَسَاهُ اللَّهُ مِنْ خُضْرِ الْجَنَّةِ، وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ أَطْعَمَ مُسْلِمًا عَلَى جُوعٍ، أَطْعَمَهُ اللَّهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ، وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ سَقَى مُسْلِمًا عَلَى ظَمَإٍ، سَقَاهُ اللَّهُ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ» (رواه ابوداؤد والترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবী, রোগী ও বিপদগ্রস্তদের সেবা ও সাহায্য
৮২. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ক্ষুধার্তকে আহার করাও, রোগীকে দেখতে যাও (এবং তার খোঁজ-খবর রাখ) আর বন্দীদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা কর। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْعِمُوا الجَائِعَ، وَعُودُوا المَرِيضَ، وَفُكُّوا العَانِيَ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবী, রোগী ও বিপদগ্রস্তদের সেবা ও সাহায্য
৮৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, কিন্তু তুমি আমার খোঁজ-খবর নাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি কিভাবে তোমাকে রোগশয্যায় দেখতে যেতে পারতাম, তুমি তো রাব্বুল আলামীন। (রোগের সাথে তোমার কি সম্পর্ক আর এর সম্ভাবনাই কোথায়?) আল্লাহ্ তা'আলা তখন বলবেন, তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা রুগ্ন অবস্থায় ছিল অথচ তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তার খোঁজ-খবর নিতে, তাহলে আমাকে সেখানেই পেয়ে যেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে আহার দাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি তোমাকে কিভাবে খাবার দিব, তুমি তো রাব্বুল আলামীন। (খাবারের সাথে তোমার কি সম্পর্ক থাকতে পারে?) আল্লাহ্ তা'আলা তখন বলবেন, তোমার কি জানা নেই যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়ে ছিল, অথচ তুমি তাকে খাবার দাওনি। তুমি কি জান না যে, তাকে যদি তুমি খাবার দিতে, তাহলে তা আমার কাছে পেয়ে যেতে। হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি কিভাবে তোমাকে পানি পান করাব, তুমি তো রাব্বুল আলামীন। (তোমার পানি পান করার সাথে কি সম্পর্ক?) আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, অথচ তুমি তাকে পানি পান করাও নি। শুনে নাও, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তাহলে তা আমার কাছে পেয়ে যেতে।-মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي، قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟ يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِي، قَالَ: يَا رَبِّ وَكَيْفَ أُطْعِمُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِي فُلَانٌ، فَلَمْ تُطْعِمْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي، يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ، فَلَمْ تَسْقِنِي، قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: اسْتَسْقَاكَ عَبْدِي فُلَانٌ فَلَمْ تَسْقِهِ، أَمَا إِنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ وَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী ও অধীনস্থদের ব্যাপারে নির্দেশাবলী

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন দুনিয়াতে তশরীফ আনেন, তখন আরবে; বরং প্রায় সারা পৃথিবীতে দাসদাসীদের একটি শ্রেণী বর্তমান ছিল। বিজেতা জাতি বিজিত জাতির লোকদেরকে দাস বানিয়ে নিত, এরা তাদের মালিকানাধীন হয়ে যেত। তাদের থেকে পশুদের মত পরিশ্রম ও কষ্টের কাজ নেওয়া হত; কিন্তু তাদের কোন অধিকার আছে বলে মনে করা হত না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক দিকে তো দাস মুক্তিকে অনেক গুনাহর কাফফারা এবং বিরাট সওয়াবের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিভিন্নভাবে এর প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। অন্যদিকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, তাদের উপর পরিশ্রম ও কষ্টের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো যাবে না, তাদের খাদ্য-বস্ত্র ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজনের যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে; বরং তিনি এও নির্দেশ দিয়েছেন যে, বাড়ীতে যে খাবার খাওয়া হবে এটাই তাদেরকে খাওয়াতে হবে, নিজে যেমন পোশাক পরবে, তাদেরকেও এমন পোশাক পরিধান করাবে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহর জিজ্ঞাসা ও শাস্তির ভয় রাখবে।
ইতিহাস সাক্ষী যে, এসব শিক্ষা ও নির্দেশনায় দাস-দাসীদের দুনিয়াই পাল্টে গেল, তারপর তো তাদের মধ্য থেকে হাজার হাজার গোলাম উম্মতের ইমাম ও নেতা পর্যন্ত হয়েছেন, অগণিত দাস রাষ্ট্রীয় বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এমনকি তাদের রাজত্বও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব কিছুই ঐ শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার ফল ছিল, যা মানবজাতির এই নিপীড়িত ও দুর্বল শ্রেণীর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় উম্মতকে দিয়েছিলেন। এরপর সারা পৃথিবী এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। এবার এ ধারার কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।

দাস-দাসীদের মৌলিক অধিকারসমূহ
৮৪. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: খাদ্য ও বস্ত্র হচ্ছে গোলামের অধিকার। আর তার এ হকও রয়েছে যে, তাকে সাধ্যের বাইরে কোন কঠিন কাজের হুকুম দেওয়া যাবে না। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِلْمَمْلُوكِ طَعَامُهُ وَكِسْوَتُهُ، وَلَا يُكَلَّفُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا يُطِيقُ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী ও অধীনস্থদের ব্যাপারে নির্দেশাবলী: দাস-দাসীদের মৌলিক অধিকারসমূহ
৮৫. হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এসব গোলাম হচ্ছে তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ্ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। অতএব, আল্লাহ্ তা'আলা যার ভাইকে তার অধীনস্থ করে দিয়েছেন, সে যেন তাকে তাই খেতে দেয়, যা নিজে খায় এবং তাই পরতে দেয়, যা নিজে পরিধান করে। আর সে যেন তাকে এমনকাজের নির্দেশ না দেয়, যা তার জন্য ভারী ও অসাধ্য হয়ে যায়। যদি এমন কাজের নির্দেশ দিতেই হয়, তাহলে সে নিজে তাকে সাহায্য করবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِخْوَانُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ جَعَلَ اللَّهُ أَخَاهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلاَ يُكَلِّفُهُ مِنَ العَمَلِ مَا يَغْلِبُهُ، فَإِنْ كَلَّفَهُ مَا يَغْلِبُهُ فَلْيُعِنْهُ عَلَيْهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলাম অথবা চাকর যে খাবার তৈরী করে, সেখান থেকে অবশ্যই তাকে কিছু খাওয়াতে হবে
৮৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কারো খাদেম তার জন্য খাবার তৈরী করে তার কাছে নিয়ে আসে, তখন সে যেহেতু এর গরম ও ধোঁয়ার কষ্ট সহ্য করেছে, তাই মনিবের উচিৎ, তাকে নিজের সাথে বসাবে এবং সেও এখান থেকে খাবে। আর খাবার যদি কোন সময় অল্প হয়, তাহলে এক দু' লোকমা হলেও তার হাতে তুলে দিবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا صَنَعَ لِأَحَدِكُمْ خَادِمُهُ طَعَامَهُ، ثُمَّ جَاءَهُ بِهِ، وَقَدْ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ، فَلْيُقْعِدْهُ مَعَهُ، فَلْيَأْكُلْ، فَإِنْ كَانَ الطَّعَامُ مَشْفُوهًا قَلِيلًا، فَلْيَضَعْ فِي يَدِهِ مِنْهُ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসীদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করতে হবে
৮৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আমাদের খাদেম ও গোলামদেরকে কতবার ক্ষমা করব? তিনি নিরুত্তর রইলেন এবং কোন জবাব দিলেন না। সে পুনরায় একথা জিজ্ঞাসা করল এবং তিনিও নীরব রইলেন। তারপর সে যখন তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বললেন, প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَقَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَمْ نَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ؟ فَصَمَتَ، ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ الْكَلَامَ، فَصَمَتَ، فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّالِثَةِ، قَالَ: «اعْفُوا عَنْهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসীদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করতে হবে
৮৮. হযরত কা'ব ইবনে উজরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের দাসীদেরকে বাসনপত্র ভেঙ্গে ফেলার কারণে শাস্তি দিয়ো না। এজন্য যে, বাসনপত্রেরও আয়ু নির্ধারিত রয়েছে, তোমাদের আয়ুর ন্যায়। -মুসনাদুল ফেরদাউস
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَضْرِبُوْا اِمَاءَكُمْ عَلَى كَسْرِ اِنَاءِكُمْ فَاِنَّ لَهَا آجَالًا كَآجَالِكُمْ. (رواه الديلمى)
হাদীস নং: ৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলামের উপর অত্যাচারকারী থেকে কিয়ামতে বদলা নেওয়া হবে
৮৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিজের গোলামকে প্রহার করবে, কিয়ামতের দিন তার নিকট থেকে বদলা নেওয়া হবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ ضَرَبَ مَمْلُوكَهُ ظَالِمًا اُقِيْدَ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলামের উপর যুলুম করার কাফ্ফারা
৯০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে তার কোন গোলামকে শাস্তি দিল অথবা তাকে চড় মারল, এর কাফফারা এই যে, সে তাকে মুক্ত করে দিবে। (অর্থাৎ, এমন না করলে সে আল্লাহর নিকট শাস্তিযোগ্য হয়ে থাকবে।) -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ اَبِىْ عُمَرَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ ضَرَبَ غُلَامًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ، أَوْ لَطَمَهُ، فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলামের উপর যুলুম করার কাফ্ফারা
৯১. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন আমার এক গোলামকে প্রহার করছিলাম। এমন সময় আমার পেছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম (যে, কে যেন বলছে,) হে আবূ মাসউদ! তুমি এ গোলামটির উপর যতটুকু শক্তি রাখ, আল্লাহ তা'আলা তোমার উপর এর চেয়ে অনেক বেশী শক্তিমান। আমি পেছনে ফিরে দেখলাম যে, কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছিলেন। তাই আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা আল্লাহর নামে মুক্ত, (আমি তাকে আযাদ করে দিলাম।) এ সময় তিনি বললেন, তোমার মনে রাখা চাই যে, তুমি যদি এমনটি না করতে (অর্থাৎ, তাকে মুক্ত করে না দিতে,) তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে জ্বালিয়ে দিত অথবা (বলেছেন) জাহান্নামের আগুন তোমাকে বেষ্টন করে নিত। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: كُنْتُ أَضْرِبُ غُلَامًا لِي، فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِي صَوْتًا: «اعْلَمْ، أَبَا مَسْعُودٍ، لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ»، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ، فَقَالَ: «أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ»، أَوْ «لَمَسَّتْكَ النَّارُ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসীদের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর অন্তিম ওসিয়্যত
৯২. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (মৃত্যুপূর্ব) শেষ কথা এই ছিল: নামাযের প্রতি যত্নবান থাক, নামাযের গুরুত্ব দাও, আর নিজের দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে চল। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
حضرت علی مرتضیٰ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہﷺ نے (وفات سے پہلے) جو آخری کلام فرمایا وہ یہ تھا : “الصَّلاةَ الصَّلاةَ، اتَّقُوا اللهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ” (یعنی نماز کی پابندی کرو ، نماز کا پورا اہتمام کرو ، اور اپنے غلاموں میں زیرِ دستوں کے بارے میں خدا سے ڈرو) ۔ (سنن ابی داؤد)
হাদীস নং: ৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মনিবদের কল্যাণকামিতা ও বিশ্বাস রক্ষার ব্যাপারে গোলামদেরকে উপদেশ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে দাস-দাসীদের অধিকার আদায় ও তাদের সাথে সদাচরণের ব্যাপারে মনিবদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনিভাবে দাস-দাসীদেরকেও তিনি উপদেশ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন যে, তারা যার অধীনে রয়েছে, তার সাথে যেন কল্যাণকামিতা ও বিশ্বাস রক্ষার নীতি বজায় রাখে। তিনি কোন গোলামের বিরাট সৌভাগ্য ও সফলতা এই বলেছেন যে, সে আপন সৃষ্টিকর্তার ইবাদতকারী এবং নিজের মনিবের বিশ্বস্ত ও অনুগত হবে।
৯৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন গোলামের জন্য এটা খুবই উত্তম ও সাফল্যের বিষয় যে, আল্লাহ্ তাকে এ অবস্থায় মৃত্যু দান করবেন যে, সে আপন প্রতিপালকের ইবাদতও সুন্দরভাবে করে, আর নিজের মনিবেরও অনুগত্যেরত। এ অবস্থা কতইনা ভালো। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نِعِمَّا لِلْمَمْلُوكِ أَنْ يُتَوَفَّاهُ بُحْسِنِ عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَطَاعَةَ سَيِّدِهِ، نِعِمَّا» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মনিবদের কল্যাণকামিতা ও বিশ্বাস রক্ষার ব্যাপারে গোলামদেরকে উপদেশ
৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন গোলাম যখন আপন মনিবের কল্যাণ কামনা করে এবং স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদতও সুন্দরভাবে করে যায়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ، وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ، فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ»، (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বড় ও ছোটদের পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা

প্রত্যেক জনগোষ্ঠী ও সমাজে কিছু লোক বড় থাকে, আর কিছু লোক তাদের চেয়ে ছোট। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বড়দেরকে ছোটদের সাথে এবং ছোটদেরকে বড়দের সাথে আচরণের ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যদি এগুলোর অনুসরণ করা হয়, তাহলে সমাজ জীবনে ঐ শান্তি ও আত্মিক প্রশান্তি বিরাজমান থাকবে, যা মানবতার জন্য বিরাট নেয়ামত। এ ধারার কয়েকটি হাদীস এখানে পাঠ করে নিন।
৯৫. আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহের আচরণ করে না এবং বড়দের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখে না, সে আমাদের সম্প্রদায় নয়। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ شَرَفَ كَبِيرِنَا. (رواه الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বড় ও ছোটদের পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা
৯৬. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বৃদ্ধ লোক আসলেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে পৌঁছতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু উপস্থিত লোকেরা তাকে এ সুযোগ করে দিল না। (অর্থাৎ, এমন করল না যে, বুড়ো হওয়ার কারণে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে তাকে দ্রুত রাস্তা দিয়ে দিবে ও স্থান খালি করে দিবে।) বাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহদান করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: جَاءَ شَيْخٌ يُرِيدُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَبْطَأَ القَوْمُ أَنْ يُوَسِّعُوا لَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيُوَقِّرْ كَبِيرَنَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বড় ও ছোটদের পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা
৯৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে যুবক কোন বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার বৃদ্ধ বয়সের সময় তাকে সম্মান করার জন্য লোক সৃষ্টি করে দিবেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا أَكْرَمَ شَابٌّ شَيْخًا مِنْ اَجْلِ سِنِّهِ إِلاَّ قَيَّضَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ سِنِّهِ مَنْ يُكْرِمُهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এবং অনুরূপভাবে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণও) আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সত্য দ্বীনের দাওয়াত ও হেদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। যেসব লোক তাঁদের দাওয়াত কবুল করে তাদের দ্বীন ও পথ অবলম্বন করে নিত, তারা স্বাভাবিকভাবে একটি জামা‘আত ও উম্মতে পরিণত হয়ে যেত। এটাই মূলতঃ 'ইসলামী ভ্রাতৃত্ব' ও 'উম্মতে মুসলিমা'র দর্শন।

যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুনিয়াতে বর্তমান ছিলেন, এই ভ্রাতৃত্ব ও উম্মতই তাঁর দক্ষিণ হস্ত এবং দাওয়াত ও হেদায়াতের কাজে তাঁর সাথী ও সাহায্যকারী ছিল এবং তারপরে কিয়ামত পর্যন্ত এ উম্মতকেই তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে এ মিশনের দায়িত্ব পালন করতে হবে এ জন্য যেভাবে ঈমান ও ইয়াকীন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, আমল ও চরিত্রের পবিত্রতা ও দাওয়াতের প্রেরণার প্রয়োজন ছিল, তেমনিভাবে অন্তরের জোড়মিল ও একাত্মতারও প্রয়োজন ছিল। অন্তর যদি ভঙ্গ হয়, একতা ও একাত্মতার স্থলে যদি মতবিরোধ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং স্বয়ং নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদ থাকে, তাহলে স্পষ্ট কথা যে, নবুওয়াতের প্রতিনিধিত্বের এ দায়িত্ব পালন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসলামকেও একটি পবিত্র বন্ধন নির্ধারণ করেছেন এবং উম্মতের সকল সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণীকে বিশেষভাবে হেদায়াত ও তাকীদ করেছেন যে, তারা একে অপরকে নিজের ভাই মনে করবে এবং পরস্পর কল্যাণকামী ও সাহায্যকারী হয়ে থাকবে। প্রত্যেকেই অন্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এ দ্বীনি বন্ধনের প্রেক্ষিতে একের উপর অন্যের যে দাবী ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এগুলো আদায় করার চেষ্টা করবে।

এ শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বিশেষভাবে এজন্যও ছিল যে, উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন দেশ, বংশ ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোক ছিল, যাদের বর্ণ, প্রকৃতি ও ভাষা বিভিন্ন ছিল। আর এ বৈচিত্র ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার ছিল।

এ সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নিম্নের হাদীসগুলোতে পাঠ করুন।
৯৮. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক মু'মিন অন্য মু'মিনের জন্য প্রাচীরের ন্যায়। এর একটি অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে। তারপর তিনি এক হাতের আঙ্গুলগুলোকে অন্য হাতের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেখালেন (যে এভাবে মুসলমানকে মিলেমিশে থাকা চাই।)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ثُمَّ شَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
৯৯. হযরত নু'মান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সকল মুসলমান এক ব্যক্তির (বিভিন্ন অঙ্গের) ন্যায়। যদি তার চোখে ব্যথা হয়, তাহলে তার সারা দেহই ব্যথা অনুভব করে, আর যদি তার মাথায় ব্যথা হয়, তাহলে সারা দেহই ব্যথা অনুভব করে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। তাই সে নিজেও তার উপর যুলুম করবে না এবং অন্য কারো যুলুমের পাত্র হওয়ার জন্য তাকে অসহায় ছেড়ে দিবে না। (অর্থাৎ, অন্যদের যুলুম থেকে বাঁচানোর জন্য তার সাহায্য করবে।) যে ব্যক্তি তার কোন অভাবী ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কষ্ট দূর করে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার কিয়ামত দিবসের বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক: