মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৬৭ টি
হাদীস নং: ১০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। তাই সে নিজেও তার উপর যুলুম করবে না এবং অন্যের যুলুমের পাত্র হওয়ার জন্য তাকে অসহায় ছেড়ে দিবে না, আর সে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করবে না। (হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন বক্ষের দিকে তিনবার ইশারা করে বললেন,) তাকওয়া এখানে থাকে। কোন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে হেয় প্রতিপন্ন করে। প্রতিটি মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও সম্ভ্রম অন্য মুসলমানের উপর হারাম। (অর্থাৎ, এগুলোর উপর হস্তক্ষেপ করা হারাম।) -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يَخْذُلُهُ وَلاَ يَحْقِرُهُ. التَّقْوَى هَاهُنَا. وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ: بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০২. হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়'আত করেছিলাম নামায কায়েমের উপর, যাকাত প্রদানের উপর এবং প্রতিটি মুসলমানের কল্যাণকামিতার উপর। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرِيرٍ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০৩. হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মুসলমানদের সমস্যা-সংকটে কোন চিন্তা ও উদ্বেগ রাখে না, সে তাদের মধ্যে নয়। আর যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ, তাঁর রাসূলের, তাঁর কিতাবের, তাঁর ইমামের (অর্থাৎ, খলীফার) ও সাধারণ মুসলমানদের কল্যাণকামী হয়ে না থাকে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। -তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَا يَهْتَمُّ بِأَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ , وَمَنْ لَا يُصْبِحُ وَيُمْسِي نَاصِحًا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِإِمَامِهِ وَلِعَامَّةِ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ» (رواه الطبرانى فى الاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০৪. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। কোন বান্দা খাঁটি মু'মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না সে আপন মুসলমান ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী বন্ধনের কয়েকটি বিশেষ অধিকার
১০৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলমানের অপর মুসলমানের উপর পাঁচটি দাবী রয়েছে। (১) সালামের উত্তর দেওয়া, (২) রোগীকে দেখতে যাওয়া, (৩) জানাযার সাথে যাওয়া, (৪) দাওয়াত গ্রহণ করা, (৫) হাঁচির জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলা। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ رَدُّ السَّلاَمِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের হেফাযত ও সংরক্ষণ
১০৬. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে (হতভাগা) মুসলমান অপর মুসলমানকে এমন কোন স্থানে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয়, যেখানে তার মর্যাদার উপর আঘাত করা হয় ও ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত করা হয়, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঐ স্থানে সাহায্যহীন অবস্থায় ছেড়ে দিবেন, যেখানে সে তাঁর সাহায্য পছন্দ করে। আর যে (ভাগ্যবান) মুসলমান অপর কোন মুসলমানের এমন ক্ষেত্রে সাহায্য করে, যেখানে তার মর্যাদার উপর আঘাত করা হয় ও তার ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত হয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এমন ক্ষেত্রে সাহায্য করবেন, যেখানে সে তাঁর সাহায্য পছন্দ করে। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَخْذُلُ امْرَأً مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ تُنْتَهَكُ فِيهِ حُرْمَتُهُ وَيُنْتَقَصُ فِيهِ مِنْ عِرْضِهِ إِلاَّ خَذَلَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَوْضِعٍ يُحِبُّ فِيهِ نُصْرَتَهُ وَمَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَنْصُرُ مُسْلِمًا فِي مَوْضِعٍ يُنْتَقَصُ مِنْ عِرْضِهِ وَيُنْتَهَكُ فِيهِ مِنْ حُرْمَتِهِ إِلاَّ نَصَرَهُ اللَّهُ فِي مَوْطِنٍ يُحِبُّ نُصْرَتَهُ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের হেফাযত ও সংরক্ষণ
১০৭. হযরত মু'আয ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুনাফিকের অনিষ্ট থেকে কোন মু'মিন বান্দাকে রক্ষা করল, (যেমন, কোন মুনাফিক কোন মু'মিনের উপর অপবাদ আরোপ করল এবং কোন ভাগ্যবান মুসলমান এটা প্রতিহত করল।) আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন একজন ফিরিশতা প্রেরণ করবেন, যে তার গোশতকে (দেহকে) জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে তার উপর অপবাদ আরোপ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জাহান্নামের সেতুর উপর আটকিয়ে রাখবেন, যে পর্যন্ত সে এ অপবাদের অপবিত্রতা থেকে পরিষ্কার ও মুক্ত না হয়।-আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ حَمَى مُؤْمِنًا مِنْ مُنَافِقٍ بَعَثَ اللَّهُ مَلَكًا يَحْمِي لَحْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ وَمَنْ رَمَى مُسْلِمًا بِشَيْءٍ يُرِيدُ شَيْنَهُ بِهِ حَبَسَهُ اللَّهُ عَلَى جِسْرِ جَهَنَّمَ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের হেফাযত ও সংরক্ষণ
১০৮. হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: যে কোন মুসলমান তার মুসলমান ভাইয়ের মর্যাদার উপর আপতিত আক্রমণ প্রতিহত করে, আল্লাহ্ তা'আলা এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন যে, কিয়ামতের দিন তার থেকে জাহান্নামের আগুন প্রতিহত করবেন। তারপর তিনি দলীল হিসাবে এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন: وَکَانَ حَقًّا عَلَیۡنَا نَصۡرُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ অর্থাৎ, আমার দায়িত্ব হচ্ছে মু'মিনদের সাহায্য করা। -শারহুস্সুন্নাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَرُدُّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ إِلا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَرُدَّ عَنْهُ نَارَ جَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ تَلا هَذِهِ الآيَةَ: {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} (رواه البغوى فى شرح السنة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের হেফাযত ও সংরক্ষণ
১০৯. হযরত আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের অগোচরে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত গীবতকে প্রতিহত করল, আল্লাহ তা'আলা তার ব্যাপারে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন যে, তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন। -বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ ذَبَّ عَنْ لَحْمِ أَخِيهِ بِالْمَغِيبَةَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُعْتِقَهُ مِنَ النَّارِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের হেফাযত ও সংরক্ষণ
১১০. হযরত আনাস রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তির সামনে তার কোন মুসলমান ভাইয়ের গীবত ও নিন্দাবাদ করা হয় এবং সে এটা প্রতিহত করতে সক্ষম এবং প্রতিহত করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সাহায্য করবেন। আর প্রতিহত করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও সে যদি এটা প্রতিহত ও তার সাহায্য না করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার এ ত্রুটির কারণে তাকে পাকড়াও করবেন। -শারহুস্সুন্নাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اغْتِيبَ عِنْدَهُ أَخُوهُ الْمُسْلِمُ، وَهُوَ يقْدِرُ عَلَى نَصْرِهِ، فَنَصَرَهُ، نَصَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ فَاِنْ لَّمْ يَنْصُرَهُ وَهُوَ يقْدِرُ عَلَى نَصْرِهِ، أَدَرَكَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ». (رواه البغوى فى شرح السنة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের আয়না
১১১. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মু'মিন অন্য মু'মিনের আয়না। এক মু'মিন অপর মু'মিনের ভাই, সে তার অনিষ্টকে প্রতিহত করে এবং তার পেছন থেকে তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ يَكُفُّ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَيَحُوطُهُ مِنْ وَرَائِهِ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাধারণ মানুষ ও সৃষ্টজীবের সাথে আচরণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী
উপরের হাদীসগুলোতে মুসলমানদেরকে অন্যান্য মুসলমানের সাথে সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিম্নে ঐসব হাদীসও পাঠ করে নিন, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী দিয়েছেন।
উপরের হাদীসগুলোতে মুসলমানদেরকে অন্যান্য মুসলমানের সাথে সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিম্নে ঐসব হাদীসও পাঠ করে নিন, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী দিয়েছেন।
১১২. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ﷺ)কে ঈমানের সর্বশ্রেষ্ঠ স্তর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। (অর্থাৎ, ঈমান সুলভ আমল ও আখলাকের মধ্যে কোনগুলো সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।) তিনি উত্তরে বললেন, তোমার কারো প্রতি ভালোবাসা ও শত্রুতা যেন কেবল আল্লাহর জন্যই হয়। আর তোমার জিহ্বাকে আল্লাহর যিকরে লাগিয়ে রাখবে। মু'আয বলেন, আমি নিবেদন করলাম, এটা ছাড়া আর কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, মানুষের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ কর, আর তাদের জন্য তাই অপছন্দ করবে, যা নিজের জন্য অপছন্দ কর। -আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذٍ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَفْضَلِ الْإِيمَانِ قَالَ: «أَنْ تُحِبَّ لِلَّهَ، وَتُبْغِضَ لِلَّهِ، وَتُعْمِلَ لِسَانَكَ فِي ذِكْرِ اللَّهِ» . قَالَ: وَمَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَأَنْ تُحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ وَتَكْرَهَ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ لِنَفْسِكَ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাধারণ মানুষ ও সৃষ্টজীবের সাথে আচরণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী
১১৩. হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ্ দয়া করবেন না, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَرْحَمُ اللَّهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাধারণ মানুষ ও সৃষ্টজীবের সাথে আচরণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী
১১৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (আল্লাহর সৃষ্টির উপর) দয়া প্রদর্শনকারীদেরকে দয়াময় আল্লাহ্ বিশেষ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর উপর দয়া কর, আসমানের অধিপতি তোমাদের উপর দয়া করবেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাধারণ মানুষ ও সৃষ্টজীবের সাথে আচরণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী
১১৫. হযরত আনাস ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: গোটা সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ঐ ব্যক্তিই তাঁর নিকট অধিকতর প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবার (অর্থাৎ, তাঁর সৃষ্টি)-এর সাথে উত্তম আচরণ করে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ وَ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الْخَلْقُ عِيَالُ اللهِ، فَأَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَى اللهِ مَنْ أَحْسَنَ إِلَى عِيَالِهِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
যদিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর পূর্বে আগত নবী-রাসূলগণও এর অনুমতি দিয়েছেন যে, যেসব পশু আরোহণ অথবা বোঝা বহন কিংবা অন্য কোন কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা ঐসব কাজ নেওয়া যাবে। অনুরূপভাবে যেসব পশুকে হালাল ও পবিত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, এগুলোকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এরই সাথে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলোর সাথে কষ্টদায়ক ও নির্দয় আচরণ করা যাবে না এবং এগুলোর ব্যাপারেও আল্লাহকে ভয় করতে হবে।
যদিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর পূর্বে আগত নবী-রাসূলগণও এর অনুমতি দিয়েছেন যে, যেসব পশু আরোহণ অথবা বোঝা বহন কিংবা অন্য কোন কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা ঐসব কাজ নেওয়া যাবে। অনুরূপভাবে যেসব পশুকে হালাল ও পবিত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, এগুলোকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এরই সাথে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলোর সাথে কষ্টদায়ক ও নির্দয় আচরণ করা যাবে না এবং এগুলোর ব্যাপারেও আল্লাহকে ভয় করতে হবে।
১১৬. হযরত সুহাইল ইবনুল হানযালিয়্যা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) একটি উটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যার পেটটি (ক্ষুধার কারণে) পিঠের সাথে লেগে গিয়েছিল। তিনি বললেন, তোমরা এসব নির্বাক প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। (এগুলোকে এভাবে ক্ষুধার্ত রেখে মেরে ফেলো না।) এগুলোর উপর আরোহণ করলে ভালো অবস্থায় (অর্থাৎ, পেটে খাবার দিয়ে) আরোহণ কর। আর এগুলোকে ছেড়ে রাখলে ভালো অবস্থায় (অর্থাৎ, পানাহার দিয়ে) ছেড়ে রাখ। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَهْلِ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ فَقَالَ: اتَّقُوا اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ الْمُعْجَمَةِ فَارْكَبُوهَا وَكُلُوهَا صَالِحَةً. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
১১৭. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন যে, এর মুখে দাগ লাগিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হয়েছে। তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হোক, যে এ কাজটি করেছে।-মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِمَارًا قَدْ وُسِمَ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا»
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
১১৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক পতিতা নারীকে এ কাজের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে যে, সে একটি কুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল- যা একটি কূপের কাছে পড়ে হাঁপাচ্ছিল এবং পিপাসায় তার মৃত্যুর উপক্রম হয়েছিল। ঐ মহিলাটি (বালতি-রশি না থাকার কারণে) পা থেকে চামড়ার মোজা খুলে এটা ওড়নার সাথে বেঁধে কোনক্রমে পানি তুলে আনল (এবং কুকুরকে পান করাল।) এ কারণেই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হল, পশুদের সেবায়ও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন, প্রতিটি (জীবের) তাজা কলিজার অধিকারী প্রাণীর সেবায়ই পুণ্য রয়েছে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: غُفِرَ لاِمْرَأَةٍ مُومِسَةٍ مَرَّتْ بِكَلْبٍ عَلَى رَأْسِ رَكِيٍّ يَلْهَثُ، قَالَ كَادَ يَقْتُلُهُ الْعَطَشُ، فَنَزَعَتْ خُفَّهَا، فَأَوْثَقَتْهُ بِخِمَارِهَا، فَنَزَعَتْ لَهُ مِنَ الْمَاءِ، فَغُفِرَ لَهَا بِذَلِكَ. قِيْلَ إِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ أَجْرًا؟ قَالَ: فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
১১৯. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন মুসলমান যখন কোন গাছের চারা লাগায় অথবা কোন ফসল ফলায়, তারপর এখান থেকে কোন মানুষ অথবা কোন পাখি কিংবা কোন পশু কিছু খায়, তাহলে এটা তার জন্য সদাকা ও সওয়াবের কাজ হবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا، أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا، فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ، إِلاَّ كَانَتْ لَهُ صَدَقَةٌ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
১২০. হযরত ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মহিলাকে একটি বিড়ালকে শাস্তি দেওয়ার কারণে আযাব দেওয়া হয়েছে। সে এটাকে বন্দী করে রেখেছিল এবং এ অবস্থায়ই বিড়াল ক্ষুধার কারণে মারা যায়। মহিলা নিজেও এটাকে খাবার দিত না এবং ছেড়েও দিত না যে, সে যমীনের কীট-পতঙ্গ খাবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ اَمْسَكْتَهَا، حَتَّى مَاتَتْ مِنَ الْجُوعِ، فَلَمْ تَكُنْ تُطْعِمُهَا وَلاَ تُرْسِلُهَا فَتَاكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: