মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৬৭ টি
হাদীস নং: ১২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পারস্পরিক সাক্ষাতের নিয়ম-নীতি
এ পর্যন্ত যেসব হাদীস আনা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণী এবং আল্লাহর সাধারণ সৃষ্টির সাথে আচরণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা জানা গেল। সামনে 'সাক্ষাতের আদব' এবং এর পরে 'মজলিসের আদব' সম্পর্কে যেসব হাদীস আনা হচ্ছে, ঐগুলোও প্রকৃত প্রস্তাবে জীবনের এক বিশেষ পরিধির মধ্যে পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কিত উপদেশাবলীই।
ইসলামের অভিবাদন, সালাম
পৃথিবীর সকল সভ্য জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য এবং সম্বোধিত ব্যক্তিকে বরণ ও তাকে আনন্দিত করার জন্য বিশেষ কোন বাক্য বলার প্রচলন সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। আমাদের (সংকলকের) দেশে ভারতে আমাদের দেশীয় ভাই হিন্দুরা সাক্ষাতের সময় 'নমস্তে' বলে থাকে। আবার প্রাচীন শ্রেণীর কম লেখাপড়া জানা লোকদেরকে 'রাম রাম' বলতেও শোনা যায়। ইউরোপের লোকদের মধ্যে প্রাতকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড মর্নিং' (শুভ সকাল) সন্ধ্যাকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড ইভিনিং' (শুভ সন্ধ্যা) এবং রাত্রিকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড নাইট' (শুভ রাত্রি) ইত্যাদি বলার প্রচলন রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবির্ভাবের সময় আরবদের মধ্যেও সাক্ষাতের সময় এ জাতীয় কিছু বাক্য বলার প্রচলন ছিল।
আবূ দাউদ শরীফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.-এর এ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা ইসলামপূর্ব যুগে পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় এভাবে বাক্য বিনিময় করতাম, أنعم الله بك علينا (আল্লাহ্ তোমার দ্বারা চোখের শীতলতা দান করুন) انعم صباحا (তোমার প্রভাত আনন্দদায়ক হোক।) পরে যখন আমরা জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার থেকে বের হয়েই ইসলামের আলোর দিকে এসে গেলাম, তখন আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করে দেওয়া হল এবং এর স্থলে السلام عليكم শিক্ষা দেওয়া হল।
আজও যদি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বাস্তবতা এটাই যে, এর চেয়ে কোন উত্তম বাক্য ভালোবাসা, সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য কল্পনাই করা যায় না। এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের প্রতি একটু চিন্তা করুন। এটা সর্বোত্তম ও অত্যন্ত ব্যাপক দু‘আবাক্য। এর মর্ম এই যে, আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। এটা ছোটদের জন্য স্নেহ-মমতা, আদব ও ভালোবাসার বাক্যও, আর বড়দের জন্য এতে সম্মান ও শ্রদ্ধাও রয়েছে। তাছাড়া 'আস্সালাম' শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহেরও একটি। কুরআন মজীদে এ বাক্যটি নবী-রাসূলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও সুসংবাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনুগ্রহ, প্রীতি ও ভালোবাসার রস ভরা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی
এ দিকে ঈমানদারদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতেও এভাবে সালাম নিবেদন করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ অন্য এক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আমার ঐসব বান্দা আপনার কাছে আসে, যারা ঈমান এনেছে, তখন আপনি তাদেরকে বলুন, سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةِ (আসসালামু আলাইকুম! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য রহমতের ফায়সালা করে দিয়েছেন।) আর আখেরাতে জান্নাতে প্রবেশের সময় আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ঈমানদারকে বলা হবে: ادخلوها بسلام আরো বলা হবে: سَلام عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنعم عُقبى الدَّار সারকথা, সাক্ষাতের সময়ের জন্য السلام عليكم থেকে উত্তম কোন বাক্য হতে পারে না। যদি সাক্ষাতকারী ব্যক্তি পরস্পর পূর্বপরিচিত হয় এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব অথবা আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক থাকে, তাহলে এ বাক্যের মধ্যে এ সম্পর্ক ও এর ভিত্তিতে ভালোবাসা, আনন্দ, সম্মান ও কল্যাণকামিতার পূর্ণ প্রকাশ রয়েছে। আর যদি পূর্ব থেকে পরিচয় ও সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ বাক্যটিই সম্পর্ক, বিশ্বস্ততা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যম হয়ে যায়। এ বাক্য দ্বারা একজন অপরজনকে যেন আশ্বস্ত করে ও নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, আমি তোমার কল্যাণকামী ও তোমার জন্য দু‘আকারী। আমার মাঝে ও তোমার মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন ও সম্পর্ক রয়েছে। আমার পক্ষ থেকে তোমার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যাহোক, সাক্ষাতের সময় وعَلَيْكُمُ السّلامُ ও السّلامُ عَلَيْكُمْ -এর শিক্ষা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অত্যন্ত মুবারক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত, আর এটা ইসলামের এক মহান প্রতীক। এ জন্যই তিনি এর খুবই তাকীদ করেছেন এবং এর বিরাট ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
এ পর্যন্ত যেসব হাদীস আনা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণী এবং আল্লাহর সাধারণ সৃষ্টির সাথে আচরণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা জানা গেল। সামনে 'সাক্ষাতের আদব' এবং এর পরে 'মজলিসের আদব' সম্পর্কে যেসব হাদীস আনা হচ্ছে, ঐগুলোও প্রকৃত প্রস্তাবে জীবনের এক বিশেষ পরিধির মধ্যে পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কিত উপদেশাবলীই।
ইসলামের অভিবাদন, সালাম
পৃথিবীর সকল সভ্য জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য এবং সম্বোধিত ব্যক্তিকে বরণ ও তাকে আনন্দিত করার জন্য বিশেষ কোন বাক্য বলার প্রচলন সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। আমাদের (সংকলকের) দেশে ভারতে আমাদের দেশীয় ভাই হিন্দুরা সাক্ষাতের সময় 'নমস্তে' বলে থাকে। আবার প্রাচীন শ্রেণীর কম লেখাপড়া জানা লোকদেরকে 'রাম রাম' বলতেও শোনা যায়। ইউরোপের লোকদের মধ্যে প্রাতকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড মর্নিং' (শুভ সকাল) সন্ধ্যাকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড ইভিনিং' (শুভ সন্ধ্যা) এবং রাত্রিকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড নাইট' (শুভ রাত্রি) ইত্যাদি বলার প্রচলন রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবির্ভাবের সময় আরবদের মধ্যেও সাক্ষাতের সময় এ জাতীয় কিছু বাক্য বলার প্রচলন ছিল।
আবূ দাউদ শরীফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.-এর এ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা ইসলামপূর্ব যুগে পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় এভাবে বাক্য বিনিময় করতাম, أنعم الله بك علينا (আল্লাহ্ তোমার দ্বারা চোখের শীতলতা দান করুন) انعم صباحا (তোমার প্রভাত আনন্দদায়ক হোক।) পরে যখন আমরা জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার থেকে বের হয়েই ইসলামের আলোর দিকে এসে গেলাম, তখন আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করে দেওয়া হল এবং এর স্থলে السلام عليكم শিক্ষা দেওয়া হল।
আজও যদি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বাস্তবতা এটাই যে, এর চেয়ে কোন উত্তম বাক্য ভালোবাসা, সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য কল্পনাই করা যায় না। এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের প্রতি একটু চিন্তা করুন। এটা সর্বোত্তম ও অত্যন্ত ব্যাপক দু‘আবাক্য। এর মর্ম এই যে, আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। এটা ছোটদের জন্য স্নেহ-মমতা, আদব ও ভালোবাসার বাক্যও, আর বড়দের জন্য এতে সম্মান ও শ্রদ্ধাও রয়েছে। তাছাড়া 'আস্সালাম' শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহেরও একটি। কুরআন মজীদে এ বাক্যটি নবী-রাসূলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও সুসংবাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনুগ্রহ, প্রীতি ও ভালোবাসার রস ভরা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی
এ দিকে ঈমানদারদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতেও এভাবে সালাম নিবেদন করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ অন্য এক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আমার ঐসব বান্দা আপনার কাছে আসে, যারা ঈমান এনেছে, তখন আপনি তাদেরকে বলুন, سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةِ (আসসালামু আলাইকুম! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য রহমতের ফায়সালা করে দিয়েছেন।) আর আখেরাতে জান্নাতে প্রবেশের সময় আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ঈমানদারকে বলা হবে: ادخلوها بسلام আরো বলা হবে: سَلام عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنعم عُقبى الدَّار সারকথা, সাক্ষাতের সময়ের জন্য السلام عليكم থেকে উত্তম কোন বাক্য হতে পারে না। যদি সাক্ষাতকারী ব্যক্তি পরস্পর পূর্বপরিচিত হয় এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব অথবা আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক থাকে, তাহলে এ বাক্যের মধ্যে এ সম্পর্ক ও এর ভিত্তিতে ভালোবাসা, আনন্দ, সম্মান ও কল্যাণকামিতার পূর্ণ প্রকাশ রয়েছে। আর যদি পূর্ব থেকে পরিচয় ও সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ বাক্যটিই সম্পর্ক, বিশ্বস্ততা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যম হয়ে যায়। এ বাক্য দ্বারা একজন অপরজনকে যেন আশ্বস্ত করে ও নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, আমি তোমার কল্যাণকামী ও তোমার জন্য দু‘আকারী। আমার মাঝে ও তোমার মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন ও সম্পর্ক রয়েছে। আমার পক্ষ থেকে তোমার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যাহোক, সাক্ষাতের সময় وعَلَيْكُمُ السّلامُ ও السّلامُ عَلَيْكُمْ -এর শিক্ষা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অত্যন্ত মুবারক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত, আর এটা ইসলামের এক মহান প্রতীক। এ জন্যই তিনি এর খুবই তাকীদ করেছেন এবং এর বিরাট ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
১২১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা দয়াময় আল্লাহর ইবাদত কর, মানুষকে আহার দান কর এবং সালামের প্রসার ঘটাও, শান্তির সাথে জান্নাতে যেতে পারবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَأَفْشُوا السَّلاَمَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
১২২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল যে, ইসলামে (অর্থাৎ, ইসলামী আমলসমূহের মধ্যে) কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, (একটি) এই যে, তুমি আল্লাহর বান্দাদেরকে খানা খাওয়াবে, (দ্বিতীয়টি) এই যে, যার সাথে পরিচয় আছে তাকে এবং যার সাথে পরিচয় নেই তাকেও সালাম করবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ قَالَ: تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتُقْرِئُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
১২৩. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না, যে পর্যন্ত পূর্ণ মু'মিন না হবে। আর তোমরা পূর্ণ মু'মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত একে অপরকে ভালো বাসবে না। আমি কি তোমাদেরকে ঐ আমলের কথা বলে দিব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হবে? (সেটা হচ্ছে এই যে.) তোমরা বেশী করে সালামের প্রচলন ও প্রসার করবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا. أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شيء إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের প্রতিদান ও সওয়াব
১২৪. হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে বলল, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালামের উত্তর দিলেন। তারপর লোকটি মজলিসে বসে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দশ (অর্থাৎ, সালামের বিনিময়ে এ বান্দার জন্য দশটি নেকী লিখে দেওয়া হল।) তারপর আরেক ব্যক্তি আসল এবং বলল, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ, তিনি এর সালামের উত্তর দিলেন। তারপর সে বসে গেল এবার তিনি বললেন, বিশ। (অর্থাৎ, সে বিশটি নেকীর অধিকারী হয়ে গেল।) তারপর আরেক ব্যক্তি আসল এবং বলল, السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ, তিনি তারও সালামের উত্তর দিলেন এবং সে মজলিসে বসে গেল। এবার তিনি বললেন, ত্রিশ। (অর্থাৎ, এ লোকটি ত্রিশটি নেকী পেয়ে গেল। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ إِنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ. فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَشْرٌ. ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ. فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ: عِشْرُونَ. ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ: ثَلاَثُونَ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের প্রতিদান ও সওয়াব
১২৫. হযরত আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ঐ ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম করে।-আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِاللَّهِ مَنْ بَدَأَ بِالسَّلاَمِ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের প্রতিদান ও সওয়াব
১২৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম করে, সে অহংকার থেকে মুক্ত।বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " الْبَادِئُ بِالسَّلَامِ بَرِيءٌ مِنَ الْكِبْرِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এবার এমন কিছু হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সালামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতের সময় সালাম
সাক্ষাতের সময় সালাম
১২৭. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের ছয়টি বিশেষ দাবী রয়েছে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এগুলো কি? তিনি উত্তর দিলেন, (১) যখন তার সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সালাম দিবে। (২) যখন তোমাকে দাওয়াত দিবে, তখন (শরী‘আত কোন বাধা না থাকলে) তা কবুল করবে। (৩) যখন সে কোন উপদেশ (অথবা পরামর্শ চাইবে, তখন তাকে পরামর্শ দিবে। (৪) যখন হাঁচি দিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে, তখন উত্তরে তুমি 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে। (৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে দেখতে যাবে। (৬) যখন সে মারা যায়, তখন তার জানাযার সাথে যাবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ. قِيلَ مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ:إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাক্ষাতের সময় সালাম
১২৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করে, তখন সে যেন তাকে সালাম করে। এরপর যদি তাদের দু'জনের মাঝে কোন গাছ, দেওয়াল অথবা পাথর আড়াল সৃষ্টি করে (এবং সামান্য সময়ের জন্য একজন অপরজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়) আর তারপর আবার সাক্ষাত হয়, তাহলে পুনরায় সালাম করবে। আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا لَقِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَا شَجَرَةٌ أَوْ جِدَارٌ أَوْ حَجَرٌ ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের ঘরে অথবা কোন মজলিসে আসা-যাওয়ার সময় সালাম করা
১২৯. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছিলেন, হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবারের লোকদের কাছে আস, তখন সালাম কর। এটা তোমার জন্যও বরকতের কারণ হবে এবং তোমার পরিবারের লোকদের জন্যও। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ يَكُونُ بَرَكَةً عَلَيْكَ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِكَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের ঘরে অথবা কোন মজলিসে আসা-যাওয়ার সময় সালাম করা
১৩০. হযরত কাতাদাহ (তাবেয়ী) থেকে মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ কর, তখন গৃহবাসীকে সালাম কর। আর যখন ঘর থেকে বের হও, তখনও তাদেরকে বিদায়ী সালাম দিয়ে বের হও। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا دَخَلْتُمْ بَيْتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهِ، فَإِذَا خَرَجْتُمْ فَأَوْدِعُوا أَهْلَهُ بِسَلَامٍ ". (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের ঘরে অথবা কোন মজলিসে আসা-যাওয়ার সময় সালাম করা
১৩১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন কোন মজলিসে পৌঁছে, তখন তার প্রথম কর্তব্য এই যে, সে মজলিসবাসীকে সালাম করবে। তারপর যদি তার সেখানে বসার ইচ্ছা হয়, তাহলে বসে যাবে। তারপর সে যখন উঠে যাবে, তখন আবার সালাম করবে। তার প্রথম সালামটি দ্বিতীয় সালামের চেয়ে উত্তম নয়। (অর্থাৎ, পরের বিদায়ী সালামটির মর্তবাও তাই, যা প্রথম সালামে অর্জিত হয়, এর চেয়ে একটুও কম নয়।) -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِّ النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى مَجْلِسٍ فَلْيُسَلِّمْ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ ثُمَّ إِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের ব্যাপারে কিছু বিধি-বিধান ও নীতিমালা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ও সালামের উত্তরের ব্যাপারে কিছু বিধান ও নীতিমালাও শিক্ষা দিয়েছেন। এগুলোর জন্য নিম্নের কয়েকটি হাদীস পাঠ করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ও সালামের উত্তরের ব্যাপারে কিছু বিধান ও নীতিমালাও শিক্ষা দিয়েছেন। এগুলোর জন্য নিম্নের কয়েকটি হাদীস পাঠ করুন।
১৩২. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ছোট বড়কে সালাম করবে, পথচারী উপবিষ্টকে সালাম করবে এবং কম সংখ্যক লোক বেশী সংখ্যক লোকের জামা‘আতকে সালাম করবে। -বুখারী
(হযরত আবূ হুরায়রা রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, যানবাহনে আরোহণকারী ব্যক্তি পদচারী যাত্রীকে সালাম দিবে।)
(হযরত আবূ হুরায়রা রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, যানবাহনে আরোহণকারী ব্যক্তি পদচারী যাত্রীকে সালাম দিবে।)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ، وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালামের ব্যাপারে কিছু বিধি-বিধান ও নীতিমালা
১৩৩. হযরত আলী রাযি. সূত্রে মারফু পদ্ধতিতে অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি সম্পৃক্ত করে বর্ণিত, পথচারী দলের পক্ষ থেকে একজন সালাম করলে দলের সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবে। তেমনিভাবে উপবিষ্ট দলের পক্ষ থেকে একজন উত্তর দিলেই সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ مَرْفُوعًا: " يُجْزِئُ عَنِ الْجَمَاعَةِ إِذَا مَرُّوا أَنْ يُسَلِّمَ أَحَدُهُمْ، وَيُجْزِئُ عَنِ الْجُلُوسِ أَنْ يَرُدَّ أَحَدُهُمْ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন কোন অবস্থায় সালাম না করা চাই
১৩৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)কে এমন অবস্থায় সালাম দিল যে, তিনি তখন পেশাব করতে বসেছিলেন। তাই তিনি তার সালামের উত্তর দিলেন না। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّلاَمَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন কোন অবস্থায় সালাম না করা চাই
১৩৫. হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাযি. থেকে একটি দীর্ঘ হাদীসের অধীনে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসহাবে সুফফার নিকট আসতেন এবং এমন আস্তে করে সালাম করতেন যে, নিদ্রিত লোকেরা এতে জেগে উঠত না, আর জাগ্রত লোকেরা সালাম শুনে নিত। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ فِىْ حَدِيْثِ طَوِيْلٍ فَيَجِيءُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اللَّيْلِ فَيُسَلِّمُ عَلَيْنَا تَسْلِيمًا لاَ يُوقِظُ النَّائِمَ وَيُسْمِعُ الْيَقْظَانَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসাফাহা প্রসঙ্গ
সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, আনন্দ ও সম্মান প্রদর্শনের আবেগ প্রকাশের জন্য সালাম ছাড়া এবং এর চেয়েও উন্নততর একটি মাধ্যম হচ্ছে মুসাফাহা, যা সাধারণত সালামের সাথে অথবা এর পরে হয়ে থাকে এবং এর দ্বারা যেন সালামের উদ্দেশ্যসমূহের পূর্ণতা লাভ হয়। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবে একথাই বলা হয়েছে।
সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, আনন্দ ও সম্মান প্রদর্শনের আবেগ প্রকাশের জন্য সালাম ছাড়া এবং এর চেয়েও উন্নততর একটি মাধ্যম হচ্ছে মুসাফাহা, যা সাধারণত সালামের সাথে অথবা এর পরে হয়ে থাকে এবং এর দ্বারা যেন সালামের উদ্দেশ্যসমূহের পূর্ণতা লাভ হয়। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবে একথাই বলা হয়েছে।
১৩৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সালামের পূর্ণতা হচ্ছে মুসাফাহা। -তিরমিযী, আবু দাউদ
[প্রায় এ বিষয়বস্তুটিই তিরমিযী শরীফেই অন্য এক হাদীসের অধীনে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু উমামা রাযি. থেকেও বর্ণিত রয়েছে।
[প্রায় এ বিষয়বস্তুটিই তিরমিযী শরীফেই অন্য এক হাদীসের অধীনে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু উমামা রাযি. থেকেও বর্ণিত রয়েছে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ اَبِىْ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مِنْ تَمَامِ التَّحِيَّةِ الأَخْذُ بِاليَدِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসাফাহার প্রতিদান ও সওয়াব এবং এর বরকত
১৩৭. হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: যখন দু'জন মুসলমান পরস্পর সাক্ষাত করে এবং তারা মুসাফাহা করে, আল্লাহ্র প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাদের উভয়কে ক্ষমা করেই দেওয়া হয়। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ فَتَصَافَحَا، وَحَمِدَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَاسْتَغْفَرَاهُ غُفِرَ لَهُمَا» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসাফাহার প্রতিদান ও সওয়াব এবং এর বরকত
১৩৮. হযরত আতা খোরাসানী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা একে অপরের সাথে মুসাফাহা কর, এতে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে।
একে অপরকে হাদিয়া প্রদান কর, এতে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং শত্রুতা দূর হবে। -মুয়াত্তা মালেক
এ হাদীসটি ইমাম মালেক (রহ) এ ভাবেই আতা খোরাসানী থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তিনি এ কথা উল্লেখ করেননি যে, তার কাছে এ হাদীসটি কোন সাহাবীর মাধ্যমে পৌঁছেছে। এ জাতীয় হাদীসকে মুরসাল বলা হয় এবং এভাবে বর্ণনা করাকে ইরসাল বলা হয়।
একে অপরকে হাদিয়া প্রদান কর, এতে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং শত্রুতা দূর হবে। -মুয়াত্তা মালেক
এ হাদীসটি ইমাম মালেক (রহ) এ ভাবেই আতা খোরাসানী থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তিনি এ কথা উল্লেখ করেননি যে, তার কাছে এ হাদীসটি কোন সাহাবীর মাধ্যমে পৌঁছেছে। এ জাতীয় হাদীসকে মুরসাল বলা হয় এবং এভাবে বর্ণনা করাকে ইরসাল বলা হয়।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْخُرَاسَانِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «تَصَافَحُوا يَذْهَبِ الْغِلُّ. وَتَهَادَوْا تَحَابُّوا، وَتَذْهَبِ الشَّحْنَاءُ». (رواه مالك مرسلا)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মু'আনাকা, (কোলাকোলি) চুম্বন ও কারো সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া
ভালোবাসা ও সম্পর্ক প্রকাশের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত মাধ্যম মু'আনাকা ও চুম্বন। কিন্তু এর অনুমতি কেবল ঐ অবস্থায়ই রয়েছে, যখন পরিবেশ ও ক্ষেত্রের দৃষ্টিতে এটা কোন শরী‘আগত কল্যাণের পরিপন্থী না হয় এবং এর দ্বারা কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হওয়ার আশংকা না থাকে। তিরমিযী শরীফে হযরত আনাস রাযি. থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল যে, যখন আমার ভাই অথবা কোন প্রিয়জনের সাথে আমার সাক্ষাত হয়, তখন কি এর অনুমতি আছে যে, আমি তাকে জড়িয়ে ধরব, তার সাথে গলাগলি করব অথবা তাকে চুমু খাব? তিনি উত্তরে বললেন, না, এর অনুমতি নেই। ঐ ব্যক্তি আরয করল, তাহলে এর অনুমতি আছে কি যে, আমি তার হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মুসাফাহা করব? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, এর অনুমতি আছে। এ হাদীস থেকে মু'আনাকা ও চুমু খাওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা বুঝা যায়, এ ব্যাপারে হাদীস ব্যাখ্যাতাদের মতামত অন্য অনেক হাদীসের আলোকে এটাই যে, এর সম্পর্ক ঐ অবস্থার সাথে যখন বুক মিলানো ও চুমু খাওয়ার মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা অনিষ্টের সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। অন্যথায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মু'আনাকা ও চুমু খাওয়ার অনেক ঘটনা বর্ণিত ও প্রমাণিত রয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি ঘটনা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
ভালোবাসা ও সম্পর্ক প্রকাশের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত মাধ্যম মু'আনাকা ও চুম্বন। কিন্তু এর অনুমতি কেবল ঐ অবস্থায়ই রয়েছে, যখন পরিবেশ ও ক্ষেত্রের দৃষ্টিতে এটা কোন শরী‘আগত কল্যাণের পরিপন্থী না হয় এবং এর দ্বারা কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হওয়ার আশংকা না থাকে। তিরমিযী শরীফে হযরত আনাস রাযি. থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল যে, যখন আমার ভাই অথবা কোন প্রিয়জনের সাথে আমার সাক্ষাত হয়, তখন কি এর অনুমতি আছে যে, আমি তাকে জড়িয়ে ধরব, তার সাথে গলাগলি করব অথবা তাকে চুমু খাব? তিনি উত্তরে বললেন, না, এর অনুমতি নেই। ঐ ব্যক্তি আরয করল, তাহলে এর অনুমতি আছে কি যে, আমি তার হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মুসাফাহা করব? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, এর অনুমতি আছে। এ হাদীস থেকে মু'আনাকা ও চুমু খাওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা বুঝা যায়, এ ব্যাপারে হাদীস ব্যাখ্যাতাদের মতামত অন্য অনেক হাদীসের আলোকে এটাই যে, এর সম্পর্ক ঐ অবস্থার সাথে যখন বুক মিলানো ও চুমু খাওয়ার মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা অনিষ্টের সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। অন্যথায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মু'আনাকা ও চুমু খাওয়ার অনেক ঘটনা বর্ণিত ও প্রমাণিত রয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি ঘটনা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
১৩৯. হযরত আইয়ূব ইবনে বশীর সূত্রে আনাযা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু যর গিফারী রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাদের সাথে মুসাফাহা করতেন- যখন আপনারা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি যখনই তাঁর সাথে সাক্ষাত করেছি, তখনই তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করেছেন। একবার তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন, কিন্তু তখন আমি বাড়ীতে ছিলাম না। যখন বাড়ীতে আসলাম এবং আমাকে বলা হল (যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তলব করেছেন।) তখন আমি তাঁর খেদমতে হাজির হলাম। সে সময় তিনি একটি খাটের উপর ছিলেন। তিনি সেখান থেকে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং মু'আনাকা করলেন। তাঁর এই মু'আনাকা খুবই আনন্দদায়ক ও বরকতময় ছিল। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بُشَيْرِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ عَنَزَةَ، أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي ذَرٍّ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَافِحُكُمْ إِذَا لَقِيتُمُوهُ؟ قَالَ: «مَا لَقِيتُهُ قَطُّ إِلَّا صَافَحَنِي، وَبَعَثَ إِلَيَّ ذَاتَ يَوْمٍ وَلَمْ أَكُنْ فِي أَهْلِي فَلَمَّا جِئْتُ أُخْبِرْتُ أَنَّهُ أَرْسَلَ لِي، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ عَلَى سَرِيرِهِ فَالْتَزَمَنِي، فَكَانَتْ تِلْكَ أَجْوَدَ وَأَجْوَدَ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মু'আনাকা, (কোলাকোলি) চুম্বন ও কারো সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া
১৪০. তাবেয়ী হযরত শা'বী (রহ) থেকে মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) হযরত জাফর ইবনে আবু তালেবের সাথে সাক্ষাত করলেন। (যখন তিনি আবিসিনিয়া থেকে ফেরত আসলেন।) তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন অর্থাৎ, মু'আনাকা করলেন এবং তার দু'চোখের মাঝে (ললাটে) চুমু খেলেন। -আবু দাউদ, বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَلَقَّى جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَالْتَزَمَهُ، وَقَبَّلَ مَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ» (رواه ابوداؤد والبيهقى فى شعب الايمان مرسلا)
তাহকীক: