মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৬৭ টি
হাদীস নং: ৪১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার খেদমত ও আনুগত্যের পার্থিব কল্যাণসমূহ
পিতামাতার খেদমত ও আনুগত্যের প্রকৃত বিনিময় তো হচ্ছে জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। যেমন ঐসব হাদীস দ্বারা জানা গিয়েছে, যেগুলো পিতামাতার হক শিরোনামে আগেই আনা হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিতামাতার সেবা ও আনুগত্যকারী সন্তানদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা বিশেষ কিছু কল্যাণ ও বরকত দ্বারা এই দুনিয়াতেও ভূষিত করে থাকেন।
পিতামাতার খেদমত ও আনুগত্যের প্রকৃত বিনিময় তো হচ্ছে জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। যেমন ঐসব হাদীস দ্বারা জানা গিয়েছে, যেগুলো পিতামাতার হক শিরোনামে আগেই আনা হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিতামাতার সেবা ও আনুগত্যকারী সন্তানদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা বিশেষ কিছু কল্যাণ ও বরকত দ্বারা এই দুনিয়াতেও ভূষিত করে থাকেন।
৪১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা পিতামাতার খেদমত ও তাদের সাথে উত্তম আচরণের বিনিময়ে মানুষের হায়াত বাড়িয়ে দেন। ইবনে মুনী, ইবনে আদী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن جابر قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إن الله تعالى يزيد في عمر الرجل ببره والديه. " (رواه ابن منيع وابن عدى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার খেদমত ও আনুগত্যের পার্থিব কল্যাণসমূহ
৪২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা তোমাদের পিতামাতার খেদমত ও আনুগত্য কর, তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের খেদমত ও আনুগত্য করবে। তোমরা সাধুতা বজায় রেখে চল, তোমাদের স্ত্রীরাও সাধুতা বজায় রেখে চলবে। তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن ابن عمر قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بِرُّوا آبَاءَكُمْ يَبِرُّكُمْ أَبْنَاؤُكُمْ وَعِفُّوا تَعِفُّ نِسَاؤُكُمْ. (رواه الطبرانى فى الاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার অবাধ্যতা ও তাদেরকে কষ্ট দেওয়া মহাপাপ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে পিতামাতার আনুগত্য ও তাদের শান্তি প্রদানকে উঁচু স্তরের পুণ্যকাজ সাব্যস্ত করেছেন, তেমনিভাবে তাদের অবাধ্যতা ও কষ্টদানকে জঘন্যতম ও নিকৃষ্টতর গুনাহ বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে পিতামাতার আনুগত্য ও তাদের শান্তি প্রদানকে উঁচু স্তরের পুণ্যকাজ সাব্যস্ত করেছেন, তেমনিভাবে তাদের অবাধ্যতা ও কষ্টদানকে জঘন্যতম ও নিকৃষ্টতর গুনাহ বলেছেন।
৪৩. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ)কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল (যে এগুলো কি কি?) তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্যতা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দান। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الكَبَائِرِ، فَقَالَ: «الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَشَهَادَةُ الزُّورِ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার অবাধ্যতা ও তাদেরকে কষ্ট দেওয়া মহাপাপ
৪৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে নিজের পিতামাতাকে গালি দেওয়া। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি কি নিজের পিতামাতাকে গালি দিতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে কারো পিতাকে গালি দেয়, আর সে প্রতি উত্তরে তার পিতাকে গালি দেয়। সে কারো মাকে গালি দেয়, আর সে প্রতি উত্তরে তার মাকে গালি দেয়। (তাই সে নিজেই যেন তার পিতামাতাকে গালি শুনাল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنَ الْكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের অধিকার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব
ইসলামী শিক্ষায় পিতামাতা ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের অধিকার আদায়ের উপরও সবিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেলায়ে রেহমী তথা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এই বিশেষ শিরোনাম। কুরআন মজীদে যেখানে পিতামাতার খেদমত ও তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে وذى القربي বলে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের আত্মীয়তার হক আদায়েরও কঠোর তাকীদ করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে বুখারী ও মুসলিম শরীফের বরাতে এক প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে যে, খেদমত ও সদাচরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম হক হচ্ছে তোমার মায়ের, তারপর পিতার, তারপর স্তর হিসাবে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের। এবার এখানে ঐ জাতীয় কিছু হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার গুরুত্ব এবং এর ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করা হয়েছে অথবা এর বিপরীত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামী শিক্ষায় পিতামাতা ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের অধিকার আদায়ের উপরও সবিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেলায়ে রেহমী তথা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এই বিশেষ শিরোনাম। কুরআন মজীদে যেখানে পিতামাতার খেদমত ও তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে وذى القربي বলে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের আত্মীয়তার হক আদায়েরও কঠোর তাকীদ করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে বুখারী ও মুসলিম শরীফের বরাতে এক প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে যে, খেদমত ও সদাচরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম হক হচ্ছে তোমার মায়ের, তারপর পিতার, তারপর স্তর হিসাবে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের। এবার এখানে ঐ জাতীয় কিছু হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার গুরুত্ব এবং এর ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করা হয়েছে অথবা এর বিপরীত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
৪৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রাহেম অর্থাৎ, আত্মীয়তার দাবী শব্দটি রহমান থেকে নির্গত। (অর্থাৎ, দয়াময় আল্লাহর রহমতের একটি শাখা।) মহান আল্লাহ্ একে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে তোমাকে সংযুক্ত করবে, আমি তাকে সংযুক্ত রাখব, আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করব। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ الرَّحِمَ شَجْنَةٌ مِنَ الرَّحْمَنِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ قَطَعْتُهُ " (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের অধিকার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব
৪৬. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেন: আমি আল্লাহ্, আমি রহমান। আমি আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করেছি এবং নিজের নাম রহমান থেকে নির্গত করে এটাকে 'রাহেম' নাম দিয়েছি। অতএব, যে এটাকে সংযুক্ত রাখবে, আমি তাকে সংযুক্ত রাখব, আর যে এটা ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করব। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا اللَّهُ، وَأَنَا الرَّحْمَنُ، خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنْ اسْمِي، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার কতিপয় পার্থিব কল্যাণ
৪৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, তার রিযিকে প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য আসুক এবং দুনিয়াতে তার পদচিহ্ন প্রলম্বিত (অর্থাৎ, হায়াত দীর্ঘ) হোক, তাহলে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা জান্নাতের পথে অন্তরায়
৪৮. হযরত জুবাইর ইবনে মুতঈম রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যেতে পারবে না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সাথেও আত্মীয়তা অটুট রাখা
গোত্রীয় জীবনে এমনও হয় যে, কোন ব্যক্তি আত্মীয়তার হক আদায় করে না; বরং আত্মীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, এমন লোকদের সাথেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।
গোত্রীয় জীবনে এমনও হয় যে, কোন ব্যক্তি আত্মীয়তার হক আদায় করে না; বরং আত্মীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, এমন লোকদের সাথেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।
৪৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি আত্মীয়তার হক আদায়ের দাবী করতে পারে না, যে বিনিময় হিসাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। প্রকৃতপক্ষে আত্মীয়তা রক্ষাকারী ঐ ব্যক্তি, যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে এটা রক্ষা করে চলে। বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَمْرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنِ الوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বসমূহ
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কসমূহের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের যে বিশেষ ধরন ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এর সাথে যে বিরাট স্বার্থ ও উপকারিতা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, এটা বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন রাখে না। তাছাড়া জীবনের প্রশান্তি ও মনের প্রসন্নতা অনেকাংশে এই মধুর সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থার উপর নির্ভরশীল। তারপর এ কথাও স্পষ্ট যে, এর বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্রতার সাথে জীবনের ঐ আনন্দ ও সুখ, যা এ সম্পর্কের দ্বারাই অর্জিত হতে পারে, আর মানুষ ভ্রষ্টামী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বেঁচে থেকে জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে। আর মানুষের বংশধারাও মর্যাদা ও সম্মানের সাথে অব্যাহত থাকবে- যা এ দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়। আর একথাও সুস্পষ্ট যে, এ উদ্দেশ্যসমূহও ঐ অবস্থায়ই উত্তমরূপে হতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে অধিক ভালোবাসা, সমঝোতা ও সুসম্পর্ক পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যসমূহের ব্যাপারে যে পথনির্দেশ দিয়েছেন, এগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য এটাই যে, এ সম্পর্ক উভয়ের জন্য খুবই মধুময়, আনন্দদায়ক ও শান্তির কারণ হবে এবং একজন অপরজনকে অন্তর দিয়ে জড়িয়ে থাকবে। এভাবে যে উদ্দেশ্যের জন্য এ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, সে উদ্দেশ্যসমূহ যেন উত্তমরূপে অর্জিত হয়।
এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার সারকথা এই যে, স্ত্রীর জন্য উচিত, সে তার স্বামীকে নিজের জন্য সবার চেয়ে উর্ধ্বে মনে করবে, তার বিশ্বস্ত ও অনুগত হয়ে থাকবে, তার কল্যাণকামিতা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রুটি করবে না, নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তার সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত মনে করবে। পক্ষান্তরে স্বামীর উচিত সে নিজের স্ত্রীকে আল্লাহ্ প্রদত্ত নেয়ামত মনে করবে, তার মূল্যায়ন করবে, তাকে ভালোবাসা দান করবে। যদি তার কোন ভুল হয়ে যায়, তাহলে সেটা উপেক্ষা করে যাবে; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তার সংশোধনের চেষ্টা করবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তার বিভিন্ন প্রয়োজন সুন্দরভাবে পূরণ করবে এবং তার আরাম ও মনোরঞ্জনের চেষ্টা করবে।
এসব শিক্ষার সঠিক মূল্য ও মর্যাদা বুঝার জন্য এখন থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে সমগ্র মনুষ্য জগত বিশেষ করে আরবদের ঐ পরিবেশকে সামনে রাখতে হবে, যেখানে অসহায় স্ত্রীর মূল্য একটি ক্রয়কৃত পশুর চেয়ে একটুও ভিন্ন ছিল না এবং এই অবলার কোন অধিকার কল্পনাও করা হত না। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস পাঠ করে নিন।
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কসমূহের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের যে বিশেষ ধরন ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এর সাথে যে বিরাট স্বার্থ ও উপকারিতা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, এটা বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন রাখে না। তাছাড়া জীবনের প্রশান্তি ও মনের প্রসন্নতা অনেকাংশে এই মধুর সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থার উপর নির্ভরশীল। তারপর এ কথাও স্পষ্ট যে, এর বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্রতার সাথে জীবনের ঐ আনন্দ ও সুখ, যা এ সম্পর্কের দ্বারাই অর্জিত হতে পারে, আর মানুষ ভ্রষ্টামী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বেঁচে থেকে জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে। আর মানুষের বংশধারাও মর্যাদা ও সম্মানের সাথে অব্যাহত থাকবে- যা এ দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়। আর একথাও সুস্পষ্ট যে, এ উদ্দেশ্যসমূহও ঐ অবস্থায়ই উত্তমরূপে হতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে অধিক ভালোবাসা, সমঝোতা ও সুসম্পর্ক পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যসমূহের ব্যাপারে যে পথনির্দেশ দিয়েছেন, এগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য এটাই যে, এ সম্পর্ক উভয়ের জন্য খুবই মধুময়, আনন্দদায়ক ও শান্তির কারণ হবে এবং একজন অপরজনকে অন্তর দিয়ে জড়িয়ে থাকবে। এভাবে যে উদ্দেশ্যের জন্য এ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, সে উদ্দেশ্যসমূহ যেন উত্তমরূপে অর্জিত হয়।
এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার সারকথা এই যে, স্ত্রীর জন্য উচিত, সে তার স্বামীকে নিজের জন্য সবার চেয়ে উর্ধ্বে মনে করবে, তার বিশ্বস্ত ও অনুগত হয়ে থাকবে, তার কল্যাণকামিতা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রুটি করবে না, নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তার সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত মনে করবে। পক্ষান্তরে স্বামীর উচিত সে নিজের স্ত্রীকে আল্লাহ্ প্রদত্ত নেয়ামত মনে করবে, তার মূল্যায়ন করবে, তাকে ভালোবাসা দান করবে। যদি তার কোন ভুল হয়ে যায়, তাহলে সেটা উপেক্ষা করে যাবে; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তার সংশোধনের চেষ্টা করবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তার বিভিন্ন প্রয়োজন সুন্দরভাবে পূরণ করবে এবং তার আরাম ও মনোরঞ্জনের চেষ্টা করবে।
এসব শিক্ষার সঠিক মূল্য ও মর্যাদা বুঝার জন্য এখন থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে সমগ্র মনুষ্য জগত বিশেষ করে আরবদের ঐ পরিবেশকে সামনে রাখতে হবে, যেখানে অসহায় স্ত্রীর মূল্য একটি ক্রয়কৃত পশুর চেয়ে একটুও ভিন্ন ছিল না এবং এই অবলার কোন অধিকার কল্পনাও করা হত না। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস পাঠ করে নিন।
৫০. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: স্ত্রীর উপর সবচেয়ে বড় অধিকার হচ্ছে তার স্বামীর। আর পুরুষের উপর সবচেয়ে বড় অধিকার হচ্ছে তার মায়ের। হাকেম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:أعظم الناس حقا على المرأة زوجها، وأعظم الناس حقا على الرجل أمه. (رواه الحاكم فى المستدرك)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গায়রুল্লাহর জন্য সেজদার অবকাশ থাকলে স্ত্রীদেরকে স্বামীকে সেজদা করার হুকুম দেওয়া হত
৫১. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি যদি কাউকে কোন মাখলুকের জন্য সেজদা করার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম করতাম যে, সে যেন তার স্বামীকে সেজদা করে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ كُنْتُ آمُرُ أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ، لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালন
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এটা জরুরী ছিল যে, কোন একজনকে নেতৃত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ীই তার উপর দায়িত্বও অর্পণ করা হবে। একথা স্পষ্ট যে, আপন প্রকৃতিগত প্রাধান্যের কারণে এর জন্য স্বামীই অধিকতর উপযোগী হতে পারে। এ জন্য শরী‘আতে মুহাম্মদীতে পরিবারের কর্তা পুরুষকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এ গুরু দায়িত্ব তার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআন পাকে বলা হয়েছে : الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النساء পুরুষরাই স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্বশীল। অপর দিকে স্ত্রীদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিবারের কর্তা ও দায়িত্বশীল এবং নিজেদের মাথার মুকুট হিসাবে স্বামীর কথা মেনে চলবে এবং স্ত্রী হিসাবে তাদের যে বিশেষ পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে, এগুলো পালনে ত্রুটি করবে না। যেমন তাদের বেলায় বলা হয়েছে: فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ অর্থাৎ, নেককার স্ত্রীরা স্বামীদের আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতেও তারা নিজেদের (আব্রু ও আমানতের) হেফাযত করে।
স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের পরিবর্তে অবাধ্যতা ও বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করে, তাহলে এর ফলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য ও পরে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে যাবে-যা উভয়ের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংসের কারণ হবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীদেরকে স্বামীর আনুগত্য, তার নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন এবং এর বিরাট প্রতিদান ও সওয়াবের কথা বর্ণনা করে এর প্রতি উৎসাহও দিয়েছেন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এটা জরুরী ছিল যে, কোন একজনকে নেতৃত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ীই তার উপর দায়িত্বও অর্পণ করা হবে। একথা স্পষ্ট যে, আপন প্রকৃতিগত প্রাধান্যের কারণে এর জন্য স্বামীই অধিকতর উপযোগী হতে পারে। এ জন্য শরী‘আতে মুহাম্মদীতে পরিবারের কর্তা পুরুষকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এ গুরু দায়িত্ব তার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআন পাকে বলা হয়েছে : الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النساء পুরুষরাই স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্বশীল। অপর দিকে স্ত্রীদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিবারের কর্তা ও দায়িত্বশীল এবং নিজেদের মাথার মুকুট হিসাবে স্বামীর কথা মেনে চলবে এবং স্ত্রী হিসাবে তাদের যে বিশেষ পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে, এগুলো পালনে ত্রুটি করবে না। যেমন তাদের বেলায় বলা হয়েছে: فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ অর্থাৎ, নেককার স্ত্রীরা স্বামীদের আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতেও তারা নিজেদের (আব্রু ও আমানতের) হেফাযত করে।
স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের পরিবর্তে অবাধ্যতা ও বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করে, তাহলে এর ফলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য ও পরে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে যাবে-যা উভয়ের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংসের কারণ হবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীদেরকে স্বামীর আনুগত্য, তার নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন এবং এর বিরাট প্রতিদান ও সওয়াবের কথা বর্ণনা করে এর প্রতি উৎসাহও দিয়েছেন।
৫২. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: স্ত্রীলোক যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, রমযান মাসের রোযা রাখে, তার লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে, (তাহলে তার এই অধিকার রয়েছে যে) জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করুক। হিলয়া, আবু নুআইম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اَلْمَرْأَةُ اِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَاَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَاَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ اَىِّ اَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ. (رواه ابو نعيم فى الحيلة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালন
৫৩. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে স্ত্রী লোক এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট সে জান্নাতে যাবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا امْرَأَةٍ مَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَنْهَا رَاضٍ دَخَلَتِ الجَنَّةَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ [এ পর্যন্ত ঐসব হাদীস উল্লেখ করা হল, যেগুলোর মধ্যে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক ও অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাদের আনুগত্য, নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার তাকীদ করা হয়েছে। এবার ঐসব হাদীস পাঠ করুন, যেগুলোর মধ্যে স্বামীদেরকে স্ত্রীদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন, তাদের মনরক্ষা ও মনোরঞ্জন এবং উত্তম আচরণের তাকীদ করা হয়েছে।
স্ত্রীদের হক আদায়, তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও সৌজন্য প্রদর্শনের তাকীদ
স্ত্রীদের হক আদায়, তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও সৌজন্য প্রদর্শনের তাকীদ
৫৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিদায় হজ্বের ভাষণে এ কথাও) বলেছিলেন: লোকসকল! তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর নিরাপত্তার সাথে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালেমা দ্বারা তোমরা তাদেরকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের এ দাবী রয়েছে যে, তোমরা তোমাদের ঘরে যাদের আনাগোনাকে অপছন্দ কর, তারা যেন তাদেরকে সেখানে আসার সুযোগ না দেয়। এরপরও যদি তারা এমনটি করে ফেলে, তাহলে (সতর্ক ও সংশোধনের জন্য) তাদেরকে শাস্তি দিতে পার, তবে এ শাস্তি যেন গুরুতর না হয়, আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার হচ্ছে ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ (فى حديث طويل فى قصة حجة الوداع قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فى خطبته يوم عرفة) اتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ
৫৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের ব্যাপারে আমার ওসিয়্যত গ্রহণ কর। (অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে ওসিয়্যত করছি যে, আল্লাহর এই বান্দীদের সাথে তোমরা উত্তম ও নম্র আচরণ কর।) কেননা, তাদেরকে পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, (যা সৃষ্টিগতভাবে বাঁকা থাকে।) আর বেশী বক্রতা পাঁজরের উপরের অংশে থাকে। তাই তুমি যদি এটাকে (জোরপূর্বক) সোজা করতে যাও, তাহলে এটা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি এটাকে এভাবেই ছেড়ে দাও, তাহলে এটা চিরকাল বাঁকাই থেকে যাবে। অতএব, স্ত্রীদের সাথে সদাচরণের ব্যাপারে তোমরা আমার ওসিয়্যত পালন করে যাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، فَإِنَّهُنَّ خَيْرًا، فَإِنَّهُنَّ خُلِقْنَ مِنْ ضِلَعٍ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ، فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ
৫৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন ঈমানদার স্বামী তার ঈমানদার স্ত্রীকে ঘৃণা করতে পারে না। সে যদি তার একটি আচরণকে অপছন্দ করে, তাহলে অন্য একটি আচরণ পছন্দনীয়ও হবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا يفرك مُؤمن مُؤمنَة، ان كره مِنْهَا خلقا رَضِي مِنْهَا الآخر " (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সুন্দর আচরণ-ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য শর্ত
৫৭. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তির ঈমান সর্বাধিক পরিপূর্ণ, যার নৈতিক আচরণ (সবার সাথেই) খুবই সুন্দর আর (বিশেষভাবে) স্ত্রীর সাথে যার ব্যবহার অনুগ্রহ ও ভালোবাসা মিশ্রিত। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَأَلْطَفُهُمْ بِأَهْلِهِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সুন্দর আচরণ-ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য শর্ত
৫৮. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ঈমানদার ঐ ব্যক্তি, যার নৈতিক চরিত্র সর্বোত্তম। আর (আল্লাহর দৃষ্টিতে) তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا، أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا، وَخِيَارُهُمْ خِيَارُهُمْ لِنِسَائِهِمْ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুপম ও দৃষ্টান্তমূলক আচরণ
৫৯. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের জন্য খুবই উত্তম। -তিরমিযী, দারেমী
ইবনে মাজাহ শরীফে এ হাদীসটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে মাজাহ শরীফে এ হাদীসটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِي. (رواه الترمذى والدارمى ورواه ابن ماجه عن ابن عباس)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুপম ও দৃষ্টান্তমূলক আচরণ
৬০. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর কাছে (অর্থাৎ, বিয়ে ও স্বামীগৃহে যাওয়ার পরও) কাপড়ের তৈরী পুতুল দিয়ে খেলতাম। আমার কিছু বান্ধবীও ছিল, (যারা আমার সাথে খেলার জন্য এখানে আসত) এবং খেলা করত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বাড়ীতে আসতেন, তখন তারা (তাঁর সম্মানে খেলা ছেড়ে দিয়ে) ঘরে গিয়ে লুকাত। তিনি তখন তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন, আর তারা পুনরায় এসে খেলায় যোগ দিত। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، «فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَيَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: