মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব
২১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কন্যা সন্তান প্রতিপালনের কোন পরীক্ষায় পড়ে যায়, আর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, এ কন্যা সন্তানগুলো তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হয়ে যাবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:«مَنِ ابْتُلِيَ مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ، فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ، كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব
২২. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি দু'টি কন্যা সন্তানের ব্যয়ভার বহন করে এবং তাদের প্রতিপালন করে, যে পর্যন্ত না তারা বালেগ হয়ে যায়, কিয়ামতের দিন সে এবং আমি এভাবে থাকব। হযরত আনাস বলেন, তিনি এ কথা বলে নিজের হাতের আঙ্গুলগুলোকে একেবারে মিলিয়ে দেখালেন। (অর্থাৎ, যেভাবে এ আঙ্গুলগুলো একটি আরেকটির সাথে মিলে আছে, এভাবে আমি এবং সে একেবারে সাথে থাকব। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ» وَضَمَّ أَصَابِعَهُ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব
২৩. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তানের অথবা তিনজন বোনের কিংবা দু'জন বোনের অথবা দু'টি কন্যা সন্তানেরই ব্যয়ভার বহন করল, তাদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিল, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করল এবং তাদেরকে বিয়েও দিল, তার জন্য রয়েছে জান্নাত। -আবু দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ أَوْ ثَلَاثَ أَخَوَاتٍ، أَوْ أُخْتَيْنِ، أَوْ بِنْتَيْنِ، فَأَدَّبَهُنَّ، وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ، وَزَوَّجَهُنَّ، فَلَهُ الْجَنَّةُ» (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বদান্যতায় সমতা বিধানও সন্তানদের একটি অধিকার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্তানদের ব্যাপারে এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, বিশেষ করে বদান্যতার ক্ষেত্রে সব সন্তানের সাথে ইনসাফ ও সমতার ব্যবহার করা চাই। এমন যেন না হয় যে, কাউকে বেশী দেওয়া হল, আর কাউকে বঞ্চিত রাখা হল অথবা কম দেওয়া হল। এ জিনিসটি নিজস্ব বিবেচনায়ও কাম্য, আর ন্যায় ও ইনসাফের দাবী, যা আল্লাহ্ তা'আলার কাছে খুবই পছন্দনীয়। তাছাড়া এর মধ্যে এ রহস্য ও দূরদর্শিতাও রয়েছে যে, যদি সন্তানদের মধ্যে কাউকে বেশী দেওয়া হয়, আর কাউকে কম দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে, যা তাওয়া ও দ্বীনের জন্য ধ্বংসকর ও হাজারো ফিতনার শিকড় হবে। এছাড়া সন্তানদের মধ্যে যার সাথে বেইনসাফী ও অবিচার করা হবে, তার অন্তরে বাপের প্রতি মালিন্য আসবে এবং অভিযোগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। আর এ কথা স্পষ্ট যে, এর পরিণাম কত মন্দ হবে। এসব কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কঠোর তাকীদ করেছেন এবং এর বিপরীত আচরণকে এক ধরনের অবিচার সাব্যস্ত করেছেন। এবার এ প্রসঙ্গে নিম্নের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।
২৪. হযরত নো'মান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হলেন, (কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, আমাকে কোলে নিয়ে হাজির হলেন।) এবং নিবেদন করলেন, আমি আমার এ ছেলেটিকে একটি গোলাম হেবা করে দিয়েছি। (কোন কোন বর্ণনায় একটি বাগান দান করার কথা উল্লেখিত হয়েছে।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার সবগুলো সন্তানকেই এমন হেবা করেছ? তিনি বললেন, না। (অন্য কাউকে আমি হেবা করিনি, কেবল এ ছেলে নো'মানকেই দিয়েছি।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা তো হয় না, আরো বললেন, তুমি এ গোলাম ফেরত নাও। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, তোমার সকল সন্তানই তোমার আনুগত্য ও সেবায় সমান থাকুক? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে এমনটি করতে যেয়ো না (যে, একজনকে দিবে, আর অন্যদেরকে বঞ্চিত রাখবে।)
অন্য এক বর্ণনায় (নো'মান ইবনে বশীর ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন,) আমার পিতা (আমার মায়ের অনুরোধে) আমাকে কিছু হেবা করলেন। আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা বললেন, আপনি যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে সাক্ষী না রাখবেন, সে পর্যন্ত আমি খুশী হব না। তাই আমার পিতা বশীর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন যে, আমার স্ত্রী আমরা বিনতে রাওয়াহার পক্ষ থেকে আমার যে ছেলেটি (নো'মান) আছে, আমি তাকে কিছু হেবা করেছি, কিন্তু তার মা বলছে যে, আমি যেন আপনাকে এর সাক্ষী বানিয়ে নেই (এবং এভাবে আপনার অনুমোদন নিয়ে বিষয়টি পাকাপোক্ত করে নেই।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার সব সন্তানকে এতটুকু দান করেছ? বশীর বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের সাথে সমতার আচরণ কর। নো'মান ইবনে বশীর বলেন, এ কথা শুনে আমার পিতা বশীর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন এবং দানকৃত জিনিসটি ফেরত নিয়ে নিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একথাও বললেন যে, বেইনসাফীর কাজে আমি সাক্ষী হতে পারি না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلَامًا كَانَ لِي، فَقَالَ «أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا؟» قَالَ: لَا، قَالَ «فَارْجِعْهُ» وِفِى رِوَايَةٍ «أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا لَكَ فِي الْبِرِّ وَاللُّطْفِ سَوَاءٌ» قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَلَا إِذًا وِفِى رِوَايَةٍ أعطاني أبي عطية فقالت عمرة بنت رواحة: لا أرضى حتى تشهدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فأتى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال: "إني أعطيت ابني من عمرة بنت رواحة عطية فأمرتني أن أشهدك يا رسول الله ، قال:" أعطيت سائر ولدك مثل هذا؟ قال: لا، قال: فاتقوا الله واعدلوا بين أولادكم قال: فرجع فرد عطيته وِفِى رِوَايَةٍ إنه قال: لا أشهد على جور. " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বদান্যতায় সমতা বিধানও সন্তানদের একটি অধিকার
২৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা বদান্যতার ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান কর। আমি যদি এ ব্যাপারে কাউকে প্রাধান্য দিতাম, তাহলে মহিলাদেরকে (অর্থাৎ, কন্যা সন্তানদেরকে) প্রাধান্য দিতাম। সাঈদ ইবনে মনসুর, তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَوُّوا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ فِي الْعَطِيَّةِ فَلَوْ كُنْتُ مُفَضِّلًا أَحَدًا فَضَّلْتُ النِّسَاءَ» (رواه سعيد بن منصور فى سننه والطبرانى فى الكبير)
হাদীস নং: ২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে-শাদীর দায়িত্ব

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিতার এ দায়িত্বও বলে দিয়েছেন যে, যখন ছেলে অথবা মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায়, তখন তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করবে এবং তিনি তাকীদ করেছেন যে, এ ব্যাপারে যেন অবহেলা প্রদর্শন করা না হয়।
২৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কোন সন্তান জন্ম গ্রহণ করল, তার কর্তব্য হচ্ছে সন্তানের সুন্দর নাম রাখা, তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া এবং বালেগ হয়ে গেলে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা। যদি (সে এতে ত্রুটি করে এবং) বিয়ের বয়সে পৌঁছে যাওয়ার পরও (নিজের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে) বিয়ের ব্যবস্থা না করে, আর সে এ কারণে কোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে এ গুনাহর দায়িত্ব তার পিতার উপর বর্তাবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَلْيُحْسِنِ اسْمَهُ وَأَدَبَهُ، فَإِذَا بَلَغَ فَلْيُزَوِّجْهُ فَإِنْ بَلَغَ وَلَمْ يُزَوِّجْهُ فَأَصَابَ إِثْمًا، فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى أَبِيهِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের উপর পিতামাতার হক ও অধিকার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে পিতামাতার উপর সন্তানের বিভিন্ন অধিকার ও এতদসংক্রান্ত তাদের দায়িত্বের কথা বলে দিয়েছেন, তদ্রূপভাবে সন্তানের উপর পিতামাতার হক ও অধিকার এবং এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথাও বলে দিয়েছেন; বরং এটাকে নিজের শিক্ষা ও পথনির্দেশে ঈমানের অংশের মর্যাদা দিয়েছেন। কুরআন মজীদ- যা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হেদায়াতগ্রন্থ, এতে পিতামাতার খেদমত এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ আল্লাহ তা'আলার তওহীদ ও ইবাদতের সাথে সাথে এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষের কর্মসমূহের মধ্যে আল্লাহর ইবাদতের পরেই হচ্ছে পিতামাতার খেদমত ও তাদের সুখদানের স্থান। সূরা বনী ইসরাঈলে এরশাদ হয়েছে: وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا অর্থাৎ, আপনার প্রতিপালকের চূড়ান্ত নির্দেশ যে, কেবল তাঁরই ইবাদত করবে, আর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। অন্যত্র সূরা লোকুমানে পিতামাতার হক ও অধিকার বর্ণনা করতে গিয়ে এতটুকু পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, কারো পিতামাতা যদি কাফের ও মুশরিক হয় এবং সন্তানদেরকেও কুফর ও শিরকে বাধ্য করতে চায়, তাহলে সন্তানের উচিত, তাদের কথায় কুফর ও শিরক তো গ্রহণ করবে না, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার ও খেদমত তখনও করে যাবে। আয়াতটি এই

وَاِنۡ جَاہَدٰکَ عَلٰۤی اَنۡ تُشۡرِکَ بِیۡ مَا لَیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ ۙ فَلَا تُطِعۡہُمَا وَصَاحِبۡہُمَا فِی الدُّنۡیَا مَعۡرُوۡفًا

সামনের হাদীসগুলোতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিতামাতার হক ও এতদসংক্রান্ত সন্তানের কর্তব্য সম্পর্কে যাকিছু বলেছেন, এগুলো মূলত কুরআন মজীদের ঐসব আয়াতেরই ব্যাখ্যা ও তফসীর।

পিতামাতা হচ্ছে সন্তানের জান্নাত ও জাহান্নাম
২৭. হযরত আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করল, সন্তানের উপর পিতামাতার কতটুকু অধিকার রয়েছে? তিনি বললেন, তারা হচ্ছে তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম। -ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا؟ قَالَ: «هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ» (رواه ابن ماجه)
হাদীস নং: ২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতামাতার সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত
২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে, আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رِضَى الرَّبِّ فِي رِضَى الوَالِدِ، وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মায়ের হক পিতার চেয়েও বেশী
২৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সুন্দর আচরণ পাওয়ার অধিক হকদার কে? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার মা, আবার বলছি, তোমার মা, আবার বলছি, তোমার মা। তারপর তোমার পিতা, তারপর তোমার নিকট আত্মীয়গণ, তারপর তাদের পরবর্তী নিকট আত্মীয়গণ। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَحَقُّ النَّاسِ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ: «أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ أَبُوكَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বুড়ো পিতামাতার খেদমতে ত্রুটিকারী বড়ই হতভাগা
৩০. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি অপমানিত হোক, লাঞ্ছিত হোক, অপদস্থ হোক। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কে? (অর্থাৎ, কার ব্যাপারে এ বদদু‘আ করছেন?) তিনি উত্তর দিলেন, যে ব্যক্তি তার পিতামাতা অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পায়, অথচ (তাদের খেদমত করে এবং তাদেরকে খুশী করে) জান্নাতে যেতে পারে না। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَغِمَ أَنْفُهُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ» قِيلَ: مَنْ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ، أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا، ثُمَّ لَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার খেদমত কোন কোন সময় হিজরত ও জিহাদ থেকেও অগ্রগণ্য
৩১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জিহাদে যেতে চাই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি পিতামাতা বর্তমান আছেন? সে উত্তর দিল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তাদের খেদমত করে জিহাদের ফযীলত অর্জন করে নাও। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُجَاهِدُ؟ قَالَ: «أَلَكَ أَبَوَانِ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার খেদমত কোন কোন সময় হিজরত ও জিহাদ থেকেও অগ্রগণ্য
৩২. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে হিজরত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে পৌঁছল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়ামান দেশে তোমার কেউ আছে? সে উত্তর দিল, হ্যাঁ। আমার পিতামাতা আছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তারা কি তোমাকে এখানে আসার অনুমতি দিয়েছেন? সে উত্তর দিল, না। তিনি বললেন, তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও এবং অনুমতি প্রার্থনা কর। তারা যদি তোমাকে অনুমতি দেন, তাহলে এখানে এসে যাও (এবং দ্বীনের কাজে লেগে যাও,) আর যদি অনুমতি না দেন, তাহলে তাদের খেদমত ও সেবা করে যাও। -আবূ দাউদ, আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلًا هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ: «هَلْ لَكَ أَحَدٌ بِالْيَمَنِ؟»، قَالَ: أَبَوَايَ، قَالَ: «أَذِنَا لَكَ؟» قَالَ: «لَا»، قَالَ: «ارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَاسْتَأْذِنْهُمَا، فَإِنْ أَذِنَا لَكَ فَجَاهِدْ، وَإِلَّا فَبِرَّهُمَا» (رواه ابوداؤد احمد)
হাদীস নং: ৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত মায়ের পদতলে
৩৩. হযরত মু'আবিয়া ইবনে জাহিমা সালামী (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা জাহিমা রাযি. একদিন নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি এবং এ ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য আপনার কাছে এসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মা (জীবিত) আছেন? জাহিমা বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তাকেই আঁকড়ে থাক। কেননা, জান্নাত তারই পায়ের কাছে। -আহমাদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السَّلَمِيِّ، أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ، فَقَالَ: «هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَالْزَمْهَا، فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلِهَا» (رواه احمد والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত মায়ের পদতলে
৩৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি নিদ্রা গিয়ে স্বপ্নে দেখালাম যে, আমি জান্নাতে। সেখানে আমি কুরআন পাঠের আওয়াজ শুনলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? যে জান্নাতে কুরআন পাঠ করছে? আমাকে বলা হল, ইনি হচ্ছেন হারেসা ইবনে নো'মান। পিতা মাতার খেদমত ও আনুগত্য এমনই জিনিস। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের এ স্বপ্ন বর্ণনা করার পর বললেন:) হারেসা ইবনে নো'মান নিজের মায়ের খুবই সেবাকারী ও অনুগত ছিলেন। (অর্থাৎ, এই আমলই তাকে এ অবস্থানে পৌঁছিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জান্নাতে তার কেরাআত শুনেছেন। শারহুসসুন্নাহ, শুআবুল ঈমান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نِمْتُ، فَرَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ، فَسَمِعْتُ فِيْهَا قِرَاءَةً، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: حَارِثَةُ بْنُ النُّعْمَانِ " «كَذَلِكُمُ الْبِرُّ، كَذَلِكَ الْبِرُّ» وَكَانَ أَبَرَّ النَّاسِ بِأُمِّهِ. (رواه البغوى والبيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মায়ের খেদমত বড় বড় গুনাহ মাফ হওয়ার কারণ হয়
৩৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে এসে নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একটি বড় গুনাহ করে ফেলেছি। তাই আমার কি তওবা কবুল হবে? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি মা আছেন? সে বলল, না, মা নেই। তিনি এবার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি কোন খালা আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার সেবা ও তার সাথে উত্তম আচরণ কর। (আল্লাহ্ তা'আলা এর বরকতে তোমার তওবা কবুল করে নিবেন এবং তোমাকে ক্ষমা করে দিবেন।) -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أَصَبْتُ ذَنْبًا عَظِيمًا فَهَلْ لِي تَوْبَةٌ؟ قَالَ: هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: هَلْ لَكَ مِنْ خَالَةٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَبِرَّهَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফের ও মুশরিক মাও সন্তানের কাছে খেদমত ও উত্তম ব্যবহারের দাবী রাখে
৩৬. হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশের (হুদায়বিয়া) সন্ধির যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় (মক্কা থেকে) মদীনায় আমার কাছে আসলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা আমার কাছে এসেছেন এবং তিনি কিছুটা আশা নিয়ে এসেছেন, এমতাবস্থায় আমি কি তার খেদমত করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তার খেদমত কর (এবং তার সাথে ঐ ব্যবহার কর, যা কোন কন্যাকে তার মায়ের সাথে করতে হয়।) বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ، إِذْ عَاهَدُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُدَّتِهِمْ مَعَ أَبِيهَا، فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَيَّ وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ صِلِيهَا» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের বিশেষ হক ও অধিকারসমূহ

সন্তানের উপর পিতামাতার হক ও অধিকারের ধারা তাদের জীবদ্দশাতেই শেষ হয়ে যায় না; বরং তাদের মৃত্যুর পর তাদের আরো কিছু অধিকার সন্তানের উপর বর্তায়, যেগুলো আদায় করতে থাকা ভাগ্যবান সন্তানদের দায়িত্ব এবং আল্লাহ তা'আলার বিশেষ সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের ওসীলা।
৩৭. হযরত আবু উসাইদ সায়েদী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমীপে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় বনী সালেমার এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতার মৃত্যুর পরও কি আমার উপর তাদের কোন হক রয়েছে, যেগুলো আমাকে আদায় করতে হবে? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তাদের জন্য কল্যাণের দু‘আ করা, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, কারো সাথে তাদের কোন প্রতিজ্ঞা-প্রতিশ্রুতি থাকলে তা পূরণ করা, তাদের সম্পর্কের কারণে যে আত্মীয়তার সৃষ্টি হয় এর প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাদের বন্ধুদের সম্মান করা। -আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ مَالِكِ بْنِ رَبِيعَةَ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ بَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَيَّ شَيْءٌ أَبَرُّهُمَا بِهِ بَعْدَ مَوْتِهِمَا؟ قَالَ: «نَعَمْ الصَّلَاةُ عَلَيْهِمَا، وَالِاسْتِغْفَارُ لَهُمَا، وَإِنْفَاذُ عَهْدِهِمَا مِنْ بَعْدِهِمَا، وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لَا تُوصَلُ إِلَّا بِهِمَا، وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের বিশেষ হক ও অধিকারসমূহ
৩৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কবরের জীবনে তার পিতাকে শান্তি দিতে চায়, সে যেন তার মৃত্যুর পর তার ভাই-বন্ধুদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। ইবনে হিব্বান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصِلَ أَبَاهُ فِي قَبْرِهِ فَلْيَصِلْ إِخْوَانَ أَبِيهِ بَعْدَهُ" (رواه ابن حبان)
হাদীস নং: ৩৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের বিশেষ হক ও অধিকারসমূহ
৩৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পিতার খেদমত ও তার সাথে উত্তম আচরণের একটি শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে উত্তম আচরণ। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ أَبَرِّ الْبِرِّ صِلَةَ الرَّجُلِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ بَعْدَ أَنْ يُوَلِّيَ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের বিশেষ হক ও অধিকারসমূহ
৪০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এমনও হয় যে, কারো পিতামাতা অথবা তাদের একজন এ অবস্থায় মারা যায় যে, সন্তান তাদের অবাধ্য। তারপর সে সর্বদা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ ও ইস্তিগফার করতে থাকে। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে পিতামাতার বাধ্য সন্তান হিসাবে লিখে দেন। (তারপর সে পিতামাতার অবাধ্যতার মন্দ পরিণাম ও আযাব থেকে বেঁচে যায়।) বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ الْعَبْدَ لَيَمُوتُ وَالِدَاهُ أَوْ أَحَدُهُمَا، وَإِنَّهُ لَهُمَا لَعَاقٌّ، فَلَا يَزَالُ يَدْعُو لَهُمَا، وَيَسْتَغْفِرُ لَهُمَا حَتَّى يَكْتُبَهُ اللهُ بَارًّا " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)