মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ২২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নেশা আনয়নকারী মদের সামান্য পরিমাণও হারাম
২২১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে মদের বেশী মাত্রা নেশা সৃষ্টি করে, এর কম মাত্রাও হারাম। -আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্
[প্রায় এ বিষয়েরই একটি হাদীস মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ শরীফ ইত্যাদি গ্রন্থে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. থেকেও বর্ণিত রয়েছে।]
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ. (رواه ابوداؤد والترمذى وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ ঔষধ হিসাবেও ব্যবহার করা যাবে না
২২২. হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর হাযরামী রাযি. থেকে বর্ণিত, তারেক ইবনে সুওয়াইদ রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে নিষেধ করে দিলেন। তারেক বললেন, আমি তো এটা ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করি। তিনি বললেন, এটা ঔষধ নয়; বরং এটা হচ্ছে রোগ। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ وَائِلٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّ طَارِقَ بْنَ سُوَيْدٍ الْجُعْفِيَّ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَمْرِ فَنَهَاهُ فَقَالَ إِنَّمَا أَصْنَعُهَا لِلدَّوَاءِ فَقَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ بِدَوَاءٍ وَلَكِنَّهُ دَاءٌ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদের ব্যাপারে হঠকারিতা প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
২২৩. হযরত দাইলাম হিময়ারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এমন এলাকায় থাকি, যেখানে ঠাণ্ডা ও শীত খুব বেশী এবং আমরা খুব পরিশ্রমের কাজ করি। তাই আমরা গম দ্বারা এক প্রকার মদ তৈরী করে থাকি- যাতে আমরা আমাদের কঠিন কাজে শক্তি পাই এবং আমাদের অঞ্চলের শীতেরও মুকাবিলা করি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি নেশা সৃষ্টি করে? আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটা থেকে বিরত থাক। আমি নিবেদন করলাম, লোকেরা এটা ছাড়বে না। তিনি বললেন, তারা যদি এটা না ছাড়ে, তাহলে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ دَيْلَمٍ الْحِمْيَرِيِّ قَالَ: قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضٍ بَارِدَةٍ نُعَالِجُ فِيهَا عَمَلاً شَدِيدًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ شَرَابًا مِنْ هَذَا الْقَمْحِ نَتَقَوَّى بِهِ عَلَى أَعْمَالِنَا وَعَلَى بَرْدِ بِلاَدِنَا. قَالَ: هَلْ يُسْكِرُ؟ قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ: فَاجْتَنِبُوهُ. قَالَ قُلْتُ إِنَّ النَّاسَ غَيْرُ تَارِكِيهِ، قَالَ: إِنْ لَمْ يَتْرُكُوهُ قَاتِلُوهُمْ. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ পানকারীদের ব্যাপারে কঠোরতম সতর্কবাণী
২২৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মদ পানে অভ্যস্ত ব্যক্তি যদি এ অবস্থায়ই মারা যায়; তাহলে সে আল্লাহর সামনে মুশরিক ও মূর্তিপূজারীর মত উপস্থিত হবে। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُدْمِنُ الْخَمْرِ إِنْ مَاتَ، لَقِيَ اللَّهَ كَعَابِدِ وَثَنٍ» (رواه احمد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদ পানকারীদের ব্যাপারে কঠোরতম সতর্কবাণী
২২৫. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদের সাথে সংশ্লিষ্ট দশ ব্যক্তিকে অভিসম্পাত দিয়েছেন। (১) (আঙ্গুর ইত্যাদি থেকে) মদ নির্গতকারী, (যদি অন্য কারো জন্যও নির্গত করে।) (২) যে নিজের জন্য নির্গত করে। (৩) যে এটা পান করে। (৪) যে অন্যকে পান করায়। (৫) যে এটা বহন করে নিয়ে যায়। (৬) যার কাছে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। (৭) এর বিক্রেতা। (৮) ক্রয়কারী। (৯) যে এটা অন্যকে উপহার দেয়। (১০) যে এটা বিক্রি করে এর মূল্য খায়। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَسَاقِيَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَوَاهِبَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতিটি নেশা আনয়নকারী বস্তু হারাম
২২৬. হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (দাওয়াত ও তাবলীগ এবং অন্যান্য দ্বীনি উদ্দেশ্যে) আমাকে ও মু'আয ইবনে জাবালকে ইয়ামানের দিকে প্রেরণ করলেন। তিনি বললেন, তোমরা লোকদেরকে সত্য দ্বীনের প্রতি আহবান জানাবে, তাদেরকে (শুভ পরিণতির) সুসংবাদ দিবে, তাদেরকে এমন কথা বলবে না, যার দ্বারা তারা আতংকিত হয় ও দূরে সরে যায়, তাদের সাথে সহজ ব্যবহার করবে, কঠিন আচরণ করবে না। আবূ মূসা বলেন, আমি নিবেদন করলাম, আমাদেরকে দু'টি মদ সম্পর্কে শরী‘আত বিধান বলে দিন, যা আমরা ইয়ামানে তৈরী করতাম। (অর্থাৎ, সেখানে এগুলো পান করার ব্যাপক প্রচলন ছিল।) একটি হচ্ছে ঐ মদ, যাকে 'বিতা' বলা হয়। এটা মধু দ্বারা তৈরী করা হয়। (নির্দিষ্ট পরিমাণ) মধুর মধ্যে পানি মিশিয়ে ছেড়ে রাখা হয়, যে পর্যন্ত না এতে উত্তেজনা এসে যায়। দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে ঐ মদ, যাকে 'মিযর' বলা হয়। এটা চিনা ও যব দিয়ে তৈরী করা হয়। এটাও পানিতে ছেড়ে রাখা হয়- যে পর্যন্ত না এতে উত্তেজনা এসে যায়। আবু মূসা বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে অল্প কথায় বেশী মর্ম প্রকাশের বিশেষ যোগ্যতা দান করেছিলেন। তাই তিনি বললেন: أنهى عن كل مسكر. أسكر عن الصلاة অর্থাৎ, আমি এমন প্রতিটি জিনিসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করি, যা নেশাগ্রস্ত করে দেয় এবং মানুষকে নামায থেকে গাফেল করে দেয়। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن أَبِيْ مُوْسَى قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: ادْعُوَا النَّاسَ وَبَشِّرَا وَلاَ تُنَفِّرَا وَيَسِّرَا وَلاَ تُعَسِّرَا. قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفْتِنَا فِي شَرَابَيْنِ كُنَّا نَصْنَعُهُمَا بِالْيَمَنِ الْبِتْعُ وَهُوَ مِنَ الْعَسَلِ يُنْبَذُ حَتَّى يَشْتَدَّ وَالْمِزْرُ وَهُوَ مِنَ الذُّرَةِ وَالشَّعِيرِ يُنْبَذُ حَتَّى يَشْتَدَّ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُعْطِيَ جَوَامِعَ الْكَلِمِ بِخَوَاتِمِهِ فَقَالَ: أَنْهَى عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ أَسْكَرَ عَنِ الصَّلاَةِ. (رواه البخارى ومسلم واللفظ له)
হাদীস নং: ২২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মদ পান সম্পর্কে একটি ভবিষ্যদ্বাণী

মদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আত যে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে যে কঠোরতর নীতি অবলম্বন করেছেন, এটা উপরে উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে জানা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর উপর এ বিষয়টি উন্মোচন করে দেওয়া হয়েছিল যে, শরী‘আত এসব সুস্পষ্ট বিধান এবং তাঁর এই কঠোর ভূমিকা সত্ত্বেও তাঁর উম্মতের কিছু বিপথগামী লোক মদ পান করবে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য বাহানা হিসাবে এই নাম পরিবর্তনের দ্বারা অন্যদেরকে অথবা স্বয়ং নিজেদেরকে প্রতারিত করবে। অথচ কেবল নামের পরিবর্তনের দ্বারা আসল জিনিস পরিবর্তিত হয় না এবং শরী‘আত বিধানও বদলে যায় না। এজন্য আল্লাহর নিকট তারা মদ পানের অপরাধে অপরাধী হবে এবং নাম পরিবর্তনের প্রতারণা তাদের আরেকটি অপরাধ গণ্য হবে।
২২৭. হযরত আবূ মালেক আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন: আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে এবং (প্রতারণা স্বরূপ) এর অন্য কোন নাম দিয়ে দিবে। -আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَالِكٍ الأَشْعَرِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا. (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদের ব্যাপারে কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন বিধান

একথা পূর্বেই উল্লেখ করে আসা হয়েছে যে, যখন সূরা মায়েদা নাযিল হওয়ার পর মদকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করা হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কিছু এমন কঠিন অন্তর্বর্তীকালীন বিধানও জারী করলেন, যেগুলোর উদ্দেশ্য কেবল এই ছিল যে, ঈমানদারদের অন্তরে এই অশ্লীলতার মূল তথা মদের প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি হোক। যাতে পুরাতন অভ্যাস কখনো এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে না পারে। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীস পাঠ করে নেওয়া হোক।
২২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্ফাত ও নকীর (এ পাত্র চতুষ্টয়ে) নবীয বানাতে নিষেধ করেছেন এবং চামড়ার মশকে নবীয তৈরী করার নির্দেশ দিয়েছেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَأَمَرَ أَنْ يُنْبَذَ فِيْ اَسْقَيِةِ الْاَدَمِ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদের ব্যাপারে কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন বিধান
২২৯. হযরত বুরায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি তোমাদেরকে কিছু পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন আমি এগুলোর অনুমতি দিচ্ছি। কেননা, কোন পাত্র কোন জিনিসকে হালাল অথবা হারাম করে দিতে পারে না। (তবে এ কথা মনে রাখবে যে,) প্রতিটি নেশা আনয়নকারী জিনিস হারাম।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি তোমাদেরকে চামড়ার মশক ছাড়া অন্য কোন পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন আমি অনুমতি দিচ্ছি যে,) তোমরা সব ধরনের পাত্রে পান করতে পার। তবে নেশা আনয়নকারী কোন জিনিস পান করতে পারবে না।-মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: نَهَيْتُكُمْ عَنِ الظُّرُوفِ فَإِنَّ ظَرْفًا لاَ يُحِلُّ شَيْئًا وَلاَ يُحَرِّمُهُ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ. وَفِيْ رِوَايَةٍ نَهَيْتُكُمْ عَنِ الأَشْرِبَةِ فِي ظُرُوفِ الأَدَمِ فَاشْرَبُوا فِي كُلِّ وِعَاءٍ غَيْرَ أَنْ لاَ تَشْرَبُوا مُسْكِرًا. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মদের ব্যাপারে কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন বিধান
২৩০. হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) নিষেধ করেছেন। (নবীয তৈরী করার জন্য) পাকা শুকনা খেজুর ও আধাপাকা খেজুরকে একত্রে মিলাতে, অনুরূপভাবে শুকনা আঙ্গুর ও পাকা শুকনা খেজুরকে একত্রে মিলাতে এবং কাঁচা খেজুর ও পাকা তাজা খেজুরকে একত্রে মিলাতে। তিনি বলেছেন যে, তোমরা এগুলোর পৃথক পৃথক নবীয তৈরী কর। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ النَّبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ خَلِيطِ التَّمْرِ وَالْبُسْرِ وَعَنْ خَلِيطِ الزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ وَعَنْ خَلِيطِ الزَّهْوِ وَالرُّطَبِ وَقَالَ: انْتَبِذُوا كُلَّ وَاحِدٍ عَلَى حِدَتِهِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নবীয হালাল ও পবিত্র, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা ব্যবহার করতেন
২৩১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য আঙ্গুর দিয়ে নবীয তৈরী করা হত, আর এতে কিছু খেজুরও ঢেলে দেওয়া হত। অথবা খেজুর দিয়ে নবীয তৈরী করা হত, আর এতে কিছু আঙ্গুরও ছেড়ে দেওয়া হত। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُنْبَذُ لَهُ زَبِيبٌ فَيُلْقِي فِيهِ تَمْرًا وَتَمْرٌ فَيُلْقِي فِيهِ الزَّبِيبَ. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নবীয হালাল ও পবিত্র, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা ব্যবহার করতেন
২৩২. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি (নিজের একটি পেয়ালার দিকে ইশারা করে) বললেন যে, আমি এ পেয়ালা দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সব ধরনের পানীয় পান করিয়েছি। যেমন, মধু, নবীয, পানি ও দুধ। মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَقَدْ سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحِي هَذَا الشَّرَابَ كُلَّهُ الْعَسَلَ وَالنَّبِيذَ وَالْمَاءَ وَاللَّبَنَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঠাণ্ডা-মিঠা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুবই পছন্দনীয় ছিল
২৩৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পানীয় দ্রব্যের মধ্যে ঠাণ্ডা-মিঠা সর্বাধিক প্রিয় ছিল। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ أَحَبَّ الشَّرَابِ اِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُلْوُ الْبَارِدُ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য মিঠা পানির ব্যবস্থা
২৩৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর জন্য 'বুয়তে সুকয়া' থেকে মিঠাপানি সংগ্রহ করে আনা হত। ইমাম আবু দাউদের উস্তাদ ও এ হাদীসের রাবী কুতায়বা বলেন, বুয়তে সুকয়া যেখান থেকে মিঠা পানি আনা হত, এ স্থানটি ছিল মদীনা থেকে দু'দিনের পথ। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ كَانَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْتَعْذَبُ لَهُ الْمَاءُ مِنْ بُيُوتِ السُّقْيَا. قَالَ قُتَيْبَةُ عَيْنٌ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْمَدِينَةِ يَوْمَانِ. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব

আগেই যেমন বলে আসা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদির হালাল-হারামের বিধানও বর্ণনা করেছেন এবং পানাহারের আদব ও নিয়মাবলীও বলে দিয়েছেন। এসব নিয়মাবলী সভ্যতা, ভদ্রতা ও সুরুচির সাথে সম্পর্কিত অথবা এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে অথবা এগুলো আল্লাহর যিকর ও শোকর জাতীয় বিষয়। আর এগুলোর মাধ্যমে পানাহারের আমলটিকে যা বাহ্যত নিছক বস্তুগত কাজ ও পশুত্বের চাহিদা রূহানী, নূরানী ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া যায়।

বিগত তিন কিস্তিতে এ ধারার যেসব হাদীস লিখে আসা হয়েছে, এগুলোর সম্পর্ক খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদির হালাল-হারাম হওয়ার সাথে ছিল। সামনে ঐসব হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে হুযুর (ﷺ) পানাহারের আদব শিক্ষা দিয়েছেন। এসব হাদীসে এমন সব ইঙ্গিত রয়েছে, যেগুলোর দ্বারা জানা যায় যে, এসব হাদীসে পানাহারের যেসব আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, এগুলোর স্তর ও মর্যাদা মুস্তাহাব ও পছন্দনীয় পর্যায়ের। এজন্য যদি এগুলোর উপর আমল করা না হয়, তাহলে এটা কোন গুনাহের কারণ হবে না।

খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া
২৩৫. হযরত সালমান ফারসী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পড়েছিলাম যে, খানার পরে হাত ধোয়া বরকতের কারণ হয়ে থাকে। কথাটি আমি নবী করীম (ﷺ) এর সামনে আলোচনা করলে তিনি বললেন: খানার আগে ও পরে হাত মুখ ধোয়া বরকতের কারণ হয়। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَنَّ بَرَكَةَ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهُ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব: খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া
২৩৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতের বেলা হাত না ধুয়ে এভাবে শুয়ে যায় যে, তার হাতে খাবারের চর্বি ও দুর্গন্ধ থেকে যায় এবং এর ফলে সে কোন কষ্ট ও আঘাতের শিকার হয়ে যায়, (যেমন, কোন কীট তাকে দংশন করল, তাহলে সে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে। (এটাকে নিজের উদাসীনতা ও ভুলের খেসারত মনে করে।) -তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ بَاتَ وَفِي يَدِهِ رِيحُ غَمَرٍ لَمْ يَغْسِلْهُ فَأَصَابَهُ شَيْءٌ فَلاَ يَلُومَنَّ إِلاَّ نَفْسَهُ. (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাওয়ার পর কেবল হাত মুছে নেওয়া
২৩৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সময় মসজিদে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তাঁর খেদমতে রুটি ও গোশত নিয়ে আসা হল। তিনি মসজিদেই এটা খেয়ে নিলেন এবং তাঁর সাথে আমরাও খেলাম। তারপর তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে নামায পড়ে নিলাম। এ সময় আমরা (মসজিদে বিছানো) পাথরদানা দিয়ে হাত মোছার চেয়ে বেশী কিছু করিনি। (অর্থাৎ, পানি দিয়ে হাত ধৌত করিনি।) -ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْجَزْءِ قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ وهو فِي الْمَسْجِدِ فأكل وأَكَلْنَا مَعَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَلَمْ نَزِدْ عَلَى اَنَ مَسَحَنَا أَيْدِيَنَا بِالْحَصْبَاءِ. (رواه ابن ماجه)
হাদীস নং: ২৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাওয়ার আগে আল্লাহকে স্মরণ করা ও তাঁর নাম নেওয়া চাই
২৩৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন খানা খাওয়ার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে (অর্থাৎ, 'বিসমিল্লাহ' পড়ে নেয়।) আর যদি শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা ভুলে যায়, তাহলে যেন বলে নেয় : بِسْمِ اللَّهِ أوَّلَه وآخرَه -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنْ نَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ. (رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ২৩৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাওয়ার আগে আল্লাহকে স্মরণ করা ও তাঁর নাম নেওয়া চাই
২৩৯. হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: শয়তান নিজের জন্য খাবার বৈধ করে নেয় (অর্থাৎ, তার জন্য খাবারে অংশীদারিত্ব ও বৈধতা সৃষ্টি হয়ে যায়।) যখন এতে আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৪০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খানা ডান হাতে এবং নিজের সামনে থেকে খাবে
২৪০. হযরত উমর ইবনে আবূ সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোলে ছোট্ট শিশু হিসাবে প্রতিপালিত হচ্ছিলাম। (খাওয়ার সময়) আমার হাত পাত্রের সবদিকে চলত। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে উপদেশ দিলেন যে, (খাওয়ার শুরুতে) 'বিসমিল্লাহ' পড়, ডান হাতে খাও এবং নিজের সামনে থেকে খাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: كُنْتُ غُلاَمًا فِي حَجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَمِّ اللَّهَ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ» (رواه البخارى ومسلم)