মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৬৭ টি
হাদীস নং: ১৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কৌতুক ও রসিকতা
১৮১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না, তার সাথে রসিকতা (অর্থাৎ, বিদ্রূপ) করো না এবং তাকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ো না, যা তুমি ভঙ্গ করবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تُمَارِ أَخَاكَ، وَلاَ تُمَازِحْهُ، وَلاَ تَعِدْهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَهُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাসি ও মুচকি হাসি
হাসির স্থলে হাসা অথবা মুচকি হাসাও মনুষ্য স্বভাবের দাবী। আর এতে আদৌ কোন কল্যাণ ও বুযুর্গী নেই যে, মানুষের ঠোঁটে কখনো হাসির রেখাও ফুটবে না, আর সে সর্বদা ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করেই থাকবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র অভ্যাস এই ছিল যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও নিজের ভক্তদের সাথে সর্বদা হাসিমুখে মিলতেন। এ কথা স্পষ্ট যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ রীতি ও আচরণ তাদের জন্য কতইনা আত্মিক প্রশান্তি ও আনন্দের কারণ হত এবং এর কারণে তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কত উন্নতি হত। এ প্রসঙ্গে নিম্নের কয়েকটি হাদীস পাঠ করে নিন।
হাসির স্থলে হাসা অথবা মুচকি হাসাও মনুষ্য স্বভাবের দাবী। আর এতে আদৌ কোন কল্যাণ ও বুযুর্গী নেই যে, মানুষের ঠোঁটে কখনো হাসির রেখাও ফুটবে না, আর সে সর্বদা ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করেই থাকবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র অভ্যাস এই ছিল যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও নিজের ভক্তদের সাথে সর্বদা হাসিমুখে মিলতেন। এ কথা স্পষ্ট যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ রীতি ও আচরণ তাদের জন্য কতইনা আত্মিক প্রশান্তি ও আনন্দের কারণ হত এবং এর কারণে তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কত উন্নতি হত। এ প্রসঙ্গে নিম্নের কয়েকটি হাদীস পাঠ করে নিন।
১৮২. হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি, তখন থেকে নবী করীম (ﷺ) আমাকে (তাঁর খেদমতে) হাজির হতে বারণ করেননি। আর যখনই তিনি আমাকে দেখেছেন, তখনই একটি মুচকি হাসি দিয়েছেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرِيرٍ قَالَ: مَا حَجَبَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَلاَ رَآنِي إِلَّا تَبَسَّمَ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাসি ও মুচকি হাসি
১৮৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অধিক মুচকি হাস্যকারী আর কাউকে দেখিনি।-তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، قَالَ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাসি ও মুচকি হাসি
১৮৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে কখনো এমন মুখভরে (অট্টহাসি) হাসতে দেখিনি যে, মুখের অভ্যন্তরভাগ দেখা যেত। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا، حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাসি ও মুচকি হাসি
১৮৫. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অভ্যাস ছিল যে, তিনি যে স্থানে ফজরের নামায পড়তেন, সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সেখান থেকে উঠতেন না। তারপর যখন সূর্যোদয় হয়ে যেত, তিনি উঠে যেতেন। আর (এ সময়) সাহাবায়ে কেরাম জাহেলী যুগের কথাবার্তাও আলোচনা করতেন এবং খুব হাসতেন। কিন্তু তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।-মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُومُ مِنْ مُصَلَّاهُ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ الصُّبْحَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ نَامَ وَكَانُوا يَتَحَدَّثُونَ، فَيَأْخُذُونَ فِي أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَيَضْحَكُونَ وَيَتَبَسَّمُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
হাঁচি ও হাই তোলাও মনুষ্য স্বভাবের অপরিহার্য বিষয়াবলীর অন্তর্গত। এগুলো সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস এখানে পাঠ করুন।
হাঁচি ও হাই তোলাও মনুষ্য স্বভাবের অপরিহার্য বিষয়াবলীর অন্তর্গত। এগুলো সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস এখানে পাঠ করুন।
১৮৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কারো যখন হাঁচি আসে, তখন সে যেন বলে: الْحَمْدُ لِلَّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।) আর তার ভাই অথবা সাথী যে কাছে থাকে সে যেন বলে, يَرْحَمُكَ الله (আল্লাহ্ তোমার উপর রহম করুন।) আর তার ভাই যখন বলে, يَرْحَمُكَ الله তখন সে যেন এর উত্তরে এ দু‘আবাক্য বলে: يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
(আল্লাহ্ তোমাকে হেদায়াতে ভূষিত করুন এবং তোমার অবস্থা ঠিক করে দিন।) -বুখারী
(আল্লাহ্ তোমাকে হেদায়াতে ভূষিত করুন এবং তোমার অবস্থা ঠিক করে দিন।) -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: الحَمْدُ لِلَّهِ، وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَلْيَقُلْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ " (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৮৭. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলে, তখন তোমরা তাকে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে দু‘আ দাও। আর যদি সে 'আলহামদুল্লিাহ' না বলে, তাহলে তোমরাও 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলো না। (অর্থাৎ, আলহামদু লিল্লাহ না বলার কারণে সে তোমাদের দু‘আর দাবীদার রইল না।) মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللهَ، فَشَمِّتُوهُ، فَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللهَ، فَلَا تُشَمِّتُوهُ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৮৮. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এর সামনে দু'ব্যক্তি হাঁচি দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের একজনকে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে দু‘আ দিলেন, অপরজনকে দু‘আ দিলেন না। তখন ঐ দ্বিতীয় লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি একে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে দু‘আ দিলেন আর আমাকে দু‘আ দিলেন না। তিনি তখন বললেন, সে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলেছিল, আর তুমি 'আলহামদু লিল্লাহ' বলনি। (এ জন্য তুমি নিজেই এ দু‘আ লাভের অধিকার হারিয়ে ফেলেছ।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: عَطَسَ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ،فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، شَمَّتَّ هَذَا وَلَمْ تُشَمِّتْنِي، قَالَ: «إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَلَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৮৯. হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে হাঁচি দিলে তিনি 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে দু‘আ দিলেন। তারপর সে আরেকবার হাঁচি দিলে তিনি বললেন, লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত। -মুসলিম
[তিরমিযী শরীফে এ হাদীসেরই বর্ণনায় রয়েছে যে, তৃতীয়বার হাঁচি দিলে তিনি বলেছিলেন, লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত।
[তিরমিযী শরীফে এ হাদীসেরই বর্ণনায় রয়েছে যে, তৃতীয়বার হাঁচি দিলে তিনি বলেছিলেন, লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَهُ، فَقَالَ لَهُ: «يَرْحَمُكَ اللهُ» ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى، فَقَالَ «الرَّجُلُ مَزْكُومٌ»
وفى روايةٍ للترمذى أَنَّهُ قَالَ فِى الثَّالِثَةِ أَنَّهُ مَزْكُومٌ.
وفى روايةٍ للترمذى أَنَّهُ قَالَ فِى الثَّالِثَةِ أَنَّهُ مَزْكُومٌ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৯০. হযরত উবাইদ ইবনে রেফাআ রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কারো হাঁচি আসলে তাকে তিনবার 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বল। এর চেয়ে বেশী হাঁচি দিলে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলতেও পার, নাও বলতে পার। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «شَمِّتِ الْعَاطِسَ ثَلَاثًا، فَمَا زَادَ فَإِنْ شِئْتَ فَشَمِّتْهُ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا» (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৯১. হযরত নাফে থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর সামনে হাঁচি দিয়ে বলল: الحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ الله ইবনে উমর এটা শুনে বললেন, আমি বলি, الحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ الله (অর্থাৎ, এ বাক্যটি আপন ক্ষেত্রে খুবই বরকতময় এবং আমিও বলে থাকি।) কিন্তু (হাঁচি দেওয়ার সময়) এভাবে বলা হয় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, আমরা যেন বলি: الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حالٍ -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلاً عَطَسَ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: الحَمْدُ لِلَّهِ، وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللهِ قَالَ ابْنُ عُمَرَ: وَأَنَا أَقُولُ: الحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، وَلَيْسَ هَكَذَا عَلَّمَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَّمَنَا أَنْ نَقُولَ: الحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৯২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এর যখন হাঁচি আসত, তখন তিনি নিজের হাত অথবা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে নিতেন এবং এর আওয়াজ দাবিয়ে নিতেন। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا عَطَسَ غَطَّى وَجْهَهُ بِيَدِهِ أَوْ بِثَوْبِهِ وَغَضَّ بِهَا صَوْتَهُ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি ও হাই সম্পর্কে (ﷺ)-এর উপদেশাবলী
১৯৩. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কারো যখন হাই আসে, তখন সে যেন নিজের হাত দ্বারা তার মুখ বন্ধ করে নেয়। কেননা, শয়তান প্রবেশ করে যায়। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:«إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ، فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فَمِهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
পানাহার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। (১) যেখানে পানাহারের জিনিসগুলোর হালাল হওয়া অথবা হারাম হওয়া বর্ণনা করা হয়েছে। (২) যেখানে পানাহারের ঐসব আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সম্পর্ক থাকে ভদ্রতা, সুন্দর রীতি ও গাম্ভীর্যের সাথে অথবা এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে কিংবা এগুলো আল্লাহর স্মরণ ও শুকরিয়ার পর্যায়ের এবং এগুলোর মাধ্যমে পানাহারের কাজটি- যা বাহ্যত নিছক জৈবিক চাহিদা ও নফসের দাবী পূরণের জন্য হয়ে থাকে- একটি পুণ্যময় কাজ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়ে যায়।
খাদ্য ও পানীয়ের হালাল-হারাম সম্পর্কে মৌলিক কথা ওটাই, যা কুরআন মজীদ এ শব্দমালায় উল্লেখ করেছে: وَیُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ অর্থাৎ, এই উম্মী নবী ভালো ও পবিত্র জিনিসগুলোকে আল্লাহর বান্দাদের জন্য হালাল সাব্যস্ত করেন এবং মন্দ ও অপবিত্র জিনিসগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করেন।
কুরআন মজীদে পানাহারের বস্তুগুলোর হালাল ও হারাম হওয়ার যেসব বিধি-বিধান রয়েছে, এগুলো মূলতঃ এ আয়াতেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। যেসব জিনিসকে তিনি আল্লাহর হুকুমে হারামসাব্যস্ত করেছেন, এগুলোর মধ্যে বাস্তবে কোন না কোন দিক দিয়ে বাহ্যিক অথবা গোপনীয় অপবিত্রতা অবশ্যই রয়েছে। তদ্রূপভাবে যেসব জিনিসকে তিনি হালাল সাব্যস্ত করেছেন, ঐগুলো সাধারণত মনুষ্য স্বভাবের জন্য উপাদেয় ও পবিত্র এবং খাদ্য হিসাবে উপকারী।
কুরআন মজীদে পানীয় দ্রব্যগুলোর মধ্য থেকে মদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত ও তাকীদপূর্ণ বিধি-বিধান রয়েছে- যেমন এ ধারার সামনের হাদীসগুলো থেকে জানা যাবে। আর খাদ্য জাতীয় জিনিসগুলোর মধ্য থেকে নিম্নলিখিত দ্রব্যগুলোর হারাম হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা কুরআন পাকে করা হয়েছেঃ (১) মৃত অর্থাৎ, ঐ প্রাণী, যে নিজে নিজেই মরে গিয়েছে। (২) রক্ত- অর্থাৎ, ঐ রক্ত, যা রগ থেকে নির্গত হয়েছে। (৩) শুকর- যা একটি অভিশপ্ত ও অপবিত্র প্রাণী। (৪) ঐ পশু, যা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। এসব বস্তু আরবের কোন কোন শ্রেণী ভক্ষণ করত। অথচ পূর্বেকার আসমানী শরীআতসমূহেও এগুলোকে হারাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্যই কুরআন মজীদে স্পষ্টভাবে এবং বার বার এগুলোর হারাম হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
(১) মাইতা- অর্থাৎ, মৃত পশু হারাম হওয়ার কারণটি খুবই স্পষ্ট যে, মনুষ্য স্বভাব এটাকে খাওয়ার যোগ্য মনে করে না; বরং অত্যন্ত ঘৃণা করে। তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটা ক্ষতিকর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, জীবনী শক্তি বন্ধ হয়ে রক্ত ভিতরেই শুকিয়ে গিয়ে মৃতদেহে বিষের প্রভাব এসে যায়।
(২) রক্তেরও একই অবস্থা যে, মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে খাওয়ার বস্তু মনে করে না। আর শরী‘আতে এটাকে অকাট্যভাবে অপবিত্র ও সত্তাগতভাবে নাপাক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(৩) শুকর এমন অভিশপ্ত প্রাণী যে, যখন আল্লাহ তা'আলার গযব ও ক্রোধ কোন কোন পাপাচারী গোষ্ঠীর চেহারা বিকৃতির ফায়সালা করেছে, তখন তাদেরকে শুকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হয়েছে। وَجَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَالۡخَنَازِیۡرَ এর দ্বারা জানা গেল যে, এ উভয় প্রকার প্রাণী চরম পর্যায়ের অপবিত্র ও অভিশপ্ত এবং আল্লাহর গযব ও ক্রোধের প্রকাশস্থল। এ জন্য এগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে যেহেতু পৃথিবীর কোন সম্প্রদায় সাধারণত বানর খায় না এবং এভাবে যেন এর হারাম হওয়ার উপর পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর ঐকমত্য রয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শুকরকে যেহেতু অনেক সম্প্রদায়- বিশেষ করে হযরত ঈসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার ঘোষণা বার বার এবং তাকীদের সাথে করা হয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসসমূহেও এসেছে যে, যখন শেষ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন, তখন তিনি ক্রুশ ধ্বংসের সাথে পৃথিবীকে শুকরমুক্ত করার অভিযানও চালাবেন। وَيُقتل الخنزير সে সময়ই একথা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাবে যে, তাঁর অনুসারী খ্রীষ্টানরা শুকরকেও নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়ে তাঁর শিক্ষার এবং সকল নবী-রাসূলদের আদর্শ ও শরী‘আত কিরূপ বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
(৪) ঐ পশু, যাকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, কুরআন মজীদে যাকে فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, এর হারাম হওয়ার কারণ এই যে, এর মধ্যে উৎসর্গকারীর শিরকী নিয়্যত ও তার আকীদাগত শিরকীর অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য এ ধরনের পশুও হারাম হয়ে যায়।
মোটকথা, এ হল ঐ চারটি জিনিস, যেগুলোর হারাম হওয়ার ঘোষণা খুবই গুরুত্বের সাথে ও স্পষ্টভাবে কুরআন মজীদে করা হয়েছে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নির্দেশে আরো যেসব জিনিসের হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোও যেন আল্লাহর এ নির্দেশেরই সম্পূরক।
এ ভূমিকার পর এবার ঐসব হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য ও পানীয় বস্তুসমূহের হালাল ও হারাম হওয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
পানাহার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। (১) যেখানে পানাহারের জিনিসগুলোর হালাল হওয়া অথবা হারাম হওয়া বর্ণনা করা হয়েছে। (২) যেখানে পানাহারের ঐসব আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সম্পর্ক থাকে ভদ্রতা, সুন্দর রীতি ও গাম্ভীর্যের সাথে অথবা এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে কিংবা এগুলো আল্লাহর স্মরণ ও শুকরিয়ার পর্যায়ের এবং এগুলোর মাধ্যমে পানাহারের কাজটি- যা বাহ্যত নিছক জৈবিক চাহিদা ও নফসের দাবী পূরণের জন্য হয়ে থাকে- একটি পুণ্যময় কাজ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়ে যায়।
খাদ্য ও পানীয়ের হালাল-হারাম সম্পর্কে মৌলিক কথা ওটাই, যা কুরআন মজীদ এ শব্দমালায় উল্লেখ করেছে: وَیُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ অর্থাৎ, এই উম্মী নবী ভালো ও পবিত্র জিনিসগুলোকে আল্লাহর বান্দাদের জন্য হালাল সাব্যস্ত করেন এবং মন্দ ও অপবিত্র জিনিসগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করেন।
কুরআন মজীদে পানাহারের বস্তুগুলোর হালাল ও হারাম হওয়ার যেসব বিধি-বিধান রয়েছে, এগুলো মূলতঃ এ আয়াতেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। যেসব জিনিসকে তিনি আল্লাহর হুকুমে হারামসাব্যস্ত করেছেন, এগুলোর মধ্যে বাস্তবে কোন না কোন দিক দিয়ে বাহ্যিক অথবা গোপনীয় অপবিত্রতা অবশ্যই রয়েছে। তদ্রূপভাবে যেসব জিনিসকে তিনি হালাল সাব্যস্ত করেছেন, ঐগুলো সাধারণত মনুষ্য স্বভাবের জন্য উপাদেয় ও পবিত্র এবং খাদ্য হিসাবে উপকারী।
কুরআন মজীদে পানীয় দ্রব্যগুলোর মধ্য থেকে মদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত ও তাকীদপূর্ণ বিধি-বিধান রয়েছে- যেমন এ ধারার সামনের হাদীসগুলো থেকে জানা যাবে। আর খাদ্য জাতীয় জিনিসগুলোর মধ্য থেকে নিম্নলিখিত দ্রব্যগুলোর হারাম হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা কুরআন পাকে করা হয়েছেঃ (১) মৃত অর্থাৎ, ঐ প্রাণী, যে নিজে নিজেই মরে গিয়েছে। (২) রক্ত- অর্থাৎ, ঐ রক্ত, যা রগ থেকে নির্গত হয়েছে। (৩) শুকর- যা একটি অভিশপ্ত ও অপবিত্র প্রাণী। (৪) ঐ পশু, যা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। এসব বস্তু আরবের কোন কোন শ্রেণী ভক্ষণ করত। অথচ পূর্বেকার আসমানী শরীআতসমূহেও এগুলোকে হারাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্যই কুরআন মজীদে স্পষ্টভাবে এবং বার বার এগুলোর হারাম হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
(১) মাইতা- অর্থাৎ, মৃত পশু হারাম হওয়ার কারণটি খুবই স্পষ্ট যে, মনুষ্য স্বভাব এটাকে খাওয়ার যোগ্য মনে করে না; বরং অত্যন্ত ঘৃণা করে। তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটা ক্ষতিকর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, জীবনী শক্তি বন্ধ হয়ে রক্ত ভিতরেই শুকিয়ে গিয়ে মৃতদেহে বিষের প্রভাব এসে যায়।
(২) রক্তেরও একই অবস্থা যে, মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে খাওয়ার বস্তু মনে করে না। আর শরী‘আতে এটাকে অকাট্যভাবে অপবিত্র ও সত্তাগতভাবে নাপাক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(৩) শুকর এমন অভিশপ্ত প্রাণী যে, যখন আল্লাহ তা'আলার গযব ও ক্রোধ কোন কোন পাপাচারী গোষ্ঠীর চেহারা বিকৃতির ফায়সালা করেছে, তখন তাদেরকে শুকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হয়েছে। وَجَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَالۡخَنَازِیۡرَ এর দ্বারা জানা গেল যে, এ উভয় প্রকার প্রাণী চরম পর্যায়ের অপবিত্র ও অভিশপ্ত এবং আল্লাহর গযব ও ক্রোধের প্রকাশস্থল। এ জন্য এগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে যেহেতু পৃথিবীর কোন সম্প্রদায় সাধারণত বানর খায় না এবং এভাবে যেন এর হারাম হওয়ার উপর পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর ঐকমত্য রয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শুকরকে যেহেতু অনেক সম্প্রদায়- বিশেষ করে হযরত ঈসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার ঘোষণা বার বার এবং তাকীদের সাথে করা হয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসসমূহেও এসেছে যে, যখন শেষ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন, তখন তিনি ক্রুশ ধ্বংসের সাথে পৃথিবীকে শুকরমুক্ত করার অভিযানও চালাবেন। وَيُقتل الخنزير সে সময়ই একথা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাবে যে, তাঁর অনুসারী খ্রীষ্টানরা শুকরকেও নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়ে তাঁর শিক্ষার এবং সকল নবী-রাসূলদের আদর্শ ও শরী‘আত কিরূপ বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
(৪) ঐ পশু, যাকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, কুরআন মজীদে যাকে فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, এর হারাম হওয়ার কারণ এই যে, এর মধ্যে উৎসর্গকারীর শিরকী নিয়্যত ও তার আকীদাগত শিরকীর অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য এ ধরনের পশুও হারাম হয়ে যায়।
মোটকথা, এ হল ঐ চারটি জিনিস, যেগুলোর হারাম হওয়ার ঘোষণা খুবই গুরুত্বের সাথে ও স্পষ্টভাবে কুরআন মজীদে করা হয়েছে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নির্দেশে আরো যেসব জিনিসের হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোও যেন আল্লাহর এ নির্দেশেরই সম্পূরক।
এ ভূমিকার পর এবার ঐসব হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য ও পানীয় বস্তুসমূহের হালাল ও হারাম হওয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
১৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলামপূর্ব জাহেলিয়্যাত যুগের লোকেরা (স্বভাবগত আকর্ষণ ও পছন্দের কারণে) কোন কোন জিনিস খেত আর (স্বভাবগত অপছন্দ ও ঘৃণার কারণে) কোন কোন জিনিস পরিহার করত। (এভাবেই তাদের জীবন চলছিল।) তারপর আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নবী বানিয়ে পাঠালেন, আপন পবিত্র কিতাব নাযিল করলেন, আল্লাহর নিকট যেসব জিনিস হালাল ছিল, ঐ সব জিনিসের হালাল হওয়ার কথা বর্ণনা করে দিলেন এবং যেসব জিনিস হারাম ছিল ঐগুলোর হারাম হওয়ার কথাও বলে দিলেন। (অতএব, আল্লাহ্ ও রাসূল যে জিনিসকে হালাল করেছেন, সেটাই হালাল আর যে জিনিসকে হারাম করেছেন সেটাই হারাম।) আর যে জিনিসের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন (অর্থাৎ, যার হালাল-হারাম হওয়ার সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি) সেটা ক্ষমাযোগ্য। (অর্থাৎ, এটা ব্যবহার করাতে কোন শাস্তি আসবে না।) তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. প্রমাণ হিসাবে এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন: قُلۡ لَّاۤ اَجِدُ فِیۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیَّ مُحَرَّمًا عَلٰی طَاعِمٍ یَّطۡعَمُہٗۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ مَیۡتَۃً الآية
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا،» فَبَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ، وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ، وَأَحَلَّ حَلَالَهُ، وَحَرَّمَ حَرَامَهُ، فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ، وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ، وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ " وَتَلَا {قُل لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً } إِلَى آخِرِ الْآيَةِ (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁত দিয়ে শিকারকারী প্রতিটি হিংস্রপ্রাণী ও পাঞ্জা দ্বারা শিকারকারী সব ধরনের পাখী খেতে নিষেধ করেছেন। মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৬. হযরত আবূ সা'লাবা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহপালিত গাধাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ أَبِىْ ثَعْلَبَةَ، قَالَ: «حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لُحُومَ الحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৭. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার বিজয়ের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশতের বেলায় অনুমতি দিয়েছেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الحُمُرِالأَهْلِيَّةِ، وَرَخَّصَ فِي لُحُومِ الخَيْلِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৮. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বিড়ালের গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং এর মূল্য খেতেও নিষেধ করেছেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ،أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ أَكْلِ الْهِرَّةِ، وَأَكْلِ ثَمَنِهَا. (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম جلاله নাপাকভোজী প্রাণী খেতে নিষেধ করেছেন এবং এর দুধ পান করতেও নিষেধ করেছেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ الجَلاَّلَةِ وَأَلْبَانِهَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০০. হযরত আবূ ওয়াকেদ লাইসী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, তখন (এখানে একটি নির্দয় প্রথা এই চালু ছিল যে,) কিছু লোক খাওয়ার জন্য জীবিত উটের কুজ কেটে নিত এবং জীবিত দুম্বার লেজ কেটে নিত। (তারপর এগুলোর চিকিৎসা করে নিত।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অবস্থা দেখে বললেন: কোন জীবিত পশুর যে গোশত কেটে নেওয়া হয় সেটা মৃত, এটা খাওয়া যায় না। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يَجُبُّونَ أَسْنِمَةَ الإِبِلِ، وَيَقْطَعُونَ أَلْيَاتِ الغَنَمِ، فَقَالَ: مَا قُطِعَ مِنَ البَهِيمَةِ وَهِيَ حَيَّةٌ فَهِيَ مَيْتَةٌ لَا تُؤْكَلْ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক: