মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ১৬১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ) নিজে কিভাবে শয়ন করতেন
১৬১. হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) যখন রাতের বেলা শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন স্বীয় হাতটি গালের নীচে রাখতেন এবং বলতেন, اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا (হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মরতে চাই, আর তোমার নামেই বাঁচতে চাই।) তারপর যখন জাগ্রত হতেন, তখন বলতেন: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ (সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে (এক প্রকার) মৃত্যু দিয়ে আবার জীবিত করে দিয়েছেন। আর তাঁরই দিকে (মৃত্যুর পর) আমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে।) -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ، وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا» وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ: «الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা
১৬২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) যখনই নিদ্রা যেতেন, তখন শিয়রের কাছে মেসওয়াক রেখে দিতেন। তারপর যখন জাগ্রত হতেন, তখন সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন। -আহমাদ, হাকেম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَنَامُ إِلَّا وَالسِّوَاكُ عِنْدَهُ، فَإِذَا اسْتَيْقَظَ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ» (رواه احمد والحاكم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা
১৬৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) রাতে অথবা দিনে যখনই নিদ্রা যেতেন, জাগ্রত হওয়ার পর অবশ্যই তিনি মেসওয়াক করে নিতেন। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَرْقُدُ مِنْ لَيْلٍ وَلَا نَهَارٍ، فَيَسْتَيْقِظُ إِلَّا تَسَوَّكَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ» (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ) কিভাবে বসতেন এবং কিভাবে বসার নির্দেশ দিতেন
১৬৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কা'বা শরীফের আঙ্গিনায় 'এহতেবা' অবস্থায় বসতে দেখেছি। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفِنَاءِ الكَعْبَةِ، مُحْتَبِيًا بِيَدِهِ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ) কিভাবে বসতেন এবং কিভাবে বসার নির্দেশ দিতেন
১৬৫. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করে নিজের জায়গায় আসন গেড়ে বসে থাকতেন- যে পর্যন্ত সূর্য সম্পূর্ণরূপে উদিত না হত। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ تَرَبَّعَ فِي مَجْلِسِهِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسْنَاءَ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মজলিসের শেষে আগমনকারী মজলিসের কিনারায় বসে যাবে
১৬৬. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম (ﷺ) এর মজলিসে আসতাম, তখন (মজলিসে উপস্থিত লোকদেরকে অতিক্রম করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করতাম না; বরং) কিনারায় বসে যেতাম। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ يَنْتَهِي» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ লোকদের বৃত্তের মধ্যে এসে বসে যাওয়া কঠোরভাবে নিষেধ
১৬৭. হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর যবান মুবারকে ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপযোগ্য বলা হয়েছে, যে মানুষের বৃত্তের মাঝখানে এসে বসে যায়। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ مَلْعُونٌ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَعَدَ وَسْطَ الْحَلْقَةِ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ১৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসার নিষিদ্ধতা
১৬৮. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মজলিসে আসলেন এবং দেখলেন যে, সাহাবীগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে আছেন। তিনি বললেন, আমার কি হল যে, তোমাদেরকে বিচ্ছিন্ন দেখছি? -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَصْحَابُهُ جُلُوْسٌ فَقَالَ: «مَالِي أَرَاكُمْ عِزِينَ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শরীরের কিছু অংশ রোদে ও কিছু অংশ ছায়ায় দিয়ে বসা ঠিক নয়
১৬৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ছায়ায় বসা থাকে, তারপর তার উপর থেকে ছায়া সরে যায় এবং শরীরের একাংশ রোদে ও একাংশ ছায়ায় থাকে, তাহলে সে যেন সেখান থেকে উঠে যায়। -আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الْفَيْءِ فَقَلَصَ عَنْهُ الظِّلُّ، فَصَارَ بَعْضُهُ فِي الشَّمْسِ، وَبَعْضُهُ فِي الظِّلِّ فَلْيَقُمْ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৭০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মজলিসে কথাবার্তা, হাসি-কৌতুক, হাঁচি ও হাই ইত্যাদি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে এ ব্যাপারেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, কথাবার্তা বলার সময় কোন কোন বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। অনুরূপভাবে হাসি-কৌতুক ও কোন কথার উপর হাসতে গিয়ে অথবা হাঁচি ও হাই আসার মত ক্ষেত্রসমূহে কি রীতি অবলম্বন করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ জাতীয় দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার মূলবস্তু এই যে, বান্দা তার স্বভাবজাত ও সামাজিক চাহিদাসমূহ গাম্ভীর্যের সাথে ও সুন্দরভাবে পূর্ণ করবে। কিন্তু সর্বাবস্থায় আল্লাহকে এবং তাঁর সাথে নিজের বন্দেগীর সম্পর্ককে আর এরই সাথে তাঁর বিধি-বিধান এবং নিজের কর্ম ও ভূমিকার পরকালীন পরিণতিকে সামনে রাখবে।
জিহ্বার প্রয়োগ ও কথাবার্তা সম্পর্কে হুযুর (ﷺ)-এর মূল্যবান বাণীসমূহের যথেষ্ট অংশ মা'আরিফুল হাদীসের দ্বিতীয় খণ্ড (কিতাবুল আখলাক)-এ লিখে আসা হয়েছে। সত্য-মিথ্যা, মিষ্টিকথা ও কটুকথা, চোগলখোরী, দোষ অন্বেষণ, পরনিন্দা ও অপবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক হাদীস সেখানে অতিক্রান্ত হয়েছে। এ জন্য কথাবার্তা ও জিহ্বার প্রয়োগ সম্পর্কে অবশিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের হাদীসই এখানে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।

অপ্রয়োজনে কথা লম্বা না করা উচিত
১৭০. হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, একদিন এক ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে (ওয়ায করতে) দাঁড়িয়ে খুব দীর্ঘ বক্তব্য রাখল। তিনি তখন বললেন, লোকটি যদি তার কথা সংক্ষিপ্ত করত, তাহলে তার জন্য ভালো হত। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: আমি ভালো মনে করি অথবা বলেছেন, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমি যেন কথা সংক্ষেপে বলি। কেননা, সংক্ষিপ্ত কথাই উত্তম। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو ابْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ: يَوْمًا وَقَامَ رَجُلٌ فَأَكْثَرَ الْقَوْلَ فَقَالَ عَمْرٌو: لَوْ قَصَدَ فِي قَوْلِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَقَدْ رَأَيْتُ، أَوْ قَالَ أُمِرْتُ، أَنْ أَتَجَوَّزَ فِي الْقَوْلِ، فَإِنَّ الْجَوَازَ هُوَ خَيْرٌ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৭১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুখ নিঃসৃত কোন কথা কল্যাণ ও সফলতার কারণও হতে পারে আর ধ্বংসেরও কারণ হতে পারে
১৭১. হযরত বিলাল ইবনুল হারিস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষ কখনো কখনো এমন ভালো কথা বলে, যার মূল্য ও মর্যাদা সে নিজেই জানে না, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা এ একটি কথার কারণে তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়া' পর্যন্ত তার জন্য আপন সন্তুষ্টির ফায়সালা করে দেন। অনুরূপভাবে মানুষ কখনো কখনো এমন খারাপ কথা বলে ফেলে, যার মন্দ পরিণতির কথা সে জানে না, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা এ একটি কথার কারণে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় পর্যন্ত তার জন্য নিজের অসন্তুষ্টির ফায়সালা করে নেন। শারহুস্সুন্নাহ
[এ ধরনের একটি হাদীস ইমাম মালেক (রহ) মুয়াত্তা গ্রন্থ, ইমাম তিরমিযী তাঁর তিরমিযী শরীফে এবং ইমাম ইবনে মাজাহ ইবনে মাজাহ্ শরীফেও বর্ণনা করেছেন।]
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ بِلالِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنَ الْخَيْرِ، مَا يَعْلَمُ مَبْلَغَهَا يَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنَ الشَّرِّ، مَا يَعْلَمُ مَبْلَغَهَا يَكْتُبُ اللَّهُ بِهَا عَلَيْهِ سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ». (رواه فى شرح السنة روى والترمذى وابن ماجه نحوه)
হাদীস নং: ১৭২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো প্রশংসা করতে গিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত

কারো প্রশংসা করা মূলতঃ তার পক্ষে এক ধরনের সাক্ষ্যদান- যা বিরাট দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তাছাড়া এতে এ আশংকাও রয়েছে যে, এর দ্বারা প্রশংসিত ব্যক্তির মধ্যে নিজেকে বড় মনে করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়ে যাবে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের তাকীদ করেছেন। আফসোস! আমাদের এ যুগে দ্বীনি মহলেও এ শিক্ষা ও নির্দেশাবলী চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।
১৭২. হযরত আবূ বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করল (এবং অতিরিক্ত প্রশংসা করে ফেলল।) তিনি তখন বললেন, তুমি তোমার ভাইয়ের (এরূপ প্রশংসা করে) গর্দান কেটে ফেলেছ। (অর্থাৎ, এমন কাজ করেছ যে, এর দ্বারা সে ধ্বংস হয়ে যাবে।) কথাটি তিনি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের প্রশংসা করতেই চায় এবং তাকে এর যোগ্য মনে করে, তাহলে সে যেন এই বলে যে, আমি তার ব্যাপারে এ ধারণা পোষণ করি, আর তার প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী হচ্ছেন আল্লাহ্ তা'আলা। (যিনি প্রকৃত অবস্থা জানেন।) আর কেউ যেন আল্লাহর উপর কারো পবিত্রতার সিদ্ধান্ত আরোপ না করে। (অর্থাৎ, কারো ব্যাপারে এমন কথা বলবে না যে, সে নিঃসন্দেহে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর নিকট পবিত্র। কেননা, এটা হচ্ছে আল্লাহর উপর হুকুম আরোপ করা- যার কোন অধিকার কোন বান্দার নেই।)-বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: أَثْنَى رَجُلٌ عَلَى رَجُلٍ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «وَيْلَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ أَخِيْكَ ثَلَاثًا» .... «مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَادِحًا لاَ مَحَالَةَ، فَلْيَقُلْ أَحْسِبُ فُلاَنًا، وَاللَّهُ حَسِيبُهُ، إِنْ كَانَ يَرَى إِنَّهُ كَذَالِكَ وَلاَ يُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো প্রশংসা করতে গিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত
১৭৩. হযরত মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যখন অধিক প্রশংসাকারীদেরকে দেখ, তখন তাদের মুখে মাটি ছিটিয়ে দাও। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَدَّاحِينَ، فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمِ التُّرَابَ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবিতা ও কাব্যচর্চা

যদিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র যুগে এবং এর পূর্বেও কবিতা ও কাব্যচর্চা ব্যাপক ছিল এবং এমন মানুষ খুব কমই ছিল, যারা এর প্রতি অনুরাগী ছিল না। কিন্তু স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আদৌ কোন সম্পর্ক ছিল না; বরং কুরআন মজীদ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা বিশেষ হেকমতের অধীনে তাঁকে এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন। সূরা ইয়াসীনে বলা হয়েছে: وَمَا عَلَّمۡنٰہُ الشِّعۡرَ وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہٗ অর্থাৎ, আমি তাঁকে কবিতা শিখাইনি এবং এটা তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। তাছাড়া সে সময় যে ধরনের কাব্যচর্চার প্রচলন ছিল এবং কবিরা সাধারণত যে চরিত্র ও কর্মের অধিকারী হত, কুরআন মজীদে এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে: وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُہُمُ الۡغَاوٗنَ. اَلَمۡ تَرَ اَنَّہُمۡ فِیۡ کُلِّ وَادٍ یَّہِیۡمُوۡنَ. وَاَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا یَفۡعَلُوۡنَ অর্থাৎ, বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। আপনি কি দেখেন না যে, তারা উদভ্রান্ত হয়ে প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়। আর তারা যা করে না তাই বলে। -সূরা শুআরা
কোন কোন সাহাবী কবিতা ও কাব্যচর্চা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এটা কি সাধারণভাবেই নিন্দনীয়। তিনি উত্তরে বললেন, না, এমন নয়; বরং কবিতার বিষয়বস্তু যদি ভালো হয়, তাহলে সেটা ভালো, আর যদি মন্দ হয়, তাহলে সেটাও মন্দ। আর কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি এও বলেছেন যে, কোন কোন কবিতা বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকে। এবার এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
১৭৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে কবিতার আলোচনা উঠলে তিনি বললেন, এটাও এক ধরনের কথা ও উক্তি। এর মধ্যে যেটা ভালো সেটা ভালো, আর যেটা মন্দ সেটা মন্দ। দারাকুতনী
ইমাম শাফেয়ী এ হাদীসটিই হযরত উরওয়া থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشِّعْرُ , فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ كَلَامٌ فَحَسَنَهُ حَسَنٌ , وَقَبِيحُهُ قَبِيحٌ». (رواه الدار قطنى وروى الشافعى عن عودة مرسلا)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবিতা ও কাব্যচর্চা
১৭৫. হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন কোন কবিতা (আপন বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে) অত্যন্ত হেকমত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকে। বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً» (رواه البخارى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবিতা ও কাব্যচর্চা
১৭৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সবচেয়ে সত্যকথা- যা কোন কবি বলেছেন, সেটা হচ্ছে লবীদ ইবনে রবীআর একথাটি, (অর্থাৎ, তার এ পংত্তিটি ألا كل شيئ ما خلا الله باطل (জেনে রাখ, আল্লাহ ছাড়া প্রতিটি জিনিসই ধ্বংসশীল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَصْدَقُ كَلِمَةٍ قَالَهَا الشَّاعِرُ، كَلِمَةُ لَبِيدٍ: أَلاَ كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلاَ اللَّهَ بَاطِلٌ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবিতা ও কাব্যচর্চা
১৭৭. আমর ইবনে শারীদ স্বীয় পিতা শারীদ ইবনে সুওয়াইদ সাকাফী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি (এক সফরে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে একই বাহনে আরোহী ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, উমাইয়্যা ইবনে সালতের কোন কবিতা কি তোমার স্মরণ আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন বললেন, তাহলে শুনাও। আমি তাকে একটি বয়েত শুনালাম। তিনি বললেন, আরো শুনাও। আমি আরেকটি বয়েত শুনালাম। তিনি বললেন, আরো শুনাও। আমি তখন একশ' বয়েত শুনিয়ে দিলাম। (অন্য এক বর্ণনায় এ সংযোজনও রয়েছে যে, তিনি বললেন, উমাইয়্যা তার কবিতার দিক দিয়ে ইসলামের কাছাকাছি এসে গিয়েছিল।) -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَدِفْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: «هَلْ مَعَكَ مِنْ شِعْرِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ شَيْءٌ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «هِيهْ» فَأَنْشَدْتُهُ بَيْتًا، فَقَالَ: «هِيهْ» ثُمَّ أَنْشَدْتُهُ بَيْتًا، فَقَالَ: «هِيهْ» ثُمَّ أَنْشَدْتُهُ مِائَةَ بَيْتٍ. (رواه مسلم زاد فى رواية لقد كاد يسلم فى شعره)
হাদীস নং: ১৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কৌতুক ও রসিকতা

কৌতুক ও রসিকতাও মানব জীবনের এক আনন্দদায়ক উপাদান। আর যেভাবে এটা সীমার বাইরে চলে যাওয়া অসুন্দর ও ক্ষতিকর, তেমনিভাবে এ থেকে একেবারে মুক্ত হওয়াও মানুষের জন্য এক প্রকার অপূর্ণতা। এ কথা স্পষ্ট যে, যদি কোন উঁচু স্তরের মহৎপ্রাণ ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছোট ও সাধারণ স্তরের কোন মানুষের সাথে কৌতুক ও রসিকতার আচরণ করা হয়, তাহলে এটা তার জন্য এমন আনন্দ ও গৌরবের কারণ হয়, যা অন্য কোন পদ্ধতিতে লাভ হতে পারে না। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো কখনো তাঁর জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভক্ত-অনুরক্তদের সাথে কৌতুক করতেন। আর এতে তাদের প্রতি তাঁর অত্যন্ত আনন্দদায়ক স্নেহ-ভালোবাসার প্রকাশ ঘটত। কিন্তু তাঁর কৌতুক ও রসিকতাও অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রজ্ঞাপূর্ণ হত।
১৭৮. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, কোন কোন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাদের সাথে (কখনো কখনো) কৌতুক করেন? তিনি বললেন, আমি কৌতুকের মধ্যেও সত্যই বলি। (অর্থাৎ, এতে কোন অসত্য ও অবাস্তব কিছু থাকে না।) -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا، قَالَ: إِنِّي لاَ أَقُولُ إِلاَّ حَقًّا. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কৌতুক ও রসিকতা
১৭৯. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বাহনের জন্য একটি উট চাইল। তিনি বললেন, আমি তোমাকে বাহনের জন্য একটি উটনীর বাচ্চা দিব। সে বলল, আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কি করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, উট উটনীর বাচ্চাই তো হয়ে থাকে। (অর্থাৎ, প্রতিটি উট কোন উটনীর বাচ্চাই হয়ে থাকে। তাই যে উটই দেওয়া হবে এটা কোন উটনীর বাচ্চাই হবে। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ " أَنَّ رَجُلا اسْتَحْمَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَهَلْ تَلِدُ الإِبِلَ إِلا النُّوقُ ". (رواه الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কৌতুক ও রসিকতা
১৮০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বৃদ্ধা মহিলাকে বললেন, কোন বৃদ্ধা মহিলা জান্নাতে যাবে না। মহিলাটি নিবেদন করল, তাদের কি হল, যে কারণে জান্নাতে যেতে পারবে না। ঐ মহিলাটি কুরআন পড়তে জানত। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন যে, তুমি কি কুরআনের এ আয়াতটি পড়নি? اِنَّاۤ اَنۡشَاۡنٰہُنَّ اِنۡشَآءً.فَجَعَلۡنٰہُنَّ اَبۡکَارًا (যার অর্থ এই যে, জান্নাতী রমণীদেরকে আমি বিশেষরূপে সৃষ্টি করব। তারপর তাদেরকে নিত্যকুমারী বানিয়ে দিব।) -মুসনাদে রযীন
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ اَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِامْرَأَةٍ عَجُوْزٍ إِنَّهُ " لَا تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَجُوزٌ، فَقَالَتْ وَمَا لَهُنَّ؟ وَكَانَتْ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَقَالَ لَهَا اَمَا تَقْرَئِيْنَ الْقُرْآنَ {“ إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءً ﴿٣٥﴾فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا} (رواه زرين)