মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মদ পানের নিষিদ্ধতা ও মদ্যপায়ীর ব্যাপারে সতর্কবাণী
২২০. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও বিশ্বজগতের পথপ্রদর্শক হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমার মহান প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বপ্রকার বাদ্যযন্ত্র বিলীন করতে, দেব-দেবীর পূজা ও ক্রুশ পূজা বিলুপ্ত করতে এবং সর্ব প্রকার জাহেলীয়্যাতপ্রথা বন্ধ করতে। আমার মহান প্রভু তাঁর মর্যাদার কসম খেয়ে বলেছেন যে, আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যে বান্দা এক চুমুক মদও পান করবে, আমি তাকে আখেরাতে এ পরিমাণ রক্ত ও পূজ অবশ্যই পান করাব, যে বান্দা আমার ভয়ে মদ ছেড়ে দিবে, অবশ্যই আমি আখেরাতে তাকে পবিত্র হাউযের পবিত্র পানীয় পান করাব। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي رَبِّي بِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ وَالْأَوْثَانِ وَالصُّلُبِ، وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَحَلَفَ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِعِزَّتِهِ: لَا يَشْرَبُ عَبْدٌ مِنْ عَبِيدِي جَرْعَةً مِنْ خَمْرٍ، إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنَ الصَّدِيدِ مِثْلَهَا، وَلَا يَتْرُكُهَا مِنْ مَخَافَتِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حِيَاضِ الْقُدُسِ" (رواه احمد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, এ কয়েকটি সংস্কারমূলক কাজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দুনিয়াতে প্রেরণের বিশেষ উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। মূর্তি ও ক্রুশের বিলোপ সাধন, জাহেলীযুগের জাহেলী প্রথা খতম করা এবং معازف ও مزامير তথা সর্ব প্রকার বাদ্যযন্ত্রের প্রচলনকে দূর করা। তা ঐসব বাদ্যযন্ত্র যেমন, ঢোলক, তবলা, সেতার ও সারেঙ্গী ইত্যাদি। আর مزامير হচ্ছে ঐসব বাদ্যযন্ত্র যা মুখ দ্বারা বাজানো হয়। যেমন, শানাই, বাঁশী ইত্যাদি।
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এসব বাদ্যযন্ত্র প্রকৃতপক্ষে খেল-তামাশা ও পাপাচারের যন্ত্র এবং দুনিয়া থেকে এগুলোর প্রচলনকে বিলুপ্ত করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বিশেষ কাজসমূহের অন্তর্গত, যেগুলোর জন্য তিনি প্রেরিত হয়েছেন এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন। কিন্তু কতইনা দুঃখের কথা আর শয়তানের কতইনা বিরাট সফলতা যে, কোন কোন মাজারে ওরসের নামে যে মেলা বসে, এগুলোতে অন্যান্য অনিষ্টতা ছাড়া বাদ্যযন্ত্রেরও এমন আয়োজন থাকে যে, পাপাচারের কোন অনুষ্ঠানেও হয়ত এর চেয়ে বেশী হয় না। হায়! এসব লোক যদি বুঝত যে, এসব অপকর্ম ও গান-বাজনার দ্বারা স্বয়ং মাজারবাসী বুযুর্গের আত্মার কি পরিমাণ কষ্ট হয় এবং তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে শয়তানের মিশনকে সফলতা দান করে নবী করীম (ﷺ)-এর পবিত্র রূহকে কি পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে।
হাদীসের শেষ অংশে মদ ও মদপানকারীদের ব্যাপারে এবং আল্লাহর ভয়ে মদ পরিত্যাগকারীদের বেলায় যা কিছু বলা হয়েছে, এটা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকেও তাঁর ঐসব বান্দার অন্তর্ভুক্ত করে নিন, যারা তাঁর নির্দেশে এবং তাঁর পাকড়াও ও আযাবের ভয়ে মদ ও মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকে। তিনি আমাদেরকে জান্নাতের পবিত্র হাউযের পবিত্র পানীয় দ্বারা পরিতৃপ্ত করুন।
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এসব বাদ্যযন্ত্র প্রকৃতপক্ষে খেল-তামাশা ও পাপাচারের যন্ত্র এবং দুনিয়া থেকে এগুলোর প্রচলনকে বিলুপ্ত করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বিশেষ কাজসমূহের অন্তর্গত, যেগুলোর জন্য তিনি প্রেরিত হয়েছেন এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন। কিন্তু কতইনা দুঃখের কথা আর শয়তানের কতইনা বিরাট সফলতা যে, কোন কোন মাজারে ওরসের নামে যে মেলা বসে, এগুলোতে অন্যান্য অনিষ্টতা ছাড়া বাদ্যযন্ত্রেরও এমন আয়োজন থাকে যে, পাপাচারের কোন অনুষ্ঠানেও হয়ত এর চেয়ে বেশী হয় না। হায়! এসব লোক যদি বুঝত যে, এসব অপকর্ম ও গান-বাজনার দ্বারা স্বয়ং মাজারবাসী বুযুর্গের আত্মার কি পরিমাণ কষ্ট হয় এবং তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে শয়তানের মিশনকে সফলতা দান করে নবী করীম (ﷺ)-এর পবিত্র রূহকে কি পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে।
হাদীসের শেষ অংশে মদ ও মদপানকারীদের ব্যাপারে এবং আল্লাহর ভয়ে মদ পরিত্যাগকারীদের বেলায় যা কিছু বলা হয়েছে, এটা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকেও তাঁর ঐসব বান্দার অন্তর্ভুক্ত করে নিন, যারা তাঁর নির্দেশে এবং তাঁর পাকড়াও ও আযাবের ভয়ে মদ ও মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকে। তিনি আমাদেরকে জান্নাতের পবিত্র হাউযের পবিত্র পানীয় দ্বারা পরিতৃপ্ত করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)