মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
২০৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ রাযি. বলেছেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সাথে হযরত মায়মুনা রাযি.-এর বাড়ীতে গেলাম। (রাবী বলেন যে, হযরত মায়মুনা রাযি. হযরত খালেদ ও ইবনে আব্বাস রাযি.-এর আপন খালা ছিলেন।) খালেদ বলেন, আমি দেখলাম যে, তাঁর (অর্থাৎ, মায়মুনার) সামনে একটি ভূনা গুইসাপ। তিনি এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত গুটিয়ে নিলেন। (যার দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি এটা খেতে চান না।) এমন সময় খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। গুঁইসাপ খাওয়া কি হারাম? তিনি উত্তর দিলেন, না, (অর্থাৎ, হারাম তো নয়; কিন্তু এটা আমাদের অঞ্চলে (অর্থাৎ, মক্কার মাটিতে) হয় না তো, এ জন্য আমার রুচি এটা গ্রহণ করতে চায় না। খালেদ বলেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উত্তর শুনে) আমি এটা নিজের দিকে টেনে নিলাম এবং খেতে লাগলাম। আর এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। (অর্থাৎ, আমাকে খেতে দেখলেন, কিন্তু নিষেধ করলেন না।) বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ، أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَيْمُونَةَ، وَهِيَ خَالَتُهُ وَخَالَةُ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَوَجَدَ عِنْدَهَا ضَبًّا مَحْنُوذًا، فَقَدَّمَتِ الضَّبَّ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَنِ الضَّبِّ، فَقَالَ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ: أَحَرَامٌ الضَّبُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لاَ، وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ» قَالَ خَالِدٌ: فَاجْتَرَرْتُهُ فَأَكَلْتُهُ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ إِلَيَّ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যেসব ইমাম গুইসাপ হালাল হওয়ার পক্ষে মত পোষণ করেন, তাদের সবচেয়ে বড় দলীল এ হাদীসটিই। এছাড়াও আরও কিছু হাদীস রয়েছে, যেগুলোর দ্বারা বুঝা যায় যে, গুইসাপ খাওয়া হালাল। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর মত এই যে, এসব হাদীস সম্ভবত ঐ সময়কার, যখন এর হারাম হওয়ার বিধান আসে নাই। আর যে পর্যন্ত কোন জিনিসের হারাম হওয়ার বিধান না আসে, সে পর্যন্ত এটা মুবাহ ও হালালই থাকে। যাহোক, ইমাম আবু হানীফা (রহ) নিষেধাজ্ঞার হাদীসটিকে যা উপরে উল্লেখ করে আসা হয়েছে- সময়ের দিক থেকে পরবর্তীও ناسخ তথা রহিতকারী মনে করেন। তাছাড়া একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর রীতি ও নিয়ম এই যে, যখন কোন জিনিসের হালাল হারাম সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন তিনি সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে হারাম হওয়ার দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)