মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৩২ টি
হাদীস নং: ১৯৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার খলীফার ফযীলত ও মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন কোন বক্তব্যে যেভাবে এক সাথে হযরত শায়খাইন আবু বকর ও উমর রাযি.-এর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন এবং যেভাবে কোন কোন বক্তব্যে হযরত উসমান রাযি. কেও শামিল করে এক সাথে তিন জনের মর্যাদা বর্ণনা করেছেন, তেমনিভাবে তিনি তাঁর কোন কোন বক্তব্যে হযরত আলী রাযি. কেও শামিল করে চার খলীফার ফযীলতই একসাথে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে হুযুর (ﷺ)-এর এ জাতীয় কিছু বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন কোন বক্তব্যে যেভাবে এক সাথে হযরত শায়খাইন আবু বকর ও উমর রাযি.-এর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন এবং যেভাবে কোন কোন বক্তব্যে হযরত উসমান রাযি. কেও শামিল করে এক সাথে তিন জনের মর্যাদা বর্ণনা করেছেন, তেমনিভাবে তিনি তাঁর কোন কোন বক্তব্যে হযরত আলী রাযি. কেও শামিল করে চার খলীফার ফযীলতই একসাথে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে হুযুর (ﷺ)-এর এ জাতীয় কিছু বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে।
১৯৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা আবু বকরের প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি তাঁর কন্যা (আয়েশাকে) আমার নিকট বিয়ে দিয়েছেন, দারুল হিজরত (মদীনা) পৌঁছতে আমাকে বাহন দ্বারা সাহায্য করেছেন এবং বিলালকে স্বীয় সম্পদ দ্বারা ক্রয় করে আযাদ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা উমরের প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি সত্য কথা বলেন, যদিও কারো নিকট তিক্ত মনে হয়। তাঁর এ সত্যনিষ্ঠা তাঁকে এমন করে দিয়েছে যে, তাঁর কোন বন্ধু নেই। আল্লাহ্ তা'আলা উসমানের প্রতি অনুগ্রহ করুন। যার অবস্থা এই যে, ফিরিশতারাও তাকে লজ্জা করে। আল্লাহ্ তা'আলা আলীর প্রতি অনুগ্রহ করুন। হে আল্লাহ্! তুমি সত্য ও ন্যায়কে তাঁর সাথে চলমান রাখ। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَحِمَ اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ زَوَّجَنِيَ ابْنَتَهُ، وَحَمَلَنِي إِلَى دَارِ الهِجْرَةِ، وَأَعْتَقَ بِلاَلاً مِنْ مَالِهِ، رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ، يَقُولُ الحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا، تَرَكَهُ الحَقُّ وَمَا لَهُ صَدِيقٌ، رَحِمَ اللَّهُ عُثْمَانَ، تَسْتَحْيِيهِ الْمَلاَئِكَةُ، رَحِمَ اللَّهُ عَلِيًّا، اللَّهُمَّ أَدِرِ الحَقَّ مَعَهُ حَيْثُ دَارَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার খলীফার ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে এ উম্মতের প্রতি সবচেয়ে দয়াদ্রচিত্ত হলেন আবু বকর রাযি., আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে সবচাইতে কঠোর হলেন, উমর রাযি., লজ্জাগুণে সবচেয়ে সম্মানিত হলেন উসমান ইবনে আফফান রাযি., আর বিচারকার্যে সবচেয়ে পারদর্শী হলেন আলী ইবনে আবু তালেব রাযি.। (ইবনে আসাকির)
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرْحَمُ أُمَّتِي بِأُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ، وَأَشَدُّهُمْ فِي دِينِ اللَّهُ عُمَرُ، وَأَصْدَقُهُمْ حَيَاءً عُثْمَانُ، وَأَقْضَاهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ. (رواه ابن عساكر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার খলীফার ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৮. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর রাযি. উপর অন্য কাউকে বেশী মর্যাদা দিল, সে আমার বলা কথাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং তারা (আল্লাহর নিকট) যে মর্যাদায় আসীন তা অস্বীকার করল। (রাফেয়ী)
کتاب المناقب والفضائل
عن أبي هريرة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: من فضل على أبي بكر وعمر وعثمان وعلي فقد رد ما قلته وكذب ما هم أهله. (رواه الرافعى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার খলীফার ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৯. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: (আমার এ চার সাথী ও বন্ধু) আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর রাযি. ভালবাসা কোন মুনাফিকের অন্তরে স্থান পাবে না। (তাবরানী, ইবনে আসাকির)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَا يَجْتَمِعُ حُبُّ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِىٍّ فِيْ قَلْبِ مُنَافِقٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط وابن عساكر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশারা মুবাশশারার অবশিষ্ট সাহাবীদের ফযীলত ও মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের এক বক্তব্যে (যা পাঠকগণ এ ভূমিকামূলক কয়েকটি ছত্রের পরেই তিরমিযী শরীফের বরাতে পাঠ করবেন।) আপন সাহাবীদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে দশ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ঘোষণা করেছেন যে, এরা জান্নাতী। তাঁদেরকে আশারা মুবাশশারা বলা হয়।
এ দশজনের মধ্যে চার খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান যিন্নুরাইন এবং হযরত আলী মুরতাযা রাযি.ও রয়েছেন। হুযুর (ﷺ) সর্বাগ্রে তাঁদেরই জান্নাতী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসগুলো পাঠকদের চোখের সামনে এসে গিয়েছে। তাদের ছাড়া অবশিষ্টদের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের এক বক্তব্যে (যা পাঠকগণ এ ভূমিকামূলক কয়েকটি ছত্রের পরেই তিরমিযী শরীফের বরাতে পাঠ করবেন।) আপন সাহাবীদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে দশ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ঘোষণা করেছেন যে, এরা জান্নাতী। তাঁদেরকে আশারা মুবাশশারা বলা হয়।
এ দশজনের মধ্যে চার খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান যিন্নুরাইন এবং হযরত আলী মুরতাযা রাযি.ও রয়েছেন। হুযুর (ﷺ) সর্বাগ্রে তাঁদেরই জান্নাতী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসগুলো পাঠকদের চোখের সামনে এসে গিয়েছে। তাদের ছাড়া অবশিষ্টদের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
২০০. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: আবু বকর জান্নাতী, উমর জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবায়ের জান্নাতী, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ জান্নাতী, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস জান্নাতী, সাঈদ ইবনে যায়েদ জান্নাতী এবং আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি. জান্নাতী। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ، وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ، وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ، وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ، وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فِي الْجَنَّةِ، وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ فِي الْجَنَّةِ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي الْجَنَّةِ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি.
২০১. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে দেখে বললেন, যার জন্য একথা খুশি ও আনন্দদায়ক হয় যে, সে ব্যক্তি এমন কোন শহীদকে দেখতে চায়, যে যমীনে চলাফেরা করে সে যেন তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে দেখে নেয়। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَظَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى شَهِيدٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি.
২০২. হযরত যুবায়ের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন নবী করীম (ﷺ)-এর গায়ে দু'টি লৌহবর্ম ছিল। এ অবস্থায় তিনি একটি পাথরের উপর উঠতে চাইলেন। (কিন্তু বর্মের ওজন ও চাপের জন্য) তিনি সেখানে উঠতে পারলেন না। এ সময় তালহা তার নীচে বসে গেলেন। (যাতে হুযুর (ﷺ) তার উপর পা রেখে পাথরের উপর উঠতে পারেন।) এবার তিনি তার উপর পা রেখে পাথর পর্যন্ত পৌছে গেলেন। বর্ণনাকারী যুবায়ের বলেন, আমি এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তালহা নিজের জন্য (জান্নাত) ওয়াজিব করে নিয়েছে। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَقَعَدَ تَحْتَهُ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ، فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: أَوْجَبَ طَلْحَةُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি.
২০৩. হযরত কায়েস ইবনে আবী হাযেম রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত তালহা রাযি.-এর হাতটি অবশ অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দ্বারা তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন নবী করীম (ﷺ)কে (শত্রুদের তীর থেকে) রক্ষা করেছিলেন। (বুখারী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ قَيْسِ ابْنِ حَازِمٍ قَالَ: «رَأَيْتُ يَدَ طَلْحَةَ شَلَّاءَ وَقَى بِهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত যুবায়ের রাযি.
২০৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কে আছে, যে শত্রু সৈন্যদের সংবাদ আমার নিকট নিয়ে আসবে? হযরত যুবায়ের রাযি. বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, প্রত্যেক নবীরই একজন হাওয়ারী (একান্ত বিশ্বস্ত বন্ধু) থাকে। আর আমার হাওয়ারী হচ্ছে যুবায়ের রাযি.। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَأْتِينِي بِخَبَرِ القَوْمِ يَوْمَ الأَحْزَابِ؟» قَالَ الزُّبَيْرُ: أَنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا وَحَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত যুবায়ের রাযি.
২০৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ), হযরত আবু বকর, হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত তালহা ও হযরত যুবায়ের রাযি. হেরা পর্বতের উপর ছিলেন। এ সময় পর্বতের পাথরে কম্পন সৃষ্টি হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন পর্বতকে উদ্দেশ্য করে বললেন, স্থির হয়ে যাও। তোমার উপর রয়েছেন আল্লাহর এক নবী, একজন সিদ্দীক ও শহীদ। (মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ عَلَى حِرَاءٍ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعَلِيٌّ، وَعُثْمَانُ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، فَتَحَرَّكَتِ الصَّخْرَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اهْدَأْ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ، أَوْ صِدِّيقٌ، أَوْ شَهِيدٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত যুবায়ের রাযি.
২০৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দু'কান' রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখ থেকে একথা বলতে শুনেছে: তালহা ও যুবায়ের জান্নাতে আমার প্রতিবেশী হবে। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: سَمِعَتْ أُذُنِي مِنْ فِي رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ: طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ جَارَايَ فِي الجَنَّةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.
২০৭. হযরত হারেস ইবনে সিম্মাহ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন, তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাঁকে কালো পাথরের অংশের দিকে দেখেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, তাঁর উপর মুশরিকরা আক্রমণ করছে। আমি তাঁর নিকট ছুটে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম যে, তাঁকে কোনক্রমে বাঁচানো যায় কি না। এ সময়ই আপনার প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ল এবং আমি আপনার দিকে ফিরে আসলাম। নবী করীম (ﷺ) বললেন, জেনে রাখ, আল্লাহর ফিরিশতারা আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পক্ষে যুদ্ধ করছে। (বর্ণনাকারী হারেস বলেন,) তাঁর এ কথা শুনে আমি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের কাছে ফিরে আসলাম এবং দেখলাম, তাঁর সামনে মুশরিকদের সাতটি লাশ পড়ে আছে। আমি তখন বললাম, তোমার হাত কামিয়াব ও সফল থাকুক। তুমি কি এদের সবাইকে হত্যা করেছ? তিনি উত্তর দিলেন, এই আরতাত ইবনে আবদে শুরাহবীল ও অপর দু'জনকে তো আমি হত্যা করেছি, কিন্তু অন্য চারজনকে কে হত্যা করেছে, আমি দেখিনি। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যবাদী। (ইবনে মুন্দাহ, তাবরানী, আবূ নুআইম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ الْحَارِثُ بْنُ الصِّمَّةِ الْاَنْصَارِىِّ قَالَ: سَأَلَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ فِي الشِّعْبِ: «هَلْ رَأَيْتَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ؟» قُلْتُ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ، رَأَيْتُهُ إِلَى حَرِّ الْجَبَلِ، وَعَلَيْهِ عَكَرٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، فَهَرَبْتُ إِلَيْهِ لِأَمْنَعَهُ، فَرَأَيْتُكَ فَعَدَلْتُ إِلَيْكَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا إِنَّ الْمَلَائِكَةَ تُقَاتِلُ مَعَهُ» . فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَجِدُهُ بَيْنَ نَفَرٍ سَبْعَةٍ صَرْعَى، فَقُلْتُ لَهُ: ظَفِرَتْ يَمِينُكَ، أَكُلَّ هَؤُلَاءِ قَتَلْتَ؟ قَالَ: أَمَّا هَذَا لِأَرْطاةَ بْنِ شُرَحْبِيلَ، وَهَذَا فَأَنَا قَتَلْتُهُمَا، وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَقَتَلَهُمْ مَنْ لَمْ أَرَهُ. قُلْتُ: صَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه ابن منذه فى مسنده والطبرانى فى المعجم الكبير و ابو نعيم فى الحلية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.
২০৮. ইবরাহীম ইবনে সা'দ তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে এ তথ্য পৌঁছেছে যে, উহুদ যুদ্ধে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের শরীরে (তীর ও তরবারীর) একুশটি আঘাত লেগেছিল। তার পাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল, যে কারণে তিনি ল্যাংড়িয়ে চলতেন। (আবু নুআইম, ইবনে আসাকির)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ قَالَ : بَلَغَنِيْ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ جُرِحَ يَوْمَ أُحُدٍ إحْدَى وَعِشْرِين جِرَاحَةٌ ، وَجُرْح فِي رِجْلَه فَكَان يَعْرُجُ مِنْهَا. (أبو نعيم وابن عساكر).
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.
২০৯. হযরত মুগীরা ইবনে শো'বা রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। তিনি তাঁর জন্য ওযুর পানি আনলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পানি দ্বারা ওযু করলেন এবং মোজার উপর মসেহ করলেন। তারপর লোকদের সাথে এশার জামাআতে শামিল হয়ে গেলেন। এ সময় হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ইমাম হিসাবে নামায পড়াচ্ছিলেন। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি পেছনে সরে আসতে চাইলেন, (যাতে অবশিষ্ট নামায হুযুর (ﷺ)-এর ইমামতিতে সম্পন্ন হয়।) কিন্তু তিনি ইশারা করলেন যে, তুমি নিজের জায়গায়ই থাক, (পেছনে সরে আসার ইচ্ছা করো না) মুগীরা বলেন। আমরা উভয়ে নামাযের যে অংশটুকু জামাআতের সাথে পেয়েছিলাম, তা আব্দুর রহমান ইবনে আউফের এক্তেদায় আদায় করে নিলাম। আর যতটুকু ছুটে গিয়েছিল, সেটা পরে আদায় করে নিলাম। (মুখতারাহ, হাফেজ মুকদ্দাসী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ الْمُغِيرَةَ أَنَّهُ كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَأَتَاهُ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ، ثُمَّ لَحِقَ بِالنَّاس فَإِذَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ يُصَلِّي بِهِم ، فَلَمَّا رَآهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ هَمَّ أَنْ يَرْجِعَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَكَانَكَ ! فَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ مَا أَدْرَكْنَا وقضينا مَا فَاتَنَا . (رواه الضياء المقدسى فى المختاره)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.
২১০. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর স্ত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি আমার পরে যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ দ্বারা তোমাদের যথেষ্ট খেদমত করবে, সে হচ্ছে নিষ্ঠাবান ঈমানদার ও পরোপকারী বান্দা। হে আল্লাহ্! আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে জান্নাতের ঝর্ণা থেকে পরিতৃপ্তির পানি পান করাও। (মুসনাদে আহমাদ)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَزْوَاجِهِ: «إِنَّ الَّذِي يَحْنُو عَلَيْكُنَّ بَعْدِي هُوَ الصَّادِقُ الْبَارُّ، اللَّهُمَّ اسْقِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ مِنْ سَلْسَبِيلِ الْجَنَّةِ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.
২১১. আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুজাম্মা ইবনে হারেসা থেকে বর্ণিত যে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফের স্ত্রী উম্মে কুলসুম বিনতে উকবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এ কথা কি ঠিক যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে বলেছিলেন যে, তুমি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাও- যিনি হলেন সাইয়্যেদুল মুসলিমীন তথা মুসলমানদের সরদার। উম্মে কুলসুম বললেন, হ্যাঁ, (হুযুর (ﷺ) আমাকে একথা বলেছিলেন।) (ইবনে মুন্দাহ, ইবনে আসাকির)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُجَمِّعِ بْنِ حَارِثَةَ أَنَّ عُمَرَ قَالَ لِأُمّ كُلْثُومِ بِنْتِ عُقْبَةَ امْرَأَةِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْف : أَقَالَ لَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم : انكحى سَيِّدُ الْمُسْلِمِيْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ؟ قَالَتْ : نَعَمْ . (رواه ابن منده وابن عساكر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.
২১২. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে হযরত সা'দ ইবনে মালেক (অর্থাৎ, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস) ছাড়া অন্য করো জন্য নিজের পিতামাতাকে একত্রিত করতে (অর্থাৎ, আমার পিতামাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোন) বলতে শুনিনি। আমি উহুদের দিন তাঁকে বলতে শুনেছি: يا سَعْدُ ارْمِ. فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! এভাবেই তীর চালাতে থাক, আমার মা বাপ তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক।) (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ أَبَوَيْهِ لِأَحَدٍ إِلَّا لِسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ: «يَا سَعْدُ ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.
২১৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনায় আগমনের পর এক রাতে (কোন সাময়িক আশংকার কারণে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘুম আসছিল না। তাই তিনি বললেন, কোন পুণ্যবান ব্যক্তি যদি আমাকে পাহারা দেওয়ার জন্য এসে যেত? হঠাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ আগন্তুক কে? সে উত্তর দিল, আমি সা'দ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ সময় কেন এসেছ? সে উত্তরে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ব্যাপারে আমার অন্তরে আশংকা সৃষ্টি হল (যে কোন শত্রু এসে তাঁকে কষ্ট দেয় কি না) তাই আমি আপনার হেফাযত ও পাহারাদারী করার জন্য এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাঁর জন্য দু‘আ করলেন এবং নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়লেন। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَدِمَ المَدِينَةَ، قَالَ: «لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا يَحْرُسُنِي»، إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ سِلاَحٍ، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟»، فَقَالَ: أَنَا سَعْدُ قَالَ مَا جَاءَ بِكَ؟ قَالَ وَقَعَ فِىْ نَفْسِيْ خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ، فدعا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ َنَامَ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.
২১৪. কায়েস ইবনে আবী হাযেম তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি আরবদের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর পথে (ইসলামের শত্রুদের প্রতি) তীর নিক্ষেপ করেছে। আমি আমাকে ও আমার সাথীদেরকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করতাম এ অবস্থায় যে, আমাদের খাদ্য সামগ্রী বলতে বাবুলের গোটা ও এর পাতা ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। (এসব খাওয়ার ফলে) আমাদের পায়খানা হত ছাগলের পায়খানার মত- বড়ির ন্যায়। এখন বনী আসাদের লোকেরা আমাকে নিয়ে তিরস্কার করছে ইসলামের ব্যাপারে, তাহলে তো আমি বিফল হয়ে গেলাম এবং আমার সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেল। (ঘটনা এই ছিল যে,) বনু আসাদের লোকেরা হযরত উমর রাযি.-এর নিকট অভিযোগ করেছিল যে, সা'দ ঠিকমত নামায পড়ায় না। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ قَيْسِ ابْنِ أَبِىْ حَازِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ يَقُولُ: «وَاللهِ إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ، رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَرَأَيْتُنَا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَا لَنَا طَعَامٌ إِلَّا الْحُبْلَةُ وَوَرَقُ السَّمُرُ، وَإِنَّ كَانَ أَحَدُنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ مَالَهُ خِلْطٌ» ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ تُعَزِّرُنِي عَلَى الْاِسْلَامِ، لَقَدْ خِبْتُ، إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي، وَكَانُوْا وَشَواَبِهِ اِلَى عُمَرَ ، وَقَالُوْا: لَا يُحْسِنُ يُصَلِّىْ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ রাযি.
২১৫. হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় ব্যক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। আর যদি দশম ব্যক্তি সম্পর্কেও এ সাক্ষ্য দেই, তাহলে গুনাহগার হব না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, এটা কিভাবে? (অর্থাৎ, কিসের ভিত্তিতে আপনি এ কথা বলেছেন?) সাইদ ইবনে যায়েদ উত্তরে বললেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হেরা পর্বতে ছিলাম। (হঠাৎ পাহাড়ে কম্পন সৃষ্টি হল এবং এটা দুলতে লাগল।) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এ সময় বললেন, হে হেরা! তুমি স্থির হয়ে যাও। এ মুহূর্তে তোমার উপর রয়েছেন আল্লাহর নবী অথবা সিদ্দীক অথবা শহীদ। পরে সাঈদকে জিজ্ঞাসা করা হল, তাঁরা কারা ছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, (১) রাসুলুল্লাহ (ﷺ), (২) আবু বকর, (৩) উমর, (৪) উসমান, (৫) আলী, (৬) তালহা, (৭) যুবায়ের, (৮) সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, (৯) আব্দুর রহমান ইবনে আউফ। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, দশম ব্যক্তিটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, স্বয়ং এ বান্দা। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى التِّسْعَةِ أَنَّهُمْ فِي الجَنَّةِ، وَلَوْ شَهِدْتُ عَلَى العَاشِرِ لَمْ آثَمْ. قِيلَ: وَكَيْفَ ذَاكَ؟ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحِرَاءَ، فَقَالَ: اثْبُتْ حِرَاءُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ. قِيلَ: وَمَنْ هُمْ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، وَعَلِيٌّ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ. قِيلَ فَمَنِ العَاشِرُ؟ قَالَ: أَنَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক: