মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৩২ টি
হাদীস নং: ১৭৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৭৬. হযরত ইসমাহ ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঐ কন্যার ইন্তিকাল হয়ে গেল- যিনি হযরত উসমানের বিবাহাধীন ছিলেন (অর্থাৎ, হযরত উম্মে কুলসুম।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন লোকদেরকে বললেন, তোমরা উসমানের বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও। আমার যদি তৃতীয় কোন কন্যা থাকত, তাহলে আমি তাকেও উসমানের নিকটই বিয়ে দিতাম। আমি আমার কন্যাদেরকে ওহীর মাধ্যমে আগত নির্দেশের ভিত্তিতেই উসমানের নিকট বিয়ে দিয়েছিলাম। -ইবনে আসাকির
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عِصْمَةَ بْنِ مَالِكٍ الْخِطْمِىِّ قَالَ: لَمَّا مَاتَتْ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ عُثْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «زَوِّجُوا عُثْمَانَ لَو كَانَ لِي ثَالِثَةً لَزَوَّجْتُهُ، وَمَا زَوَّجْتُهُ إِلَّا بِالْوَحْيِ مِنَ اللهِ» (رواه ابن عساكر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৭৭. হযরত উসমান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দ্বিতীয়া কন্যা (উম্মে কুলসুম)-এর মৃত্যুর পর আমাকে বলেছিলেন, হে উসমান। আমার যদি দশটি কন্যা সন্তান থাকত, তাহলে আমি একের পর আরেকজনকে তোমার নিকট বিয়ে দিয়ে দিতাম। কেননা, আমি তোমার প্রতি খুবই সন্তুষ্ট। -তাবরানী, দারাকুতনী, ইবনে আসাকির
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُثْمَانَ قَال : قَالَ لِيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَوْت ابْنَتَه الْأَخِيرَة يَا عُثْمَان ! لَوْ أَنَّ عِنْدِي عَشْرًا لَزَوَّجْتُكَهُنَّ وَاحِدَةً بَعْدَ وَاحِدَةٍ فَإِنّي عَنْك رَاضٍ . (رواه الطبرانى فى الاوسط والدار قطنى في الافراد وابن عساكر)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর মর্যাদা সংক্রান্ত এ ধারাটি হযরত আলী রাযি.-এর একটি বক্তব্যের উপর সমাপ্ত করা হচ্ছে
১৭৮. সাবেত ইবনে উবায়েদ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হযরত আলী রাযি.-এর খেদমতে নিবেদন করল যে, আমি মদীনা ফিরে যাচ্ছি। সেখানে লোকেরা আমাকে হযরত উসমান রাযি. সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাই (আমাকে বলে দিন) আমি কি উত্তর দিব। হযরত আলী রাযি. বললেন, তাদেরকে বলে দিয়ো যে, উসমান রাযি., আল্লাহর ঐসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন পাকে বলেছেন,) যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারপর তাকওয়া ও পরিপূর্ণ ঈমানী যিন্দেগীর অনুসরণ করেছে, তারপর তাওয়া ও ইহসানের স্তর লাভ করেছে। আর আল্লাহ তা'আলা ঐসব বান্দাকে ভালবাসেন, যারা ইহসানের স্তরে উন্নীত। -ইবনে মারদুবিয়্যাহ, ইবনে আসাকির
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَلِيٍّ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ! إنِّي ارْجِعْ إلَى الْمَدِينَةِ وَأَنَّهُمْ سَائِلِيْ عَنْ عُثْمَانَ فَمَاذَا أَقُولُ لَهُمْ ؟ قَالَ : أَخْبِرْهُمْ أَنَّ عُثْمَانَ كَانَ مِنْ الَّذِينَ {آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوْا وَآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوْا وَأَحْسَنُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ}. (رواه ابن مردويه وابن عساكر).
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৭৯. হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের (যুদ্ধের) দিন বললেন, আগামীকাল আমি এ পতাকা এমন এক ব্যক্তির হাতে অর্পণ করব, যার হাতে আল্লাহ্ তা'আলা খায়বারের বিজয় দান করবেন, আর সে আল্লাহ্ ও রাসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলও তাকে ভালবাসেন। তারপর যখন প্রভাত হল, তখন লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর খেদমতে উপস্থিত হল। তারা সবাই আশা করছিল যে, পতাকা তাদেরকে দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, আলী ইবনে আবু তালেব কোথায়? তারা বলল, তিনি চোখের ব্যথায় আক্রান্ত। (এ জন্য এখানে উপস্থিত হতে পারেননি।) তিনি বললেন, তাঁকে ডেকে আনার জন্য কাউকে পাঠিয়ে দাও। তারপর তাঁকে উপস্থিত করা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাঁর দুই চোখে সামান্য থু থু লাগিয়ে দিলেন। ফলে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তাঁর কোন অসুখই ছিল না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে পতাকা দান করলেন। (এটা এ কথার ইঙ্গিত ছিল যে, আজ এ বাহিনীর সেনাপতি তিনিই হবেন।) আলী রাযি. তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি সে পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাব যে, তারা আমাদের মত হয়ে যায়? (অর্থাৎ, ইসলাম গ্রহণ করে নেয়।) তিনি বললেন, তুমি ধীরে স্থীরে যাও, আর যখন তাদের এলাকায় পৌছে যাবে, তখন তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত পেশ কর এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কি কি দায়িত্ব বর্তায়, এগুলোও বলে দাও। আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ যদি তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকেও হিদায়াত দান করেন, তাহলে এটা গনীমতের মালে লাল উট পাওয়ার চেয়েও তোমার জন্য উত্তম হবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ سَهْلِ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ: «لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلًا يَفْتَحُ اللهُ عَلَى يَدَيْهِ، يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ» فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلُّهُمْ يَرْجُونَ أَنْ يُعْطَاهَا، فَقَالَ أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَقَالُوا: هُوَ يَا رَسُولَ اللهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ، قَالَ فَأَرْسِلُوا إِلَيْهِ، فَأُتِيَ بِهِ، فَبَصَقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَيْنَيْهِ، وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ، حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ، فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللهِ أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا؟ قَالَ: «انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ، حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ، وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللهِ فِيهِ، فَوَاللهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮০. যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আলী রাযি. বলেছেন: ঐ মহান সত্তার কসম। যিনি বীজ থেকে অঙ্কুর বের করেন এবং (বীর্য থেকে) প্রাণী সৃষ্টি করেন। নবীয়ে উম্মী (ﷺ) আমাকে বিশেষভাবে বলেছেন যে, আমাকে সেই বান্দাই মহব্বত করবে, যে খাঁটি মু'মিন, আর আমার প্রতি সেই ব্যক্তিই বিদ্বেষ পোষণ করবে, যে মুনাফিক। (মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ زِرٍّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِي الله عَنهُ : وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ، وَبَرَأَ النَّسَمَةَ، إِنَّهُ لَعَهِدَ النَّبِيُّ الْأُمِّيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ: «أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضَنِي إِلَّا مُنَافِقٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮১. হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাবুক যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হলেন, তখন হযরত আলী রাযি. কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে মদীনায় রেখে গেলেন। আলী রাযি. বললেন, আমাকে মহিলা ও শিশুদের উপর খলীফা (ও তত্ত্বাবধায়ক) বানিয়ে যাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, তুমি কি এতে খুশী নও যে, মূসার তুলনায় যেমন হারুন ছিলেন, আমার তুলনায় তুমি তাই হবে। তবে আমার পর কোন নবী নেই। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ سَعْدِ بن أَبِىْ وَقَاصٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى تَبُوكَ، فَاسْتَخْلَفَ عَلِيًّا، قَالَ: أَتُخَلِّفُنِي عَلَى الصِّبْيَانِ وَالنِّسَاءِ؟ قَالَ: «أَلاَ تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ، مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮২. হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: আলী আমার এবং আমি তাঁর। আর সে প্রতিটি মু'মিনের বন্ধু। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ، وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৩. হযরত হুবসী ইবনে জুনাদাহ রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আলী আমার আর আমি আলীর। আর আমার পক্ষ থেকে (এ গুরুত্বপূর্ণ পয়গাম) আমিই পৌঁছাতে পারি অথবা আলী। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلِيٌّ مِنِّي وَأَنَا مِنْ عَلِيٍّ، وَلاَ يُؤَدِّي عَنِّي إِلاَّ أَنَا أَوْ عَلِيٌّ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (হিজরতের পর মদীনায় এসে) আপন সাহাবীদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। (অর্থাৎ, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একজনকে আরেকজনের ভাই বানিয়ে দিলেন।) এমন সময় হযরত আলী রাযি. অশ্রুসিক্ত নয়নে আসলেন এবং বললেন, আপনি আপনার সকল সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিলেন, আর আমার ও অন্য কারো মধ্যে এ সম্পর্ক করে দিলেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, তুমি হচ্ছ আমার ভাই- দুনিয়াতেও এবং আখেরাতেও। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: آخَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ عَلِيٌّ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ آخَيْتَ بَيْنَ أَصْحَابِكَ وَلَمْ تُؤَاخِ بَيْنِي وَبَيْنَ أَحَدٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنْتَ أَخِي فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৫. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট (খাবার জন্য রান্না করা) একটি পাখি ছিল। তিনি তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমার নিকট এমন এক বান্দা পাঠিয়ে দাও, যে তোমার নিকট তোমার সৃষ্টির মধ্যে অধিকতর প্রিয় ও মাহবুব, যাতে সে এ পাখিটি আমার সাথে খায়। এমন সময় হযরত আলী রাযি. এসে গেলেন এবং তাঁর সাথে খাওয়ায় শরীক হয়ে গেলেন। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَيْرٌ فَقَالَ: اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِي هَذَا الطَّيْرَ فَجَاءَ عَلِيٌّ فَأَكَلَ مَعَهُ. (رواه والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি হলাম ইলম ও হেকমতের ঘর, আর আলী হচ্ছে এর দরজা। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا دَارُ الحِكْمَةِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৭. হযরত উম্মে আতিয়্যা রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (কোন এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে) একটি সেনাদল প্রেরণ করলেন- যাদের মধ্যে আলী রাযি.ও ছিলেন। উম্মে আতিয়্যা বলেন, আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দু'হাত তুলে এ দু‘আ করতে শুনলাম হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়ো না, যে পর্যন্ত না আলীকে দেখিয়ে দাও। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أُمُّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشًا فِيهِمْ عَلِيٌّ، قَالَتْ: فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ لاَ تُمِتْنِي حَتَّى تُرِيَنِي عَلِيًّا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৮. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) একদিন হযরত হাসান ও হুসাইনের হাত ধরলেন। তারপর বললেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসে, এ দু'জনকে ভালবাসে এবং তাদের পিতা মাতা (হযরত আলী ও ফাতেমা)-কে ভালবাসে, সে কিয়ামতের দিন আমার মর্যাদায় আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ حَسَنٍ وَحُسَيْنٍ فَقَالَ: مَنْ أَحَبَّنِي وَأَحَبَّ هَذَيْنِ وَأَبَاهُمَا وَأُمَّهُمَا كَانَ مَعِي فِي دَرَجَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৯. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম এবং খুব কষ্ট হচ্ছিল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পাশ দিয়ে গেলেন, আর তখন এ দু‘আ করছিলাম: হে আল্লাহ্! যদি আমার মৃত্যুর সময় এসে গিয়ে থাকে, তাহলে আমাকে শান্তি ও আরাম দান কর। (অর্থাৎ, মৃত্যু দিয়ে আমাকে এ কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়ে দাও।) আর যদি মৃত্যু আসতে দেরী থাকে, তাহলে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন দান কর। যদি এ রোগ ও অসুস্থতা তোমার পক্ষ থেকে কোন পরীক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে ধৈর্যধারণ করার তাওফীক দাও। (যেন আমি কষ্টের কথা প্রকাশ না করি।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি বলছিলে? আমি তখন (দু‘আর বাক্যগুলো) পুনরাবৃত্তি করলাম। তিনি তখন নিজের কদম মুবারক মারলেন এবং দু‘আ করলেন, اللهم عافه হে আল্লাহ। তুমি তাঁকে শান্তি দান কর। অথবা বললেন, اللهم اشفه হে আল্লাহ! তুমি তাঁকে সুস্থতা দান কর। হযরত আলী রাযি. বলেন, এরপর আমি অসুস্থতা ও কোন কষ্ট অনুভব করিনি। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: كُنْتُ شَاكِيًا فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَجَلِي قَدْ حَضَرَ فَأَرِحْنِي، وَإِنْ كَانَ مُتَأَخِّرًا فَارْفَعْنِي، وَإِنْ كَانَ بَلاَءً فَصَبِّرْنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ قُلْتَ؟ قَالَ: فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَا قَالَ، قَالَ: فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ عَافِهِ، (شَكَّ الرَّاوِىْ) أَوْ اشْفِهِ، شُعْبَةُ الشَّاكُّ، فَمَا اشْتَكَيْتُ وَجَعِي بَعْدُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯০. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, কিছু লোক তাঁকে জিজ্ঞাসা করল যে, আমরা আপনাকে প্রচণ্ড গরমের সময় দেখি যে, আপনি শীত মৌসুমের পোশাক পরিধান করে থাকেন, আবার শীতের মৌসুমে দেখি আপনার গায়ে গরম মৌসুমের কাপড় এবং আপনি শরীর থেকে ঘাম মুছে থাকেন। হযরত আলী রাযি. উত্তরে বললেন, একবার আমার চোখে অসুখ দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এতে নিজের মুখের থুথু ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে এ পর্যন্ত আমি কখনো চোখে অসুস্থতাবোধ করিনি। আর একবার তিনি আমার জন্য এ দু‘আ করেছিলেন: اللهم أذهب عنه الحر والبرد অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! তুমি এর থেকে গরম ও ঠাণ্ডা দূরে রাখ। এরপর থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনদিন গরম ও শীত অনুভব করিনি। (মুজামে তাবরানী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّهُ قِيْلَ لَهُ نَرَاكَ فِي الْحَرِّ الشَّدِيدِ وَعَلَيْهِ ثِيَابُ الشِّتَاءِ، وَنَرَاكَ فِي الشِّتَاءِ وَعَلَيْكَ ثِيَابُ الصَّيْفِ، وَتَمْسَحُ الْعَرَقَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَزَقَ فِىْ عَيْنِىْ وَأَنَا أَرْمَدُ، فَمَا اشْتَكَيْتُهُمَا حَتَّى السَّاعَةِ، وَدَعَا لِي فَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ الْحَرَّ وَالْبَرْدَ» ، فَمَا وَجَدْتُ حَرًّا وَلَا بَرْدًا حَتَّى يَوْمِي هَذَهِ. (رواه الطبرانى فى الاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯১. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নিজেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এ অবস্থায় দেখেছি যে, ক্ষুধার কারণে নিজের পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। (আর বর্তমানে আল্লাহর ফযলে আমার অবস্থা এই যে,) আমার সম্পদের যাকাত হয় চল্লিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা। (মুসনাদে আহমদ)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنِّي لارْبُطُ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الجُوعِ، وَإِنَّ مَالِىْ لِتَبْلُغُ اَرْبَعِيْنَ اَلْفَ دِيْنَارٍ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯২. হযরত বারা ইবনে আযেব ও যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন 'গাদীরেখুম' নামক স্থানে অবতরণ ও অবস্থান গ্রহণ করলেন, তখন হযরত আলী রাযি.-এর হাত ধরে (সফরসঙ্গী ও উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, তোমরা কি জাননা যে, আমি মুসলমানদের জন্য তাদের জীবন থেকেও অধিকতর প্রিয়? সবাই উত্তর দিল, অবশ্যই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান না যে, আমি প্রতিটি মুসলমানের নিকট তার জীবন থেকে অধিকতর প্রিয়? উত্তরে সবাই বললেন, অবশ্যই। তারপর বললেন, হে আল্লাহ্! আমি যার বন্ধু আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ্! যে ব্যক্তি আলীর সাথে বন্ধুত্ব রাখে, তুমি তার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, আর যে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তুমি তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। তারপর হযরত উমর রাযি. হযরত আলী রাযি.-এর সাথে সাক্ষাত করলেন (এবং তাঁকে মুবারকবাদ দিতে গিয়ে) বললেন, হে ইবনে আবু তালেব! মুবারক ও ধন্য হোক তোমার জীবন, তুমি সকাল-সন্ধ্যা (অর্থাৎ, সর্বদা) প্রতিটি মু'মিন নর নারীর বন্ধু ও প্রিয়পাত্র হয়ে গেলে। (মুসনাদে আহমাদ)
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَزَيْدِ بْنِ اَرْقَمَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا نَزَلَ بِغَدِيرِ خُمٍّ، أَخَذَ بِيَدِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ؟» قَالُوا: بَلَى، قَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي أَوْلَى لِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ؟» قَالُوا: بَلَى، قَالَ: «مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ، فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ، اللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ، وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ» فَلَقِيَهُ عُمَرُ بَعْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ «لَهُ هَنِيئًا يَا ابْنَ أَبِي طَالِبٍ، أَصْبَحْتَ وَأَمْسَيْتَ مَوْلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ، وَمُؤْمِنَةٍ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৩. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিচারক বানিয়ে ইয়ামানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বিচারক বানিয়ে পাঠিয়েছেন, অথচ আমার বয়স কম। আর (বিচারক কাজে) আমার তেমন কোন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই। তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমার অন্তরকে পথপ্রদর্শন করবেন এবং তোমার যবানকে স্থির রাখবেন। (অর্থাৎ, অন্তরে তাই আসবে এবং মুখে তাই ফুটবে, যা সঠিক ও সত্য হবে।) যখন তোমার নিকট দু'ব্যক্তি কোন বিষয় নিয়ে আসবে, তখন প্রথম ব্যক্তির বক্তব্য শুনেই কোন ফায়সালা দিয়ে দিবে না- যে পর্যন্ত না দ্বিতীয় ব্যক্তির বক্তব্য শুনে নাও। এ পদ্ধতিটি তোমার বিচারকার্যে খুবই সহায়ক হবে। হযরত আলী রাযি. বলেন, (হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আ ও শিক্ষার পর) আমার কোন বিচারকার্যে কোন সংশয়-সন্দেহও সৃষ্টি হয়নি। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ قَاضِيًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تُرْسِلُنِي وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ، وَلَا عِلْمَ لِي بِالْقَضَاءِ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ سَيَهْدِي قَلْبَكَ، وَيُثَبِّتُ لِسَانَكَ، فَإِذَا جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْكَ الْخَصْمَانِ، فَلَا تَقْضِيَنَّ حَتَّى تَسْمَعَ مِنَ الْآخَرِ، كَمَا سَمِعْتَ مِنَ الْأَوَّلِ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يَتَبَيَّنَ لَكَ الْقَضَاءُ»، قَالَ: «فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا، أَوْ مَا شَكَكْتُ فِي قَضَاءٍ بَعْدُ» (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৪. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, ঈসা ইবনে মারয়ামের সাথে তোমার একটা মিল রয়েছে। ইয়াহুদীরা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে। এমনকি তারা তাঁর মায়ের উপর (ব্যভিচারের) অপবাদ দিয়েছে। অপরদিকে নাসারাগণ তাঁর প্রতি এমন ভালবাসা দেখিয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে ঐ আসন দিয়েছে, যে আসন তাঁর ছিল না। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর) হযরত আলী রাযি. বলেন, (নিশ্চয়ই এমনই হবে।) আমার ব্যাপারে দু' শ্রেণীর মানুষ ধ্বংস হবে। ১. অতি প্রেমিক, যারা আমার এমনসব গুণ ও কৃতিত্বের কথা বলবে, যা আমার মধ্যে নেই। ২. অতি বিদ্বেষী, যাদের বিদ্বেষ তাদেরকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যে, তারা আমার উপর অপবাদ আরোপ করবে। (মুসনাদে আহমাদ)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِيكَ مَثَلٌ مِنْ عِيسَى أَبْغَضَتْهُ الْيَهُودُ حَتَّى بَهَتُوا أُمَّهُ، وَأَحَبَّتْهُ النَّصَارَى حَتَّى أَنْزَلُوهُ مَنْزِلَتَهُ الَّتِي لَيْسَ بِهِ» ثُمَّ قَالَ: «يَهْلِكُ فِيَّ رَجُلانِ مُحِبٌّ مُفْرِطٌ يُقَرِّظُنِي بِمَا لَيْسَ فِيَّ، وَمُبْغِضٌ يَحْمِلُهُ شَنَآنِي عَلَى أَنْ يَبْهَتَنِي» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৫. হযরত সুহাইব রাযি. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) (একদিন) হযরত আলী রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন, (তুমি বলতো,) পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা ও কমবখত কে ছিল? হযরত আলী রাযি. উত্তরে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (সামূদ ম্প্রদায়ের) ঐ ব্যক্তি, যে ঐ উটনীটি হত্যা করেছিল, (যাকে হযরত সালেহ (আ.)-এর মু'জেযা হিসাবে আল্লাহ্ তা'আলা পাথর থেকে বের করেছিলেন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ উত্তর শুনে) বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। (এবার বল) পরবর্তীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা কে হবে? তিনি বললেন, এ বিষয় কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন হযরত আলী রাযি.-এর মাথার অগ্রভাগের দিকে ইশারা করে বললেন, ঐ চরম হতভাগা হবে ঐ লোকটি, যে তরবারী দিয়ে তোমার এ স্থানে আঘাত করবে। হযরত আলী রাযি. (হুযূর (ﷺ)-এর কথার ভিত্তিতে নিজের দাড়ি ধরে বলতেন, হে ইরাকবাসী! আমার আকাঙ্খা যে, তোমাদের কোন চরম হতভাগা দাঁড়িয়ে যাবে এবং আমার এ দাড়িকে আমার কপালের রক্তে রঞ্জিত করে দিবে। (মু'জামে কবীর)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمْ قَالَ لِعَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: «مَنْ أَشْقَى الْأَوَّلِينَ؟» قَالَ: الَّذِي عَقَرَ النَّاقَةَ يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: «صَدَقْتَ، فَمَنْ أَشْقَى الْآخَرِينَ؟» قَالَ: لَا عَلِمَ لِي يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: «الَّذِي يَضْرِبُكَ عَلَى هَذِهِ» ، وَأَشَارَ إِلَى يَافُوخِهِ فَكَانَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ لِأَهْلِ الْعِرَاقِ: وَدِدْتُ أَنَّهُ قَدْ انْبَعَثَ أَشْقَاكُمْ، فَيَخْضِبُ هَذِهِ - يَعْنِي لِحْيَتَهُ - مِنْ هَذِهِ» ، وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى مُقَدَّمِ رَأْسِهِ " (رواه الطبرانى فى الكبير)
তাহকীক: