মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৩২ টি

হাদীস নং: ৯৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে ইলম ও জ্ঞানদান করা হয়েছিল, আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর উম্মত লাভ করেছে, যা মনুষ্য জীবনের বিভিন্ন শাখা সম্বন্ধে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত, সেগুলোর মধ্যে প্রশংসা ও ফযীলত অধ্যায়ও একটি। হাদীসের প্রায় সব কিতাবেই كتاب المناقب অথবা أبواب المناقب' জাতীয় বিষয়াবলির অধীনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই বাণীসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোতে তিনি কতক বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণীর সেই প্রশংসা ও ফযীলত বর্ণনা করেছেন যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ওপর প্রতিভাত করেছেন। কোন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এ অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এতে উম্মতের জন্য হিদায়াতের বিরাট উপকরণ রয়েছে। আল্লাহর নামে আজ এ অধ্যায়ের হাদীসসমূহের ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতা শুরু করা হচ্ছে। আর এ সূচনা কতক সেই হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা করা হচ্ছে, যেগুলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ পালনার্থে মহান প্রভুর বিশেষ নি'আমতরাজি ও সেই উঁচু স্তর সমূহের উল্লেখ করেছেন, যার ওপর তাঁকে সমাসীন করা হয়েছিল। এতদসঙ্গে ইন্‌শাআল্লাহ্ তাঁর মহান গুণাবলি, চরিত্র ও বিশেষ অবস্থাদি সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও ব্যাখ্যাসহ পাঠকবৃন্দের সামনে পেশ করা হবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
৯৬. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি সব আদম সন্তানের সায়্যিদ (সরদার) হব। আমি প্রথম ব্যক্তি হব যার কবর বিদীর্ণ হবে (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিদের্শে সর্ব প্রথম আমার কবর বিদীর্ণ হবে। আর সর্ব প্রথম আমি আমার কবর থেকে উঠব) আর আমি প্রথম সুপারিশকারী হব (অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে সর্ব প্রথম আমি শাফা'আত করার অনুমতিপ্রাপ্ত হব। এবং সর্ব প্রথম আমিই তাঁর মহান সমীপে শাফা'আত করব)। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি, যার শাফা'আত গৃহীত হবে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৯৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
৯৭. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি সব আদম সন্তানের সায়্যিদ (সরদার) হব। আর এটা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর সে দিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতে হবে। এটাও আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর আদম (আ) ছাড়াও সব নবী-রাসূল সেদিন আমার পতাকাতলে হবেন। আমি প্রথম সেই ব্যক্তি হব, যার কবরের যমীন উপর থেকে বিদীর্ণ হবে। এটাও আমি গর্ব হিসাবে বলছি না বরং আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে তাঁর নি'আমতরাজি ও ইহসান্সমূহের বর্ণনাস্বরূপ বলছি। (জামি' তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلاَ فَخْرَ وَمَا مِنْ نَبِيٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلاَّ تَحْتَ لِوَائِي وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُنْشَقُّ عَنْهُ الأَرْضُ وَلاَ فَخْرَ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৯৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
৯৮. হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি সব নবীর ইমাম হব এবং তাঁদের পক্ষ হতে আলোচনাকারী হব। আর তাঁদের সুপারিশকারী আমিই হব। এটা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না (বরং আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ পালনার্থে নি'আমতের উল্লেখ হিসাবে বলছি। (জামি' তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّينَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ غَيْرُ فَخْرٍ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৯৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
৯৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কতক সাহাবী বসে আলোচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি অন্দরমহল থেকে এলেন। তিনি তাঁদের নিকট আসার কালে শুনতে পেলেন তারা পরস্পর আলোচনা করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন (হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর উঁচু মর্যাদা বর্ণনাস্বরূপ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইব্রাহীম (আ) কে নিজের খলীফা বানিয়েছেন। অন্য এক ব্যক্তি বললেন, হযরত মূসা (আ) কে নিজের সাথে কথা বলার সৌভাগ্যদান করেছেন। এর পর অন্য একজন বললেন, হযরত ঈসা (আ)-এর এই মর্যাদা যে, তিনি আল্লাহর কলিমা ও রূহুল্লাহ্। এরপর এক ব্যক্তি বললেন, হযরত আদম (আ) কে আল্লাহ্ তা'আলা নির্বাচিত করেছেন। (তাঁকে সরাসরি নিজের কুদরতী হাতে বানিয়েছেন আর তাঁকে সিজদা করার জন্য ফেরেশেতাকূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাহাবীগণ এসব আলোচনা করছিলেন) হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের নিকট এসে বললেন, আমি তোমাদের কথা-বার্তা ও তোমাদের বিস্ময় প্রকাশ শুনেছি। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম (আ) আল্লাহর বন্ধু। আর তিনি এরূপই (তাঁকে আল্লাহ্ তা'আলা নিজের খলীল বানিয়েছেন)। আর নিঃসন্দেহে মূসা (আ) নাজীউল্লাহ্ (আল্লাহর সাথে একান্ত কথোপকথনকারী)। আর তিনি এরূপই। নিঃসন্দেহে ঈসা (আ) রূহুল্লাহ ও আল্লাহর কলিমা। আর তিনি এরূপই। নিঃসন্দেহে আদম (আ) সাফীউল্লাহ্ (আল্লাহর নির্বাচিত) আর বাস্তবেও তিনি তাই। তোমাদের জানা উচিত, আমি হাবীবুল্লাহ্ (আল্লাহর মাহবুব)। আর এটা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। কিয়ামতের দিন আমিই لِوَاءُ الْحَمْدِ (প্রশংসার প্রতাকা) উত্তোলনকারী হব। আদম (আ) ছাড়াও সব আম্বিয়া ও মুরসালীন (নবী-রাসূল) আমার সেই পতাকাতলে হবেন। এ কথা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর আমি সর্বপ্রথম সেই ব্যক্তি হব, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সমীপে সুপারিশ করবে। আর সর্বপ্রথম যার সুপারিশ কবুল করা হবে। আর আমি প্রথম সেই ব্যক্তি হব, যে (জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করার জন্যে) এর হুড়কা নাড়া দেবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা আমার জন্য এটা খুলিয়ে দেবেন। আমাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, আমার সাথে মু'মিন ফকিরগণ হবে। এ কথা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর আল্লাহর সমীপে পূর্বাপর সবার থেকে আমার মর্যাদা ও সম্মান অধিক হবে। এটাও আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। (জামি' তিরমিযী, মুসনাদে দারিমী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَلَسَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا دَنَا مِنْهُمْ سَمِعَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ قَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ اللَّهَ اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً. وَقَالَ آخَرُ مُوسَى كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا وَقَالَ آخَرُ عِيسَى كَلِمَةُ اللَّهِ وَرُوحُهُ. وَقَالَ آخَرُ آدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ كَلاَمَكُمْ وَعَجَبَكُمْ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلُ اللَّهِ وَهُوَ كَذَلِكَ وَمُوسَى نَجِيُّ اللَّهِ وَهُوَ كَذَلِكَ وَعِيسَى رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ وَهُوَ كَذَلِكَ وَآدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ وَهُوَ كَذَلِكَ أَلاَ وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا حَامِلُ لِوَاءِ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُحَرِّكُ حِلَقَ الْجَنَّةِ فَيَفْتَحُ اللَّهُ لِيَ فَيُدْخِلُنِيهَا وَمَعِي فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَكْرَمُ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ وَلاَ فَخْرَ. (رواه الترمذى والدارمى)
হাদীস নং: ১০০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
১০০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি কিয়ামতের দিন ওবীগণের নেতা ও অগ্রবর্তী হব। আর এ কথা আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর আমি নবীগণের শেষ। এটাও আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। আর আমি প্রথম সুপারিশকারী হব ও সর্ব প্রথম আমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এটাও আমি গর্ব হিসাবে বলছি না। (মুসনাদে দারিমী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَنَا قَائِدُ الْمُرْسَلِينَ وَلَا فَخْرَ، وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَلَا فَخْرَ، وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ وَلَا فَخْرَ» (رواه الدارمى)
হাদীস নং: ১০১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
১০১. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার এবং পূর্ববর্তী সব নবীর দৃষ্টান্ত এইরূপ যে, একটি জাঁক-জমকপূর্ণ প্রাসাদ, যার নির্মাণ খুব সুন্দর করে করা হয়েছে। দর্শকগণ সেই প্রাসাদের চারদিক ঘুরে একটি ইটের শূন্য জায়গা ছাড়া এর নির্মাণ কৌশল ও সৌন্দর্য দর্শনে অভিভূত হয়। (সেটা সেই সুন্দর প্রাসাদের এক ত্রুটি। নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন) সুতরাং আমি এসে সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করলাম। আমার মাধ্যমে সেই প্রাসাদের পূর্ণতা ও এর নির্মাণের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আর নবীগণের ধারাবাহিকতাও শেষ এবং পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়েছে। (মিল্কাতুল মাসাবীহ্ প্রণেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ খতীব তাবরিযী বলেন) সহীহহাইনেরই এক বর্ণনা শেষে আলোচ্য হাদীসের রেখাটানা শব্দাবলির স্থানে এ শব্দাবলি রয়েছে। فَأَنَا اللُّبْنَةُ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ আমিই সেই ইট যার দ্বারা এই নবুওতী প্রাসাদের পূর্ণতা হয়েছে, আর আমিই নবীগণের শেষ। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَثَلِي وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ قَصْرٍ أُحْسِنَ بُنْيَانُهُ تُرِكَ مِنْهُ مَوْضِعُ لِبْنَةٍ فَطَافَ بِهِ النُّظَّارُ يَتَعَجَّبُوْنَ مِنْ حُسْنِ بِنَائِهِ إِلَّا مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ فَكُنْتُ أَنَا سَدَدْتُّ مَوْضِعَ اللَّبِنَةِ خُتِمَ بِيَ الرُّسُلُ ..... وَفِىْ رِوَايَةٍ فَاَنَا اللَّبِنَةُ وَاَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّيْنَ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১০২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও জীবনকাল
১০২. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদেরকে আমার গোড়ার কথা বলছি। আমি হলাম ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আর ফসল। (অর্থাৎ, তাঁর দু‘আ কবুল হওয়ার বহিঃপ্রকাশ।) ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদের ফল। (অর্থাৎ, আমি ঐ নবী, যাঁর আগমনের সুসংবাদ তিনি দিয়েছিলেন।) আমি হলাম আমার মায়ের স্বপ্ন, (অর্থাৎ, তাঁর ঐ স্বপ্নের তা'বীর) যা তিনি আমার জন্মের সময় দেখেছিলেন যে, এমন একটি আলো বিকশিত হয়েছে, যাঁর দ্বারা আমার মায়ের জন্য শামদেশের প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গিয়েছে।-মুসনাদে আহমদ
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِىْ اُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَأُخْبِرُكُمْ بِاَوَّلِ اَمْرِىْ دَعْوَةِ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةُ عِيسَى، وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِىْ نُورًا أَضَاءَتْ لَهُ قُصُورُ الشَّامِ. (رواه احمد)
হাদীস নং: ১০৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও জীবনকাল
১০৩. হযরত কায়েস ইবনে মাখরামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হস্তীবাহিনীর বছর জন্ম গ্রহণ করেছিলাম। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ وُلِدْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১০৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও জীবনকাল
১০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন। তারপর তিনি তের বছর মক্কায় অবস্থান করেন, আর এ সময় তাঁর প্রতি ওহীর ধারা অব্যাহত ছিল। তারপর হিজরতের নির্দেশ আসল এবং তিনি (মদীনায়) হিজরত করলেন। তারপর তেষট্টি বছর বয়সে (মদীনায়ই) ইন্তিকাল করেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ بُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأَرْبَعِينَ سَنَةً، فَمَكُثَ بِمَكَّةَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ سَنَةً يُوحَى إِلَيْهِ، ثُمَّ أُمِرَ بِالْهِجْرَةِ فَهَاجَرَ عَشْرَ سِنِينَ، وَمَاتَ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও জীবনকাল
১০৫. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন, যখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. ইন্তিকাল করেন, যখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। হযরত উমর রাযি. ও ইন্তিকাল করেন, যখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। -মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُبِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ وَأَبُو بَكْرٍ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ وَعُمَرُ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১০৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও জীবনকাল
১০৬. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে জিনিস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল, সেটা ছিল সত্য স্বপ্ন-যা তিনি ঘুমের অবস্থায় দেখতেন। বস্তুত তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, সেটা প্রভাতের উজ্জ্বলতার ন্যায় সামনে এসে যেত। তারপর তাঁর অন্তরে নির্জনবাসকে প্রিয় করে দেওয়া হল। তাই তিনি হেরাগুহায় নির্জনবাস অবলম্বন করতেন। সেখানে তিনি কয়েক রাত পর্যন্ত ইবাদত করতেন এবং এর জন্য পানাহারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাথে নিয়ে যেতেন। তারপর হযরত খাদীজার নিকট ফিরে আসতেন এবং এত দিনের জন্য পুনরায় পানাহার সামগ্রী নিয়ে যেতেন। এ অবস্থায় একদিন তাঁর নিকট সত্য এসে গেল, (অর্থাৎ, সত্যের ওহী এসে গেল।) আর তখন তিনি হেরাগুহায় ছিলেন। (আল্লাহর প্রেরিত) ফিরিশতা (জিবরাঈল) তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, إقرأ আপনি পড়ন। তিনি বললেন, আমি তো পড়ুয়া নই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর ঐ ফিরিশতা আমাকে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি তাঁর চাপ আমার শক্তিসীমায় পৌঁছে গেল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়ুয়া নই। তারপর তিনি আমাকে ধরলেন এবং দ্বিতীয়বার সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি তাঁর চাপ আমার শক্তিসীমায় পৌঁছে গেল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং আবারো বললেন, إقرأ পড়ুন। আমি এবারও বললাম, আমি তো পড়ুয়া নই। তারপর ঐ ফিরিশতা আমাকে তৃতীয়বার ধরলেন এবং তৃতীয়বার সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি তাঁর চাপ আমার শেষ শক্তিসীমায় পৌঁছে গেল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন:

اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ. خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ. اِقۡرَاۡ وَرَبُّکَ الۡاَکۡرَمُ. الَّذِیۡ عَلَّمَ بِالۡقَلَمِ. عَلَّمَ الۡاِنۡسَانَ مَا لَمۡ یَعۡلَمۡ

(পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি (সব কিছু) সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত দ্বারা। পড় এবং তোমার প্রতিপালক সর্বাপেক্ষা বেশি মহানুভব। যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।)

তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ আয়াতগুলো নিয়ে প্রকম্পিত অন্তরে ফিরে আসলেন। তিনি (আপন স্ত্রী) হযরত খাদীজার কাছে আসলেন এবং বললেন, আমাকে কাপড় গায়ে দিয়ে দাও, আমাকে কাপড় গায়ে দিয়ে দাও। পরিবারের লোকেরা তখন কাপড় গায়ে দিয়ে দিল এবং তাঁর আতঙ্কভাব কেটে গেল। এ অবস্থা কেটে গেলে তিনি খাদীজা রাযি.-এর সাথে কথা বললেন এবং পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করলেন। তিনি বললেন, আমি তো আমার জীবনের আশংকা করেছিলাম। খাদীজা রাযি. বললেন, কখনো নয়। (অর্থাৎ, এমন আশংকার কোন কারণ নেই।) আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ তা'আলা কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার হক আদায় করেন, সর্বদা সত্য কথা বলেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং বাস্তব বিপদাপদে মানুষের সাহায্য করেন। তারপর খাদীজা রাযি. আপন চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফেলের কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনি আপনার ভাতিজার কথা ও ঘটনা শুনুন। ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলল, হে ভাতিজা! বল, তুমি কি দেখ? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন তাকে ঐসব বিষয়ের কথা বললেন, যা তিনি দেখেছিলেন। ওয়ারাকা তখন বলল, ইনি হচ্ছেন ঐ রহস্যভেদী ফিরিশতা (জিবরাঈল) যাকে আল্লাহ্ তা'আলা মূসা (আঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি ঐ সময় যুবক হতাম, হায়! আমি যদি তখন জীবিত থাকতাম, যখন তোমাকে তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা (দেশ থেকে) বের করে দিবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (অবাক হয়ে) জিজ্ঞাসা করলেন, আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে বের করে দিবে? ওয়ারাকা বলল, হ্যাঁ। (তোমার স্বজাতি তোমাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে।) কোন নবীই এমন নেই যিনি দাওয়াত নিয়ে এসেছেন, যেমন দাওয়াত নিয়ে তুমি এসেছ, অথচ তাদের সাথে শত্রুতার আচরণ করা হয়নি। আমি যদি ঐ সময় পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে তোমাকে পূর্ণরূপে সাহায্য করব। তারপর অল্প দিন পরেই ওয়ারাকার ইন্তিকাল হয়ে গেল এবং ওহীর ধারা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকল। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الخَلاَءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ - وَهُوَ التَّعَبُّدُ - اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ العَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ المَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ، قَالَ: «مَا أَنَا بِقَارِئٍ»، قَالَ: " فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: اقْرَأْ، قُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ} [العلق: 2] " فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَقَالَ: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الخَبَرَ: «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي» فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الكَلَّ، وَتَكْسِبُ المَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحَقِّ، فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ العُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الكِتَابَ العِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالعِبْرَانِيَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ، اسْمَعْ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبَرَ مَا رَأَى، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا، لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَ مُخْرِجِيَّ هُمْ»، قَالَ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا. ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ، وَفَتَرَ الوَحْيُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১০৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্দরতম চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং তাঁর ও সারা জগতের সৃষ্টিকর্তা স্বীয় সুস্পষ্ট কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন: وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ (নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত। সূরা কলমঃ আয়াত-৪) হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে হুযুর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্রের যে বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো এ সংক্ষিপ্ত কুরআনী বর্ণনারই যেন ব্যাখ্যা। 'মাআরিফুল হাদীস'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে 'কিতাবুল আখলাক' অংশে চরিত্র সম্পর্কে হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও বাণী এবং চরিত্র অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীও বর্ণনা করা হয়েছে। শুরুতে ঐসব হাদীসও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেগুলোর দ্বারা জানা যায় যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এবং আল্লাহর নিকট আখলাক ও চরিত্রের কি মর্যাদা ও অবস্থান। এগুলো থেকে হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাণী এখানেও পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য উল্লেখ করছি।

হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেছেন: إن من خياركم أحسنكم أخلاقا তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক তারাই, যাদের চরিত্র উত্তম। (বুখারী, মুসলিম) অন্য এক হাদীসে বলেছেন: بعثت لأتمم مكارم الأخلاق উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি। (মুওয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদ) অপর এক হাদীসে বলেছেন: شَيْءٍ يُوضَعُ فِي ميزانِ الْمُؤمن يومَ الْقِيَامَة خُلُقٌ حسنٌ কিয়ামতের দিন মুমিনের নেক আমলের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী যে জিনিসটি রাখা হবে, সেটা হচ্ছে উত্তম চরিত্র। (আবু দাউদ, তিরমিযী)

হুযুর (ﷺ) জীবনের শেষ দিকে হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. কে দাঈ, শিক্ষক ও শাসক বানিয়ে যখন ইয়ামান প্রেরণ করলেন, তখন সর্বশেষ নসীহত এই করেছিলেন: أحسن خلقك للناس সবার সাথে সুন্দর আচরণ করবে। (মুওয়াত্তা মালেক)
এ ভূমিকার পর নিম্নে কয়েকটি হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষদর্শনের ভিত্তিতে হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্রের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে জীবনের এ অধ্যায়েও তাঁর উসওয়ায়ে হাসানার পরিপূর্ণ অনুসরণের তাওফীক নসীব করুন।
১০৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এর মধ্যে তিনি কখনো উফ্ শব্দটি বলেননি এবং এও বলেননি যে, এ কাজটি কেন করলে এবং এ কাজটি কেন করলে না। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ، وَلاَ: لِمَ صَنَعْتَ؟ وَلاَ: أَلَّا صَنَعْتَ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১০৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১০৮. হযরত আনাস রাযি. থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পথ চলছিলাম, আর তখন তাঁর গায়ে ছিল একটি নাজরানী চাদর- যার দুই প্রান্ত ছিল মোটা। এমন সময় এক বেদুঈন তাঁকে ধরে ফেলল এবং তাঁর চাদর ধরে এমন জোরে টান দিল যে, তিনি ঐ বেদুঈনের বুকের কাছে এসে গেলেন। আমি দেখলাম যে, এই সজোরে টান দেওয়ার কারণে তাঁর ঘাড়ের এক দিকে দাগ পড়ে গিয়েছে।
তারপর লোকটি বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার নিকট আল্লাহর যে মাল রয়েছে, (তোমার লোকদেরকে) নির্দেশ দাও যে, সেখান থেকে যেন আমাকে কিছু দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন এবং তার এ আচরণে হাসলেন। তারপর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
وَعَنْهُ قَالَ: «كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الحَاشِيَةِ»، فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً، حَتَّى «نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ البُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ»، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ، «فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ضَحِكَ، ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১০৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১০৯. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কখনো এমন হয়নি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন জিনিস চাওয়া হয়েছে আর তিনি 'না' বলে দিয়েছেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: " مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ لَا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১১০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফজরের নামায থেকে ফারেগ হতেন, তখন মদীনার বাসা বাড়ীর কাজের লোকেরা নিজ নিজ পাত্র নিয়ে আসত, যার মধ্যে পানি থাকত। (যাতে তিনি বরকতের জন্য অথবা রোগমুক্তি ইত্যাদির জন্য এ পানিতে নিজের হাত চুবিয়ে দেন।) তিনি তখন প্রতিটি পাত্রেই নিজের হাত ঢুকিয়ে দিতেন। অনেক সময় এমনও হত যে, (প্রচণ্ড শীতের মৌসুমে) ঠাণ্ডা প্রভাতে (পাত্রে অত্যন্ত ঠাণ্ডা পানি নিয়ে তাঁর কাছে এসে যেত, আর তিনি এর মধ্যেও নিজের হাত দিতেন। -মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْغَدَاةَ جَاءَ خَدَمُ الْمَدِينَةِ بِآنِيَتِهِمْ فِيهَا الْمَاءُ، فَمَا يُؤْتَى بِإِنَاءٍ إِلَّا غَمَسَ يَدَهُ فِيهَا، فَرُبَّمَا جَاءُوهُ فِي الْغَدَاةِ الْبَارِدَةِ، فَيَغْمِسُ يَدَهُ فِيهَا» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১১১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলা হল, আপনি মুশরিক ও কাফেরদের উপর বদদু‘আ করুন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি অভিশাপ ও বদদু‘আকারী হিসাবে প্রেরিত হইনি; বরং আমি রহমত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি। -মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১১২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো কাউকে নিজের হাতে প্রহার করেননি না কোন মহিলাকে, না কোন চাকরকে তবে জেহাদের ক্ষেত্র এর ব্যতিক্রম। আর কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোন কষ্টদায়ক আচরণ করা হলে তিনি এর প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। (বরং ব্যক্তিগত ব্যাপারে তিনি ক্ষমার আচরণই করতেন।) তবে যদি কারো পক্ষ থেকে কোন হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটত, তাহলে তিনি আল্লাহর জন্য (অর্থাৎ, আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে) ঐ অপরাধীকে শাস্তি দিতেন (অথবা শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশ দিতেন।) মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ، وَلَا امْرَأَةً، وَلَا خَادِمًا، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٌ قَطُّ، فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ، إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ، فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১১৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১৩. তাবেয়ী হযরত আসওয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (যখন বাড়ীর ভিতর থাকতেন তখন) কি করতেন? হযরত আয়েশা উত্তরে বললেন, পরিবারের লোকদের কাজে শরীক থেকে তাদের সহযোগিতা করতেন। তারপর যখন নামাযের সময় হয়ে যেত, তখন সবকিছু ছেড়ে নামাযে চলে যেতেন। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: «كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ - تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ - فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১১৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাধারণ রীতি ও অভ্যাস এই ছিল যে, (প্রয়োজনে) নিজেই নিজের জুতা সিলাই করে নিতেন, নিজেই (ছেড়া) কাপড় সিলাই করে নিতেন এবং বাড়ীতে এভাবে কাজ করতেন, যেভাবে তোমাদের কেউ বাড়ীর কাজ করে নেয়। তিনি আরো বলেন, তিনি একজন মানুষই ছিলেন, নিজের কাপড়ে নিজেই তালি লাগিয়ে নিতেন, ছাগলের দুধ নিজেই দোহন করে নিতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করে নিতেন। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْصِفُ نَعْلَهُ وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ وَقَالَتْ: كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ يَفْلِي ثَوْبَهُ وَيَحْلُبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১১৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১৫. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন নিজের হাত মুবারক তার হাত থেকে বের করে নিতেন না, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজের হাত টেনে না নিত। তেমনিভাবে নিজের মুখ তার দিক থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, যে পর্যন্ত সে ব্যক্তি নিজের মুখ তাঁর দিক থেকে ফিরিয়ে না নিত। আর তাঁকে কখনো এ অবস্থায় দেখা যায়নি যে, তিনি বরাবরে বসা অন্য কোন ব্যক্তির চেয়ে নিজে হাঁটু আগে বাড়িয়ে রেখেছেন। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَافَحَ الرَّجُلَ لَمْ يَنْزِعْ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْ وَجْهِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَن وَجهه وَلم يُرَ مقدِّماً رُكْبَتَيْهِ بَين يَدي جليس لَهُ. (رواه الترمذى)