মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১০৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্দরতম চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং তাঁর ও সারা জগতের সৃষ্টিকর্তা স্বীয় সুস্পষ্ট কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন: وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ (নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত। সূরা কলমঃ আয়াত-৪) হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে হুযুর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্রের যে বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো এ সংক্ষিপ্ত কুরআনী বর্ণনারই যেন ব্যাখ্যা। 'মাআরিফুল হাদীস'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে 'কিতাবুল আখলাক' অংশে চরিত্র সম্পর্কে হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও বাণী এবং চরিত্র অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীও বর্ণনা করা হয়েছে। শুরুতে ঐসব হাদীসও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেগুলোর দ্বারা জানা যায় যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এবং আল্লাহর নিকট আখলাক ও চরিত্রের কি মর্যাদা ও অবস্থান। এগুলো থেকে হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাণী এখানেও পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য উল্লেখ করছি।
হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেছেন: إن من خياركم أحسنكم أخلاقا তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক তারাই, যাদের চরিত্র উত্তম। (বুখারী, মুসলিম) অন্য এক হাদীসে বলেছেন: بعثت لأتمم مكارم الأخلاق উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি। (মুওয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদ) অপর এক হাদীসে বলেছেন: شَيْءٍ يُوضَعُ فِي ميزانِ الْمُؤمن يومَ الْقِيَامَة خُلُقٌ حسنٌ কিয়ামতের দিন মুমিনের নেক আমলের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী যে জিনিসটি রাখা হবে, সেটা হচ্ছে উত্তম চরিত্র। (আবু দাউদ, তিরমিযী)
হুযুর (ﷺ) জীবনের শেষ দিকে হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. কে দাঈ, শিক্ষক ও শাসক বানিয়ে যখন ইয়ামান প্রেরণ করলেন, তখন সর্বশেষ নসীহত এই করেছিলেন: أحسن خلقك للناس সবার সাথে সুন্দর আচরণ করবে। (মুওয়াত্তা মালেক)
এ ভূমিকার পর নিম্নে কয়েকটি হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষদর্শনের ভিত্তিতে হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্রের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে জীবনের এ অধ্যায়েও তাঁর উসওয়ায়ে হাসানার পরিপূর্ণ অনুসরণের তাওফীক নসীব করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্দরতম চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং তাঁর ও সারা জগতের সৃষ্টিকর্তা স্বীয় সুস্পষ্ট কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন: وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ (নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত। সূরা কলমঃ আয়াত-৪) হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে হুযুর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্রের যে বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো এ সংক্ষিপ্ত কুরআনী বর্ণনারই যেন ব্যাখ্যা। 'মাআরিফুল হাদীস'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে 'কিতাবুল আখলাক' অংশে চরিত্র সম্পর্কে হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও বাণী এবং চরিত্র অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীও বর্ণনা করা হয়েছে। শুরুতে ঐসব হাদীসও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেগুলোর দ্বারা জানা যায় যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এবং আল্লাহর নিকট আখলাক ও চরিত্রের কি মর্যাদা ও অবস্থান। এগুলো থেকে হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাণী এখানেও পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য উল্লেখ করছি।
হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেছেন: إن من خياركم أحسنكم أخلاقا তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক তারাই, যাদের চরিত্র উত্তম। (বুখারী, মুসলিম) অন্য এক হাদীসে বলেছেন: بعثت لأتمم مكارم الأخلاق উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি। (মুওয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদ) অপর এক হাদীসে বলেছেন: شَيْءٍ يُوضَعُ فِي ميزانِ الْمُؤمن يومَ الْقِيَامَة خُلُقٌ حسنٌ কিয়ামতের দিন মুমিনের নেক আমলের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী যে জিনিসটি রাখা হবে, সেটা হচ্ছে উত্তম চরিত্র। (আবু দাউদ, তিরমিযী)
হুযুর (ﷺ) জীবনের শেষ দিকে হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. কে দাঈ, শিক্ষক ও শাসক বানিয়ে যখন ইয়ামান প্রেরণ করলেন, তখন সর্বশেষ নসীহত এই করেছিলেন: أحسن خلقك للناس সবার সাথে সুন্দর আচরণ করবে। (মুওয়াত্তা মালেক)
এ ভূমিকার পর নিম্নে কয়েকটি হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষদর্শনের ভিত্তিতে হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্রের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে জীবনের এ অধ্যায়েও তাঁর উসওয়ায়ে হাসানার পরিপূর্ণ অনুসরণের তাওফীক নসীব করুন।
১০৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এর মধ্যে তিনি কখনো উফ্ শব্দটি বলেননি এবং এও বলেননি যে, এ কাজটি কেন করলে এবং এ কাজটি কেন করলে না। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ، وَلاَ: لِمَ صَنَعْتَ؟ وَلاَ: أَلَّا صَنَعْتَ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবী ভাষায় 'উফ' শব্দটি কোন বিষয়ে অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশের জন্য বলা হয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, তখন হযরত আনাস রাযি.-এর বয়স আট বছর (এবং অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী দশ বছর) ছিল। তাঁর মা উম্মে সুলাইম- যিনি খুবই পুণ্যবতী ছিলেন, তিনি তার এ পুত্রকে হুযুর (ﷺ)-এর দরবারে পেশ করে দিলেন এবং যেন তাঁর খেদমতের জন্য ওয়াক্ত করে ফেললেন। তারপর তিনি হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে পূর্ণ দশ বছর থাকলেন। এ হাদীসে হযরত আনাস হুযুর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্র ও নম্র মেযাজের ব্যাপারে নিজের এ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন যে, দশ বছরের এ খেদমতের সময়ে কখনো এমন হয়নি যে, তিনি অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশের জন্য উফ শব্দটিও বলেছেন। তেমনিভাবে কখনো এমন হয়নি যে, কোন কাজ করার উপর তাকে শাসন করেছেন যে, এ কাজটি তুমি কেন করলে অথবা কোন কাজ না করার উপর শাসন করেছেন যে, তুমি এ কাজটি কেন করলে না। মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ)-এর অভ্যাস ও সাধারণ রীতি ছিল দয়া ও মার্জনার। হযরত আনাস রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে-যা ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমানে' বর্ণনা করেছেন:
خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» . (مشكوة المصابيح)
অর্থাৎ, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এ সময়ের মধ্যে যদি আমার হাতে কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যেত, তখন তিনি এর জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করতেন না। পরিবারের কেউ যদি ভর্ৎসনা করত, তাহলে তিনি বলতেন, একে ছেড়ে দাও। কেননা, যে জিনিস তকদীরে ছিল সেটা হবেই।
এখানে এ কথাটিও স্মরণ রাখতে হবে যে, তাঁর এ রীতি নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারে ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বিধান ও সীমারেখার ব্যাপারে তিনি কাউকে কোন খাতির করতেন না। যেমন অন্যান্য হাদীস দ্বারা জানা যায়।
خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» . (مشكوة المصابيح)
অর্থাৎ, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এ সময়ের মধ্যে যদি আমার হাতে কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যেত, তখন তিনি এর জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করতেন না। পরিবারের কেউ যদি ভর্ৎসনা করত, তাহলে তিনি বলতেন, একে ছেড়ে দাও। কেননা, যে জিনিস তকদীরে ছিল সেটা হবেই।
এখানে এ কথাটিও স্মরণ রাখতে হবে যে, তাঁর এ রীতি নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারে ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বিধান ও সীমারেখার ব্যাপারে তিনি কাউকে কোন খাতির করতেন না। যেমন অন্যান্য হাদীস দ্বারা জানা যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)