মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৩২ টি

হাদীস নং: ১১৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১৬. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের মত দ্রুত ও অনর্গল কথা বলতেন না। তিনি এমনভাবে থেমে থেমে কথা বলতেন যে, কেউ যদি (তাঁর কথা ও শব্দমালা) গণনা করতে চাইত, তাহলে সহজেই গণনা করতে পারত। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَسْرُدُ الْحَدِيثَ كَسَرْدِكُمْ كَانَ يُحَدِّثُ حَدِيثًا لَوْ عَدَّهُ الْعَادُّ لَأَحْصَاهُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১১৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১১৭. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নীরবতা দীর্ঘ হত। শরহুস সুন্নাহ
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَوِيلَ الصَّمْتِ. (رواه فى شرح السنة)
হাদীস নং: ১১৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা

মেশকাত শরীফ প্রণেতা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর ফাযায়েল ও মর্যাদা, জন্ম, নবুওয়াত লাভ, ওহীর সূচনা ও তাঁর অনুপম চরিত্র বৈশিষ্ট্যের অধ্যায়সমূহের ধারাটি ওফাত পর্বের মাধ্যমে শেষ করেছেন- যার মধ্যে হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত ও মৃত্যুপূর্ব অসুস্থতা সম্পর্কে বেশকিছু হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। এরই অনুসরণে এখানেও হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে এ ধারার সমাপ্তি টানা হচ্ছে।

আগেই এ বিষয়টি উল্লেখ করে দেওয়া সমীচীন মনে হচ্ছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতের ব্যাপারে এ কথার উপর তো মুহাদ্দেসীনে কেরাম, সীরাতবিদ ও ঐতিহাসিকগণ একমত যে, ওফাতের দিনটি ছিল ১১ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার। কিন্তু তারিখের ব্যাপারে জন্ম তারিখের মতই বিভিন্ন বর্ণনা ও বক্তব্য রয়েছে। আমি যতটুকু অধ্যয়ন ও গবেষণা করেছি, হাদীসের কোন কিতাবে এমন কোন বর্ণনা নেই, যার মধ্যে হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিহাস ও সীরাতের কিতাবসমূহে তিনটি তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রবিউল আউয়ালের ১, ২ ও ১২ তারিখ। আর জন্ম তারিখের মত ওফাতের তারিখও ১২ই রবিউল আউয়ালই অধিক প্রসিদ্ধ। কিন্তু কোন কোন গবেষক আলেম লিখেছেন যে, ওফাতের তারিখ ১২ই রবিউল আউয়াল ধরা কোনভাবেই সঠিক হতে পারে না। কেননা, একথা স্বীকৃত ও বিশুদ্ধ রিওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিত যে, ওফাতের প্রায় পৌনে তিন মাস পূর্বে তিনি যে হজ্ব করেছিলেন অর্থাৎ, বিদায় হজ্ব, তখন ৯ই যিলহজ্ব ছিল শুক্রবার। আর এ কথাও স্বীকৃত ও বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত সোমবার দিন হয়েছিল। তাই ৯ই যিলহজ্ব শুক্রবার হলে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার কোনভাবেই হতে পারে না। যিলহজ্ব, মহররম ও সফর তিনও মাসকে চাই ৩০-৩০ দিন ধরা হোক অথবা ২৯-২৯ দিন অথবা কোন মাসকে ২৯ আর কোন মাসকে ৩০ দিন ধরা হোক, এর কোন অবস্থাতেই ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হতে পারে না। হ্যাঁ, যদি তিনটি মাসকেই ২৯ দিনের ধরা হয়, (যা খুবই অসম্ভব।)

তাহলে রবিউল আউয়ালের প্রথম সোমবারে ২ তারিখ হবে। আর যদি একটি মাসকে ৩০ দিনের এবং অপর দুইটি মাসকে ২৯ দিনের ধরা হয়, (যা অনেক সময় হয়ে থাকে।) তাহলে রবিউল আউয়ালের প্রথম সোমবার ১লা তারিখ হবে। এসব বাস্তবতাকে সামনে রেখে ১লা রবিউল আউয়ালের বর্ণনাকেই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করতে হবে।
এখন প্রথমে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ জাতীয় কিছু বাণী উল্লেখ করা হবে, যেগুলোর মধ্যে তিনি ইঙ্গিতে অথবা স্পষ্টরূপে সাহাবায়ে কেরামকে নিজের ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার অবগতি দান করেছিলেন। তাছাড়া ঐ জাতীয় কিছু হাদীসও বর্ণনা করা হবে, যেগুলোর মধ্যে মৃত্যুশয্যার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সবশেষে ঐসব হাদীস আনা হবে, যেগুলোর মধ্যে হৃদয়বিদারক মৃত্যুর বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা এসব হাদীসকে এ অধম সংকলকের জন্য এবং পাঠকদের জন্য হেদায়াত ও সৌভাগ্য লাভের ওসীলা বানিয়ে দিন এবং এগুলোর বরকতে জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি নসীব করুন।
১১৮. হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর আট বছর পর জানাযার নামায পড়লেন, তিনি যেন এ সময় জীবিত ও মৃত সবাইকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। তারপর তিনি মসজিদের মিম্বরে তাশরীফ আনলেন (এবং সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন,) আমি তোমাদের আগে দলপতি হিসাবে যাচ্ছি এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্যদানকারী হব। আর তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতস্থল হবে হাউযে কাউসার। আমি এখান থেকেই হাউযে কাউসার দেখতে পাচ্ছি। আমাকে পৃথিবীর ভাণ্ডারসমূহের চাবি প্রদান করা হয়েছে। আমি তোমাদের ব্যাপারে এ আশংকা করছি না যে, তোমরা আমার পরে শিরকে লিপ্ত হয়ে যাবে, কিন্তু আমার আশংকা যে, তোমরা দুনিয়ামুখী হয়ে যাবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ بَعْدَ ثَمَانِي سِنِينَ، كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ، ثُمَّ طَلَعَ المِنْبَرَ فَقَالَ: «إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ، وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ، وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الحَوْضُ، وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِي هَذَا، وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا، وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوهَا فِيْهَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১১৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১১৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) মিম্বরে বসলেন এবং (সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর এক বান্দাকে এখতিয়ার দিয়েছেন যে, সে দুনিয়ার সৌন্দর্য ও ভোগ-বিলাসের উপকরণ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারে অথবা আল্লাহর নিকট আখেরাতের যে নেয়ামতরাজি রয়েছে, সেগুলোও গ্রহণ করতে পারে। তখন এ বান্দা আখেরাতের ঐসব নেয়ামত গ্রহণ করে নিয়েছে, যা আল্লাহর নিকট রয়েছে। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি ও আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কোরবান। (হাদীসের রাবী আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন,) আমরা আবু বকর রাযি.-এর এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে গেলাম এবং উপস্থিত লোকেরা বলতে লাগল যে, এ বুড়ো লোকটিকে দেখ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এ কথার সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে এ এখতিয়ার দিয়েছেন যে, সে দুনিয়ার সৌন্দর্যের উপকরণ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারে অথবা আল্লাহর নিকট আখেরাতের যেসব নেয়ামত রয়েছে, সেগুলো গ্রহণ করতে পারে। আর এ বুড়ো লোকটি বলেছে যে, আমি ও আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হোক। (সামনে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, যখন কিছু দিনের মধ্যেই হুযূর (ﷺ)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেল, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে.) হযরত আবূ বকর রাযি. জ্ঞান-গরিমা ও বিচক্ষণতায় আমাদের সবার চাইতে অগ্রগামী ছিলেন। (তাই তিনি সেই রহস্য বুঝে নিয়ে ছিলেন- যা আমাদের অন্য কেউ বুঝতে পারেনি।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى المِنْبَرِ فَقَالَ: «إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ» فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، فَعَجِبْنَا لَهُ، وَقَالَ النَّاسُ: انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ، يُخْبِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، وَهُوَ يَقُولُ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ المُخَيَّرَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১২০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২০. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের ঐ রোগশয্যায় বলেছিলেন- যা থেকে তিনি আর সুস্থ হননি- ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা'নত হোক, তারা নিজেদের নবীদের কবরগুলোকে সেজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে। হযরত আয়েশা বলেন, তিনি যদি একথা না বলতেন, তাহলে তাঁর কবরকে উঁচু করে বানানো হত। তিনি আশংকা করেছিলেন যে, তাঁর কবরকেও সেজদার স্থান বানিয়ে নেওয়া হয় কিনা। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ: «لَعَنَ اللَّهُ اليَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ»، قَالَتْ عَائِشَةُ لَوْلاَ ذَاكَ لَأَبْرُزُ قَبْرُهُ غَيْرَ خَشِيَ أَنَّ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১২১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন রোগশয্যায় আমাকে বললেন, তোমার পিতা আবু বকর ও ভাই (আব্দুর রহমান)-কে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আস- যাতে আমি একটি লিখিত জিনিস (ওসিয়্যতনামা হিসাবে) লিখিয়ে দেই। কেননা, আমার আশংকা যে, কোন আকাঙ্ক্ষী এর আকাঙ্ক্ষা করবে অথবা কেউ বলবে যে, আমি এর বেশী উপযুক্ত কিন্তু আল্লাহ এবং মু'মিনগণ আবূ বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করবে না এবং মেনে নিবে না। মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِي مَرَضِهِ " ادْعِي لِي أَبَا بَكْرٍ، أَبَاكِ، وَأَخَاكِ، حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنٍّ وَيَقُولُ قَائِلٌ: أَنَا أَوْلَى، وَيَأْبَى اللهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১২২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিজের ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় (একদিন) নিজ কন্যা হযরত ফাতেমা রাযি.-কে নিজের কাছে ডাকলেন ও তাঁর কানে কানে কিছু বললেন। ফলে ফাতেমা কাঁদতে শুরু করলেন। তারপর তিনি আবার তাঁকে ডেকে কানে কানে কিছু বললেন, ফাতেমা হাসতে লাগলেন। আয়েশা বলেন, আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে বললেন, প্রথমে যখন নবী করীম (ﷺ) আমার কানে কানে কথা বলেছিলেন, তখন একথা বলেছিলেন যে, তিনি এ অসুস্থতায়ই ইন্তিকাল করবেন। তাই আমি কেঁদে ছিলাম। তারপর-তিনি দ্বিতীয়বার যখন আমাকে ডেকে কথা বললেন, তখন আমাকে বলেছিলেন যে, তাঁর পরিবারের মধ্যে আমিই তাঁর পেছনে রওয়ানা হব (এবং তাঁর সাথে মিলিত হব।) তাই আমি আনন্দে হেসেছিলাম। বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ فِي شَكْوَاهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ، فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَبَكَتْ، ثُمَّ دَعَاهَا فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَضَحِكَتْ، فَسَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ: «سَارَّنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يُقْبَضُ فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ فَبَكَيْتُ، ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِهِ يَتْبَعُهُ فَضَحِكْتُ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১২৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় একদিন হযরত আলী রাযি. তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে আসলে লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে হাসানের পিতা। আজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অবস্থা কি? তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আজ অবস্থা অনেকটা ভাল। এমন সময় হযরত আব্বাস রাযি. তাঁর হাত ধরে বললেন, আল্লাহর কসম! তিন দিন পরই তোমরা লাঠির গোলাম (অর্থাৎ, অন্যের উপর নির্ভরশীল ও অন্যের অধীন হয়ে যাবে। আমার মনে হচ্ছে যে, তিনি এ অসুস্থতার মধ্যেই ওফাত পেয়ে যাবেন। মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের চেহারায় যে চিহ্ন ফুঠে উঠে, সেটা আমি ভালভাবেই চিনি। (এ চিহ্ন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমার ধারণা যে, তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।) তাই তুমি আমার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট চল। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করব যে, (আপনার পর) এ কাজ (অর্থাৎ, খেলাফতের কাজ) কার কাছে থাকবে?
যদি আমাদের খান্দানের মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা আমরা জেনে নিতে পারব। আর যদি আমাদের ছাড়া অন্য কারো উপর অর্পিত হয়, তাহলে সেটাও আমরা জেনে নিতে পারব, আর তিনি আমাদের ব্যাপারে কোন ওসিয়্যত করে দিবেন। হযরত আলী রাযি. উত্তর দিলেন, আমরা যদি তাঁর কাছে খেলাফতের প্রার্থনা করি আর তিনি না বলে দেন, (অর্থাৎ, আমাদেরকে খেলাফত অর্পণ না করার সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন,) তাহলে আল্লাহর কসম। লোকেরা আমাদেরকে খেলাফত দান করবে না। তাই আল্লাহর কসম! আমি তাঁর নিকট খেলাফতের প্রার্থনা করব না। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَقَالَ النَّاسُ: يَا أَبَا حَسَنٍ، " كَيْفَ أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟، فَقَالَ: أَصْبَحَ بِحَمْدِ اللَّهِ بَارِئًا "، فَأَخَذَ بِيَدِهِ عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ المُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ: أَنْتَ وَاللَّهِ بَعْدَ ثَلاَثٍ عَبْدُ العَصَا، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَرَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْفَ يُتَوَفَّى مِنْ وَجَعِهِ هَذَا، إِنِّي لَأَعْرِفُ وُجُوهَ بَنِي عَبْدِ المُطَّلِبِ عِنْدَ المَوْتِ، اذْهَبْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْنَسْأَلْهُ فِيمَنْ هَذَا الأَمْرُ، إِنْ كَانَ فِينَا عَلِمْنَا ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ فِي غَيْرِنَا عَلِمْنَاهُ، فَأَوْصَى بِنَا، فَقَالَ عَلِيٌّ: إِنَّا وَاللَّهِ لَئِنْ سَأَلْنَاهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنَعَنَاهَا لاَ يُعْطِينَاهَا النَّاسُ بَعْدَهُ، وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أَسْأَلُهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১২৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসল এবং ঘরে তখন কয়েকজন লোক ছিল- যাদের মধ্যে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবও ছিলেন। এমন সময় তিনি বললেন, আস! আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখিয়ে দিব, যার পরে তোমরা কখনো পথহারা হবে না। হযরত উমর তখন লোকদেরকে বললেন, এ মুহূর্তে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে, আর তোমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব বর্তমান রয়েছে, এটাই তোমাদের (হেদায়াত ও গোমরাহী থেকে হেফাযতের জন্য) যথেষ্ট। তখন ঘরের লোকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল এবং তারা বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে গেল। তাদের কেউ কেউ বলছিল যে, লিখার উপকরণ নিয়ে আস, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু লিখে দিতে পারেন। আর কেউ কেউ ঐ কথা বলছিল, যা উমর রাযি. বলেছিলেন। এভাবে তারা যখন বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে গেল এবং প্রচুর হৈচৈ শুরু হয়ে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার এখান থেকে উঠে যাও।
(হযরত ইবনে আব্বাস থেকে এ ঘটনার রাবী) উবায়দুল্লাহ্ বলেন, ইবনে আব্বাস এ ঘটনা 'প্রসঙ্গে' বলতেন, খুবই দুঃখের কথা যে, লোকদের মতবিরোধ ও বাকবিতন্ডা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর লিপিকা লিখার মধ্যে অন্তরায় হয়ে গিয়েছিল।) -বুখারী, মুসলিম
আগেই যেমন বলা হয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে এ ঘটনার এ বর্ণনাকারী হচ্ছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ। হযরত ইবনে আব্বাসের অন্য একজন ছাত্র সাঈদ ইবনে জুবাইরও এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এতে আরো কয়েকটি বিষয়ের সংযোজন রয়েছে। ঐ রিওয়ায়াতটিও বুখারী মুসলিমে রয়েছে। সেটাও নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে-যাতে সম্পূর্ণ ঘটনা সামনে এসে যায়।
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: لَمَّا حُضِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي البَيْتِ رِجَالٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدَهُ»، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غَلَبَهُ الوَجَعُ، وَعِنْدَكُمُ القُرْآنُ حَسْبُنَا، كِتَابُ اللَّهِ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ البَيْتِ وَاخْتَصَمُوا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ قَرِّبُوا يَكْتُبُ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ غَيْرَ ذَلِكَ، فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالِاخْتِلاَفَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُومُوا» قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ، فَكَانَ يَقُولُ ابْنُ عَبَّاسٍ: «إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ، مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الكِتَابَ، لِاخْتِلاَفِهِمْ وَلَغَطِهِمْ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৫. সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস (একদিন) বললেন, হায়! বৃহস্পতিবার, কেমন ছিল বৃহস্পতিবার দিনটি? (একথা বলে) তিনি এমন কাঁদলেন যে, তার চোখের পানিতে যমীনের পাথরদানা গুলো ভিজে গেল। আমি নিবেদন করলাম, হে ইবনে আব্বাস। বৃহস্পতিবার দিনটি কি ছিল? (যার কথা আপনি এভাবে স্মরণ করছেন।) তিনি তখন বললেন, (বৃহস্পতিবার দিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুখ বেড়ে গেল এ অবস্থায়ই) তিনি বললেন, كتف (পশুর কাঁধের হাঁড়) নিয়ে আস, আমি তোমাদের জন্য একটি লিপিকা লিখে দিব, যারপর তোমরা কখনো পথহারা হবে না। কিন্তু উপস্থিত লোকেরা তখন মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে গেল, অথচ নবীর সামনে মতবিরোধ ও বাকবিতন্ডা করা উচিত নয়। কেউ কেউ বলল, তিনি কি আমাদেরকে ছেড়ে যাচ্ছেন? তাঁকে জিজ্ঞাসা কর, (তিনি কি বলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য কি?) তারপর লোকেরা বারবার তাঁর কাছে এ নিবেদন করতে থাকলে তিনি বললেন, আমি যে কাজে ও যে অবস্থায় রয়েছি, সেটা এর চেয়ে অনেক ভাল- যার প্রতি তোমরা আমাকে আহ্বান করছ। তারপর তিনি তিনটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা ইয়াহুদীদেরকে আরব দ্বীপ থেকে বের করে দাও। (কোন রাষ্ট্র অথবা গোত্রের পক্ষ থেকে আগত) প্রতিনিধিদের সাথে সেই সুন্দর আচরণ কর, যেমন আচরণ আমি করতাম। সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে এ হাদীসের রাবী সুলায়মান বলেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর হয়ত তৃতীয় বিষয়টি বর্ণনাই করেননি অথবা বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يَوْمُ الْخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ؟ ثُمَّ بَكَى حَتَّى بَلَّ دَمْعُهُ الْحَصَى. قُلْتُ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ؟ قَالَ: اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعُهُ فَقَالَ: «ائْتُونِي بِكَتِفٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا» . فَتَنَازَعُوا وَلَا يَنْبَغِي عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ. فَقَالُوا: مَا شَأْنُهُ أَهَجَرَ؟ اسْتَفْهِمُوهُ فَذَهَبُوا يَرُدُّونَ عَلَيْهِ. فَقَالَ: «دَعُونِي ذَرُونِي فَالَّذِي أَنَا فِيهِ خَيْرٌ مِمَّا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ» . فَأَمَرَهُمْ بِثَلَاثٍ: فَقَالَ: «أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَأَجِيزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ» . وَسَكَتَ عَنِ الثَّالِثَةِ أَوْ قَالَهَا فَنَسِيتُهَا قَالَ سُفْيَانُ: هَذَا مِنْ قَول سُلَيْمَان. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১২৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৬. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুখ বেড়ে গেল এবং প্রচণ্ড রূপ ধারণ করল, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট অনুমতি চাইলেন যে, এখন থেকে তাঁর রোগ-পরিচর্যা যেন আমার ঘরে হয়। (অর্থাৎ, তার স্থায়ী অবস্থান যেন আমার ঘরেই হয়।) তাঁরা সবাই এর অনুমতি দিলেন (এবং এ প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেলেন।) তাঁকে দু'ব্যক্তি ধরে এভাবে আমার ঘরে নিয়ে আসলেন যে, তাঁর পা মুবারক হেঁচড়ে চলার দরুন মাটিতে রেখা পড়ছিল। তাদের দু'জনের একজন ছিলেন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালেব, আর অন্যজন অপর এক ব্যক্তি। হযরত আয়েশা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে তাশরীফ আনার পর (একদিন) তাঁর অসুখ খুব বেড়ে গেল। তিনি তখন আমাদেরকে বললেন, আমার উপর তোমরা এমন সাত মশক পানি ঢেলে দাও, যেগুলোর বন্ধন খোলা হয়নি- যাতে আমি (মসজিদে গিয়ে) লোকদেরকে ওসিয়্যত হিসাবে কিছু কথা বলতে পারি। সুতরাং আমরা তাকে হযরত হাফসা রাযি.-এর একটি টবে (পানির বড় পাত্রে) বসালাম এবং মশক থেকে পানি ঢালতে শুরু করলাম। শেষে তিনি আমাদের দিকে ইশারা করে বললেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পাদন করে নিয়েছ। তারপর তিনি মসজিদে গেলেন, সেখানে নামায পড়ালেন এবং ভাষণও দিলেন। বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةُ قَالَتْ: لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاشْتَدَّ وَجَعُهُ، اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ فِي أَنْ يُمَرَّضَ فِي بَيْتِي، فَأَذِنَّ لَهُ، فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ تَخُطُّ رِجْلاَهُ فِي الأَرْضِ، بَيْنَ عَبَّاسٍ وَآخَرَ، فَأَخْبَرْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: هَلْ تَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ الآخَرُ الَّذِي لَمْ تُسَمِّ عَائِشَةُ؟ قُلْتُ: لاَ، قَالَ: هُوَ عَلِيٌّ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَا دَخَلَ بَيْتَهَا، وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ: «هَرِيقُوا عَلَيَّ مِنْ سَبْعِ قِرَبٍ لَمْ تُحْلَلْ أَوْكِيَتُهُنَّ، لَعَلِّي أَعْهَدُ إِلَى النَّاسِ» قَالَتْ: فَأَجْلَسْنَاهُ فِي مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ طَفِقْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ القِرَبِ، حَتَّى جَعَلَ يُشِيرُ إِلَيْنَا: «أَنْ قَدْ فَعَلْتُنَّ» قَالَتْ: وَخَرَجَ إِلَى النَّاسِ، فَصَلَّى لَهُمْ وَخَطَبَهُمْ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১২৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৭. হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত যে, সোমবারের দিন (অর্থাৎ, যে সোমবারে হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত হয়।) মুসলমানগণ ফজরের নামায আদায় করছিলেন এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. ইমাম হিসাবে নামায পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের অবস্থান স্থল) আয়েশার হুজরার (দরজার) পর্দা উঠিয়ে তাঁদের দিকে তাকালেন- যখন তাঁরা কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করছিলেন। (এ অবস্থা দেখে) তিনি মুচকি হাসলেন। আবু বকরের যখন তাঁর প্রতি দৃষ্টি পড়ল, তখন তিনি পেছনে সরে এসে মুক্তাদীদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং ধারণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের জন্য তাশরীফ আনবেন। আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দেখে মুসলমানগণ খুশীর আতিশয্যে নামায ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা করতে শুরু করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে হাতের ইশারায় বললেন যে, তোমরা তোমাদের নামায শেষ করে নাও। তারপর তিনি হুজরার ভিতর চলে গেলেন এবং দরজার পর্দা ফেলে দিলেন। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عنْ أنَسِ بنُ مالِكٍ : أَنَّ المُسْلِمِينَ بَيْنَا هُمْ فِي الفَجْرِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَأَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُصَلِّي بِهِمْ، «فَفَجِئَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَشَفَ سِتْرَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَهُمْ فِي صُفُوفِ الصَّلاَةِ، ثُمَّ تَبَسَّمَ يَضْحَكُ»، فَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ الصَّفَّ، وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَقَالَ أَنَسٌ: وَهَمَّ المُسْلِمُونَ أَنْ يَفْتَتِنُوا فِي صَلاَتِهِمْ، فَرَحًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ ثُمَّ دَخَلَ الحُجْرَةَ وَأَرْخَى السِّتْرَ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১২৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ অভ্যাস ছিল যে, তিনি যখন অসুস্থ হতেন, তখন معوذات পড়ে নিজের উপর দম করতেন এবং শরীরের উপর নিজের হাত ঘুরিয়ে নিতেন। তারপর তিনি যখন মৃত্যুকালীন অসুস্থতায় পড়লেন (এবং রোগের প্রাবল্য ও দুর্বলতার কারণে নিজে নিজে معوذات পড়ে শরীরে হাত ঘুরানো কঠিন হয়ে গেল, তখন আমি ঐ معوذات পড়ে তাঁর উপর দম করতাম এবং হুযূর (ﷺ)-এর হস্ত মুবারক তাঁর উপর ঘুরিয়ে নিতাম। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اشْتَكَى نَفَثَ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ، وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِهِ، فَلَمَّا اشْتَكَى وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، طَفِقْتُ أَنْفِثُ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِي كَانَ يَنْفِثُ، وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১২৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৯. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর রোগ বেড়ে গেল (এবং তিনি মসজিদে গিয়ে নামায পড়াতে অপারগ হয়ে গেলেন) তখন তিনি বললেন, (আমার পক্ষ থেকে) আবূ বকরকে নির্দেশ দাও, যেন তিনি (মসজিদে নামাযের জন্য সমবেত) লোকদের নামায পড়িয়ে দেন। হযরত আয়েশা রাযি. নিবেদন করলেন, তিনি অত্যন্ত কোমলপ্রাণ মানুষ। তিনি যখন নামায পড়ানোর জন্য আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন নামায পড়াতে পারবেন না। (হযরত আয়েশার এ কথা শোনার পরও) তিনি বললেন, আবু বকরকে নির্দেশ দাও, যেন তিনি নামায পড়িয়ে দেন। হযরত আয়েশা রাযি. আবারও ঐ কথা বললেন এবং তিনি আবারও নির্দেশ দিলেন যে, আবু বকরই নামায পড়িয়ে দেন। (এর সাথে তিনি হযরত আয়েশাকে তিরস্কার করতে গিয়ে) বললেন: فانكن صواحب يوسف তারপর বার্তাবাহক (হুযূর (ﷺ)-এর নির্দেশ নিয়ে) হযরত আবু বকরের নিকট আসল। নির্দেশ অনুযায়ী তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশাতেই লোকদের নামায পড়ালেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاشْتَدَّ مَرَضُهُ، فَقَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» قَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّهُ رَجُلٌ رَقِيقٌ، إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» فَعَادَتْ، فَقَالَ: «مُرِي أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ، فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ» فَأَتَاهُ الرَّسُولُ، فَصَلَّى بِالنَّاسِ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৩০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১৩০. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুশয্যায় আমাকে বলতেনঃ হে আয়েশা! আমি ঐ (বিষ মাখা) খাবারের কিছু কষ্ট সবসময় অনুভব করে আসছি- যা আমি খায়বারে খেয়েছিলাম। আর এ মুহূর্তে আমি অনুভব করছি যে, এ বিষের প্রভাবে আমার রগ ছিড়ে যাচ্ছে। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ: «يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ، فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السُّمِّ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৩১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১৩১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (সুস্থ অবস্থায়) বলতে শুনেছিলাম, যে কোন নবী অসুস্থ হয়ে যান, (অর্থাৎ, তাঁরা যখন ওফাতকালীন অসুস্থতায় আক্রান্ত হন) তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে এখতিয়ার দেওয়া হয়। (অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদেরকে এখতিয়ার দেওয়া হয় যে, দুনিয়াতে যদি আরো কিছুকাল থাকতে চান, তাহলে থাকতে পারেন, আর যদি আখেরাত জগতে চলে যাওয়া পছন্দ করেন, তাহলে তাই অবলম্বন করে নিন।) আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মৃত্যু শয্যায় যখন তাঁর প্রচণ্ড শ্বাস কষ্ট শুরু হল, তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম:
مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
তখন আমি বুঝে ফেললাম যে, তাঁকে ঐ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে (এবং তিনি আখেরাতকে গ্রহণ করে নিয়েছেন।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمْرَضُ إِلَّا خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ»، وَكَانَ فِي شَكْوَاهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ، أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ شَدِيدَةٌ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: {مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ} فَعَلِمْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৩২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১৩২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে যেসব অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করেছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এ-ও যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাত পেয়েছেন আমার ঘরে, আমার এখানে পালাক্রমে থাকার দিন, আমার বুক ও হাসলির মাঝে। (অর্থাৎ, তিনি এ অবস্থায় ওফাত পেয়েছেন যে, তিনি আমার বুক ও হাঁসলির সাথে জড়িয়ে ছিলেন। (আরেকটি অনুগ্রহ এই যে.) আল্লাহ্ তা'আলা অন্তিম মুহূর্তে আমার মুখের লালা ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখের লালা একত্রিত করে দিয়েছেন। (অর্থাৎ, শেষ সময়ে তাঁর মুখের লালা আমার গলায় ঢুকেছে এবং আমার মুখের লালা তাঁর মুখে গিয়েছে।) আয়েশা রাযি. (এর বিবরণ দিতে গিয়ে) বলেন, আমার ভাই আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বকর আমার ঘরে আসলেন, তাঁর হাতে ছিল একটি মিসওয়াক। আর এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বসা ছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি আব্দুর রহমানের মিসওয়াকের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি বুঝে ফেললাম যে, তিনি মিসওয়াক করতে চান। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি এ মিসওয়াকটি আপনার জন্য নিয়ে নিব? তিনি মাথায় ইশারা করে বললেন, হ্যাঁ, নিয়ে নাও। আমি মিসওয়াকটি নিয়ে তাঁকে দিলাম। তিনি এর দ্বারা মিসওয়াক করতে চাইলেন, কিন্তু এটা তাঁর নিকট শক্ত মনে হল। আমি বললাম, আমি এটা আপনার জন্য নরম করে দিব? তিনি মাথা দিয়ে ইশারা করে বললেন, হ্যাঁ, নরম করে দাও। তখন আমি এটা (চিবিয়ে) নরম করে দিলাম, আর তিনি এর দ্বারা মিসওয়াক করে নিলেন। (এভাবে এ শেষ মুহূর্তে হুযুর (ﷺ)-এর মুখের লালা আমার গলায় এবং আমার মুখের লালা তাঁর গলায় চলে গেল।) হযরত আয়েশা বলেন, এ সময় তাঁর সামনে একটি পাত্রে পানি রাখা ছিল। তিনি বারবার এ পানিতে দু' তে ঢুকাতেন এবং হাত দ্বারা চেহারা মুছে নিতেন এবং এ অবস্থায়ই মুখে বলতেন: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ» (আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, নিশ্চয় মৃত্যুর বড় কঠিন যন্ত্রণা রয়েছে।) তারপর নিজের হাতটি উপরের দিকে উঠালেন এবং বলতে লাগলেনঃ «فِي الرَّفِيقِ الأَعْلَى» (মহান বন্ধুর মিলন চাই।) এ সময়ই রূহ কবয করে নেওয়া হল এবং উপরে উত্তোলিত হাতটি নীচের দিকে ঢলে পড়ল। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَنَّ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ عَلَيَّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوُفِّيَ فِي بَيْتِي، وَفِي يَوْمِي، وَبَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي، وَأَنَّ اللَّهَ جَمَعَ بَيْنَ رِيقِي وَرِيقِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ: دَخَلَ عَلَيَّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَبِيَدِهِ السِّوَاكُ، وَأَنَا مُسْنِدَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَأَيْتُهُ يَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَعَرَفْتُ أَنَّهُ يُحِبُّ السِّوَاكَ، فَقُلْتُ: آخُذُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ: «أَنْ نَعَمْ» فَتَنَاوَلْتُهُ، فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ، وَقُلْتُ: أُلَيِّنُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ: «أَنْ نَعَمْ» فَلَيَّنْتُهُ، فَأَمَرَّهُ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ رَكْوَةٌ أَوْ عُلْبَةٌ - يَشُكُّ عُمَرُ - فِيهَا مَاءٌ، فَجَعَلَ يُدْخِلُ يَدَيْهِ فِي المَاءِ فَيَمْسَحُ بِهِمَا وَجْهَهُ، يَقُولُ: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ» ثُمَّ نَصَبَ يَدَهُ، فَجَعَلَ يَقُولُ: «فِي الرَّفِيقِ الأَعْلَى» حَتَّى قُبِضَ وَمَالَتْ يَدُهُ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৩৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১৩৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবু বকর রাযি. ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আপন আবাসস্থল সুন্‌হ থেকে আসলেন। ঘোড়া থেকে নেমে তিনি মসজিদে নববীতে আসলেন, কিন্তু কারো সাথে কথা বললেন না। প্রথমে হযরত আয়েশার ঘরে আসলেন এবং সোজা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। তখন তাঁকে একটি ইয়ামানী চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছিল। হযরত আবু বকর রাযি. চাদরটি সরিয়ে দিয়ে চেহারা মুবারক খুললেন। তারপর হুযুর (ﷺ)-এর উপর ঝুঁকে পড়লেন ও চুমু খেলেন, তারপর বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান। আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর দু'টি মৃত্যু একত্রিত করবেন না। যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল, সে মৃত্যু এসেই গিয়েছে। (এ পর্যন্ত হযরত আয়েশার বর্ণনা ছিল। সামনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনা উদ্ধৃত করা হচ্ছে। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আবূ বকর রাযি. হযরত আয়েশার ঘর থেকে বাইরে আসলেন। এ সময় হযরত উমর রাযি. লোকদের সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। হযরত আবূ বকর হযরত উমরকে বললেন, বসে যাও, কিন্তু হযরত উমর রাযি. (তাঁর বিশেষ অবস্থার কারণে) বসতে অস্বীকার করলেন। (আবূ বকর রাযি. তখন মিম্বরের দিকে আসলেন।) এবার সবাই হযরত উমরকে ছেড়ে হযরত আবু বকরের বক্তব্য শোনার জন্য তার দিকে এসে গেলেন। তিনি (মিম্বর থেকে) ভাষণ দিতে গিয়ে (হামদ ও সালাত এবং তাওহীদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দানের পর) বললেনঃ আম্মাবাদ, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (ﷺ)-এর ইবাদত করত, তাহলে তিনি তো ওফাত পেয়ে গিয়েছেন। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, তিনি তো চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। মহান আল্লাহ বলেন, "মুহাম্মদ তো কেবল একজন রাসূল, তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন। অতএব, তিনি যদি মারা যান অথবা শহীদ হয়ে যান, তাহলে কি তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তাহলে এতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিদান দিবেন"।
হযরত ইবনে আব্বাস বলেন, আল্লাহর কসম। এমন মনে হল যে, আবু বকরের এ আয়াত তিলাওয়াত করার পূর্বে যেন লোকেরা জানতই না যে, আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। (অর্থাৎ, এ সময় সবাই এ আয়াতের বিষয়বস্তু থেকে গাফেল হয়ে গিয়েছিল।) তারপর সব লোকেরা গ্রহণ করে নিল এবং সবার মুখে এটি উচ্চারিত হতে লাগল। আমি সবাইকে এ আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনছিলাম। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَقْبَلَ عَلَى فَرَسٍ مِنْ مَسْكَنِهِ بِالسُّنْحِ، حَتَّى نَزَلَ فَدَخَلَ المَسْجِدَ، فَلَمْ يُكَلِّمُ النَّاسَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ، فَتَيَمَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُغَشًّى بِثَوْبِ حِبَرَةٍ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ فَقَبَّلَهُ وَبَكَى، ثُمَّ قَالَ: «بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، وَاللَّهِ لاَ يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ أَمَّا المَوْتَةُ الَّتِي كُتِبَتْ عَلَيْكَ، فَقَدْ مُتَّهَا»
قَالَ الزُّهْرِيُّ: وَحَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ خَرَجَ وَعُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَقَالَ: اجْلِسْ يَا عُمَرُ، فَأَبَى عُمَرُ أَنْ يَجْلِسَ، فَأَقْبَلَ النَّاسُ إِلَيْهِ، وَتَرَكُوا عُمَرَ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ:
" أَمَّا بَعْدُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ، وَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ اللَّهَ فَإِنَّ اللَّهَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ، قَالَ اللَّهُ: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} إِلَى قَوْلِهِ {الشَّاكِرِينَ} وَقَالَ: وَاللَّهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ هَذِهِ الآيَةَ حَتَّى تَلاَهَا أَبُو بَكْرٍ، فَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ كُلُّهُمْ، فَمَا أَسْمَعُ بَشَرًا مِنَ النَّاسِ إِلَّا يَتْلُوهَا ". (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৩৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১৩৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইন্তিকাল করলেন, তখন তাঁর দাফনের স্থান নিয়ে লোকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। এ সময় হযরত আবূ বকর রাযি. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ ব্যাপারে একটি কথা শুনেছি। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক নবীকে ঐ জায়গায়ই ওফাত দেন, যেখানে তিনি দাফন হতে পছন্দ করেন। অতএব, তাঁকে তাঁর বিছানার স্থানেই দাফন করা হোক। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْتَلَفُوا فِي دَفْنِهِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا مَا نَسِيتُهُ، قَالَ: مَا قَبَضَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلاَّ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُدْفَنَ فِيهِ، ادْفِنُوهُ فِي مَوْضِعِ فِرَاشِهِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৩৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শিরোনামে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং উম্মতের মধ্যে তাঁর বিশেষ অবস্থানের উল্লেখ বিশেষ গুরুত্বসহকারে করেছেন। হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতা প্রসঙ্গে এমন একাধিক হাদীস অতিক্রান্ত হয়েছে, যেগুলোর দ্বারা কোন প্রকার সন্দেহ-সংশয় ছাড়া নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর নিকট নিজ উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ছিলেন হযরত আবূ বকর রাযি. এবং তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত তথা খেলাফতে নবুওয়াতের জন্য তিনিই তাঁর দৃষ্টিতে নির্দিষ্ট ছিলেন। এসব বাচনিক বক্তব্য ছাড়া তিনি তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় (যার ব্যাপারে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, এ অসুস্থতার মধ্যেই তাঁর ওফাত লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।) পীড়াপীড়ি ও তাকীদের সাথে হযরত আবু বকরকে নিজের স্থলে নামাযের ইমাম বানিয়ে এ দিকে উম্মতের স্পষ্ট দিকনির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছিলে।

হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতা সংক্রান্ত ঐসব হাদীস ছাড়া আরো কয়েকটি হাদীস হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিম্নে লিখা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে হুযুর (ﷺ)-এর বাণীও রয়েছে এবং বড় বড় সাহাবীদের সাক্ষ্যও রয়েছে।
১৩৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে আমার সাথে সুন্দর আচরণ করেছে অথবা কোন উপকার করেছে অথচ আমি তার প্রতিদান দেইনি; কিন্তু আবূ বকর রাযি. এর ব্যতিক্রম। তাঁর এমন অবদান রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলাই কিয়ামতের দিন তাঁকে এর প্রতিদান দিবেন। কোন ব্যক্তির সম্পদ আমার এতটুকু উপকারে আসে নাই, যতটুকু কাজে এসেছে আবু বকরের মাল ও সম্পদ। আর আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকরকেই গ্রহণ করতাম। তোমরা জেনে রাখ যে, আমি কেবল আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু (এবং আমার আসল বন্ধু ও প্রিয়পাত্র কেবল আল্লাহ।) -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لأَحَدٍ عِنْدَنَا يَدٌ إِلاَّ وَقَدْ كَافَيْنَاهُ مَا خَلاَ أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا يَدًا يُكَافِئُهُ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَمَا نَفَعَنِي مَالُ أَحَدٍ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً، أَلاَ وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ. (رواه الترمذى)