মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১১৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১১৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) মিম্বরে বসলেন এবং (সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর এক বান্দাকে এখতিয়ার দিয়েছেন যে, সে দুনিয়ার সৌন্দর্য ও ভোগ-বিলাসের উপকরণ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারে অথবা আল্লাহর নিকট আখেরাতের যে নেয়ামতরাজি রয়েছে, সেগুলোও গ্রহণ করতে পারে। তখন এ বান্দা আখেরাতের ঐসব নেয়ামত গ্রহণ করে নিয়েছে, যা আল্লাহর নিকট রয়েছে। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি ও আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কোরবান। (হাদীসের রাবী আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন,) আমরা আবু বকর রাযি.-এর এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে গেলাম এবং উপস্থিত লোকেরা বলতে লাগল যে, এ বুড়ো লোকটিকে দেখ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এ কথার সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে এ এখতিয়ার দিয়েছেন যে, সে দুনিয়ার সৌন্দর্যের উপকরণ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারে অথবা আল্লাহর নিকট আখেরাতের যেসব নেয়ামত রয়েছে, সেগুলো গ্রহণ করতে পারে। আর এ বুড়ো লোকটি বলেছে যে, আমি ও আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হোক। (সামনে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, যখন কিছু দিনের মধ্যেই হুযূর (ﷺ)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেল, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে.) হযরত আবূ বকর রাযি. জ্ঞান-গরিমা ও বিচক্ষণতায় আমাদের সবার চাইতে অগ্রগামী ছিলেন। (তাই তিনি সেই রহস্য বুঝে নিয়ে ছিলেন- যা আমাদের অন্য কেউ বুঝতে পারেনি।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى المِنْبَرِ فَقَالَ: «إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ» فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، فَعَجِبْنَا لَهُ، وَقَالَ النَّاسُ: انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ، يُخْبِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، وَهُوَ يَقُولُ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ المُخَيَّرَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ রিওয়ায়াতে এ কথার উল্লেখ নেই যে, হুযুর (ﷺ) মিম্বরে উঠে এ বক্তব্য কখন দিয়েছিলেন। মেশকাত প্রণেতা শব্দের কিছু পার্থক্যসহ সুনানে দারেমীর বরাতে এ ভাষণ সম্পর্কে হযরত আবূ সাঈদ খুদরীরই একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন-যেখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) এ বক্তব্য ওফাতকালীন অসুস্থতার সময়ই দিয়েছিলেন এবং এটাই তাঁর শেষ ভাষণ ছিল। এরপর হুযূর (ﷺ) মৃত্যু পর্যন্ত মসজিদে আর কোন বক্তব্য রাখেননি। আর মুসলিম শরীফের এক রিওয়ায়াত দ্বারা (যার রাবী হলেন হযরত জুন্দুব) বুঝা যায় যে, ওফাতের পাঁচ দিন পূর্বে তিনি এ ভাষণ দিয়েছিলেন।
মেশকাত প্রণেতা 'ওফাতুন্নবী' অধ্যায়ে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি.-এর বর্ণনায় এ হাদীসটি কেবল এতটুকুই উদ্ধৃত করেছেন, যা এখানে লিখা হয়েছে। কিন্তু বুখারী-মুসলিম উভয় কিতাবে এ হাদীসটি হযরত আবূ বকর রাযি.-এর ফযীলত অধ্যায়েও উল্লেখ করা হয়েছে। সে দু'টি বর্ণনায় এ সংযোজনও রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) ঐ ভাষণে এ কথাও বলেছিলেন:
إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي مَالِهِ وَصُحْبَتِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا غَيْرَ رَبِّي لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا، وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلَامِ وَمَوَدَّتُهُ، لا يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ بَابٌ إِلَّا سُدَّ إِلَّا بَابَ أَبِي بَكْرٍ.
অর্থাৎ, সকল মানুষের মধ্যে যিনি তাঁর সম্পদ ও সাহচর্য দ্বারা আমার সবচেয়ে বেশী উপকার করেছেন, তিনি হলেন আবূ বকর। আমি যদি আমার পরওয়ারদেগার ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহন করতাম, তাহলে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার বিশেষ সম্পর্ক তাঁর সাথে রয়েছে। মসজিদে আগমনের (ছোট ছোট প্রাইভেট) সবগুলো দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক- আবু বকরের দরজাটি ব্যতীত। (কেবল সেটাই খোলা রাখা হবে।)
এর দ্বারা জানা গেল যে, হুযুর (ﷺ) এ ভাষণে (যা ওফাতের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে দিয়েছিলেন এবং যা মসজিদে নববীতে তাঁর শেষ ভাষণ ছিল।) নিজের আখেরাতের সফর নিকটবর্তী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করার সাথে সাথে এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, উম্মতের মধ্যে যে মর্যাদা ও অবস্থান আবু বকরের রয়েছে, সেটা অন্য কারো নেই। সাথে সাথে একথা বলেন যে, মসজিদের সবগুলো (প্রাইভেট) দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক, কেবল আবু বকরের দরজাটি অবশিষ্ট রাখা হোক। এ ইঙ্গিতও করে দিলেন যে, আমার পর আবু বকরেরই মসজিদের সাথে ঐ সম্পর্ক থাকবে, যে সম্পর্ক আমার ছিল। (স্মরণ রাখা দরকার যে, নবুওয়াত যুগের মসজিদে নববী আমাদের মসজিদসমূহের ন্যায় কেবল নামাযের মসজিদ ছিল না; বরং সেটা যাবতীয় নবুওয়াতী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।)
কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) এ ভাষণে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
মেশকাত প্রণেতা 'ওফাতুন্নবী' অধ্যায়ে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি.-এর বর্ণনায় এ হাদীসটি কেবল এতটুকুই উদ্ধৃত করেছেন, যা এখানে লিখা হয়েছে। কিন্তু বুখারী-মুসলিম উভয় কিতাবে এ হাদীসটি হযরত আবূ বকর রাযি.-এর ফযীলত অধ্যায়েও উল্লেখ করা হয়েছে। সে দু'টি বর্ণনায় এ সংযোজনও রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) ঐ ভাষণে এ কথাও বলেছিলেন:
إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي مَالِهِ وَصُحْبَتِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا غَيْرَ رَبِّي لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا، وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلَامِ وَمَوَدَّتُهُ، لا يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ بَابٌ إِلَّا سُدَّ إِلَّا بَابَ أَبِي بَكْرٍ.
অর্থাৎ, সকল মানুষের মধ্যে যিনি তাঁর সম্পদ ও সাহচর্য দ্বারা আমার সবচেয়ে বেশী উপকার করেছেন, তিনি হলেন আবূ বকর। আমি যদি আমার পরওয়ারদেগার ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহন করতাম, তাহলে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার বিশেষ সম্পর্ক তাঁর সাথে রয়েছে। মসজিদে আগমনের (ছোট ছোট প্রাইভেট) সবগুলো দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক- আবু বকরের দরজাটি ব্যতীত। (কেবল সেটাই খোলা রাখা হবে।)
এর দ্বারা জানা গেল যে, হুযুর (ﷺ) এ ভাষণে (যা ওফাতের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে দিয়েছিলেন এবং যা মসজিদে নববীতে তাঁর শেষ ভাষণ ছিল।) নিজের আখেরাতের সফর নিকটবর্তী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করার সাথে সাথে এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, উম্মতের মধ্যে যে মর্যাদা ও অবস্থান আবু বকরের রয়েছে, সেটা অন্য কারো নেই। সাথে সাথে একথা বলেন যে, মসজিদের সবগুলো (প্রাইভেট) দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক, কেবল আবু বকরের দরজাটি অবশিষ্ট রাখা হোক। এ ইঙ্গিতও করে দিলেন যে, আমার পর আবু বকরেরই মসজিদের সাথে ঐ সম্পর্ক থাকবে, যে সম্পর্ক আমার ছিল। (স্মরণ রাখা দরকার যে, নবুওয়াত যুগের মসজিদে নববী আমাদের মসজিদসমূহের ন্যায় কেবল নামাযের মসজিদ ছিল না; বরং সেটা যাবতীয় নবুওয়াতী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।)
কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) এ ভাষণে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)