মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২৭. হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত যে, সোমবারের দিন (অর্থাৎ, যে সোমবারে হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত হয়।) মুসলমানগণ ফজরের নামায আদায় করছিলেন এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. ইমাম হিসাবে নামায পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের অবস্থান স্থল) আয়েশার হুজরার (দরজার) পর্দা উঠিয়ে তাঁদের দিকে তাকালেন- যখন তাঁরা কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করছিলেন। (এ অবস্থা দেখে) তিনি মুচকি হাসলেন। আবু বকরের যখন তাঁর প্রতি দৃষ্টি পড়ল, তখন তিনি পেছনে সরে এসে মুক্তাদীদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং ধারণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের জন্য তাশরীফ আনবেন। আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দেখে মুসলমানগণ খুশীর আতিশয্যে নামায ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা করতে শুরু করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে হাতের ইশারায় বললেন যে, তোমরা তোমাদের নামায শেষ করে নাও। তারপর তিনি হুজরার ভিতর চলে গেলেন এবং দরজার পর্দা ফেলে দিলেন। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عنْ أنَسِ بنُ مالِكٍ : أَنَّ المُسْلِمِينَ بَيْنَا هُمْ فِي الفَجْرِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَأَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُصَلِّي بِهِمْ، «فَفَجِئَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَشَفَ سِتْرَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَهُمْ فِي صُفُوفِ الصَّلاَةِ، ثُمَّ تَبَسَّمَ يَضْحَكُ»، فَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ الصَّفَّ، وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَقَالَ أَنَسٌ: وَهَمَّ المُسْلِمُونَ أَنْ يَفْتَتِنُوا فِي صَلاَتِهِمْ، فَرَحًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ ثُمَّ دَخَلَ الحُجْرَةَ وَأَرْخَى السِّتْرَ» (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের এক রিওয়ায়াত ও হযরত আলী মোরতাযা রাযি.-এর এক বয়ানের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে একথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে দিন হুযূর (ﷺ)-এর ওফাত হয়েছে, সেদিন সকালে তাঁর অবস্থা বাহ্যত খুবই ভাল ও উদ্বেগমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীস থেকে এর পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, তিনি নিজে নিজে উঠেই হুজরার দরজার নিকট আসলেন। তারপর পর্দা উঠিয়ে দেখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করতে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হলেন, তাঁর চেহারায় আনন্দের দীপ্তি ফুঠে উঠল। আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. যখন পেছনে সরে আসতে চাইলেন এবং আশংকা দেখা দিল যে, লোকেরা খুশীর আতিশয্যে নামাযের নিয়্যত ছেড়ে দেয় কি না, তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন যে, তোমরা যেভাবে নামায পড়ছ, সেভাবেই আবূ বকর রাযি.-এর মুক্তাদী হয়ে নামায শেষ করে নাও। এ দিন সকালে হুযুর (ﷺ)-এর শারীরিক অবস্থা বাহ্যত এতটুকু ভাল হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত আবূ বকর রাযি. নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের বাড়ী 'সুনহ'-এ তাশরীফ নিয়ে গেলেন- যা মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১২৭ | মুসলিম বাংলা