মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শিরোনামে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং উম্মতের মধ্যে তাঁর বিশেষ অবস্থানের উল্লেখ বিশেষ গুরুত্বসহকারে করেছেন। হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতা প্রসঙ্গে এমন একাধিক হাদীস অতিক্রান্ত হয়েছে, যেগুলোর দ্বারা কোন প্রকার সন্দেহ-সংশয় ছাড়া নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর নিকট নিজ উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ছিলেন হযরত আবূ বকর রাযি. এবং তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত তথা খেলাফতে নবুওয়াতের জন্য তিনিই তাঁর দৃষ্টিতে নির্দিষ্ট ছিলেন। এসব বাচনিক বক্তব্য ছাড়া তিনি তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় (যার ব্যাপারে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, এ অসুস্থতার মধ্যেই তাঁর ওফাত লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।) পীড়াপীড়ি ও তাকীদের সাথে হযরত আবু বকরকে নিজের স্থলে নামাযের ইমাম বানিয়ে এ দিকে উম্মতের স্পষ্ট দিকনির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছিলে।

হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতা সংক্রান্ত ঐসব হাদীস ছাড়া আরো কয়েকটি হাদীস হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিম্নে লিখা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে হুযুর (ﷺ)-এর বাণীও রয়েছে এবং বড় বড় সাহাবীদের সাক্ষ্যও রয়েছে।
১৩৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে আমার সাথে সুন্দর আচরণ করেছে অথবা কোন উপকার করেছে অথচ আমি তার প্রতিদান দেইনি; কিন্তু আবূ বকর রাযি. এর ব্যতিক্রম। তাঁর এমন অবদান রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলাই কিয়ামতের দিন তাঁকে এর প্রতিদান দিবেন। কোন ব্যক্তির সম্পদ আমার এতটুকু উপকারে আসে নাই, যতটুকু কাজে এসেছে আবু বকরের মাল ও সম্পদ। আর আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকরকেই গ্রহণ করতাম। তোমরা জেনে রাখ যে, আমি কেবল আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু (এবং আমার আসল বন্ধু ও প্রিয়পাত্র কেবল আল্লাহ।) -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لأَحَدٍ عِنْدَنَا يَدٌ إِلاَّ وَقَدْ كَافَيْنَاهُ مَا خَلاَ أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا يَدًا يُكَافِئُهُ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَمَا نَفَعَنِي مَالُ أَحَدٍ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً، أَلاَ وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হুযুর (ﷺ)-এর অভ্যাস এই ছিল যে, যখন কেউ তাঁকে কোন হাদিয়া প্রদান করত, তখন তিনি এটা গ্রহণ করে নিতেন এবং তখনই অথবা পরে অন্য কোন সময় তাকে এতটুকুই অথবা এর চেয়ে বেশী কিছু দিয়ে এর প্রতিদান দিয়ে দিতেন। ব্যাখ্যাধীন হাদীসে তিনি বলেছেন যে, আবু বকর রাযি. ছাড়া যে কেউ আমার সাথে সদাচরণ ও ইহসান করেছে, আমি দুনিয়াতেই এর প্রতিদান দিয়ে দিয়েছি; কিন্তু আবু বকর রাযি. যে সদাচরণ ও ইহসান করেছে, এর প্রতিদান আখেরাতে আল্লাহ তা'আলাই দান করবেন। হযরত আবূ বকর রাযি.-এর দৌহিত্র হযরত উরওয়া বলেন যে, হযরত আবু বকর রাযি. যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁর নিকট চল্লিশ হাজার দেরহাম ছিল। এ সব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্জি অনুযায়ী দ্বীনের খেদমতে তিনি ব্যয় করে দেন। সাতজন এমন গোলামকে ক্রয় করে আযাদ করে দিয়েছিলেন, যারা ইসলাম গ্রহণ করে ছিল এবং তাদের মুশরিক মনিব ইসলাম গ্রহণের 'অপরাধে' তাদের উপর নির্যাতন করত। হযরত বিলালও তাদেরই একজন ছিলেন। হযরত আবু বকর রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর নিকট নিবেদন করে রেখেছিলেন যে, আমার সমস্ত সম্পদ যেন আপনার মালিকানাধীন, যেভাবে ইচ্ছা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। বস্তুতঃ হুযুর (ﷺ) এমনটাই করতেন। হুযুর (ﷺ) ইন্তিকাল পূর্ব অসুস্থতার সময় স্বীয় শেষ ভাষণেও হযরত আবু বকর রাযি.-এর এ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি.-এর বর্ণনায় ঐ ভাষণ বুখারী ও মুসলিমের বরাতে উল্লেখ করে আসা হয়েছে এবং সেখানে হুযুর (ﷺ)-এর পরে তিনি যে খলীফা হবেন, এর প্রতিও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান