মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৩২ টি
হাদীস নং: ১৩৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৩৬. হযরত জুবাইর ইবনে মুতঈম রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসল এবং কোন এক ব্যাপারে তাঁর সাথে কথা বলল। তিনি তাকে বললেন, পরবর্তীতে কোন সময় আবার আসবে। মহিলা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমি আগামীতে এসে যদি আপনাকে না পাই? (হাদীসের রাবী জুবাইর ইবনে মুতঈম বলেন, তার উদ্দেশ্য সম্ভবতঃ এই ছিল যে, আমি এসে যদি দেখি যে, তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছেন, তখন কি করব?) তখন তিনি বললেন যে, যদি আমাকে না পাও, তাহলে আবু বকরের কাছে আসবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، قَالَ: أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ، فَكَلَّمَتْهُ فِي شَيْءٍ، فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْهِ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ جِئْتُ وَلَمْ أَجِدْكَ كَأَنَّهَا تُرِيدُ المَوْتَ، قَالَ: «إِنْ لَمْ تَجِدِينِي، فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৩৭. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সম্প্রদায়ের মধ্যে আবূ বকর রাযি. বর্তমান থাকবে, সে সম্প্রদায়ের ইমামত করা আবু বকর রাযি. ছাড়া অন্য কারো জন্য বৈধ ও সমীচীন নয়। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَنْبَغِي لِقَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৩৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু বকর রাযি.-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তুমি গুহায়ও আমার সঙ্গী ছিলে, আখেরাতে হাউযে কাউসারেও আমার সঙ্গে থাকবে। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَن ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ: «أَنْتَ صَاحِبِي فِي الْغَارِ وصاحبي على الْحَوْض» . (رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৩৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জিবরাঈল আমীন আমার কাছে আসলেন, আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে জান্নাতের ঐ দরজাটি দেখালেন, যে দরজা দিয়ে আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবূ বকর রাযি. এ কথা শুনে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মনের বাসনা, আমি যদি আপনার সাথে থাকতাম এবং ঐ দরজাটি দেখে নিতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, আবু বকর। তুমি জেনে রাখ যে, আমার উম্মতের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। -আবু দাউদ
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَرَانِي بَابَ الْجَنَّةِ الَّذِي تَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ مَعَكَ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَمَا إِنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪০. হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর রাযি. আমাদের সরদার, আমাদের মধ্যে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমাদের সবার চাইতে অধিকতর প্রিয়। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، قَالَ: أَبُو بَكْرٍ سَيِّدُنَا وَخَيْرُنَا وَأَحَبُّنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪১. হযরত মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা (হযরত আলী রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর পর (উম্মতের মধ্যে) সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে? তিনি উত্তর দিলেন, আবু বকর রাযি.। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন, উমর রাযি.। মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা বলেন, তারপর আমার আশংকা হল যে, (যদি আমি এভাবেই জিজ্ঞাসা করি যে, উমরের পর কে?) তাহলে তিনি উসমানের নাম বলে দেন কি না। তাই আমি প্রশ্ন এভাবে করলাম, তারপর কি আপনি? তখন তিনি বললেন, আমি মুসলমানদের একজন ব্যক্তি বৈ কিছুই নই। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الحَنَفِيَّةِ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ»، قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ عُمَرُ»، وَخَشِيتُ أَنْ يَقُولَ عُثْمَانُ، قُلْتُ: ثُمَّ أَنْتَ؟ قَالَ: «مَا أَنَا إِلَّا رَجُلٌ مِنَ المُسْلِمِينَ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আবু বকরের সমতুল্য কাউকে মনে করতাম না। তাঁর পরে উমর ও তাঁর পরে উসমান। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সকল সাহাবীকে ছেড়ে দিতাম। তাঁদের মধ্যে একজনকে অন্যের উপর মর্যাদা দিতাম না। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا، ثُمَّ عُمَرَ، ثُمَّ عُثْمَانَ، ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لاَ نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৩. হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে দান করার (অর্থাৎ, আল্লাহর রাহে মাল-সম্পদ পেশ করার) নির্দেশ দিলেন। এ হুকুমটি এমন সময় দিলেন, যখন আমার নিকট প্রচুর সম্পদ ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম, আমি যদি কখনো আবু বকর রাযি. থেকে অগ্রগামী হতে পারি, তাহলে আজ অগ্রগামী হতে পারব। হযরত উমর রাযি. বলেন, আমি বাড়ীতে আসলাম এবং ঘরে যে সম্পদ ছিল, সেখান থেকে পূর্ণ অর্ধেক নিয়ে খেদমতে পেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কতটুকু অবশিষ্ট রেখে এসেছ? আমি উত্তর দিলাম, যতটুকু এখানে নিয়ে এসেছি এতটুকুই পরিবারের জন্য রেখে এসেছি। অপরদিকে আবূ বকর রাযি. তাঁর নিকট যা ছিল, এর সবটুকুই নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, আবু বকর। তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কি রেখে এসেছ? তিনি উত্তর দিলেন, তাঁদের জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। হযরত উমর রাযি. বলেন, আমি তখন (মনে মনে) বললাম, আমি কখনো কোন বিষয়ে আবু বকর রাযি. থেকে অগ্রগামী হতে পারব না। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُمَرَ قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَصَدَّقَ، وَوَافَقَ ذَلِكَ مَالًا عِنْدِي، فَقُلْتُ: الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا. قال: فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» قُلْتُ: مِثْلَهُ، قَالَ: فَأَتَى أَبُو بَكْرٍ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ. فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» فَقَالَ: أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. قُلْتُ: لَا أُسَابِقُكَ إِلَى شَيْءٍ أَبَدًا. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৪. হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক দিন তাঁর সামনে আবূ বকর রাযি.-এর কথা আলোচনা করা হলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমার আন্তরিক বাসনা যে, আমার সারা জীবনের আমল যদি আবু বকরের এক দিনের আমলের সমান হয়ে যেত এবং তাঁর জীবনের রাত সমূহের এক রাতের আমলের সমান হয়ে যেত। (অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে আমার সারা জীবনের আমলের ঐ বিনিময় যদি দান করেন, যা আবু বকরের এক দিন ও এক রাতের আমলের প্রতিদান হবে, তাহলে আমি এতে খুশী থাকব।) তাঁর যে রাতটির কথা বলেছি, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঐ রাত, যে বিশেষ রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হিজরতের সফরে সাওর গুহার দিকে রওয়ানা হয়ে ছিলেন। তিনি যখন গুহার কাছে পৌঁছলেন (এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গুহার ভিতর প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর দোহাই। আপনি এখনই গুহায় প্রবেশ করবেন না। আমি আগে গুহায় প্রবেশ করব। সেখানে যদি কোন বিনাশক জিনিস থাকে, (যেমন হিংসপ্রাণী, সাপ-বিচ্ছু জাতীয় বিষাক্ত প্রাণী,) তাহলে যা হবে আমার হবে, আপনি নিরাপদ থেকে যাবেন। তারপর আবু বকর রাযি. গুহার ভিতর চলে গেলেন এবং এটা পরিষ্কার করে নিলেন। এ গুহায় এক দিকে কয়েকটি ছিদ্র ছিল। তিনি নিজের লুঙ্গি ছিড়ে এর টুকরোগুলো দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করলেন, কিন্তু দু'টি ছিদ্র অবশিষ্ট রয়ে গেল। আবূ বকর রাযি. তখন তাঁর পা দু'টি এ দু'টির মুখে রেখে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বললেন, এবার আপনি ভিতরে প্রবেশ করুন। তিনি তখন গুহার ভিতর প্রবেশ করলেন এবং আবু বকরের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরই মধ্যে আবু বকরের পায়ে সাপে দংশন করল; কিন্তু তিনি এ আশংকায় একটুও নড়াচড়া করলেন না যে, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘুম ভেঙ্গে যাবে। এক সময় বিষের জ্বালায় তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারায় গড়িয়ে পড়ল। (এতে তাঁর চোখ খুলে গেল এবং আবু বকরের চোখ থেকে পানি পড়তে দেখে) তিনি বললেন, হে আবু বকর রাযি.। তোমার কি হয়েছে? আবূ বকর রাযি. উত্তর দিলেন, আমার পিতামাতা আপনার উপর কুরবান হোন। আমাকে সাপে দংশন করেছে। তিনি তখন (ঐ দংশিত স্থানে) নিজের মুখের থুথু লাগিয়ে দিলেন। তখন আবু বকরের যে কষ্ট হচ্ছিল সেটা দূর হয়ে গেল। হযরত উমর রাযি. বলেন, (তারপর আবু বকরের ওফাতের আগে) ঐ বিষের প্রভাব দেখা দিল এবং এটাই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে গেল। (এভাবে শাহাদাত ফী সাবীলিল্লাহর মর্যাদাও তাঁর লাভ হয়ে গেল। আর এটা ঠিক এমনই হয়েছে, যেমন খায়বারে খাওয়া বিষমাখা গোশতের বিষক্রিয়া প্রায় চার বছর পর হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতের নিকটবর্তী সময়ে পুনরায় দেখা দিয়েছিল এবং এটাই তাঁর ওফাতের কারণ হয়েছিল। (হযরত উমর রাযি. বলেন) আর আবূ বকরের একটি দিন দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ঐ দিনটি, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হয়ে গেল এবং আরবের (কোন এক অঞ্চলের) লোক মুরতাদ হয়ে গেল এবং যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করল, তখন আবু বকর রাযি. বললেন, তারা যদি উট বাঁধার একটি রশি দিতেও অস্বীকার করে, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা। (এ মুহূর্তে) আপনি লোকদের সাথে নম্র আচরণ ও তাদের মন জয়ের চেষ্টা করুন। আবু বকর রাযি. তখন (রাগের সাথে) আমাকে বললেন, তুমি তো জাহিলিয়্যত যুগে খুবই কঠোর ও সাহসী ছিলে, ইসলামের যুগে এসে কি ভয়কাতুরে হয়ে গেলে। (এটা কেমন পরিবর্তন?) ওহীর ধারা (হুযূর (ﷺ)-এর ওফাতের পর) বন্ধ হয়ে গিয়েছে, দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে। আমি জীবিত থাকব আর দ্বীনের মধ্যে পূর্ণতা ক্ষুণ্ণ হবে। (এটা তো হতে পারে না।) -মুসনাদে রযীন
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُمَرَ ذُكِرَ عِنْدَهُ أَبُو بَكْرٍ فَبَكَى وَقَالَ: وَدِدْتُ أَنَّ عَمَلِي كُلَّهُ مِثْلُ عَمَلِهِ يَوْمًا وَاحِدًا مِنْ أَيَّامِهِ وَلَيْلَةً وَاحِدَةً مِنْ لَيَالِيهِ أَمَّا لَيْلَتُهُ فَلَيْلَةٌ سَارَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْغَار فَلَمَّا انتهينا إِلَيْهِ قَالَ: وَاللَّهِ لَا تَدْخُلُهُ حَتَّى أَدْخُلَ قَبْلَكَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ شَيْءٌ أَصَابَنِي دُونَكَ فَدَخَلَ فَكَسَحَهُ وَوَجَدَ فِي جَانِبِهِ ثُقْبًا فَشَقَّ إزَاره وسدها بِهِ وَبَقِي مِنْهَا اثْنَان فألقمها رِجْلَيْهِ ثُمَّ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْخُلْ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُضِعَ رَأسه فِي حجره وَنَامَ فَلُدِغَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِجْلِهِ مِنَ الْجُحر وَلم يَتَحَرَّك مَخَافَة أَن ينتبه رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَقَطَتْ دُمُوعُهُ عَلَى وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟» قَالَ: لُدِغْتُ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي فَتَفِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَهَبَ مَا يَجِدُهُ ثُمَّ انْتَقَضَ عَلَيْهِ وَكَانَ سَبَبَ مَوْتِهِ وَأَمَّا يَوْمُهُ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْتَدَّتِ الْعَرَبُ وَقَالُوا: لَا نُؤَدِّي زَكَاةً. فَقَالَ: لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا لَجَاهَدْتُهُمْ عَلَيْهِ. فَقُلْتُ: يَا خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَأَلَّفِ النَّاسَ وَارْفُقْ بِهِمْ. فَقَالَ لِي: أَجَبَّارٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَخَوَّارٌ فِي الْإِسْلَامِ؟ إِنَّهُ قَدِ انْقَطَعَ الْوَحْيُ وَتَمَّ الدِّينُ أَيَنْقُصُ وَأَنا حَيّ؟ (رَوَاهُ رزين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস সম্মানিত পাঠকগণ দেখে নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণীও ছিল এবং কতিপয় মহান সাহাবীর বক্তব্যও ছিল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দ্বিতীয় খলীফা ফারুকে আযম হযরত উমর রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এখানেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ছাড়াও মহান সাহাবীদের বক্তব্যও থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস সম্মানিত পাঠকগণ দেখে নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণীও ছিল এবং কতিপয় মহান সাহাবীর বক্তব্যও ছিল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দ্বিতীয় খলীফা ফারুকে আযম হযরত উমর রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এখানেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ছাড়াও মহান সাহাবীদের বক্তব্যও থাকবে।
১৪৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল, যাদেরকে 'মুহাদ্দাস' বলা হত। (যারা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে বিশেষ ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা দ্বারা ধন্য হতেন।) আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ এ নেয়ামত দ্বারা ধন্য হয়ে থাকে, তাহলে সে হচ্ছে উমর। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ مُحَدَّثُونَ، فَإِنْ يَكُ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ فَإِنَّهُ عُمَرُ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা উমরের মুখে ও তাঁর অন্তরে সত্য কথা রেখে দিয়েছেন। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৭. হযরত আবু যর গেফারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তা'আলা উমরের মুখে সত্য কথা রেখে দিয়েছেন। তাই তিনি হক কথাই বলেন। -আবু দাউদ
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ يَقُولُ بِهِ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৮. হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার পর যদি কেউ নবী হত তাহলে উমর ইবনুল খাত্তাবই হত। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৯. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একথা অসম্ভব মনে করতামনা যে, হযরতে উমরের মুখে 'সাকীনা' কথা বলে। দালায়েলুন নবুওয়াত
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: مَا كُنَّا تَبعِدُ أَنَّ السَّكِينَةَ تَنْطِقُ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ. (رواه البيهقى فى دلائل النبوة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি. বলেছেন: তিনটি বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত আমার প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের সাথে মিলে গিয়েছে। (১) মাকামে ইবরাহীমের ব্যাপারে, (২) পর্দা প্রসঙ্গে ও (৩) বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلاَثٍ فِي مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ وَفِي الْحِجَابِ وَفِي أُسَارَى بَدْرٍ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে নবী করীম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি (রাতের বেলায়) দু‘আ করেছিলেন যে, হে আল্লাহ! তুমি ইসলামের মর্যাদা ও শক্তি বৃদ্ধি করে দাও, আবূ জাহল ইবনে হিশাম অথবা উমর ইবনুল খাত্তাবের মাধ্যমে। সকাল বেলা হযরত উমর রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন। তারপর মসজিদুল হারামে প্রকাশ্যে নামায আদায় করলেন। -আহমাদ, তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّاِب فَأَصْبَحَ عُمَرُ فَغَدَا عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَ ثُمَّ صَلَّى فِى الْمَسْجِدِ ظَاهِرًا. (رواه احمد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: আমি একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। এ অবস্থায় (স্বপ্নে) আমার নিকট দুধ ভর্তি একটি পাত্র আনা হল। আমি খুব পরিতৃপ্তি সহকারে এখান থেকে পান করলাম। এমনকি আমি এ পরিতৃপ্তির প্রভাব আমার নখগুলোতে পর্যন্ত অনুভব করলাম। তারপর এর অবশিষ্ট দুধ উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিয়ে দিলাম- যাতে সে পান করে নেয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি এর (স্বপ্নের) কি তা'বীর করলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ইলম। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «بَيْنَ أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَظْفَارِي، مِنْهُ، ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «العِلْمَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫৩. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি। একদিন আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে এবং তারা সবাই জামা পরিহিত। তাদের মধ্যে কারো কারো জামা কেবল বুক পর্যন্ত, আর কারো জামা এর একটু নীচে। উমর ইবনুল খাত্তাবকেও আমার সামনে পেশ করা হল। তাঁর জামাটি এত লম্বা ছিল যে, তিনি এটা হেঁচড়ে চলছিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি এর কি তাবীর করলেন? তিনি উত্তরে বললেন, 'দ্বীন'। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ، رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ، مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ، وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ، وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ». قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫৪. হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উমর যখন আহত হলেন, (অগ্নিপূজক আবু লু'লু মজুসী তাঁকে ছোরা দ্বারা আঘাত করেছিল।) তখন তিনি আঘাতের যন্ত্রণা প্রকাশ করতে লাগলেন। ইবনে আব্বাস তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বললেন, আপনার দুঃখ করার কোন কারণ নেই। আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং এর হক উত্তমরূপে আদায় করেছেন। তারপর তিনি এ অবস্থায় বিদায় নিয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তারপর আপনি আবু বকরের বিশেষ সাথী ও বন্ধু হিসাবে তাঁর সাহচর্যে থেকেছেন এবং সাহচর্যের হক যথার্থভাবেই আদায় করেছেন। তারপর তিনিও এ অবস্থায় বিদায় নিয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। (এমনকি তাঁর পরবর্তী সময়ের জন্য আপনাকে খলীফা বানিয়ে গিয়েছেন।) তারপর (আপনার খেলাফতকালে) আপনি সকল মুসলমানের সাথে জীবন কাটিয়েছেন এবং তাদের সাথে সুন্দর সহাবস্থানের হক আদায় করেছেন। আপনি যদি এখন তাদেরকে ছেড়ে যান, তাহলে এ অবস্থায় ছেড়ে যাবেন যে, তারা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। হযরত উমর রাযি. ইবনে আব্বাসের এ কথার উত্তরে বললেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার সাহচর্য ও বন্ধুত্বের কথা এবং আমার প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির যে কথা তুমি বলেছ, এটা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে আমার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ যা তিনি আমার প্রতি করেছেন। তেমনিভাবে হযরত আবূ বকরের সাহচর্য, বন্ধুত্ব ও সন্তুষ্টির যে কথা তুমি বলেছ, এটাও আমার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা দ্বারা তিনি আমাকে ধন্য করেছেন। (অর্থাৎ, এটা আমার নিজস্ব কোন কৃতিত্ব নয়।) আর তুমি আমার মধ্যে যে অস্থিরতা ও পেরেশানী দেখছ, সেটা (আহত হওয়ার কষ্টের কারণে নয়; বরং) তোমাদের চিন্তায়। (অর্থাৎ, আমার দুশ্চিন্তা এই যে, তোমরা আমার পর ফেতনা ও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাও কি না, আর আখেরাতের পরিণতির চিন্তা তো এই যে,) আমার নিকট যদি পৃথিবী ভরা সোনা থাকত, তাহলে আমি এসব আল্লাহর আযাব দেখার পূর্বে মুক্তিপণ স্বরূপ বিলিয়ে দিতাম। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ المِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ جَعَلَ يَأْلَمُ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكَأَنَّهُ يُجَزِّعُهُ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، وَلَئِنْ كَانَ ذَاكَ، لَقَدْ صَحِبْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ، ثُمَّ فَارَقَكَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ، ثُمَّ صَحِبْتَ أَبَا بَكْرٍ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ، ثُمَّ فَارَقَكَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ، ثُمَّ صَحِبْتَ الْمُسْلِمِيْنَ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُمْ، وَلَئِنْ فَارَقْتَهُمْ لَتُفَارِقَنَّهُمْ وَهُمْ عَنْكَ رَاضُونَ، قَالَ: «أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِضَاهُ، فَإِنَّمَا ذَالِكَ مَنٌّ مِنَ اللَّهِ مَنَّ بِهِ عَلَيَّ، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ أَبِي بَكْرٍ وَرِضَاهُ، فَإِنَّمَا ذَالِكَ مَنٌّ مِنَ اللَّهِ مَنَّ بِهِ عَلَيَّ، وَأَمَّا مَا تَرَى مِنْ جَزَعِي فَهُوَ مِنْ أَجْلِكَ وَأَجْلِ أَصْحَابِكَ، وَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِي طِلاَعَ الأَرْضِ ذَهَبًا لاَفْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ قَبْلَ أَنْ أَرَاهُ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফাযায়েলে শায়খাইন
পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাসমূহে প্রথমে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হয়েছিল। তারপর হযরত উমর রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ। এবার হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি এমন বাণী পেশ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে তিনি আপন এ বিশেষ দু' সাথীর কথা একসাথে উল্লেখ করেছেন। যার দ্বারা স্পষ্ট জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর দৃষ্টিতে এ দু'জনের বিশেষ অবস্থান ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তিনি এ দু'জনের কথা নিজের সাথে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা যেন তাঁর অবস্থার অংশীদার ও বিশেষ সঙ্গী। এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম হযরত ইবনে আব্বাসের রিওয়ায়াতে হযরত আলী রাযি.-এর একটি বক্তব্য পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাসমূহে প্রথমে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হয়েছিল। তারপর হযরত উমর রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ। এবার হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি এমন বাণী পেশ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে তিনি আপন এ বিশেষ দু' সাথীর কথা একসাথে উল্লেখ করেছেন। যার দ্বারা স্পষ্ট জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর দৃষ্টিতে এ দু'জনের বিশেষ অবস্থান ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তিনি এ দু'জনের কথা নিজের সাথে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা যেন তাঁর অবস্থার অংশীদার ও বিশেষ সঙ্গী। এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম হযরত ইবনে আব্বাসের রিওয়ায়াতে হযরত আলী রাযি.-এর একটি বক্তব্য পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হচ্ছে।
১৫৫. হযরত ইবনে আবী মুলায়কা (তাবেয়ী) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: হযরত উমর রাযি.-কে (মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার জন্য) খাটিয়ায় রাখা হল, তখন লোকেরা তাঁর চতুর্পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তারা তাঁর জন্য দু‘আ ও আল্লাহর রহমত কামনা করছিল। আমিও তাদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমি অনুভব করলাম যে, কেউ যেন আমার কাঁধ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম যে, তিনি হযরত আলী ইবনে আবী তালেব। তিনি হযরত উমরের জন্য রহমতের দু‘আ করছিলেন এবং বলছিলেন, আপনি আপনার পর এমন কাউকে রেখে যাননি যে, আমার এ আকাঙ্খা হবে যে, তার আমলের মত আমল নিয়ে আমি আল্লাহর দরবারে হাজির হব। আল্লাহর কসম। আমি এ ধারণাই করতাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে আপনার দু'সাথী (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর)-এর সাথেই রাখবেন। কেননা, আমি অনেক সময় নবী করীম (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, (অমুক কাজের জন্য) আমি গেলাম, আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি. ও গেল, আমি (মসজিদে অথবা অন্য কোন জায়গায়) প্রবেশ করলাম, আমার সাথে আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও প্রবেশ করল। আমি বের হলাম, আর আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও বের হল। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: وُضِعَ عُمَرُ عَلَى سَرِيرِهِ فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ، يَدْعُونَ وَيُصَلُّونَ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ، فَلَمْ يَرُعْنِي إِلَّا رَجُلٌ آخِذٌ مَنْكِبِي، فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ، وَقَالَ: مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ، وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ، وَحَسِبْتُ إِنِّي كُنْتُ كَثِيرًا أَسْمَعُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «ذَهَبْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: